সম্মানিত পাঠক!

আজ আমি আপনাদের সম্মুখে যে লেখাটি উপস্থাপন করছি সে লেখাটি কথিত আলেম সমাজের দৃষ্টিতে সুন্নাত কি, এবং কথিত আলেম সমাজ তাঁদের বলা সেই সুন্নাতকে কতটুকু পালন করে সেটাই আপনাদের কাছে পরিস্কার ভাবে তুলে ধরার জন্য।

সুধী, আপনারা জানেন যে, কথিত আলেম সমাজ বলে থাকে যে, রাসুল তার জীবদ্দশায় যাহা কিছু করেছেন, করার আদেশ করেছেন ও নিষেধ করেছেন তার সবই সুন্নাত বা সুন্নাতে রাসুলাল্লাহ। আর সে সূত্র ধরেই তারা পেশাব, পায়খানার পরে ঢিলা-কুলুফ নেওয়া, দাড়ি, টুপি, চুল ও পোশাক ইত্যাদি বিষয় রাসুলকে অনুকরণ ও অনুস্মরণ করেই পালন করে থাকে। কোন মুসলিম যদি কথিত আলেমদের বলা উক্ত সুন্নাত মত না চলে তাহলে তাকে রাসুলের সুন্নাত বিরোধী ও কাফের বলে অভিহিত করে থাকে। আর সে সূত্র ধরে কথিত আলেম সমাজ যদি রাসুলের পালনীয় কোন কাজ ও তার আদেশ করা কোন কাজ না করে তাহলে তারা অবশ্যই কাফের রূপে চিহ্নিত হবে। আসুন আজ আমরা জেনে নিই কথিত আলেম সমাজ রাসুলের কোন কোন সুন্নাত নিজেরা পালন করে না, আর রাসুলের এ সকল সুন্নাত পালন না করার জন্য তারা কেন কাফের রূপে চিহ্নিত হবে না তা জেনে নিই।

পবিত্র কোরআনে সালাতের কথা লেখা আছে কিন্তু কিভাবে সালাত পালন করতে হবে তা উল্লেখ নেই। তাই সালাত পালনে রাসুল কিভাবে সালাত পালন করেছেন তা হাদিসে লিপিবদ্ধ হয়েছে, আর সেই হাদিসের উল্লেখ মতেই সালাত আদায় করা হয়। যদি কেউ সালাত পালনে হাদিসের নিয়ম অস্বিকার করে তাহলে কথিত আলেম সমাজ তাকে কাফের বলে ফতুয়া দেয়। আবার কোরআন বিবাহের কথা উল্লেখ করলেও কিভাবে বিবাহ করতে হবে তা উল্লেখ করে নি। তাই বিবাহের নিয়ম রাসুল যেভাবে বিবাহ করেছে সেটিই মুসলিম সমাজের জন্য পালনীয় হওয়া উচিৎ। কিন্তু কথিত আলেম সমাজ রাসুলের বিবাহ পালন বিষয় হাদিসে উল্লেখ করে নাই। তার মানে কথিত আলেম সমাজ রাসুলের বিবাহ পালন বিষয় হাদিসে স্থান না দিয়ে রাসুলের বিবাহ নিয়ম মুসলিম সমাজের পালনে অস্বিকার করেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, কথিত আলেম সমাজ ও হাদিস গ্রন্থ রচয়িতারা কোরআন উল্লিখিত বিবাহ বিষয়ে রাসুলের বিবাহ পালন বিষয়কে মুসলিম সমাজের জন্য পালনে  অস্বিকার করেছে। আর এই অস্বিকার হেতু হাদিস গ্রন্থ রচয়িতারা নিজেরা কাফের হয়ে গেছে ও মুসলিম সমাজকে তা পালন হতে বিরত রাখায় সমস্ত মুসলিম সম্প্রদায়কে কাফেরে পরিণত করেছে।    

সম্মানিত পাঠক! যেহেতু কথিত আলেমরা সকল কাজ রাসুলের নিজে পালন করা, তার আদেশ করা ও নিষেধ করা বিষয়কে সুন্নাতে রাসুলাল্লাহ বলে মান্য করে থাকে, সেহেতু কথিত আলেম সমাজের উচিৎ বিবাহের সুন্নাত হিসাবে রাসুলের বিবাহকে অনুকরণ করেই করা। নচেত তারা রাসুলের একটি প্রধান ও অপরিহার্য সুন্নাত লঙ্ঘনকারী ও কোরআন উল্লিখিত বিবাহ সঠিক ভাবে পালন না করার জন্য কোরআনের আইন অস্বীকারকারী হিসাবে বিবেচিত হবে ও নিজেরা কাফের রূপে চিহ্নিত হবে। আর সে সুন্নাতটি হল- রাসুল পঁচিশ বছর বয়সে কুমার থাকা অবস্থায় চল্লিশ বছর বয়সী বিধবা খাদিজাকে বিবাহ করেন কয়েকটি সন্তানসহ। তাহলে রাসুলের বিবাহ বিষয়ক সুন্নাত হল- কুমার অবস্থায় প্রথম বিবাহ পনেরো বছর বেশি বয়সী কয়েকটি সন্তানসহ বিধবাকে বিবাহ করা। আর যদি কোন মুসলমান রাসুলের এই সুন্নাতটি পালন না করে, তাহলে সে কোরআন উল্লিখিত বিবাহ রাসুলের পালন হিসাবে পালন না করা হেতু কাফের রূপে চিহ্নিত হবে।

দ্বিতীয়ত রাসুলের প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন নি। সে সূত্রে মুসলিম সমাজের যারা প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিবাহ করেছে তারা কাফের রূপে চিহ্নিত হবে। কারণ কোরআন একাধিক বিবাহের নির্দেশ দিয়েছে ও রাসুল কি প্রক্রিয়ায় একাধিক বিবাহ করতে হবে তা নিজে করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই যারা দ্বিতীয় বিবাহ রাসুলের দেখানো হিসাবে পালন না করে তাহলে সে কোরআনকে ও রাসুলকে অস্বিকার করলো। আর কোরআন অস্বিকার করার জন্য তারা কাফের হয়ে গেল।

রাসুল পঞ্চাশ বছর বয়সে সাত বছরের আয়িশাকে বিবাহ করেছে। কথিত আলেম সমাজের সূত্রানুসারে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এটা রাসুলের সুন্নাত, যা পালন না করলে সে কাফের হয়ে যাবে। তাহলে আমরা ধরে নিব যে, মুসলিম সমাজের যারা পঞ্চাশ বছর বয়সে সাত বছরের শিশুকে বিবাহ না করেছে তারা সকলেই কাফের হয়ে গেছে?  পাঠকমণ্ডলী এবার আপনারাই বিচার করুন, মুসলিম সম্প্রদায়ে কথিত আলেমদের দৃষ্টিতে কতজন মুসলিম, মুসলমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ও কতজন কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ও বর্তমানে কতজন মুসলমান কাফেরী জীবন যাপন করছে। আমার মনে হয় রাসুলের বিবাহের সুন্নাত পরিত্যাগের জন্য, রাসুলের পালনীয় মতে বিবাহ পালন না করার জন্য ও কোরআনের আইন অমান্য ও অস্বিকার করার জন্য একশো ভাগ মুসলমানই কাফের হয়ে গেছে।  

রাসুল নিজে বাদ্যসহ গান শুনেছেন ও বাদ্যসহ গান গাওয়ার আদেশ করেছেন। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, বাদ্যসহ গান গাওয়া ও বাদ্যসহ গান শ্রবণ করা রাসুলের সুন্নাত। তাহলে মুসলিম সমাজের যারা বাদ্যসহ গান করে না ও বাদ্যসহ গান শ্রবণ করে না, কথিত আলেম সমাজের দৃষ্টিতে তারা কাফের। বাজনাসহ গান যায়েজের দলিল পড়তে এখানে ক্লিক করুন।   

(58)

2 Responses

  • অঞ্জন রহমান

    পাতালের চোরের বহর,

    দেখায় আসমানের নহর।

    জয় হোক জ্ঞানের,সত্যের,গুরুর।

  • গুরুজি

    অঞ্জন রহমান
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply