প্রার্থনা

গান নম্বর- ১

আমি দ্বীনহীন কাঙ্গাল, পাপে লিপ্ত চিরকাল।

পার করো ওগো দয়াল অধমে।

এ জনম পাপে ভরা, নাই গতি তুমি ছাড়া।

পাপীরে দিও ঠাই চরণে।।

এক

শিশুকাল ছিল মোর, অবোধাবস্থায়।

মাতৃস্নেহ পুঁজি সর্বদায়।

কিশোরও বেলাতে, গেলো দিন খেলাতে।

পিরিতে মজিলাম যৌবনে।।

দুই

(বয়স) গেলো বায়ান্ন, যৌবনের রঙ্গ।

সাঙ্গ দিলো কখন আনমনে।

হারিয়ে যৌবন বাহার, বলি দয়াল পার কাণ্ডার।  

তসবি জপি এখন এক ধ্যানে।।

তিন

(শেষে) বলি আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌, ওগো রাসুলাল্লাহ।  

হিল্লা দেখিনা আর ভুবনে।

বলে গুরু সামসুদ্দিন, সেরু পাগলায় পুঁজিহীন।  

থাকতে পুঁজি কেন আসলিনে।।

রচনা- ২৬-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

 

সৃষ্টিতত্ব

গান নম্বর- ২

শনিতে শোণিত ধারায়, এ ধরায় কার আগমন।

যুগ-যুগান্তে প্রতি মাসান্তে, নবরূপে পেয়ে জীবন।।

এক

ঋতুর আগমনে প্রলয়ের মাধ্যমে, হয়ে অমাবস্যা রূপ।

দুনিয়ার তরে ষড়দিন ভরে, বসে রয় নিশ্চুপ।

কে-সে আসিয়া দেয় ভাসাইয়া, পাতালপূরীর দেশ।

লাল পতাকা উড়াইয়া পূরী, খুনে করে নিশ্বেস।

শনির খুনেতে পাতালপূরীতে, পড়ে না চন্দ্র কিরণ।।

দুই

শনি-বৃহস্পতির কালে, খুন ভাণ্ডস্থলে, পড়ে যদি কুন।

কুন ভাসিয়া যায় শনির শোণিত ধারায়, হয় নাকো ভ্রূণ।

তাতে হয় লানতি পাতালগামী পতি, অসতী হয় পূরী।

না রয় উপাস্যযোগ্য বেঁধে যায় দক্ষযজ্ঞ, রয়ে যায় উত্তরসূরি।

এসে উত্তরী বায় জাত শুকাইয়া যায়, পায় না সেফাতি চরণ।।

তিন

আসিলে শুক্রবার লৌহ থাকে না আর, করে ভাণ্ড কুন হরণ।

প্লাবনের আগে আর থাকে না শনির বাহার, করে না খুনের স্মরণ।

নূহ না আসিলে হায় এ খুন থাকে কোথায়, মনে বাঞ্ছা জানিতে।

জানিলে এ জীবনে শান্তি পাবো তাঁর স্মরনে, ভরবে না জনম গ্লানিতে।

সামসুদ্দিনের দয়ার জন্য সেরু পাগলার জনম ধন্য, পেয়েছি গুরু চরণ।।

রচনা- ২৪-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

 

হাশর

গান নম্বর- ৩

সে কথা মনেতে রাখছোনি, ও সজনী, সে কথা মনেতে রাখছোনি।

যেদিন আজরাইল আসিয়া তোমার, লইবে প্রাণখানি, ও সজনী।।

এক

(সেদিন) কেউ তোমার হবে না সহায়, বন্ধু আপনার।

একাকিনী যেতে হবে, কবরও মাঝার।

স্ত্রী, পুত্র, বাপ, মা শুধুই, ফেলবে চোখের পানি।।

দুই

কি কথা বলিয়া তুমি, এসেছিলে ভবে।

তা তুমি গিয়াছো ভুলে, সংসার কলরবে।

কি সেদিন তুলিয়া দিবে, হাশরও মীযানি।।

তিন

দিনে দিনে ফুরাইলো, তোমার গণা দিন।

যতো সব ইন্দ্রিয় আদি, হয়ে গেলো ক্ষীণ।

ঘুমাইয়া রয়েছো কভু, এখনো জাগনি।।

চার

কখন জানি যায় ভেঙ্গে যায়, জীবন খেলাঘর।

যাদের তুমি ভাবলে আপন, সবাই কিন্তু পর।

সেরু পাগলার সঙ্গে শুধুই, যাবে আমল খানি।।

রচনা- ০৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

দালান কোঠা পাকা বাড়ি, সবই পড়ে রবে।

সমন জারি হলে পরে, চলে যেতে হবে।।

এক

কিসের গৌরব কিসের বড়ায়, দু-দিনেরই এই দুনিয়ায়।

সাঙ্গ হলে জীবন খেলা, রঙ্গ থেমে যাবে।

সেদিন তোমার এ ছাই গৌরব, কাজে না লাগিবে।

অন্ধকার কবরে তোমায়, একাই থাকতে হবে।।

দুই

কিসের স্ত্রী কিসের কন্যা, মরলে সঙ্গে কেউ যাবে না।

খালি হাতে একা পথে, বিদায় করে দেবে।

পুত্র পরিজনো তখন, শেষ বিদায় জানাবে।

এক নিমেষেই সেদিন সবাই, পর হইয়া যাবে।।

তিন

সময় থাকতে দুনিয়ারো, মোহ ছেড়ে দ্বীনকে ধরো।

নিদান কালে দ্বনই কেবল, সঙ্গের সাথী হবে।

দ্বীন বিনে সকলেই তোমার, বিরুদ্ধে  দাঁড়াবে।

সেরু পাগলা বলে ধর্ম, রসেই থাকো ডুবে।।

রচনা- ২২-০৯-২০১৫ ইং সাল

 

নারী

গান নম্বর- ৫

মা হয়ে এসেছি গো ধরায়।

জগতো জননী আমি, হয়েছি সৃষ্টির মাথায়।।

এক

আমি মাতা জগদ্ধাত্রী, করি সেবা অহরাত্রি।

সবাই আমার পুত্রাপুত্রি, আমি বিনে কিছুই নাই।।

দুই

আওয়ালে ঐ শুন্য কারে, আমিই ছিলাম তাঁর ভিতরে।

মা হয়ে বিশ্ব স্রষ্টারে, স্বয়ং দুগ্ধ পান করায়।।

তিন

উদ্ধারিতে চৈদ্দ ভুবন, সৃষ্টি করলাম পাক পাঞ্জাতন।

সৃষ্টিতে নাই রে প্রজনন, ইচ্ছাতেই সকল বানায়।।

চার

দুগ্ধ পানে ইচ্ছা হলো, তাই তো আল্লাহ্‌ মা ডাকিলো।

তাই সেরু পাগলা বলিলো, জানবি রে ফানাফিল্লাহই।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

কোন আনাসে পুরুষ তৈরি, করিয়াছেন দয়াময়।

রূহের তাহার নাম কি বলো, নফসেরো নাম কি বা হয়।।

এক

অজুদের তাঁর নাম কি বলো, রাহাটি কি নামে ছিলো।

মোকাম তাহার কোথায় হলো, দাও মঞ্জিলের পরিচয়।।

দুই

মক্কেলের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

রঙ স্বাদ কেমন হয় তোমার, সত্য বলো মিথ্যা নয়।।

তিন

সামসুদ্দিনে বলছে ডেকে, অধমো সেরু পাগলাকে।

চেনাও পুরুষ বলে কাকে, প্রথম পুরুষ কে বা হয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

আনাসের খাকের ফেল কতো, তাই বলো আজ আমারে।

কি কি নামে আছে তাহা, বলিবে সত্য করে।।

এক

কলবে খাকের ফেল কয়টি হয়, একে একে দাও পরিচয়।

তোমার নফসে ফেল কয়টি রয়, জানাও তুমি আমারে।।

দুই

ফেল কতো তোমার অজুদের, কতোটি ফেল হাকিকতের।

কতো ফেল হয় যামাদাতের, তাই বলো সত্য করে।।

তিন

পাগলা সেরুর এই বাসনা, আদমের পরিচয় জানা।

সামসুদ্দিন গো ইহার ব্যানা, জানাও এই অধমেরে।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

জানতে চাই তোমারি কাছে, সেই পুরুষের পরিচয়।

কি কারণে কি প্রকারে, গঠলেন প্রভু দয়াময়।।

এক

পুরুষ শব্দের অর্থ কিবা, কায়া তাহার গড়েন কেবা।

কোন আনাসে তাও বলিবা, সূক্ষ্ম কথা জানতে চাই।।

দুই

পুরুষ বস্তু না কি বাক্য, গঠলেন করে কাকে লক্ষ্য।

দলিল মতো দেবে সাক্ষ্য, প্রথম পুরুষ কে বা হয়।।

তিন

সেই পুরুষের জন্ম কবে, নাকি সৃষ্টি তাও বলিবে।

সেরু পাগলায় বলছে ভেবে, কোন স্বত্বাকে পুরুষ কয়।।

রচনা- ২১-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

আমি মা সব প্রসবকারিণী।

তাই তে বিশ্বে নামটি আমি, ধরিয়াছি জননী।।

এক

প্রজনন বিনে প্রসব, ইচ্ছা মাতৃত্বে এসব।

সৃষ্টিরই এই বিভু বৈভব, আমারই হাতে জানি।।

দুই

বিশ্ব প্রসব যে করেছে, মাতা বিনে হবে কি সে।

আল্লাহ্‌ই প্রথম প্রসব করছে, ত্রি প্রকারে নূরানী।।

তিন

সেই নূর প্রসব পরে, তোরা বিশ্ব চরাচরে।

জন্ম মৃত্যু ধারা ধরে, করো গো বিচরণী

চার

জন্মদাতার জনম পরে, জগদ্ধাত্রী আগে হয় রে।

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, স্রষ্টায় প্রসবকারিণী।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

আমি প্রভু অতি দয়াবান।

প্রকাশিতে ইচ্ছে হলো, তাই সব সৃষ্টি করিলাম।।

এক

নিজে বিনা প্রজননে, নূর ঝরালাম শব্দ কুন এ।

মোহাম্মদ হয় নূরী তনে, নূর মোহাম্মদ সর্ব স্থান।।

দুই

(তখন) হাসান, হোসেন, আলী সৃষ্টি, ফাতিমাসহ নবী গোষ্ঠী।

নহে কথা ফষ্টি নষ্টি, দলিলে আছে প্রমাণ।।

তিন

হাসান, হোসেন কর্ণ ফুল হয়, মা ফাতিমা গলেতে রয়।

মাথার তাজে আলী নিশ্চয়, একিনে হই অবস্থান।।

চার

রূপে তখন হই ময়ূরী, নয় রে পুরুষ নবী নারী।

সেরু পাগলায় বলছে তোরি, করো নারীর তরিক সন্ধান।।

রচনা- ২১-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১১

মাটির কায়া বেহেশতেতে, রয় অচেতন হইয়া।

চেতনা করিলাম দেখো, আমি হাওয়া যাইয়া।।

এক

আমারো ইচ্ছাতে তোমায়, গঠনো করিলাম কাদায়।

নিথর ও পাথর অবস্থায়, ছিলে তুমি পড়িয়া।।

দুই

বাম অঙ্গেতে প্রবেশ করে, রৌশনী করিলাম তোরে।

কালেব হতে নিরে নূরে, দিলেম রপ্ত করিয়া।।

তিন

তোমারো বামেতে আমি, আছি সদা দিবাযামি।

তোমাতে না থাকলে আমি, প্রকৃতি নিতো খাইয়া।।

চার

 শুধু তোমার বামেতে নয়, বিধির বামেও এই আমিই রই।

আমিই তোমার বিধিবাম হই, সেরু পাগলায় কয় তাহা।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১২

আব হায়াত, আব কাওসার, যমযম, রয়েছে নারীর কাছে।

তিনটি নদীই খুঁজে দেখো, প্রকৃতিতেই রয়েছে।।

এক

যখন শুক্র হয়েছে ক্ষয়, অপবিত্র তুমি নিশ্চয়।

আব কাওসার পানে অবশ্যয়, পবিত্র হবে শেষে।।

দুই

করিলে আবে হায়াত পান, অজুদে পাবে নব প্রাণ।

আশিতেও পাইবে যৌবন, পৌঁছিলে সূক্ষ্ম দেশে।।

তিন

পান করিলে আবে যমযম, আনন্দিত হবে হরদম।

সেরু পাগলা কয় আদ্যদম, নারীর ত্রিবেণীই আছে।।

রচনা- ২৩-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩

হয়েছে শুক্রেরই জনম, মাতৃ শক্তি হৃদে ধরি।

বীজ তো নহে হয় তোমারি, করছো বীজের বাহাদুরি।।

এক

মাতৃগর্ভে শতদলে, পেয়েছো সপ্ত সেফাত।

পঞ্চদল কমলো হতে, পেয়েছিলে পাঁচটি জাত।

হাইউন, আলিমুন, কুদিরুন সামিউন, বাছের কলিমুন।

শেষেতে হইলো মুরিদুন, সাতটি সেফাত নামে ধরি।।

দুই

হাইউন হয় জীবিত শক্তি, আলিমুনে হলো জ্ঞান।

কুদিরুনে কর্ম শক্তি, সামিউনে হয় শ্রবণ।

বাছের অর্থ দর্শন শক্তি কলিমুনে হয় বাকশক্তি।

মুরিদুন হয় যৌন শক্তি, সব দিলো ঐ গর্ভধারী।।

তিন

এক এক শক্তি পাহিয়াছো, চল্লিশ চল্লিশ দিন ধরে।

সপ্ত সেফাত হলো পূর্ণ, দুশো আশি দিন পরে।

এখন শক্তি হইতেছে ক্ষয় নারীর কাছে আছে নিশ্চয়।

সেরু পাগলা বলতেছে ভয়, থাকবে না সাধিলে নারী।।

রচনা- ২৩-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪

নারী ছাড়া এই জগতে, নাই কাহারো মুক্তি নাই।

তাইতে পুরুষ ত্বরা করে, ধরো এসে নারীর পায়।।

এক

নারী হয় আব হায়াতের খনি, নারীর কাছে নবধন রয়েছে জানি।

যেই নবধন পানে বিল্লাল, পুনঃ জীবন ফেরত পায়।।

দুই

নারীতে রহে আবে কাউসার, যেই পানিতে করে অজু দ্বীনেরো সর্দার।

মেরাজ কালে করে অজু, উম্মে হানীর ফোয়ারায়।।

তিন

নারীতে রয়েছে আব যমযম, যাহাতে বিসমিল্লাহ্‌ গড়া হইতেছে হরদম।

যেই বিসমিল্লাহ্‌র হয় না ওজন, দিলে তামাম দুনিয়ায়।।

চার

নারী সাধন না করার পরে, বিসমিল্লাহ্‌ হারাইলো সূরা তওবার উপরে।

চুক্তি বাতিল করে দিলো, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৬-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫

এ বিশ্ব হয় প্রকৃতির দান, প্রকৃতি হলো নারী।

প্রকৃতির সাধনা করো, হে পুরুষ গুণোধারী।।

এক

আগে পুরুষ ও প্রকৃতির কথা বিচার বিচার কর।

এই পুরুষ হয় প্রকৃতির দান, নারীকেই সব প্রকৃতি মান।

আদ্য শক্তি বুঝে নারীর সাধন কর তবেই তুমি খুঁজে পাবে খোদ ঈশ্বর।

মনেতে অটলের আশা, প্রথমে প্রকৃতির ভাষা।

বুঝে হৃদে করো বাসা, এই মুক্তির পথ তোমারি।।

দুই

মা খাকি মা ব্রহ্মা রূপে দুনিয়ায়।

মা হাওয়া মা গঙ্গা রূপে, স্রষ্টা নিজেই এলেন ভবে।

প্রকাশ করতে এলেন তাঁহার পরিচয় মাতৃ রূপে এসেছেন জেনো নিশ্চয়।

এসেছে কি পুরুষ রূপে, জানিলে বলো আমাকে।

পুরুষ কি প্রকৃতি আগে, নির্ণয় করো তাঁহারই।।

তিন

নারী সাধন ছাড়া জীবের মুক্তি নাই।

মাতাকে পরওয়ার ভেবে, করো সাধন এই ভবে।

প্রকৃতিই প্রকৃতি সাধে দুনিয়ায় হে পুরুষ না সেধে তোমার উপায় নাই।

যদি মুক্তির আশা থাকে, ভজো গৃহের ঐ নারীকে।

সেরু পাগলায় বলছে ডেকে, আদ্য বিধিই হয় নারী।।

রচনা- ৩০-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬

পিতা হইবার বাসনা, থাকলে মাতৃ সাধন করো।

মাতা হতে ওহে পুরুষ, পিতৃ শক্তি হৃদে ধরো।।

এক

পঞ্চদল কমলো হতে, মা দিয়াছে পাঁচটি জাত।

যা থেকে এই দেহ গড়া, দিয়ে আদ্য প্রণিপাত।

সে স্বত্বা কুন শক্তির পরে – প্রভাব ফেলে ধীরে ধীরে।

দুশো আশি দিনের পরে, ব্যক্তি রূপে চরাচরো।।

দুই

শতদল কমলো হতে, শপ্ত সেফাত সৃষ্টি হয়।

যে ধনে পিতা বানালো, সে ধন ইহার মধ্যে রয়।

সে ধন হৃদে আসে যখন – মতি রূপে পরিবর্তন।

রতি রূপে হয়ে ক্ষরণ, পিতা রূপটি প্রকাশ করো।।

তিন

পিতৃ শক্তি হারা হয়ে, হয়েছো অকৃতজ্ঞ।

মণি হারা ফণী হলে, করিয়া মরণ যজ্ঞ।

আবার মণি পেতে হলে – পড়ো নারীর চরণ তলে।

(তাঁর) চার চরণের ধুলি পেলে, সেরু পাগলার হবে শুক্র।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭

আমি হইলাম সেই ফাতিমা।

জায়নামাজের নীচে সম্পদ, ক্ষুধার জ্বালায় প্রাণ বাঁচে না।।

এক

আমার সম্পদ আমি খেলে, উম্মত পার করবো কোন বলে।

তুমি নবীর উম্মত হলে, পারের তোমার ভয় রবে না।।

দুই

গিয়ে রাসুল বাঁচাইবার, নিয়েছিলাম উম্মতের ভার।

উম্মতের কারণে বারবার, ধরায় করি আনাগোনা।।

তিন

উম্মত শব্দের অর্থ এবার, ক্রীতদাস রূপেতে প্রচার।

ঐ রূপ তুমি হলে আমার, অপারে পড়ে থাকবে না।।

চার

আসমানে আর জমিনেতে, সম্পদ নিয়ে দিনেরাতে।

বাঞ্ছা করি উদ্ধারিতে, সেরু পাগলা তাও বোঝে না।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১

বাচ্চার জনম দিতে কাঁকড়ায়, নিজের জীবন হারাইলো।

তাই বলে কি ভাবোরে মন, তাঁহার জনম বৃথায় গেলো।।

এক

কাঁকড়ারো গর্ভেতে যখন, বাচ্চা উপবিষ্ট হয়।

ধীরে ধীরে বাচ্চা সকল, মাকে খেয়ে করে লয়।

মাতা কাঁকড়া মারা গেলে – বাচ্চা কাঁকড়ার জনম মিলে।

কাঁকড়া পরিণত খোলে, সন্তান জন্ম তবু দিলো।।

দুই

কাঁকড়া যেমন নিজের জীবন, সন্তানে করে প্রয়োগ।

সন্তানে এক মায়ের জীবন, শত ভাগে করে ভোগ।

এক কাঁকড়ায় দেয় শত সন্তান – একই মাতা সবারই প্রাণ।

সন্তানই মা মাতায় সন্তান, এই রূপে প্রকাশ পাইলো।।

তিন

তেমনি নারী পুরুষ মাঝে, দিয়ে স্বত্বা বিসর্জন।

এক হইতে শত শত, দিলো সন্তানের জনম।

তুমি নারীর অংশ কলা – বলিতেছে সেরু পাগলা।

নারীই সুজলা সুফলা, নারী বৈ পুরুষ বিকলো।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯

আদম তৈরির মূল বৃত্তান্ত, বলতেছি করো শ্রবণ।

অপ্রাকৃত নূর ঝরালো, নূর শেষে হয় নূরী তন।।

এক

মোহাম্মদ আহাম্মদ আহাদ, তিন রূপে নূর ছিল আযাদ।

অপ্রাকৃত রূপে আহাদ, রহিয়াছে সারাক্ষণ।

মোহাম্মদ প্রকৃতি রূপে, গড়েছে বিশ্ব ভুবন।।

দুই

আহাম্মদ ঐ পুরুষ রূপে, বর্ত্ম রয় সেই খোদ সমীপে।

তিনজন সৃষ্টি হয় তিন রূপে, স্রষ্টা নূর ঝরায় যখন।

এক ক্ষণে তিনজনের সৃষ্টি, প্রথম নারীর আগমন।।

তিন

মা হাওয়া মা বহ্নি রূপে, মা খাকি মা গঙ্গা রূপে।

আমি নারী একে একে, গড়েছি বিশ্ব ভুবন।

ফেরেশতা এই খাক লইয়া, গড়েছে আদম গঠন।।

চার

মা খাকিতে আহাম্মদ যায়, আরদুল্লাহ নাম হয় সেথায়।

আহাদ নূর যেই খফিই বর্তায়, পঞ্চ অজুদ পায় চেতন।

সেরু পাগলা বলে ভেবে, নারীই হয় সবার জীবন।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২০

নারী না হইলে ভবে, কিছুই হতো নাই।

নারী গড়ে বিশ্ব ভুবন, নারী হয় আদ্য স্রষ্টায়।।

এক

স্রষ্টা প্রকৃতিরো রূপ ধরে।

একে একে তিন ফোটা নূর, প্রসবো করে।

সেই নূরে আঠারো হাজার, মাখলুকাত সৃষ্টি করায়।।

দুই

বিশ্ব নবী প্রকৃতির আকার।

প্রকৃতিই প্রকৃতি গড়ে, হইয়া সাকার।

নিরাকার সাকার হইয়া, আকার গড়ে এ ধরায়।।

তিন

করো পুরুষ প্রকৃতির সাধনা।

তা-না হলে প্রকৃতিতে, শান্তি পাবে না।

শান্তি হয় স্রষ্টার কামনা, বলতেছে সেরু পাগলায়।।
রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২১

মা খাকির কিয়দ অংশে, আদমের গঠন।

তাই নিয়ে তাঁর লাফালাফি, নাচানাচি কি রকম।।

এক

মা খাকি এই ধরণী গড়ে।

মা হাওয়া মা গঙ্গা দেখো, ভবেরই পরে।

মা বহ্নি উত্তপ্ত রাখে, স্রষ্টার গড়া এ ভুবন।।

দুই

কিঞ্চিৎ খাক জিবরাঈল পাইয়া।

আদম সুরাত গঠন করে, বেহেশতে নিয়া।

মিকাইল মা গঙ্গার পানি, আদমে ভরে তখন।।

তিন

আদমকে উত্তপ্ত করিবার।

আজাজিল মা বহ্নি হতে, অগ্নি দেয় এবার।

মা হাওয়া প্রবেশ করিলে, আদম দেখো পায় চেতন।।

চার

আদম চেতন হইবার পরে।

একা ভালো নাহি লাগে, দুশ্চিন্তায় পড়ে।

সেরু পাগলা বলে আদ্য, নারীর তাইতে আগমন।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২২

মাটি দ্বারা আদম তৈরি, দলিলে প্রচার।

অজুদ তাঁহার হয় আরেফেল, এ কথা জানা সবার।।

এক

ইনসান তৈরি জমাট রক্তে হয়।

অজুদ তাঁহার হয় অহেদাল, তালিমে তা কয়।

আদম ইনসান এক হলো না, করিয়া দেখো বিচার।।

দুই

জ্বিন সৃষ্টি আনাছের আতশে।

জ্বিনের রূহু হয় হায়ানী, জানাইলাম শেষে।

তিন আনাছে তিনজন সৃষ্টি, জানাতো গেলো এবার।।

তিন

পুরুষ হয় কোন আনাছে তৈরি।

রূহু তাঁহার আছে বলো, নাম হয় কি তাঁরি।

অজুদ তাঁহার আছে নিশ্চয়, নামটি বলো কি তাঁহার।।

চার

নফসো রাহা মোকাম ও মঞ্জিল।

ঈমানের একিন কি তাঁহার, কে তাঁহার মক্কেল।

পুরুষ তথ্য জানার ইচ্ছা, রয়েছে সেরু পাগলার।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২৩

আদম হাওয়াকে ফেলে দিলো, জেদ্দা আর শরম দ্বীপে।

আদমে শিখিলো কালাম, মুক্তি দাতার সমীপে।।

এক

কাঁদে আদম তিনশো বছর, হঠাতে পড়িল নজর।

স্রষ্টা ঐ আরশের উপর, যে নাম লিখে রেখেছে।।

দুই

আদমে সে নামটি ধরে, পুনঃ পুনঃ স্মরণ করে।

দেখে আদম হাওয়ার তোরে, হঠাৎ পৌঁছে গিয়েছে।।

তিন

হাওয়াকে পাইবার তরে, দেখো আদম কালাম পড়ে।

হাওয়া পাইতে আদমরে, কোথায় কালাম পড়েছে।।

চার

যদি কালাম পড়ে থাকে, জানাও তা সেরু পাগলাকে।

নইলে ভবে এই হাওয়াকে, ভজো মন গুরু ভজে।।

রচনা-২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

পাপ করে ঐ পুরুষগণে, নারী করে না।

নারী খায় পবিত্র খানা।।

এক

নারী জন্ম গ্রহণের পরে।

বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত রয় বাপের ঘরে।

বাপের উপর থাকে নারীর দায়িত্ব খানা।।

দুই

বিয়ের পরে যায় স্বামীর ঘরে।

তখন থেকে স্বামী তাঁহার ব্যয় বহন করে।

স্বামীর ধনেই মিটায় নারীর সকল বাহানা।।

তিন

পুরুষ নারীর মন ভরাইতে।

কতো যে পাপ করিতেছে এহি ভবেতে।

সেরু পাগলা বলে নারী এসব করে না।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

নারীর মন ভরানোই হয় পুরুষের কামনা।

জগতে ঢুঁড়ে দেখো না।।

এক

দিনে যায় ভ্যান গাড়ি ঠেলিতে।

সারা জীবন যায় যে গাধার খাটনি খাটিতে।

পরিশ্রমের ধনে পূরায় নারীর বাসনা।।

দুই

রাতে করিতে যায় চুরি।

দেখো না পড়িলে ধরা গলে দেয় ছুরি।

নারীর মন ভরাইতে তাঁহার যায় জীবন খানা।।

তিন

নারী তোমার সাধনারই ধন।

নারীর মন রাখিতে কতো হারাইলো জীবন।

সেরু পাগলা বলে ভবে ঘুরে দেখো না।।

রচনা- ২৬-৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

সারাজনম ঝোলায় পুরে, মাকে বহে দিন রজনী।

এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অলি, ছিল ওয়াস করণী।।

এক

রাসুলে জানিতে পারে, মরবে বিল্লাল তিন দিন পরে।

কেহ তারে বাঁচাইতে নারে, পাগলায় ফিরায় জীবনী।।

দুই

রাসুলে পারেনি যাহা, পাগলে পেরেছে তাহা।

মাতৃ ভক্তির জন্য ইহা, সম্ভব তাহা লও মানি।।

তিন

তাইতে কয় সেরু পাগলে, পড়ো মায়ের চরণ তলে।

একবার দোয়া করে দিলে, হইবে পরশ মণি।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

আদমে কালাম শিখেছে, হাওয়া কালাম শিখে নাই।

কি হেতু শিখিলে কালাম, বলো আদম তুমি তাই।

এক

জেদ্দাতে আসিবার পরে, পড়লে কালাম ঘটা করে।

যেই কলেমা পড়ার পরে, ঠিকানা পেলে হাওয়ার।

হাওয়া কালাম না পড়িলেও, তোমার দেখা ঠিকই পায়।।

দুই

হাওয়াকে সন্তুষ্ট রাখতে, নামিলে আদম কর্মেতে।

হাওয়া যেনো কোন মতে, তোমায় ছেড়ে নাহি যায়।

এটা সেটা এনে দিয়ে, হাওয়ার মন ভরালে তাই।।

তিন

পরিশ্রমের ধন আনিয়া, হাওয়া বিবির হাতে দিয়া।

কি কারণে কি পাইয়া, গোলাম হলে কোন ঠেকাই।

হাওয়া বিবি গোলাম নয়রে, বিলাসে জীবন কাটায়।।

চার

সেরু পাগলা ভেবে বলে, আদম তুমি পাপী ছিলে।

তাইতে কালাম পাঠ করিলে, হাওয়া পাওয়ার বাসনায়।

হাওয়াই তোমার মুক্তি দাতা, তাই থাকো তাঁর সাধনায়।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

শরম দ্বীপে নামার পরে, হাওয়ার সব লাগে চেনা।

সাড়ে তিনশো বছর কখন, কেটেছে তাঁর নাই জানা।।

এক

ছিল হাওয়া ঘুমোঘোরে, জেগে দেখে আদমেরে।

দাঁড়ায়ে তাঁহার শিয়রে, দেখে চোখ তাঁর প্রায় কানা।।

দুই

এ হাল কেন শুধালে পর, বলে সাড়ে তিনশো বছর।

কেঁদেই কাটিয়েছি প্রহর, খুঁজতে তোমার ঠিকানা।।

তিন

আজকে যে কি আনন্দ মোর, বলতে আমি হচ্ছি বিভোর।

পাশে রহিবে জীবনভর, কথা দাও লক্ষ্মী সোনা।।

চার

তুমি আমার সাধনার ধন, তুমি আমার জীবন মরণ।

সেরু পাগলা বলে আদম, হাওয়া ছাড়া বাঁচে না।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

জান্নাত মায়ের পদতলেতে।

মাতৃ সেবা করো তুমি, থাকিয়া এই ভবেতে।।

এক

বোস্তামে বায়েযিদ ছিল, রাতে মায়ে পানি চাহিল।

কলসে পানি না ছিল, ছুটে যায় পানি আনিতে।

দুই

দূর থেকে পানি আনিয়া, গ্লাসেতে পানি ঢালিয়া।

জননীকে দিতে গিয়া, দেখে মা রয় ঘুমেতে।

তিন

বায়েযিদে মনে ভাবে, ডাকলে মায়ে কষ্ট পাবে।

ঘুম থেকে উঠিলেই তবে, দিবো পানি খাইতে।

চার

নিশি ভোর হইলো যখন, জননীর ঘুম ভাঙ্গে তখন।

শিয়রে দেখে রয় চেতন, বায়েযিদ পানি হাতে।।

পাঁচ

মা জননীর মনে পড়ে, মাঝ রাতে ঐ ঘুমের ঘোরে।

পানি চাই সন্তানের তরে, জল ছিল না কলসিতে।।

ছয়

তা হলে কি আমার বাছাই, সারাটি রাত জেগেই কাটায়।

মায়ের তখন এই ভাবনায়, জল ঝরে দুই চোখেতে।।

সাত

বুকেতে জড়িয়ে ধরে, চুমা খেয়ে আদর করে।

দুহাত তুলে দোয়া করে, সন্তান নাও মোর জান্নাতে।।

আট

মায়ের দোয়া কবুল হলো, বায়েযিদ আওলিয়া হলো।

সেরু পাগলা তাই বলিল, থাকো মায়ের ভক্তিতে।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ৩০

আমার জন্য গাধার মতো, খাটিছো জীবন ভরি।

তাইতে তোমায় নাওয়াই খাওয়াই,  আদর ও সোহাগ করি।।

এক

গরু, ঘোড়া পোষে সবাই, কাজ করাবে বাসনা তাই।

কৃষক তারে নাওয়ায় খাওয়ায়, রাখে যত্নের উপরি।।

দুই

গরু যদি ভাবে রে মন, আমি হই বড় মহাজন।

এ ভাবনা তাঁর বোকার মতন, দেখো না চিন্তা করি।।

তিন

গরু যেমন যত্ন করো, তোমারটারেও তেমনি ধরো।

নারী হয় সবার উপরও, বচন সেরু পাগলারি।।

রচনা- ১১-০৬-২০০৩ ইং সাল

 গান নম্বর- ৩১

বীজের হিসাব রাখে পুরুষ, আসরে বলে সবাই।

খোঁজ নিয়ে দেখেছি আমি, আসলে ধানায় পানায়।।

এক

মানিক গঞ্জের রশিদ সরকার, মমতাজ বধু ছিল তাঁর।

শ্রেষ্ঠ শিল্পী নামে প্রচার, তাঁর ঘরে বোবা জন্মায়।।

দুই

পাবনাতে উম্মত বয়াতি, তিন কন্যা তাঁহার সন্ততি।

টেবুনিয়ায় শওকত বয়াতি, তিন কন্যা তাঁর দেখা যায়।।

তিন

ত্রিবেণীর বাউল সলেমান, আল্লহই করছে দুই কন্যা দান।

চার কন্যার করেছে বাগান, কালীগঞ্জের আকবর শাঁই।।

চার

খোরশেদ আলম বৈডাঙ্গাতে, তাঁর ঘরে হয় কন্যা তিনটে।

আকলিমা হয় নিস্বন্ততে, বলিছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৬-১২-২০০৪ ইং সাল

 

পুরুষ তত্ত্ব

গান নম্বর- ৩২

অপ্রাকৃত পরোয়ারদেগার।

সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহার কর্তা নাম তাঁহার।।

এক

নামে যাহার কর্তা আছে, নারী ভাবা হবে মিছে।

নারী হলে দেখো বুঝে, কর্ত্রী নাম হতো প্রচার।।

দুই

কর্তা আছে যাহার নামে, সে পুরুষ এই ধরা ধামে।

স্রষ্টা পুরুষ সৃষ্টি কামে, দেখো না ভেবে একবার।।

তিন

নারী পুরুষ স্রষ্টা নহে, স্রষ্টা দের ঊর্ধ্বে রহে।

নিজে অপ্রাকৃত হয়ে, চালাচ্ছে বিশ্ব সংসার।।

চার

স্রষ্টা অপ্রাকৃত ভবে, রূপ ভাঁড়ালেই পুরুষ হবে।

নূর ঝরায় সে নারী রূপে, এ দর্শন সেরু পাগলার।।

রচনা- ২১-০২-২০০৫ ইং সাল

 

কাম তত্ব

গান নম্বর- ৩৩

প্রথমে কাম শেষেতে কাম, কাম বিনে আর কিছু নাই।

কাম থেকে কামনা সৃষ্টি, তাঁর পরে প্রেমে আশ্রয়।।

এক

কাম উদিত হলে পরে, সিদ্ধি করতে মনে ধরে।

ছলনাকে আশ্রয় করে, কাম ক্ষুধা মিটাতে চাই।।

দুই

যে সত্বায় কামেরো উদ্রেক, আদ্য স্বত্বা দলিল উল্লেখ।

খোদ খোদা লয়ে নব ভেক, সৃষ্টি করে জগতময়।।

তিন

ধ্বংস ছাড়া সৃষ্টি হয় না, স্রষ্টা তাঁর নিজেই নমুনা।

সেরু পাগলার এহি ব্যানা, কামেই পাবে পরিচয়।।

রচনা- ১৯-০৮-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৪

আমি কাম হইলাম দেহরাজ।

আমার জন্য তুমি ও প্রেম, সাজিয়াছো এত সাজ।।

এক

আমারো কারণে ধরা, স্বয়ং প্রভুর সৃষ্টি করা।

কাম দেখো ভুবনে ভরা, ছাড়িয়া ভূষণ লাজ।।

দুই

যেই কামে আল্লাহ্‌র ললাটে, পছিনা পড়িলো ছুটে।

পড়িলো স্রষ্টা বিভ্রাটে, শুরু করে সৃষ্টি কাজ।।

তিন

সেই নূর মোহাম্মদ নামে, স্রষ্টাতে মশগুল হয় প্রেমে।

কাম হেতু প্রেম জানো মনে, সেরু পাগলা বলে আজ।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৫

পঞ্চ কামে ভরা জগতময়।

অকাম, স্বকাম, কুকাম, সুকাম, নিষ্কাম নামে পরিচয়।।

এক

অকামে কাম সবই বৃথা, পণ্ডশ্রম হয় যাহার ব্যাখ্যা।

ফল শুন্য সে করণ অযথা, এ কথা জেনো নিশ্চয়।।

দুই

ইশ্বর আজ্ঞা কয় যাহারে, অজুদে স্বকাম প্রচারে।

ঋপূর তাড়নার কাম রে, তাহারেই কুকামও কয়।।

তিন

শেষ ভালো যেই কামে থাকে, সুকাম বলিবে তাহাকে।

শুক্ল কৃষ্ণ উভয় পক্ষে, সুকামেরই হবে জয়।।

চার

আদ্য শক্তির অধিকারী, জগতে নিষ্কাম প্রচারি।

সেরু পাগলা বিনয় করি, কয় সব কাম এখানেই রয়।।  

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৬

আল্লাহ্‌র পরে কাম অবস্থান, ভেবে দেখো সর্বদায়।

যেই কামে মোহাম্মদ সৃষ্টি, হলো প্রেম নমুনায়।।

এক

কামেতে ঝরে পছিনা, পছিনা হয় নূরে নামা।

কাম ছাড়া প্রেম জমিতো না, সৃষ্টি কি জন্মের বেলায়।।

দুই

কাম নাই যাহার দেহেতে, দাউজ নাম বলে ভবেতে।

নারী প্রেম তাঁর নাই ভাগ্যেতে, ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।।

তিন

দেহেতে যার কাম রয়েছে, প্রেম তাহার প্রয়োজন আছে।

কাম বিনে প্রেম হবে মিছে, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৭

কামের ও মাধ্যমে দেখো, প্রেমো রস সৃষ্টি হলে।

কাম ছাড়া প্রেম স্বত্বা সৃষ্টি, হয়নি কোন কালে।।

এক

কামেতে কুন অণুক্ষরণ, বৃহস্পতি অণুকরণ।

মোহাম্মদ নামেতে ধরণ, কামক্ষুধায় বাঁধা ছিলে।।

দুই

বৃহস্পতি ভাগাভাগ হলে, পঞ্চ প্রেমের সৃষ্টি মিলে।

দেখো পঞ্চদল কমলে, শেষে প্রেম স্থান নিলে।।

তিন

শপ্ত পঞ্চ নামে আখ্যা, বারো অক্ষর হল লেখা।

পাবে মোহাম্মদের দেখা, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ০৮-০৭০১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৮

প্রেম বস্তু কোন মোকামেতে রয়।

কোন আনাছে তৈরি সে-যে, রুহু কি নামেতে হয়।।

এক

অজুদটি কি বলো প্রেমে, আছে তাহা কি-বা নামে।

মঞ্জিল রাহা হয় কোনখানে, বলো গো করে নির্ণয়।।

দুই

নফসটি তাঁর হলো কি-বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

কি বলো হয় প্রেমের শিবা, করে তাহা সু-নিশ্চয়।।

তিন

প্রেমের ও মক্কেলো বলো, কি নামে রহিয়া গেলো।

ভেবে কয় সেরু পাগলো, সুক্ষ কথা জানতে চাই।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৯

কামের ও কারণে তুমি, আসিয়াছো দুনিয়ায়।

কাম ছাড়া এই দুনিয়ার মুখ, কে দেখাইতো তোমায়।।

এক

যেই কামে আদম ও হাওয়া, সীমা লঙ্ঘে বেহেশতে গিয়া।

গুপ্তাঙ্গ যায় প্রকাশিয়া, তাই আসিলো এ ধরায়।।

দুই

কাম বস্তু নাহি জাগিলে, আদম হাওয়া কেমনে মিলে।

কেমনে অপবিত্র হলে, ভেবে দেখো তুমি তাই।।

তিন

সেরু পাগলা ভাবিয়া কয়, কাম ছাড়া প্রেম দরকারই নাই।

প্রেম থাকে কামেরই আশায়, সর্বক্ষণে সর্ব ঠাই।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪০

হেতু বস্তু হয় কামে গন্য।

নি-হেতু কি আছে বলো, যাহা সকলের মান্য।।

এক

হেতু কার্য সিদ্ধি আশে, জড়াতে হয় প্রেমাবেশে।

হেতু ছাড়া প্রেম হয় মিছে, প্রেম সেখানে নগন্য।।

দুই

যেই প্রেম হয় কাম হেতু, জেনো সে তৃতীয় বস্তু।

এক আল্লাহ্‌ কাম দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ে প্রেম হয় ধন্য।।

তিন

আল্লাহ্‌ একেশ্বরে ছিল, সৃষ্টি হেতু মনে জাগলো।

তাই সেরু পাগলা বলিল, প্রেম হলো কামের জন্য।।

রচন- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪১

প্রেম ছিল মীমের ও কোঠাতে।

লামে আলিফ কামের পরে, মীম তালা গেলো ফেটে।।

এক

মিমে প্রেম গচ্ছিত ছিল, মাশুকের প্রয়োজন হল।

তাই আল্লাহ্‌ আলিফে গেলো, লামের মধ্যে মিশিতে।।

দুই

লামে আলিফ যায় মিশিয়া, ধৃ-স্বত্বা হরণ ক্রিয়া।

হয়ে যায় কুন প্রকাশিয়া, তাই ঈসা আসমানেতে।।

তিন

কুন গোবিন্দ রূপটি ধরে, যেই আসিল এই ভূধরে।

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, প্রেম সৃষ্টি এই কামেতে।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪২

ভবে প্রেম হয় কতো প্রকার, জানতে চাই আমি হেথায়।

কোন প্রেমের কি নাম হয়েছে, কোন প্রেম রয় কোন অবস্থায়।।

এক

কোন প্রেম তৈরি কোন আনাছে, কাহার কোন মক্কেলা আছে।

কে কোন অবস্থায় রয়েছে, কি রূপেতে সর্বদায়।।

দুই

কোন প্রেম বলো কাহার তরে, রহিয়াছে ভব পরে।

কোন প্রেমে ঐ স্রষ্টার তরে, বাঁধা রয়েছে সবাই।।

তিন

ভবের লোক রয় কামে মত্ত, সবারই প্রেম শুন্য চিত্ত।

সেরু পাগলা তাই প্রেম তত্ব, তোমার কাছে জানতে চাই।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

স্বকামে শাঁই যখন জ্বলিলো।

পঞ্চ জাতের সৃষ্টি দেখো, তখনই হয়ে গেলো।।

এক

কামে জাত জ্বলিলো যখন, আলিমুন সেফাত হয় তখন।

নূর কামে হলো মুরিদুন, আহদিয়াত সহুত হলো।।

দুই

আহদত কুয়াতে সেপ্ত হলে, কুদিরুন তখন জন্মিলে।

আহদিয়াত জাত সে কালে, হাইউন সেফাতে ছিলো।।

তিন

চার এতবার যখন যায় কামে, চার সেফাত হলো তখনে।

সেরু পাগলা বলছে জেনে, এর বহু পর প্রেম হলো।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

পাঁচ জাত সৃষ্টি স্রষ্টার স্বকামে।

আব, আতশ, খাক, বাদ আর সাফা, এই হইলো পঞ্চ নামে।।

এক

আল্লাহ্‌ একেশ্বরে ছিলো, সৃষ্টিরও বাসনা হলো।

স্বকামে নিজেই জ্বলিলো, আপনি আপন ধামে।।

দুই

আপন ধামে জ্বলে যখন, সাফা সৃষ্টি হলো তখন।

সাফার কামে হাওয়ারে মন, আগুন হয় হাওয়ার কামে।।

তিন

অগ্নি কামে পানি সৃষ্টি, পানির কামে হলো মাটি।

স্বকামে সবই হয় সৃষ্টি, (সেরু) পাগলা কয় নয়রে প্রেমে।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

প্রেম নাইরে প্রেম নাইরে ভবে, কাম ছাড়া প্রেম ভবে নাই।

ঢুঁড়ে দেখো এই ধরাতে, ঘুরছে সব কামের নেশায়।।

এক

কাম সিদ্ধি করার আশে, জড়াতে হয় প্রেমাবেশে।

ব্যাথা দিয়ে অবশেষে, প্রেম তোমার চলিয়া যায়।।

দুই

কাম হলো উদ্দেশ্য রে মন, প্রেম তোমার ছলনারো ধন।

কাম উদ্ধারে প্রেমালাপন, করে চলেছে সবাই।।

তিন

কাম ক্ষুধা মিটিয়া গেলে, চলে যায় সব প্রেমকে ফেলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, প্রেম হলো মিথ্যার আশ্রয়।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৬

প্রেমের ছলনাতে যেও না।

কাম ক্ষুধা মিটিয়া গেলে, দিয়ে যাবে বেদনা।।

এক

কাম প্রয়োজন জেনো নিশ্চয়, প্রেম তোমার হলো অভিনয়।

অভিনয়ে কাম সারতে হয়, তারপর আর প্রেম থাকে না।।

দুই

কামে কামে হয় কামাতুর, তখনই দেয় প্রেমেরই সুর।

পিছে পিছে করে ঘুর ঘুর, নিয়ে কামের বাসনা।।

তিন

কামের জন্য প্রেম করে মন, কাম জগতে অমূল্য ধন।

সেরু পাগলার মন উচাটন, কাম ছাড়া প্রেম বোঝে না।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৭

কামে বানাইলো ঢেঁকির আশ্বালা।

আমি এদিক গেলে মারে বাড়ি, ওদিক গেলে দেয় ঠ্যালা।।

এক

কামেতে চাই রঙ মহলে, রঙের খেলা খেলিতে।

জানমাল আমার যায় খোয়ায়ে, রমণ ক্রিয়ার গলিতে।

ওসে কামের ধান্দায় নাছোড় বান্দা, ঘনিয়ে দিলো বেলা।।

দুই

কাম নদীতে প্রেমের বৈঠা উজান বেয়ে চলতে হয়।

ছয় ঋপূতে বাড়ি মেরে ভেটেলেতে দেয় পাঠায়।

আমা সর্বস্ব করিলো ভস্ম, চিতায় পোড়ানো কয়লা।।

তিন

ঋপূর বসে চললে পরে কামে আমায় দেয় জ্বালা।

প্রেমের বসে চললে আমি ঋপূতে বসায় মেলা।

সামসুদ্দিন কয় পাগলা সেরু আস্ত বজ্জাতের চেলা।।

রচনা- ০৫-০৩-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৮

কামেরও কারণে তোমার ঘাড়ে দেখি বেহালা।

তাইতে তুমি আসিয়াছো, গান শোনাতে এই বেলা।।

এক

কামের জ্বালা বুকে নিয়ে, করেছিলে একটি বিয়ে।

শেষে কামের বিনিময়ে, পেলে সন্তানের জ্বালা।।

দুই

মেটাতে সন্তান কামনা, ধরিলে গানের বাহানা।

সন্তান সুখ দেখবে বাসনা, গান কামের নিয়ে ঠ্যালা।।

তিন

এই কামের টাকা বাড়ি নিয়ে, কামিনীর হাতে তুলে দিয়ে।

সংসারে সুখ যাচ্ছো চেয়ে, বলতেছে সেরু পাগলা।।

রচনা- ২৯-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৯

কাম নিয়ে মন ছুটাছুটি প্রেম করিবার সময় নাই।

কামে কামে জীবন গেলো, প্রেমে মন পেলো না ঠাই।।

এক

এক কামে ঝরে পছিনা, আদম পায় বেহেশত খানা।

মিটাইতে কাম কামনা, আদম হাওয়া দুনিয়ায়।।

দুই

এ ধরায় চৌদ্দ ভুবনে, বেড়াইতেছো কাম কারণে।

ভুবন ভরিলো সন্তানে, দুইজনার কাম কামনায়।।

তিন

কাম যেথা রাজার আসনে, প্রজা রূপে প্রেম সেখানে।

সেরু পাগলা এই ভুবনে, কাম বিনে প্রেম দেখে নাই।।

রচনা- ২৯-১০-২০০০ ইং সাল

 

শিস্য

গান নম্বর- ৫

ঘুণে ধরা পঞ্চ অজুদ কেমনে বাঁচাই।

ষড়ঋপূ ধীরে ধীরে খেয়ে করে যাচ্ছে লয়।।

এক

মাতৃ গর্ভে প্রবেশো কালে।

আয়ু কতো ছিল আমার তাই বলো খুলে।

কেনো সন্তান অঙ্গহানী হয়ে আসে এ ধরায়।।

দুই

পূর্ণ আয়ু কি করে বাঁচি।

কোন স্বত্বার অভাবে আয়ু হারা হইতেছি।

সে স্বত্বা কও কি প্রকারে পাবো আমি দুনিয়ায়।।

তিন

সোনার অঙ্গ হয়ে গেলো ক্ষীণ।

ধীরে ধীরে হলাম আমি জীবন যৌবনহীন।

কেমনে কাটাবো দুর্দিন খুলে বলো আলেক শাঁই।।

চার

সেরু পাগলা দাঁড়ায়ে দ্বারে।

আশা মনে দয়াল গুরু যদি উদ্ধারে।

উদ্ধার না করিলে গুরু কিসের তুমি দয়াময়।।

রচনা- ২৮-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

ইন্নাদ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম কয় আল্লাহ্‌ই।

প্রভুর মনোনীত ধর্ম শান্তি পাওয়া সর্বদায়।।

এক

শান্তির সংজ্ঞা হলো কি প্রকার।

কি পাইলে শান্তি পাবে জীব সকল ধরার।

কি পেলে অশান্তি রয় না, শান্তি বহে দুনিয়ায়।।

দুই

কি হয় বলো কারণ অশান্তির।

জানিতে চাই ভক্ত তোমার হইয়া অধীর।

না জানলে অশান্তি ব্যানা, শান্তি কি আর পাওয়া যায়।।

তিন

কি করলে অশান্তি দূর হবে।

এই কথা জানায়ে গুরু শান্তি দাও ভবে।

অশান্তি যেন না পায় তোমার, ভক্ত ঐ সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৮-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

ছয় লতিফার কর্ম কি কি আমারে জানাও।

কাহার কোথা হয় বসতী সত্য করে বলো তাও।।

এক

কোন লতিফা হয় কতো প্রকার।

কোন লতিফার কি রূপ সাধন, বাসনা জানার।

তুমি না জানালে গুরু, জানার যায়গা নাই কোথাও।।

দুই

কোন রূহু কোন আনাছে বর্ত্ম।

সেই রূহের সাধনায় বলো, রয় কি কি শর্ত।

কোন রূহু কোন অজুদেতে, জানিয়ে ভক্ত তরাও।।

তিন

কোন রূহের কোন নফস হয় বলো।

নফস রূহের এই অজুদে, ফেল কতো হলো।

করিয়ে সাধন ভক্তেরই ধন, উদ্ধারিতে ফিরে চাও।।

চার

সেরু পাগলা হয়েছে জ্ঞানহীন।

দয়া করে দয়াল গুরু জানাও আদ্য দ্বীন।

নইলে ভক্তের অবেলাতে শুকনা ডাঙায় ডোবে নাও।।

রচনা- ২৭-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

গুরু কি ধন চিনিলাম না।

কে করে মুরিদ কে হয় মুরিদ, জানাও গো ইহারও ব্যানা।।

এক

মুরিদ শব্দের অর্থ বা কি, মুরিদ হলে পাইব কি।

না হলে মুরিদ কিবা ক্ষতি, মুর্শিদ বস্তুর কোন ঠিকানা।।

দুই

মুর্শিদে কি নিয়ে যাবো, তাঁর নিকটে কি পাইবো।

কোন শর্তে মুরিদ হবো, এ কথা আমায় বলো না।।

তিন

দিনে দিনে দিন ফুরালো, গুরু ভাগ্যে না জুটিলো।

মুরিদ হওয়া না ঘটিলো, এ দুঃখ মরলেও যাবে না।।

চার

সামসুদ্দিনের চরণ ধরি, সেরু পাগলা বিনয় করি।

কহে ছাড়ো ছল চাতুরী, এইক্ষণে মুরিদ করো না।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

গুরু বস্তু কতো প্রকার।

কি রঙ কি নাম কিবা মোকাম, মঞ্জিল রাহা হয় কি তাহার।।

এক

কোন আনাছে গুরু তৈরি, একিন মক্কেল কি হয় তারি।

বলো স্বাদ হয় কি প্রকারি, জানলে বলো খবর তাহার।।

দুই

কোথা রয় গুরু অবস্থান, সত্য করে বলো সন্ধান।

নেবো না কোথা অনুমান, পরিচয় দাও সত্যতার।।

তিন

কি হারায়ে আমি শিস্য, করিবো আজ গুরু দাস্য।

কোন শক্তিতে গুরু শিস্যই, রেখেছে দাস্য বিচার।।

চার

ভেবে কয় সেরু পাগলে, পড়বো গুরুর চরণ তলে।

(তাই) জানাও গুরু কাকে বলে, ভ্রান্তি দূর হউক আমার।।

রচনা- ২০-০৯-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৫

দুটি শব্দের মর্ম অর্থ জানতে ইচ্ছা হয়।

মুরিদ ও বায়াতের ব্যানার, জানাও পরিচয়।।

এক

মুরিদ শব্দের অর্থ কিবা, বলো গুরু গেলো দিবা।

কোন স্বত্বা মুরিদের শিবা, হয়েছে নির্ণয়।।

দুই

কি হলো বায়াতের অর্থ, বায়াতে রয় কি কি শর্ত।

বায়াত স্বর্গ নাকি মর্ত, কি রূপে সে রয়।।

তিন

সেরু পাগলার এই মিনতি, জানাও মুরিদ ও বায়াতি।

কে কোন জায়গায় রয় স্থিতি, ভজনের সময়।।

রচনা- ১৯-০২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৬

বায়াত শব্দের অর্থ বিক্রয়, একথা সবার জানা।

কি ধন বিক্রির পরে ভক্ত, গুরুতে হলো ফানা।।

এক

যেদিন গুরু বায়াত হলে, কি ধন বিক্রয় করেছিলে।

কি মুল্য তাঁর পেয়েছিলে, আমার জানার বাসনা।।

দুই

কিনেছিলো গুরু যে ধন, বলো তাহার কি প্রয়োজন।

মুল্য বাবদ পেলে যে ধন, কি তাঁর প্রয়োজন খানা।।

তিন

সে ধন বলো কাহার তরে, রহিয়াছে কি প্রকারে।

সেরু পাগলা গুরুর তরে, জানবে এই তাঁর কামনা।।

রচনা- ২০-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৭

আমি কি বিক্রিত দ্রব্য, নাকি আমি বিক্রেতা।

জানিতে বাসনা আমার, গুরুর তরে এই কথা।।

এক

বিক্রিত দ্রব্য হলেরে, কে আমারে বিক্রয় করে।

দ্রব্যের কি লাভ বিক্রির পরে, শুনিতে চাই সে বার্তা।।

দুই

আমি বিক্রেতা হইলে, কি বিক্রয় হয় সে স্থলে।

যাহা বিক্রয় করে দিলে, হবে ভক্তের মুক্ততা।।

তিন

সেরু পাগলা কেঁদে বলে, আছি আমি কোন স্থলে।

বিক্রেতাকে দ্রব্য বললে, শিস্যের জাগবে অনাস্থা।।

রচনা- ২০-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৮

হতে চাই রাঙা চরণও দাসী।

শ্রীচরণের শক্তি যেনো, নিও না তুমি গ্রাসি।।

এক

মনে আশা ঐ চরণে, দাসী রূপে সর্বক্ষণে।

প্রেমেরো নিকুঞ্জ বনে, থাকিতে অভিলাষী।।

দুই

তুমি গুরু হলে সহায়, ভয় কভু না থাকে আমায়।

চরণ সেবে হই ধন্য তাই, আমি এই আশার আশি।।

তিন

যে চরণ দাস উপকরণ, ধরিয়া করিছে সৃজন।

সদ্য ফোটা ফুলের আনন, দর্শনেই স্বর্গবাসী।।

চার

ফকির, দরবেশ, সাধু, গুরু, যে ফুল থেকে হলো শুরু।

কেঁদে বলে পাগলা সেরু, ঐ চরণ ভালোবাসি।।

রচনা- ৩০-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৯

বলো মুরিদ কিসে গন্য হয়।

জাতে নাকি সেফাতেতে, ঘোরে সে সর্ব সময়।।

এক

গুরুর কি ধন শিস্যে এলে, ধরার জীবকে মুরিদ বলে।

সৃষ্টি কি জন্মেরই কালে, এ ধন বলো কোথা রয়।।

দুই

সৃষ্টি কালে পেলে এ ধন, গুরুর কাছে কি প্রয়োজন।

পূর্বেতে না পেলে এ ধন, গুরু পেলো কোন সময়।।

তিন

যে ধন গুরু মনুষ্যকে, প্রদান করে একে একে।

মুরিদ রূপে ধরার জীবকে, দিয়ে যাচ্ছে পরিচয়।।  

চার

সে ধন বলো কি প্রকারে, এসেছিলো গুরুর ধারে।

মুরিদকে সে কেমন করে, দিচ্ছে সেরু পাগলা কয়।।

রচনা- ১৯-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

যাহাদেরে খুন করিয়া, পেয়েছিলাম এই জীবন।

আজ তাহাকে খুনের পরে, হারাইলাম সোনার যৌবন।।

এক

চল্লিশ লক্ষ খুনের পরে, দাঁড়াইলাম মানব ধড়ে।

আদ্য খুন হৃদয়ে ধরে, দেখিলাম এই ত্রিভুবন।।

দুই

ত্রিভুবনের এক ভুবনে, চৌদ্দ ভুবন রয় সেখানে।

তারই শতদল আসনে, সংহারে মেতেছে মন।।

তিন

সংহারে সংযোগ বস্তু, হারা হলাম আমি নিত্ত।

খুনে খুনে আহাদ তত্ব, ধরেছে জরদ বরণ।।

চার

কি করি আর কারে শুধাই, কেমনে এই মরা বাঁচাই।

বাঁচাও গুরু হয়ে সহায়, সেরু পাগলার কুন মরণ।।

রচনা- ২৭-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

বলো বলো ওহে গুরু, বলো আমি কি করি।

দেহ বস্তায় যে ধন ছিল, সবই তো যাচ্ছে পড়ি।।

এক

প্রথমে বস্তা ভালোই ছিল, পথি মধ্যে মাল ছড়ালো।

(দেখি) সবারই এক দশা হলো, (বস্তা) ছিদ্র ছিল বোধ করি।।

দুই

(শুধু) আমার বস্তা ছিদ্র হলে, জানতাম ইহা আমার ভুলে।

ঢুঁড়ে দেখি লোক সকলে, ছিদ্র বস্তা সবারই।।

তিন

আমার দোষে এ ছিদ্র নয়, ইহা প্রভুর ইচ্ছাতে হয়।

নইলে কেন সবারই এক হয়, বলো এ দোষ কার ধরি।।

চার

বলো এখন কি করিব, কেমনে ছিদ্র সারিবো।

কেমনে মাল পুরাইবো, (ভেবে) সেরু পাগলা যায় মরি।।

রচনা- ১০-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

কি থেকে সেফাত উৎপত্তি হয়।

জানলে কথা বলো হেথা, সেই সেফাতের পরিচয়।।

এক

কোথা সেফাত গুপ্ত ছিল, কি প্রকারে প্রকাশিলো।

কি জাতে কি সেফাত হলো, সেফাত অর্থ কি-বা হয়।।

দুই

বলো সেফাত কতো প্রকার, সেফাতগুলি হইলো কার।

কোন আনাসে বসতী কার, বলো করে সুনিশ্চয়।।

তিন

সেরু পাগলার এহি বচন, আনাস তৈরির কি-বা কারণ।

কি-বা নামে কি-বা বরণ, অনুমানের কার্য নয়।।

রচনা- ১৩-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

অজুদ মাঝে বায়ু বলো আছে কতো প্রকারে।

কি-কি নামে আছে তাহা, কি কর্ম তারা করে।।

এক

কোন বায়ুর অবস্থান কোথা, কি-বা কর্ম করে সেথা।

সত্য জানলে বলো হেথা, শুনুক শ্রোতা আসরে।।

দুই

কোন বায়ু হ্রাসেতে কি হয়, বৃদ্ধিতে কীরূপো সেথায়।

কীরূপে বায়ুস্থিতি হয়, শুনতে চাই সুক্ষ্মের ঘরে।।

তিন

পাগলা সেরুর এই বাসনা, শুনিবে আজ বায়ুর ব্যানা।

অনুমান কোথা নেবো না, বলো দর্শনের পরে।।

রচনা- ১৩-০৩-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

অজুদ মাঝে পিত্ত বলো, আছে কতো প্রকারে।

কি-কি নামে আছে তাহা, কি কর্ম তারা করে।।

এক

কোন পিত্তের কোথা অবস্থান, সত্য করে দেবে সন্ধান।

নেবো না কোথা অনুমান, বলিবে সুক্ষ্ম করে।।

দুই

কি-বা কর্ম করে সেথা, আমায় তুমি বলো হেথা।

যথা কি আছে অযথা, জানাও তুমি আমারে।।

তিন

কেঁদে বলে পাগলা সেরু, ওহে আমার দয়াল গুরু।

তোমার শেষ আমার শুরু, তাই বলো ত্বরা করে।।

রচনা- ১৩-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৫

কোন কলেমায় বাইয়াত করিবে।

কোন কলেমায় কাহার কাছে, রাসুল বাইয়াত হয় কবে।।

এক

কলেমা পড়িলে কুফের, না পড়িলে হয় গো কাফের।

কি হয় কলেমার রকম ফের, কি রূপে পড়াইবে।।

দুই

হয় কলেমা মুক্তির বিধান, বলিয়াছে ঐ পাক কোরআন।

কেমনে পড়িতে ফরমান, করেছে আল্লাহ্‌ই তবে।।

তিন

রাসুল বাইয়াত যেই কলেমায়, উম্মতে কি পড়বে তাহাই।

তবে আর ব্যবধান কোথায়, উম্মত রাসুল এই ভবে।।

চার

জানাও কলেমার হাকিকত, জানাও অরুজ নযুল তাবৎ।

তনযিয়া, তসবিয়া, সজুদ, সেরু পাগলায় জানিবে।।

রচনা- ২৮-২০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৬

গুরু শব্দের অর্থ কি-বা হয়।

গুরু সে হয় কতো প্রকার, কি-কি নামে তাঁরা রয়।।

এক

কোন গুরুর কেমনও ভজন, কোন গুরু পায় কেমন আসন।

কোন গুরু কিসের মহাজন, বলো করে সুনিশ্চয়।।

দুই

কোন গুরুর কি আহার আছে, কি প্রকারে আহার নেয় সে।

কোন গুরু কোন রঙ এ মিশে, করিয়াছে জগত জয়।।

তিন

বলো আজ তুমি কোন গুরু, সেখান থেকেই হবে শুরু।

শিস্য তোমার নহে ভীরু, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৭

মানুষ গুরু কাহাকে বলে।

সিদ্ধ হয় মোর সর্ব সাধন, যেই গুরু নিষ্ঠা হলে।।

এক

মানুষ গুরুর যেই আনাছ হয়, বলো তাহার ফেল কয়টি রয়।

ঐ আনাছ কলবে নিশ্চয়, রয়েছে কয়টি ফেলে।।

দুই

ফেল বলো কয়টি তাঁর রূহের, কতো ফেল তাহারও নফসের।

কতো ফেয়েল তাহার অজুদের, বলো তুমি জানিলে।।

তিন

তাঁর রাহার ফেল আছে কয়টি, অজুদে মোকাম মঞ্জিলটি।

সুরাত মেসাল খুঁটিনাটি, জানবে সেরু পাগলে।।  

রচন- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৮

পরম গুরু রয় কোন আনাছে।

রূহের তাহার নাম কি বলো। নফসো কি নামে আছে।।

এক

অজুদ তাহার কি নামে হয়, কি নামে তাহার রাহা রয়।

মোকাম তাহার আছে নিশ্চয়, কি নামে রহিয়াছে।।

দুই

শুনি মঞ্জিল রয়েছে তাঁর, নামটি বলো কি-বা তাহার।

কি নাম হয় তাহার মক্কেলার, ঈমানের একিন কি-সে।।

তিন

রঙটি তাহার বলো কি-বা, কেমন তাহার স্বাদ বলিবা।

অচৈতন্যে গেলো দিবা, সেরু পাগলা কয় শেষে।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৯

পরম গুরুর স্ব-ইচ্ছাতে, হয়েছে সৃষ্টির সৃজন।

মাতাগুরু তাইতে আমায়, করেছে গর্ভ ধারণ।।

এক

পিতা গুরুর ঔরসেতে, ছিলাম সহি সালামতে।

তাঁর সম্পদে এই ধরাতে, হয়েছি প্রতিপালন।।

দুই

এলাম শিক্ষা গুরুর ধারে, শিক্ষিত হইবার তরে।

পরম গুরু কি রূপ ধরে, করিতেছে বিচরণ।।

তিন

শিক্ষা বিষয় দর্শন পেতে, হবে দীক্ষা গুরুই যেতে।

যেই গুরু পারে দেখাতে, সেই গুরুর হয় প্রয়োজন।।

চার

পরম গুরু পূজনীয়, কাদিম সেজদা তাকেই দিও।

বাঁকি গুরু হয় শ্রদ্ধেয়, সেরু পাগলার এই দর্শন।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

গুরুকে মনুষ্য জ্ঞান যার, তাঁর গতি অধঃপতন।

সেই গুরুর করিব দাস্য, যেই গুরু হলো পরম।।

এক

পরম গুরুর মূল পরিচয়, শিক্ষা গুরু জানে নিশ্চয়।

তাঁর নিকটে তাই যেতে হয়, যখন শিক্ষার প্রয়োজন।।

দুই

শিক্ষা গুরু যা শেখাবে, দীক্ষা গুরু তা দেখাবে।

শেখা দেখা এই ভবে, গুরুবাক করে শ্রবণ।।

তিন

পরম গুরু চিনতে জানতে, যায় শিক্ষা দীক্ষা গুরুতে।

যায় নি তাঁর বন্দেগী করতে, শোন গুরু দিয়া মন।।

চার

যেথায় পরম দর্শন হয় না, করায় দাসত্বের বাহানা।

সেই গুরু হয় ধর্মকানা, সেরু পাগলা কয় এখন।।

রচনা- ১৬-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

আহার নিদ্রা নাই পরমের, জন্ম মৃত্যু তাহার নাই।

কেউ তাঁকে দেই নাইরে জন্ম, সেও কিছু জন্ম দেই নাই।।

এক

তাঁর ইচ্ছাতেই জন্ম মরণ, তাঁর ইচ্ছাতেই বিশ্বভুবন।

সৃষ্টির স্রষ্টা যেই পরম, তাঁর দাসত্ব করতে চাই।।

দুই

তোমার আহার নিদ্রা আছে, মৃত্যু তোমার ঘোরে পিছে।

তোমার জন্ম ধরার মাঝে, দিয়েছে পিতামাতায়।।

তিন

তুমি করো যার পূজনা, আমারও তাহাই কামনা।

তাইতে হেথায় আনাগোনা, শিক্ষা দীক্ষার বাসনায়।।

চার

কেমন গুরু বুঝিয়াছি, তুমি হলে বড়ই পাঁজি।

বিধর্মী তোমার কারসাজি, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১৬-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

ভজনেরই কোথা কিছু জানতে আমি চাই।

কেমনে করি আদ্য সাধন, জানাও গুরু দয়াময়।।

এক

শুনি পঞ্চ অজুদ হয় আমার।

কোন অজুদের কিবা ভজন, বাসনা জানার।

কাহার কিবা আহার আছে, সত্য করে বলো তাই।।

দুই

সাধনের বলো কেমন রীতি।

সাধন ছাড়া করলে ভজন, কি হবে গতি।

সাধিতে সাধ হয় যে আমার, সাধন তত্ব জানা নাই।।

তিন

তুমি গুরু পারেরই কাণ্ডার।

তাইতে এ জ্ঞান পাইতে আশা, নিকটে তোমার।

সেরু পাগলা আছে বসে, দয়াল গুরু ভরসায়।।

রচনা- ২৭-১১-২০০০ ইং সাল

 

গুরু

 গান নম্বর- ৭

গুরু হয় অমূল্য নিধি, তাঁর তুলনা হয় না রে মন।

দিন থাকিতে তাঁর চরণে, করো আত্ম সমর্পণ।।

এক

সে যে মহামন্ত্রে মহামতি, জীব উদ্ধারে পরম ঠাই।

ত্রিজগৎ ঢুঁড়িয়া দেখো, হবে না এর তুলনায়।

ধরাতে সে জীব উদ্ধারে – সদা মনে বাঞ্ছা করে।

ভক্ত উদ্ধার হইতে পারে, হইলে মুক্তির আকিঞ্চন।।

দুই

মুক্তির আশে গুরুর তরে, কেউ মাথা নোয়ালে না।

গুরুর কাছে গেলে তুমি, নিয়ে ভবের বাসনা।

করিলেনা গুরু ভক্তি – চাহিলে না ভব মুক্তি।

ছাড়িলে না কামাসক্তি, পাহিলে না তাঁর দরশন।।

তিন

যা তোমার মমতার বস্তু, গুরু পদে বলি দাও।

আত্ম পদে গুরুস্থিতি, স্বহস্তে তুলিয়া নাও।

গুরুতে এক আত্মা হয়ে – স্বনাম তুমি দাও হারিয়ে।

সেরু পাগলা সবিনয়ে, করিতেছে এই নিবেদন।।

রচনা- ১৪-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৪

নিজকে চিনিতে চাইলে এসো গুরুর কাছেতে।

সেথায় গেলে আপনা সুরাত, আপনি পাবে দেখিতে।।

এক

আয়না ছাড়া যায়না দেখা, আপনি আপন সুরাত।

গুরু নামের আয়না দিয়া, দেখে নাও আপন মুরাত।

নিজকে চিনলে ভয় রবে না, কঠিনো পুলসিরাতে।।

দুই

গুরু হলো আয়না মতি, আয়রে ছুটে আয়রে আয়।

হৃদ মন্দিরে হৃদয় দিলেই, কেবল তারে দেখতে পায়।

অচেনায় চিন মানুষ সে যে, আলোক আন্ধা বান্দাতে।।

তিন

শয়নে স্বপনে যারে, ত্রি-জ্ঞানেতে ভাবো নাই।

গুরুর কাছে গেলে তুমি, এই নয়নেই দেখবে তাই।

সে যে নূরের উপর নূরের ছটা, দেখবে আপন সুরাতে।।

চার

আপন সুরাত আপনি দেখে, আপনি হবেন আশেকান।

যেই সুরাত দেখিয়া আপনি, হইছেন একদিন পেরেশান।

এই সুরাতেই আল্লাহ্‌ রাসুল, কয় সেরু পাগলেতে।।

রচনা- ২৫-১০-২০১৬ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

বামে গুরু ভক্তের দায়, নেমে এলেন হেথায়।

উদ্ধারিতে ভক্ত আসিলেন তিনি।

সে হইলো মা জননী আমার মা গো-।।

এক

গুরু ভক্তি স্বর্গ বাস, অবহেলা সর্বনাশ।

তাইতে তোমরা হও, গুরুরো দাস।

গুরু হয় মতি, ভক্তের গতি, সে বিনে রতি ঘাতিনী।।

দুই

পরশিলে গুরু চরণ, ভক্ত হয় অমরণ।

সে বিনে উদ্ধারের নাইরে আশ।

ধরিতে গুরু করো লঘু শুরু, ডাইনে লঘুর অবস্থানি।।

তিন

শপ্ত পঞ্চ নামে, আছে ডানে বামে।

লঘু গুরু হয় যাহারো নির্যাস।

সামসুদ্দিনে কয়, সেরু পাগলা অধম হয়, লঘু বাদ গুরু সন্ধানী।।

রচনা- ০৫-০৯-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৬

কেন করলে বিয়োগ ঘাটে মাঠে।

বিয়োগের বাহাদুরি, করেছে ফতুরি, ফেলেছে আজ ঘোর সংকটে।।

এক

বিয়োগ অঙ্ক কতই সহজ, করছো ভবে তাই তুমি রোজ।

কোন দিন কি নিয়েছো খোঁজ, যাচ্ছে পুঁজি কার নিকটে।।

দুই

বিয়োগী যে সেই বিবাগী, পুজির ঘোরে দেবেই দাগী।

মেজাজে সে হয় বদরাগী, ব্যবসা তাহার উঠবে লাটে।।

তিন

হোক না পুঁজি আঠারো আনা, করলে বিয়োগ কিছুই রয় না।

বিয়োগ অঙ্কের এই নমুনা, (নইলে) ঢুঁড়ে দেখো এ তলাটে।।

চার

সেরু পাগলা ভাবিয়া কয়, দেহের স্বত্বা যা করছো ক্ষয়।

উহাই বিয়োগ জানো নিশ্চয়, মারো তালা ক্ষয় কপাটে।।

রচনা- ১০-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৭

গুরু কি ধন চিনরে মন।

আনাছে যা বাদ বলা হয়, তাহারেই কয় গুরু ধন।।

এক

হেলা, চলা, ফোলা, কাপা, হাঁই, এই পাঁচ গুণ বাদ আনাছের হয়।

রঙ সবুজ স্বাদ খাট্টা হয়, হক্কল একিন হয় তাঁর ঈমান।।

দুই

ইস্রাফিল যাহার ও মক্কেল, লাহুত হয় তাহার ও মঞ্জেল।

অজুদ তাহার হয় অহেদেল, সর্বক্ষণে তাই জানো মন।।

তিন

রূহু যাহার হয় ইনসানি, নফসো তাহার মোতমাইন্নি।

রাহা তাঁর মারিফাত জানি, এই হয় গুরুর মহাজন।।

চার

সেরু পাগলা কয় শিস্য তুমি, গুরুকে ছেড়ো না ভ্রমী।

ভজ গুরু দিবাযামী, করো গুরু আলিঙ্গন।।

রচনা- ০২-০১-১৯৯৬ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৮

তাহারেই তো বলে গুণী।

যে জন আদ্য শক্তি গুণের জন্য, রয় জেগে দিবস রজনী।।

এক

সর্ব বৃহৎ বৃদ্ধি করে, গুণ অঙ্ক বলে তাহারে।

(নয়লে) দশের সাথে দশ গুণ করে, (দেখো) কিরূপ বৃদ্ধি হয় তখনই।।

দুই

যোগেতে যোগেতে যে জন, হয়েছে বড় মহাজন।

করিতে পারে সে হরণ, শতদলের সপ্ত মণি।।

তিন

শতদল অঙ্কেতে গুণ, উহাই আদ্য শক্তিতে কুন।

না করে খুন ঐ আদ্য কুন, যে হয়েছে আম্মারা খুনি।।

চার

ভেবে কয় সেরু পাগলে, রেখে দৃষ্টি গুণ স্থলে।

সদা পোড়ো যোগ অনলে, একদিন তুমি হবেই মুনি।।

রচনা- ০৮-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৯

সাধু হওয়া ভাবছো সহজ, সাধনায় তো সহজ নয়।

সাধনায় সিদ্ধি হলে, তবেই তারে সাধু কয়।।

এক

মাতৃস্তনে যে ধনো রয়, শিশু চুমুকে দুগ্ধ সে পায়।

ঐ স্তনে জোঁক লাগলে ভাই, রক্ত ছাড়া নাহি পায়।।

দুই

জোঁক স্বভাবে করলে গমন, লহু তোমার হবে ভোজন।

শিশু স্বভাবে পাবে দুগ্ধ ধন, সাধনায় গেলে বুঝবে তাই।।

তিন

বে-সাধনায় সাধু যারা, অকালে পড়িবে মারা।

তাই সাধনার এতো তাড়া, সেরু পাগলা বলছে তাই।।

রচনা- ৩১-১০-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৮০

যার নয়নে যা লাগে ভালো।

যদিও অন্ধকার হয় তা, তবুও সে দেখে আলো।।

এক

কাঠঠোকরা পাখী আছে, থাকে যদিও মেওয়া গাছে।

ভুলেও যায় না ফলের কাছে, আজনম শুকনা কাঠ ঠোকালো।।

দুই

সাপের মাথায় আছে মণি, সে জানে না মণির মূল্যখানি।

নামিয়ে রেখে মাথার মণি, সদায় সাপে বেঙ খাইলো।।

তিন

নারিকেল ভরা জলে, রসিকের মন তাইতে ভোলে।

অড়ং এর আশায় নারীর দলে, শাঁস বাদে ঐ মালোই নিলো।।

চার

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, হয় যদি কেউ গাঁজা খুরে।

রস শাঁসের দিয়ে ছেড়ে, ছোবা নিয়েই মন ভরালো।।

রচনা- ১২-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

তাহারেই তো বলে যোগী।

যে জন আদ্য শক্তি যোগের জন্য, সদারে মন রয় বিরাগী।।

এক

করিতে যোগ করো বিয়োগ, নিজ দেহের কামিনী রোগ।

হেরিয়া কামিনী সম্ভোগ, করে নিত্ত কাঞ্চন ভোগী।।

দুই

বিষয় বিলাস বিফল ভাবিয়া, গুরুই আদ্য পাথেয় জানিয়া।

গুরু পদে হৃদ চুম্বিয়া, (যে) হয়েছে বিষয় বিরাগী।।

তিন

ছাড়িয়া মনের আপন বিভ্রাট, ভেবে নবী ধন সেই শ্রেষ্ঠ পাঠ।

নবীর নবুয়াতি সেই বড় লাট, এ আশায় রয় রজনী জাগি।।

চার

সামসুদ্দিন কয় চাইলে বাঁচতে, হওগে বহাল ঐ যোগেতে।

সেরু পাগলা বিয়োগেতে, মন দিয়ে রহে বিবাগী।।

রচনা- ০৫-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

মতু কাবলা আনতা মতু, রাসুলেতে ফরমায়।

মরার আগে মরো রে মন, মুক্তি পাওয়ার বাসনায়।।

এক

মরার আগে মরতে হলে, পড়ো গুরুর চরণ তলে।

পোড় গুরুর ভোজানলে, আহার যোগাও পঞ্চাত্মায়।।

দুই

দাস্য বৃত্তে স্ববিক্রয়ে, আত্মশুদ্ধি করো গিয়ে।

গুরুর মহা মন্ত্র নিয়ে, ধরে রাখো রসনায়।।

তিন

মরার আগে যার মরণ হয়, সমন বলে তাঁর কিসের ভয়।

নিজ দেহ তাঁর হয় যমালয়, যম তাঁকে দেখলেই ডরাই।।

চার

থাকে না তাঁর জন্ম মৃত্যু, অনিত্ত হয়ে যায় নিত্ত।

বিচার নাই তাঁর প্রভু ভৃত্য, ভেবে কয় সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২১-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

অংকে যেন ভুল করো না।

সদা পুঁজিই গুণ করিও, ভুলেও যেন ভাগ করো না।।

এক

গুণে সদা রেখো খেয়াল, নইলে হইও যোগে বহাল।

বিয়োগে পুঁজির হয় কি হাল, সদা করেও টের পেলে না।।

দুই

একাধারে করিও গুণ, জীবনেও ঝরিবে না কুন।

ধরিবে না পুজিতে ঘুণ, একথা কেনো বোঝো না।।

তিন

করো যদি যোগ পুঁজিতে, কিঞ্চিৎ হলেও বৃদ্ধি তাতে।

জানবে বিয়োগ লোকসানেতে, করে সে পদচারণা।।

চার

যদি পড়ো ভাগের হাটে, পুঁজি তোমার উঠবে লাটে।

পড়িবে গুরু বিভ্রাটে, সেরু পাগলার এই ব্যানা।।

রচনা- ০৩-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

পারেরো কাণ্ডারি, গুরু গুণোধারী, জগতের পূজারী সেই।

সে যে অমূল্য রতনো, সাধনারো ধনো, ভবে তাঁর তুলনা নেই।।

এক

জীব উদ্ধারের আশে, প্রতি মাসে মাসে, রজে বীজে সে বেড়ায়।

ওসে আলাকেরই মাঝে, থাকে সকাল সাঁঝে, খুজলে পাবে সর্বদায়।

ত্বরা খোঁজ এই গুরুকে, ভজো গো তাহাঁকে, মুক্তি পাবার কারণেই।।

দুই

যেথায় আদ্য কুন, আদি কারে খুন, ভ্রূণে গুরু দয়াময়।

ওসে তনেরই মাঝারে, সদা বসত করে, খুঁজে দেখো কলেমায়।

আহাদ রূপে বারী, হয়ে আদ্য নূরী, ঘুরিতেছে জগতেই।।

তিন

সেরু পাগলা কহে, গুরু মানুষ নহে, ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।

সে যে রূপে নিরাঞ্জন, বর্ত্ম রয় ত্রি-তন, এক রূপে এক রঙে নয়।

ত্রিজগতে ঘোরে, চতুর্থ রঙ ধরে, পাবে তুমি খুঁজিলেই।।

রচনা- ৩১-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

করছো রে মন কার উপাসন।

ওয়ামা খালাকতু জিন্না ওয়াল, ইনসা ইল্লা লিইয়া বুদুন।।

এক

বলছে আল্লাহ্‌ কোরআনেতে, জ্বিন ও ইনসান পৃথিবীতে।

সৃষ্টি করছি মোর বন্দেগীতে, অন্য কিছু করো না মন।।

দুই

পড়ো নামায বেহেশতের আশায়, না পড়িলে দোযখের ভয়।

আল্লাহ্‌র তো বন্দেগী এ নয়, বেহেশত দোযখের কারণ।।

তিন

মান আরাফা নাফসাহু, ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু।

নিজকে চিনলে চিনবে আল্লাহু, পাইবে মাওলার দরশন।।

চার

রাসুল যিনি নিজকে চিনে, ত্বরা যাও সেই গুরু ধামে।

সেরু পাগলা গুরুর চরণে, মরতে চাই তাই জ্যান্তে মরণ।।

রচনা- ২০-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৬

ঝরা ফুলে হয় না পূজা, ঝরার আগেই তুলতে হয়।

যেই ফুলে হয় গুরু পূজা, সে ফুল তো সামান্য নয়।।

এক

কলেমা বৃক্ষেরই আগে, ফোটে সে ফুল শপ্ত ভাগে।

রূপে সে রক্তিমা রাগে, তৃতীয়ায় পূঁজিতে হয়।।

দুই

জগ জুড়ে এই একই ফুল, পাগল করেছে অলিকুল।

ভক্ত তুমি না করে ভুল, এই ফুল পূজায় করো লয়।।

তিন

জীবগণের ঐ জন্ম পথে, ফোটে যে ফুল জলস্রোতে।

সেরু পাগলা কয় জগতে, অরসিকের কার্য নয়।।

রচনা- ০৫-০৬-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৭

অষ্টাঙ্গ যোগ ইহারেই কয়।

নিয়ম, আসন,ধ্যান, প্রাণসংযম, ধারণা, সমাধি, প্রত্যাহার, যম।

ইহাই অষ্টাঙ্গ করো শ্রবণ, এই অঙ্গে যোগ করিতে হয়।।

এক

 ষট কর্মে করো শরীর শোধন, দৃঢ়তা আনো করিয়া আসন।

মুদ্রা দ্বারা স্থিরতা আন, প্রাণায়াম লঘুতা জন্মায়।।

দুই

প্রত্যাহারে হয় ধীরতা, সমাধি দ্বারা নির্লিপ্ততা।

ধ্যেই বস্তুর প্রত্যক্ষতা, ধ্যান দ্বারা আত্মাতে হয়।।

তিন

দ্বাদশবার প্রাণায়ামে একবার প্রত্যাহার, দ্বাদশবার প্রত্যাহারে ধারণা একবার।

একবার ধ্যান হয় দ্বাদশ ধারণায়, দ্বাদশ ধ্যানে এক সমাধি হয়।।

চার

সমাধি সাধিত হলে পরে, ব্রহ্ম জ্যোতির আবির্ভাব হয় রে।

(ব্রহ্মের) পরম জ্যোতি রয় অন্তরে, সেরু পাগলায় ব্যক্ত সে হয়।।

রচনা- ০৩-০৭-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৮

শুদ্ধ দেহ তাহাকেই কয়।

প্রাণ, অপান, জীবাত্মা, নাদবিন্দু, পরমাত্মা।

সংমিলন সংঘটিত যথা, এইগুলি যেই ঘটে রয়।।

এক

শোধন, দৃঢ়তা, লাঘব, স্থৈর্য, প্রত্যক্ষ, নির্লিপ্ত, ধৈর্য।

এই শপ্ত সাধন দেহে ধার্য, করলে অনিবার্য বিশুদ্ধ হয়।।

দুই

ধারণা, নিয়ম, প্রাণায়াম, আসন, প্রত্যাহার, ধ্যান, সমাধি ও যম।

(যোগের) আটটি অঙ্গ কয় যোগীগণ, অষ্টাঙ্গ যোগ ইহারেই কয়।।

তিন

প্রাণসংরোধ, সমাধি, আসন, প্রত্যাহার, ধারণা ও ধ্যান।

এ ছয়টি যোগের অঙ্গ নাম, যোগ বিনে মুক্তি নাই হেথায়।।

চার

সেরু পাগলাকে সামসুদ্দিন বলে, তুমি হয়েছো মন গণ্ডগোলে।

নহে যোগ বিয়োগ করিলে, (তাই) অকালেই দেহ বিয়োগ হয়।।

রচনা- ০৩-০৭-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৯

তোর শ্রীচৈতন্য কবে হবে।

শ্রী হারা হইলে পরে, তোমারে কুশ্রী দেখাবে।।

এক

শ্রী হইলে যুগলো শ্রী, দেখাবে তোমারে সুশ্রী।

অচৈতন্যে তোমার ঐ শ্রী, দিনে দিনে হারাইবে।।

দুই

হলে শ্রীতে মতির আবির্ভাব, শ্রী মতির হবে না অভাব।

শ্রীমতি আসিয়া অবাধ, শ্রী-শ্রী সদা বলিবে।।

তিন

সজাগ ঘরে হয়না চুরি, রইলে তুমি ঘুমোঘোরী।

সকলি শ্রী নিলো হ’রি, ভাবলে না কিসে উদ্ধারিবে।।

চার

হইলে শ্রীচৈতন্য ভাব, হবে না শ্রী এর ই অভাব।

সামসুদ্দিন কয় চৈতন্য ভাব, হারাসনে পাগলা সেরু ভবে।।

রচনা- ২১-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

সার হবে তোর কাঁদাকাটা।

খেলে বাজী হারিয়ে পুঁজি, দিচ্ছরে মন পাছা বাটা।।

এক

দেহ গুদাম দিলো পিতায়, মাল ভরিল তোমার মাতায়।

(তুমি) মহাজন সাজিলে তথায়, বিকাইলে মাল যথা তথা।।

দুই

অর্থ নিয়ে মাল দিতে হয়, বেচাকানের এই নিয়ম রয়।

ছয় দালালের কুমন্ত্রণায়, মাল দিয়ে নিলে না টাকা।।

তিন

এখনো তোমার সময় আছে, যাও ছুটে মন গুরুর কাছে।

ব্যবসার যতো বিদ্যে আছে, দেবে গো তোমারে শিক্ষা।।

চার

করছো ব্যবসা বিনা শিক্ষায়, পুঁজি হারা হচ্ছো গো তাই।

তাইতে সামসুদ্দিনের দরগায়, সেরু পাগলার নিত্ত হাঁটা।।

রচনা- ২১-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

যেমন কর্ম তেমনই ফল, দেহ হতেই হয় তোমার।

যে স্বভাবে মরবে তুমি, পুনঃ সে ভাবে জন্ম তাঁর।।

এক

ঊর্ধ্ব অধঃ ভাবে, ঘড়ির কাঁটা ঘরে যবে।

কর্ম বসে তেমনি জানবে, মৃত্যুর পর জনম আবার।।

দুই

মানব শরীর যতো, আম মৃত্তিকাময় কলশীর মতো।

জীবন তোমার জলের মতো, অবিরত ক্ষয় করে তাঁর।।

তিন

অগ্নি সম যোগ জানিবে, যোগেতে তন পুড়াইবে।

তবেই তো ক্ষয় বন্ধ হবে, এ বচন সেরু পাগলার।।

রচনা- ০৭-০৩-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

 (মন) হরি নাম জপ সদায়।

মুখে পড়ুক সদা হ’রি, নহ রূপো হরী, হ’রি রূপো যেন হয়।

এক

হরি সদা করো হ’রি, থাকবে না ভয় হোরী, হরি করো সর্বময়।

হোরী সদা তোমার পাশে, হ’রিবার আশে, বসে আছে সর্ব ঠাই।

হরি হয়ে আছে চুপ, কোন হ’রির কি রূপ, না জানলে জনম বৃথায়।।

দুই

দেখো হোরী তে রয় হরী, গাহে কীর্তন হরি, হরি রূপে সর্বদায়।

আবার হোরীর দেখা পেলে, যায় সে হরি তলে, স্বরূপ তোমার হ’রি হয়।

সদা করো হরির তালাশ, হরি রবে বারো মাস, হোরী হ’রিতে করিবে ভয়।।

তিন

হলে হরী স্বভাব, হবে হরির অভাব, রবে হোরী আনন্দ সদায়।

হরি যাইবে কাল হোরী, তোমার সর্বস্ব যাবে হ’রি, সামসুদ্দিন বলিছে তাই।

সেরু পাগলার যে সব হরি, হোরী নিলো তাহা হ’রি, বিপথে চলিছে তাই।।

শব্দার্থ- হরি- পানি, ইশ্বর, হোরি- পদ্ম, হরী- ব্যাঙ, হোরী- সাপ, হ’রি- হরণ করা, হ’র-পাক পাঞ্জাতন।

রচনা- ১৫-০১-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

লাটের মতো করছো রে ব্যয়, মহাজনের দেয়া কড়ি।

টাকশালের মাল ফুরাইলে, পড়বে হাতে হাত বেড়ী।।

এক

সত্য পথে হলো প্রকাশ, অসত্যে কেন হয় অভিলাষ।

কুপথে হারালি আবাস, হইলি বে ঈমানদারী।।

দুই

ষোল আনা পুঁজি পেলে, কে তাহা তোর কেড়ে নিলে।

আমোদে পুঁজি উড়াইলে, কেউ তাহা নেইনি কাড়ি।।

তিন

পুঁজি হারা হবে যেদিন, মহাজনে ধরবে সেদিন।

কেমনে শোধিবে এ ঋণ, সেরু পাগলায় কয় তোঁরী।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

মেঘে ভরা আসমান দেখি, বারিতে আছে বন্ধন।

যেমন মেঘ তেমনই থাকে, হলেও তাহা বরিষণ।।

এক

মেঘেতে আকাশ ঢাকা, আছে বারি ধরে রাখা।

মন যদি হয় কামুয়াকা, হয় না তখন বরিষণ।।

দুই

এই দেখিলাম মেঘে ভরা, বহিবে বরষা ধারা।

আমি দেখে হলাম দিশে হারা, শুষ্ক দেখি কুঞ্জ বন।।

তিন

মেঘ বারি আশায় আছি বসে, পশ্চিমে মেঘ উঠলো ভেসে।

জমিন দেখি গেলো ভেসে, হয় নি আসমান বরিষণ।।

চার

সেরু পাগলার মন নয় সাধা, তাই এপথে কতো বাধা।

সামসুদ্দিন কয় ওরে গাধা, করো গুরু নিরিখ মন।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

মরঘাটাতে থেকে রে মন, পারের আশা করো না।

মরঘাটাতে মরতে হবে, পার হইতে পারবে না।।

এক

মরঘাটাতে জন্ম তোমার, মনে আশা হইবে পার।

মরঘাটাকে ছেড়ে এবার, পারঘাটাতে এসো না।।

দুই

(নদীর) উপর দিয়ে পার হতে হয়, (তুমি) পাতালে রয়েছো নিশ্চয়।

পাতালে সবার মরণ হয়, তাই আর পাতাল ধেও না।।

তিন

আসমানেতে হয় পারাপার, (সেথায়) নবীর নৌকা করছে রে পার।

সেরু পাগলা বলছে এবার, ভুলেও আসমান ছেড়ো না।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৬

পাতালে দ্বিমুখী করণ, পাপ পুণ্য দুটিই রয়।

পাপের কাজটি সবাই জানে, পুণ্য জানতে গুরু চাই।।

এক

পাতালে চরণ ডুবালে, জ্বলবি সদা পাপানলে।

ঈমান তোর যাবে বিফলে, আখেরাত হবে হায়খায়।।

দুই

সাবধানে রাখিয়া চরণ, পাতালি ধন হৃদে ধারণ।

করতে পারলে ও ভোলা মন, হজ্জ, তায়াম্মুম তাহার হয়।।

তিন

পাতাল কর্মে রয় নফি এযবাত, জানবে নেই আসমানেও তফাৎ।

নাহি বুঝে নফি এযবাত, সেরু পাগলা পাতাল ধায়।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৭

আসমানে আল্লাহ্‌রই আসন, জমিনে জীবেরই বাস।

হোসনে সদা পাতালগামী, হবে রে তোর সর্বনাশ।।

এক

 ধারণ করো হৃদে আসমানী ধন, দেখবি আল্লাহ্‌র নাম রহমান।

শত মুশকিল হবে আসান, ঘুচবে রে দুঃখ নৈরাশ।।

দুই

রেখে আসমান পাতালে গমন, ঈমান তোমার হবে হরণ।

 অকালে হইবে মরণ, পাপে তোমায় করবে গ্রাস।।

তিন

আসমানেতে হয় পারাপার, পাতালে হয় চোরের কারবার।

সেরু পাগলা বলছে এবার, আসমানে থাক বারো মাস।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৮

নিম গাছে আম ফলানো যায়, কলম বিদ্যা জানিলে।

কুস্বভাব সুস্বভাবী হয়, গুরু বাক্য মানিলে।।

এক

এই ভবে ঘুরে দেখো মন, বাঁধছে কলম ইচ্ছে মতন।

করতেছে স্বাদ পরিবর্তন, চিন গাছে ভিন ফল ফলে।।

দুই

কুস্বভাবী গুরুর তরে, পৌঁছিলে সুস্বভাবেরে।

দেবে যখন কলম করে, নতুন ভাব আসবে দিলে।।

তিন

তাইতে  বলি ত্বরা করে, যাও ছুটে মন গুরুর ধারে।

কুস্বভাব তোর যাবে দূরে, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ১২-০৬-২০০৪ ইং সাল


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।।

(56)

2 Responses

  • শুক্রধর

    রাসুলে জানিতে পারে, মরবে বিল্লাল তিন দিন পরে।
    কেহ তারে বাঁচাইতে নারে, পাগলায় ফিরায় জীবনী।।

    তখনতো চিকিৎসা পদ্ধতি এত উন্নত ছিলনা, তাহলে রাসুল কোন জ্ঞান দ্বারা বা পদ্ধতিতে জানতে পারল যে তিন দিনের মধ্যে বেল্লাল মারা যাবে?

  • গুরুজি

    তখনতো চিকিৎসা পদ্ধতি এত উন্নত ছিলনা, তাহলে রাসুল কোন জ্ঞান দ্বারা বা পদ্ধতিতে জানতে পারল যে তিন দিনের মধ্যে বেল্লাল মারা যাবে?

    এটা একটা রূপক কাহিনী। তবে এরও একটা বাস্তবতা আছে। যেমন ভবিষ্যৎ বিষয় জানতে দিব্য জ্ঞানী হতে হয়। আর রাসুল সেটা ছিলেন। আর ভাগ্য পরিবর্তন করতে মাতৃ ও পিতৃ স্বত্বা প্রয়োজন, পাগলের ছিল। আর পাগল হল নবী। আর তাকেই একেক সময় একেক নামে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply