কলেমা

গান নম্বর- ৯৯

যাহাতে সৃষ্টি তোমার, মরণ তোমার তাঁর কারণ।

কিসে মরণ কিসে সৃষ্টি, জানতে রে তুই কর সাধন।।

এক

আরশেতে ছিল মোকাম, কলেমা হয় যাহারই নাম।

তাতেই সৃষ্টি জীবন ও কাম, কামই তোর মৃত্যুর কারণ।।

দুই

কলেমাতে হরফ বারো, জানবি সদা বারি রূপ তারো।

তাতেই বাঁচো তাতেই মরো, তা বিনে সব অকারণ।।

তিন

(কলেমা) বারি রূপে করেছো হরণ, (তা) হয়ে নুক্তা রূপ পেয়েছো জনম।

উহাই স্বরূপ জানবি রে মন, সেরু পাগলা কয় এখন।।

রচনা- ৩১-১০-১৯৯৩ ইং সাল

 

চাঁদ

গান নম্বর- ১০

সাড়ে তিন চন্দ্রে ইনসান সৃষ্টি, তাহার হিসাব শোন রে মন। 

জ্বিন সৃষ্টিও সাড়ে তিনে, সৃষ্টি লিলা এক রকম।।

এক

দ্বিদলে যে চাঁদ রয়েছে, দুভাগে বিভক্ত আছে।

তাইতে দ্বিদল নাম হয়েছে, শত পঞ্চ নাম তাঁর শোন।।

দুই

শত নামী হয় শপ্ত চাঁদ, মৈথুনে ক্ষরণ আধ আধ।

আধেতে ইনসানের আবাদ, আধেতে জ্বিন জেনো মন।।

তিন

শপ্ত চন্দ্রের অর্ধ যে হয়, সাড়ে তিন চন্দ্র তাহারে কয়।

সেরু পাগলা বলে নিশ্চয়, সৃষ্টি লিলা এই রকম।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

অমাবস্যায় পূর্ণ শশী, দেখিয়াছি আসমানে।

পূর্ণিমায় থাকে না চন্দ্র, কামিনী ঐ জমিনে।।

এক

অমাবস্যা চন্দ্রঘাতী, থাকে না কুসুম আড়াই রাতি।

অমাবস্যায় শশী জ্যোতি, আলো ছড়ায় গগণে।।

দুই

পূর্ণ চন্দ্র পূর্ণিমাতে, যাও যদি কিরণ আশাতে।

(যদি) বিন্দু কামও রয় তোমাতে, আলোর দেখা পাবিনে।।

তিন

চন্দ্রেতে আলোকময়, কামে ধরা অন্ধকার হয়।

সেরু পাগলা তাই ভেবে কয়, নামগে কাম ঘাট বাঁধনে।।

রচনা- ২৮-১০-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

দ্বিদলে উঠিলে চন্দ্র, অমাবস্যা হয় না তাঁর।

বারো মুখী কুসুম কিরণ, ছড়ায় জ্যোতি একাধার।।

এক

এক চন্দ্র বারো মুখী, আছে দুভাগে বিভক্তি।

বিভক্তি দুভাবে চুক্তি, অন্যথা হয় না রে তাঁর।।

দুই

এক মুখে শতদল কমল, তাঁর কিরণে জীবন অটল।

তাঁর বিহনে স্বরূপ অচল, ছাড়িতে হয় ভূ-আধার।।

তিন

শশী কিরণ পঞ্চদলো, এতেই মুক্তির আলো।

এর অভাব পাপে ডুবালো, সেরু পাগলা কয় এবার।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৩

সাড়ে চব্বিশ চন্দ্রের হিসাব, করি গো হেথা বয়ান।

চন্দ্রমা, রজত প্রভঃ, উড়ুপতি, কনিয়ান।।

এক

শ্বেতাক্ষ, কনক প্রভঃ, করবিরো, স্বয়ম্প্রভঃ।

তালবৃন্ত, ত্রৈষ্টুভঃ, গরুড়াহৃত, অংশবান।।

দুই

গায়ত্র আর মহাসোম, জাগত, অগ্নিষ্টোম।

পাংক্ত আর দূর্বাসোম, রৈবত ও আংশুমান।।

তিন

ত্রিপদীযুক্ত, প্রতাপবানো, শঙ্করী আর ভুঞ্জবানো।

সেরু পাগলা দেয় প্রমাণো, সাড়ে তিনে অর্ধ চান।।

রচনা- ১৭-১২-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৪

খুন দিয়ে মাসেরই শুরু, খুন দিয়ে শেষ হলো মাস।

খুন থেকে খুনেরই হিসাব, জানিতে হও গুরু দাস।।

এক

খুনের আগাম বার্তা নিয়ে, মহররম ঐ আসে ধেয়ে।

শহীদানের রক্তে নেয়ে, কাফেরে করে উল্লাস।

সে রক্তের বদলাতে দেখো, হয়েছে ইসলাম প্রকাশ।।

দুই

সফরে ভ্রমণ করিয়া, আলাক রূপ গেলো হইয়া।

রবিউল আওয়াল বিজয়া, মহানবীর হয় প্রকাশ।

রবিউস সানিতে প্রভু, বলে হতে ক্রীতদাস।।

তিন

জমাদিউল আওয়াল এলো, সবাই জমায়েত হইলো।

জমাদিউস সানি দিলো, নবীতে পূর্ব আভাস।

রজ্জবে মেরাজ কারণে, যায় নবী সপ্তম আকাশ।।

চার

ভাগ্য বণ্টন হয় শাবানে, প্রাপ্তি ঘটে ঐ রমযানে।

সেহেরি ইফতারি ধ্যানে, সিয়ামকারীর নাভিশ্বাস।

তখন প্রভু ক্রীতদাসে, ফেতরা দেওয়ার দেয় আশ্বাস।।

পাঁচ

সবাই থাকি একই ধ্যানে, শবে কদর হয় কখনে।

সেজদা দেয় প্রভুর চরণে, গাছপালা আকাশ বাতাস।

সেজদায়ী ধন করলে গ্রহণ, মুক্ত হয় সব ক্রীতদাস।।

ছয়

দাসের ঘরে উঠেছে ধন, সওয়ালে তাই ঈদ আগমন।

যিলকদে যাকাত বিতরণ, পায় না যাকাত নেওয়ার দাস।

কার যাকাত কে নেই রে সেদিন, সর্ব ঘরেই রয় উল্লাস।।

সাত

যিলহজ্জ মাসের আগমনে, যায় ছুটে মক্কা মদিনে।

হজ্জ করিবার আশা মনে, তাইতে বান্দা হয় প্রবাস।

কোরবানির পশুরো খুনে, সমাপ্ত হয় বারো মাস।।

আট

বারো চন্দ্র আমার ইচ্ছায়, আসমানেতে ভ্রমণ করাই।

ইচ্ছা করলে এক অবস্থায়, রাখতে পারি হাজার মাস।

সেরু পাগলা কয় একথা, জানিতে হও গুরু দাস।।

রচনা- ১৩-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৫

সর্ব চন্দ্র স্বর্ণ বর্ণ, পঞ্চদশটি পত্র য়।

শুক্লে এক এক পত্রৎপত্তি, কৃষ্ণে এক এক ঝরে যায়।।

এক

আংশুমান সোম ঘৃত গন্ধ, রজতপ্রভঃ আকৃতি কন্দ।

ভুঞ্জবান লশুনি সম, চন্দ্রমা সুবর্ণা ন্যায়।।

দুই

শ্বেতাক্ষ, গরুড়াহৃত, পাণ্ডু বর্ণ হয় আকৃত।

বৃক্ষাগ্রে রয় লম্বিত, এ কথা জেনো নিশ্চয়।।

তিন

চন্দ্র বর্ণ বলতে গেলে, আনন্দ বিরাজে দিলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, গুরু ধরে চিনতে হয়।।

রচনা- ১৭-১২-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৬

সর্ব চন্দ্রের শ্রেষ্ঠ দেখো, চন্দ্রমা সোম নামটি তাঁর।

পঞ্চ নদের সিন্ধু নামক, মহানদের নিম্নে স্থান।।

এক

হঠাৎ হঠবতেরই ন্যায়, জল মধ্যে ভেসে বেড়ায়।

তাঁর ঊর্ধ্বেতে জনম নেয়, ভুঞ্জবান আর আংশুমান।।

দুই

ক্ষুদ্রমানস সরোবরে, গায়ত্র ত্রৈষ্টুভঃ হয় রে।

পাংক্ত জাগত শাংকরে, খুঁজে নাও করে সন্ধান।।

তিন

অকৃতজ্ঞ, অকর্মণ্য, অবিশ্বাসী, হিংসুকগণো।

দেখিতে না পায় কখনো, সেরু পাগলার এই প্রমাণ।।

রচনা- ১৭-০৯-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৭

আমেনায় আহাম্মদ এলে, রমযানের চাঁদ তারে কয়।

মদিনা মক্কা হইবে, শোন গোপন পরিচয়।।

এক  

আনআম বাকারাহ হইলে, আহাম্মদ ধরায় আসিলে।

রমযানের চাঁদ তারে বলে, কথা কিন্তু মিথ্যা নয়।।

দুই

মোহাম্মদ আসিলে পরে, হজ্জের চাঁদ লইবে ধরে।

একাত্তর দিনে হজ্জ লও সেরে, তবেই হবে ঋপু জয়।।

তিন

রমযানের ঐ শেষের দশে, শবে কদর ফিরে আসে।

সে ধন জীবের হৃদে মিশে, সর্ব পাপ তাঁর করে লয়।।

চার

সপ্ত পঞ্চ নাম ধরিয়া, আসে মান্না ও সালওয়া।

সেহরি ইফতারি হইয়া, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৯-০২-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৮

বিসমিল্লাহ্‌র দশ বীজের খবর, কান থাকিলে করো শ্রবণ।

উনিশটি অক্ষরের মাঝে, পাবে দশ বীজেরো দর্শন।।

এক

আলিফ আর মীম তিন বার করে, ব্যবহৃত হইয়াছে।

বড় হে আর রে অক্ষরটি, দু-বার করে রয়েছে।

লাম অক্ষর ব্যবহার চার বার পাঁচ অক্ষর রয়েছে একবার।

নুন, ছোট হে, বে, সিন এ আর, ইয়া মিলে দশ বীজ ধারণ।।

দুই

আলিফেতে আল্লাহ্‌ বর্ত্ম, মীমে রয় দ্বীনের নবী।

লামেতে শিস্য রয়েছে, নুন খুঁজলে গুরু পাবি।

ছোট হেতে হলো হাওয়া বেতে আসা সিনে যাওয়া।

ইয়া খুঁজলে আমায় পাওয়া, রে অক্ষরে ফুল বরিষণ।।

তিন

বিসমিল্লাহ্‌র উনিশ অক্ষরের, দশ ভাগে এক পড়ে কম।

বড় হেতে আদম ব্যাটায়, কমায় বসে আদ্য দম।

দমে দমে এক কম পড়ে – বৃদ্ধি হয় ছোট হের ধড়ে।

নিশ্বেস করে আনফাসেরে, সেরু পাগলায় করে বর্ণন।।

রচনা- ১৪-১১-২০০৮ ইং সাল

 

জীব

গান নম্বর- ১০৯

পড়িয়া সুন্নি ফেকাহ দেখি রয়েছে লেখা, হবে বিচার মরণেরও পরে।

আমার দয়াল রে- শাস্তি মুক্তি বিচারেরও পরে।।

এক

ধরাতে পাপ পুণ্য যতো, করিয়াছি শত শত।

মরলে স্থান হিসাব অনুসারে।

ইল্লিন আরও সিজ্জিনেতে, রাখবে রূহু হিসাব মতে।

বেহেশত দোজখ হবে শেষ বিচারে।।

দুই

মরণেরও সাথে সাথে, রূহের স্থান দুই ভাগেতে।

বিচারের বাদ থাকিলো কি করে।

যদি বিচার বাদ রহিতো, সব রূহু এক জায়গায় রাখতো।

ভাগাভাগি হইতো বিচার করে।।

তিন

ধরায় জীবের কর্মফলে, বেহেশত দোজখ তারে দিলে।

ধরার শাস্তি দাও কোন কর্ম ধরে।

সে কর্ম কোন সময় বলো, সেরু পাগলা করেছিলো।

কোন স্থানে ঐ কর্ম সে করে।।

রচনা- ০১-০৫-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১১০

নাম ধরেছো পরমও বলে।

কোন আনাসে সৃষ্টি তুমি, কি রঙের তুমি হলে।।

এক

নফস তোমার কি নামে হয়, কোন মোকামে বসতী রয়।

রাহা তোমার বলো কি হয়, বিশ্রাম নাও কোন মঞ্জিলে।।

দুই

অজুদের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

স্বাদ এবং রঙ কেমন তোমার, চালনা কোন মক্কেলে।।

তিন

পরম কথা সংস্কৃতে, বলো কি তা হয় আরবিতে।

সেরু পাগলা চাই জানিতে, ঘুচাও ভ্রান্তি ভেদ বলে।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১১১

সাফাতে জনমো হয় তোমার।

বলো সাফার ফেল হয় কত, কত ফেল কলবে সাফার।।

এক

রুহু কুদচি শুনলাম তোমার, বলো আমায় ফেল কতো তাঁর।

কি রূপ কি স্বাদ কোন বস্তুটার, কোনখানে আহার বিহার।।

দুই

ওয়াজেবল অজুদ বলিলে, সে বলো রয় কয়টি ফেলে।

অহেদিয়াত কারে বলে, কর্ম বলো হয় কি তাঁর।।

তিন

সেরু পাগলার তালিম বিষয়, জানিতে যে মন সদা চাই।

কে বলো জানাবে আমায়, বলো খবর জানলে তাঁর।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১১২

নামটি তোমার পরমাত্মা, প্রভু তুমি নাহি হও।

পাঁচটি আত্মার মালিক যিনি, তাহারেই তো প্রভু কয়।।

এক

পরম তুমি প্রভুর সৃষ্টি, (কেনো) প্রভু রূপে করছো ফষ্টি।

আমার কাছে আছে কষ্টি, মিথ্যা বললে মানবো নয়।

দুই

আমার নামটি হয় জীবাত্মা, আল্লাহ্‌ হয় আমার ও স্রষ্টা।

আমি জীব নয় রে স্রষ্টা, তেমনি তুমিও স্রষ্টা নও।।

তিন

আত্মা যদি স্রষ্টা হবে, স্রষ্টার পূজা কে করিবে।

সেরু পাগলা ইহাই ভাবে, বুঝিয়ে চিন্তা ঘুচাও।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

  গান নম্বর- ১১৩

এক অজুদে রহিয়াছে, পঞ্চ জীবের অবস্থান।

সূক্ষ্ম, স্থুল, বদ্ধ, মুক্ত, তটস্থ হয় যাহার নাম।।

এক

রজঃ বীজের রূপটি ধরে, যে স্বত্বা অজুদ মাঝারে।

আকার নাস্তি দেহ ধরে, রয়েছে ঐ আলাক ধাম।

সেই তো স্থুল জীব নামেতে, রহিয়াছে বিরাজমান।।

দুই

অজুদে দশ ইন্দ্রিয়াত্মিক, সজীব রাখে গুণণান্তিক।

তাহারে কয় তটস্থ জীব, দলীলে ইহাই প্রমাণ।

যে স্বত্বা হয় স্রষ্টার ই দাস, সূক্ষ্মজীব হয় তাহার নাম।।

তিন

পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, গড়িয়াছে মায়া সূত্র।

আবদ্ধ আমরা সর্বত্র, রহিয়াছি ধরাধাম।

যে শক্তি মায়াতে বাঁধে, বদ্ধজীব হয় তাহার নাম।।

চার

গুরু দাস্যে যেহি শক্তি, লয় করে ঐ মায়াশক্তি।

দূর করে দেয় সবাশক্তি, মুক্ত জীব হয় তাহার নাম।

সেরু পাগলা বলে জীবের, সঠিক পরিচয় দিলাম

রচনা- ২৩-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৪

কি দোষে বিদেশে পাঠালে।

এক দেহেতে ছিলাম আমরা, কতই না কুশলে।।

এক

কি অপরাধ পেয়ে গো শাঁই, সর্ব প্রথমে নূর ঝরায়।

পরেতে পৃথিবী গড়ায়, বলো কাহার কৌশলে।।

দুই

জীব রূপে ধরারই মাঝে, পাঠাইলে কিবা কাজে।

তাহাই ভাবি সকাল সাঁঝে, ইচ্ছাতে নাকি ভুলে।।

তিন

ভুলেই হউক আর হউক ইচ্ছাতে, পাঠিয়েছো এ ধরাতে।

ছিলাম তো আমরা তোমাতে, সৃষ্টির ও পূর্ব কালে।।

চার

আমি তোমার খণ্ড অংশ, আমি হই তোমারই বংশ।

আমি তুমি এক সারাংশ, বলছে সেরু পাগলে।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৫

এক দেহ হইতে এসে দুই নামে কেন পরিচয়।

এক বস্তুর দুই রকম নাম, কেমনে হলো এ ধরায়।।

এক

লক্ষ মণ স্বর্ণ হইতে, এক কেজি স্বর্ণ দূরেতে।

নিয়ে গেলে এই ধরাতে একই নামে তাহা রয়।

স্বর্ণ সে তো স্বর্ণ থাকে, ভিন্ন শুধু খণ্ড তাই।।

দুই

ছিলাম প্রভু তোমার ধড়ে, দিলে তুমি খণ্ড করে।

নাম কেনো হয় দুই প্রকারে, সত্য করে জানতে চাই।

তুমিও যাহা আমিও তাহা, ভিন্ন কেন হলাম হেথায়।।  

তিন

তুমি যদি পরম হবে, আমার নাম তাহাই থাকিবে।

জীব হইলে জীবে জীবে রবো আমরা দুজনায়।

কি হেতু নাম দুই করিলে, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৬

প্রথমে নূর ঝরায় প্রভু, হাদিসেতে লেখা রয়।

মহাম্মদী নূর নামেতে, দিলে তাহার পরিচয়।।

এক

খোদ নূরে নূর খণ্ড হলো, মোহাম্মদ নূর নাম ধরিলো।

নূর সেতো নূরই রহিলো, ভিন্ন শুধু খণ্ড তাই।

আদি নূরের অংশ নূর সে, ইহা ছাড়া ভিন্ন নয়।।

দুই

নূর দিয়ে এই বিশ্ব ভুবন, তুমিই তো করেছো সৃজন।

বাঁকি চার চিজ হইলো কখন, তাই জানার বাসনা রয়।

আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, কখন কি রূপেতে হয়।।

তিন

যদি বলো নূরেই ছিলো, আল্লাহ্‌তে ইহাই রহিলো।

পাঁচ চিজে আমায় গড়িলো, আল্লাহ্‌ও পাঁচ চিজেতে হয়।।

তুমিও যাহা আমিও তাহা, কখনোই ভিন্ন নয়।।

চার

ভেবে সেরু পাগলা বলে, ভিন্ন হলাম কি কৌশলে।

আমায় তুমি বলো খুলে, করে তাহা সুনিশ্চয়।

আমি তুমি একই স্বত্বা, কেউ কভু আলাদা নয়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৭

পুণ্য পাপের ভাগী হলাম, পাঁচ চিজে হয়ে গঠন।

তুমিও পাঁচ চিজে গড়া, নিষ্পাপ হইলে কেমন।।

এক

পাঁচ চিজে পাঁচ অজুদ আছে, আত্মাও পাঁচটি রয়েছে।

পাঁচ অজুদের পঞ্চ নফসে, খাহেশ মিটায় সারাক্ষণ।

তাদেরই কর্ম ফলেতে, স্বর্গ নরকে গমন।।

দুই

তুমিও পাঁচ চিজে গড়া, নফসে তোমায় দেয় কি তাড়া।

রয় কি তোমার মৃত্যু জ্বরা, শুনতে চাই সেহি কথন।

স্বর্গ নরক আমার জন্য, তোমার জন্য কি তখন।।

তিন

একদিনে কিয়ামত হবে, হাশরে ফের উঠাইবে।

তুমিই মোদের কাজি হবে, কোরআনে তাহাই বর্ণন।

তোমার বিচার কি প্রকারে, কে বলো করবে কখন।।

চার

শুনি নফসের মরণ হবে, তোমার কি তাহাই ঘটিবে।

কে তোমার জান হরণ করবে, কে করবে জারী সমন।

সেরু পাগলার স্বর্গ নরক, তোমার কি হবে তখন।।

রচনা- ২৬-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৮

নাম তোমার কে রাখিয়াছে, তাই বলো আমায়।

আসলে তোমার নামটি কি, আজ আমি জানিতে চাই।।

এক

শুনি তোমার পিতামাতা নাই।

তবে তোমার নাম রাখলো কে, খুলে বলো তাই।

নামী না বেনামী তুমি, ওহে প্রভু জগত শাঁই।।

দুই

মুসলমান নিরানব্বই নামে।

ডাকিতেছে দেখি আমরা, এ ধরাধামে।

গড, ভগবান, ইশ্বর নামে, ডাকিছে কতো জনায়।।

তিন

কেউ পিতা কেউ ডাকে গো স্বামী।

কি নাম ধরে ডাকবো তোমায়, আজিকে আমি।

এই ভাবনা সদায় ভাবে, তোমার ঐ সেরু পাগলা।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৯

জীবে জীবে মিলন হয়ে জীবেরই জনম।

জীব ছাড়া কোথাও দেখি না, আছে কোথা ঐ পরম।।

এক

জীব থেকে জীবেরই উৎপত্তি।

জীব দেখো চলে ভবেতে, নিয়ে নিজ গতি।

বংশ বৃদ্ধি করে তারা, ফের করে বরণ মরণ।।

দুই

কোথাও তোমায় পায়নি খুঁজিয়া।

কি রূপেতে আছো তুমি, বলো খুলিয়া।

আছো কি নাই দেখিতে চাই, দেখাও তুমি কি ধরণ।।

তিন

পাঁচ অজুদে পঞ্চটি নামে।

রহিয়াছি সদা আমি, এ ধরাধামে।

ভূলোকে সবাই দেখে, আমাদের এই জীব গঠন।।

চার

নামেই তুমি কামে পেলাম না।

ঘোড়ার ডিমের মতোই তোমার, পরিচয় খানা।

সেরু পাগলা পায়নি মিছেই, খুঁজিলো সারাজীবন।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২০

ভবে দেখো জীব তাহাঁকেই কয়।

জীবন যেথায় প্রবাহিত, জীব নামে সেই পরিচয়।।

এক

পাঁচ অজুদ পঞ্চ আনাছে, পঞ্চ রূহু পঞ্চ নফসে।

পাঁচ রাহা পাঁচ মোকামেতে, পাঁচ মঞ্জিল ইহাতে রয়।।

দুই

পাঁচ মক্কেল একিন হয় পাঁচখান, পাঁচ চিজে রয় চল্লিশ খান্দান।

ইহাতেই জীব রয় বর্তমান, এ ছাড়া সে জীব তো নয়।।

তিন

পাঁচ আনাছে ফেল হয় পঁচিশ, পাঁচ জাত নিয়ে দেখো তিরিশ।

দশ লতিফা যোগে চল্লিশ, জীবের গঠন এতেই হয়।।

চার

চল্লিশ গঞ্জ তেত্রিশ রসে, নারী পুরুষ হলো শেষে।

হিজড়া তেহাত্তরে মিশে, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২১

নিজকে নিজেই করি ভজনা।

আমার বিচার আমিই করি, আমিই ফের করি ক্ষমা।।

এক

অজুদে পাঁচ জাত রয়েছে, প্রত্যেকের পাঁচ সেফাত আছে।

পাঁচ পাঁচে পঁচিশ হয়েছে, জাতের এই সেফাত গণা।।

দুই

পঁচিশ সেফাত পাঁচ জাত মিলে, তিরিশ হয় দেখো গণিলে।

একেই তিরিশ পারা বলে, এই হয় মোর কোরআন খানা।।

তিন

আমার কোরআন আমিই গড়ি, আমার কোরআন আমিই পড়ি।

নিজেই পড়শি নিজেই বাড়ি, নিজেই আমি হই সেনা।।

চার

নিজেই দোষী নিজেই কাজী, নিজেই নৌকা নিজেই মাঝি।

নিজেই বলি নিজেই বুঝি, (কেবল) সেরু পাগলায় বোঝে না।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২২

পাঁচ চিজে পাঁচ অজুদ গড়ে, পাঁচ রূহু বর্তমানে।

এ জগতে দেখো আমি, প্রকাশিত জীব নামে।।

এক

কুদচি, ইনসান, হাইয়ানী হয়, যামাদাত, নাবাদাত হয়।

এহি তো পঞ্চ রূহু হয়, জানাইলাম এইখানে।।

দুই

ওয়াযেবল, মোমতেনাল, আরেফাল আর মোমকেনাল।

শেষেতে রহে অহেদাল, পাঁচ অজুদ ধরাধামে।।

তিন

পাঁচ অজুদে রূহু নিয়ে, জীব নামে রয় প্রকাশ হয়ে।

সেরু পাগলা তাইতে কহে, নইলে রয় জড় নামে।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৩

জীবন দেখো হয় জীবের আধার।

জীবন যেথায় নাহি থাকে, জীব হবে কেমনে আর।।

এক

রূহু কুদচি সূক্ষ্ম নামে, জীব গড়ে অজুদো ধামে।

রূহু যেথা হয় ইনসানে, মুক্ত জীব নামে পরিচয়।।

দুই

রূহু যেথা হাইয়ানী হয়, বদ্ধজীব নামে পরিচয়।

যামাদাত রূহু হয় যেথায়, স্থুলজীব নাম হয় তাহার।।

তিন

নাবাদাত রূহু হইলে, তটস্থজীব কয় সকলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, জীব হলো সবই ধরার।।

রচনা- ২৯-১২-২০০০ ইং সাল

 

পরম  

গান নম্বর- ১২৪

আমি পরম রূপে জীবের ভিতরে।

সর্ব জীবের মাঝেই আছি, হাইউনো রূপটি ধরে।।

এক

সমান বায়ু রূপেতে, রয়েছি নাভি মূলেতে।

স্থির ভাবে কুণ্ডলীতে, আছি ত্রিবেণী পরে।।

দুই

প্রাণ বায়ু আহার করি, মল রূপে অপান ছাড়ি।

উদানে পবিত্র করি, পঞ্চ ঐ লতিফারে।।

তিন

কালব, রূহ, সের, খফি, আখফা, এই হইলো পঞ্চ লতিফা।

উহারে শোধিত রাখায়, ব্যক্ত রই অজুদ পরে।।

চার

সর্ব দেহে ব্যান রূপেতে, বিরাজ করি চৈতন্যতে।

সেরু পাগলা কয় অজুদে, পরম রয় মূলাধারে।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৫

কালেবে পরমেরই আশ্রয়।

পরম ছাড়া পঞ্চ জীব তোর, অচেতন হইয়া রয়।।

এক

যে স্রষ্টা এই বিশ্ব গড়ে, সে রয়েছে নিরাকারে।

সর্বস্থলে বিরাজ করে, এ কথা তো মিথ্যা নয়।।

দুই

এক চিজে গড়িলো আদম, ইনসান আরেক চিজে গঠন।

এক চিজে হয় জীবেরই তন, একথা জেনো নিশ্চয়।।

তিন

নিজে সাফা নাম ধরিয়ে, বসিল কালেবে গিয়া।

পরমাত্মা নাম ধরিয়া, অজুদে সে বর্ত্ম রয়।।

চার

পঞ্চ জীব যে রাখে চেতন, সে সত্ত্বাই হইলো পরম।

সে বিনে সবাই অচেতন, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৬

আনাছের সাফাতে তৈরি, রূহুতে পরমাত্মা।

নফসেতে হই রহমানি, সর্বদায় আমি দাতা।।

এক

ওয়াযেবুল হই অজুদে, মঞ্জেল আমার হয় হাহুতে।

রঙ আমার রয় সফেদেতে, প্রকাশি সত্য বার্তা।

শপ্ত পঞ্চ দুই ভাগেতে, আমিই জীবের বিধাতা।।

দুই

রাহা অহেদানিয়াত মোর, স্বাদেতে হয় তলখে জহুর।

হুয়াল একিন ঈমানটি মোর, সব জানি সত্য মিথ্যা।

অজুদে বিচারক আমি, অজুদেই পরম দাতা।।

তিন

অরাঅল অরা হয় মোর মোকাম, আজরাইল হয় মক্কেলের নাম।

আমি হরণ করায় তোর প্রাণ, আমিই তোর জীবন দাতা।।

তাইতে সেরু পাগলা বলে, পরমে নোয়াও মাথা।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৭

জীব তৈরি কোন আনাছেতে, হয়েছে বলো আমায়।

অজুদের তাঁর নাম কি বলো, রয়েছে সে কোন রাহায়।।

 এক

নফসেরও নাম বলো হেথা, কি নামে রহে অজুদা।

জানাও ঈমানেরই বার্তা, কোন একিন তাহারও হয়।।

দুই

মোকামের তাঁর নাম কি বলো, মক্কেল তাহার কে হইলো।

কি নামে তাহার মঞ্জিলো, জানা থাকলে বলো তাই।।

তিন

রঙটি তাহার বলো কেমন, হয় কেমন তাহার আস্বাদন।

সেরু পাগলার বৃথা জীবন, তাই আজো রয় অজানায়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

 

নবুয়াত

গান নম্বর- ১২৮

জিবরাঈল মাধ্যমে প্রভু, নবিতে যাহা বর্তায়।

তাহাই তো নবুয়াত নামে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

এক

সাত নবীতে একশো চার খান, সহিফা ও কিতাব পাঠান।

তাতেই নবুয়াত বর্তমান, রহে পূর্ণ অবস্থায়।।

দুই

তিন নবীতে যাহা পেলো, একশো সহিফা নাম নিলো।

চার রাসুলে বর্ত্ম হলো, পূর্ণ কেতাব চার খানা।।

তিন

তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল, ফোরকান, নবীর নবুয়াত বর্তমান।

ইহাকে আগে সত্য জান, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০১-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৯

রাসুলের ওফাতের পরে, যুগ এলো বেলায়েতের।

বেলায়েত মুর্শিদা নামে, পরিচয় হয় তাহাদের।।

এক

নবুয়াতের বাণী যাহা, মুর্শিদ প্রচার করবে তাহা।

দেখাইবে সত্য রাহা, আদেশ নিষেধ কিতাবের।।

দুই

নবুয়াত বাদ দিয়ে যিনি, করেন প্রচার অন্য বাণী।

বেলায়েতের শত্রু তিনি, এ কথাটি রাসুলের।।

তিন

নবুয়াত বাণী প্রচার করো, তাইতে মুর্শিদ নামটি ধরো।

নবুয়াত বাদ কি করতে পারো, প্রশ্ন সেরু পাগলের।।

রচনা- ০১-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩০

হঠাৎ একটি বাণী শুনতে পায়।

দ্বীনের নবী হেরা গুহায়, স্রষ্টা ধ্যানে মত্ত রয়।।

এক

নবীর বয়স চল্লিশ হলে, আসে গুহায় জিবরাঈলে।

নবীজীকে পড়তে বলে, (পড়তে) জানিনে নবী জানায়।।

দুই

পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করে, নবী রয় একই উত্তরে।

জিবরাঈল নবীকে ধরে, বুকে একটি চাপ বসায়।।

তিন

জিবরাইলের চাপের পরে, নবী সবই পড়তে পারে।

ক্রমে তেইশ বৎসর ধরে, নবীতে তা বর্ত্ম হয়।।

চার

শেষ নবুয়াত কোরআন নামে, রহিয়াছে ধরাধামে।

এ কথাটি সবাই মানে, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩১

আল্লাহ্‌ নবী নবুয়াতের, শোন পরিচয়।

আল্লাহ্‌ হয় নবুয়াত দাতা, গ্রহীতা নবীকে কয়।।

এক

জীবকে উদ্ধার করিবার তরে।

নবীকে ইসলামের বাণী, দেয় ধীরে ধীরে।

সেই বাণী নবুয়াত নামে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

দুই

সেই বাণী যে মানিয়া চলে।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব দেখো মন, তাহাঁকেই বলে।

নইলে দেখো কোরআন খুলে, সাত আয়াত সূরা বাইনায়।।

তিন

যে মানে না নবুয়াত বাণী।

সৃষ্টির অধম নামে তাহার পরিচয় খানি।

বিশ্বাস না হয় পড়ে দেখ, সূরা বাইনার আয়াত ছয়।।

চার

বেলায়েতের মালিক কোন জনা।

কাহার উপর বর্ত্ম হলো বেলায়েত ব্যানা।

বর্তমানে কোথায় তাহা, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

 গান নম্বর- ১৩২

শোন এবার দিচ্ছি আমি নবুয়াতের পরিচয়।

নবুয়াত শব্দের অর্থ কি, আঙ্কিক মান তাঁর কতো হয়।।

এক

নবুয়াত শব্দের অর্থ এবার, নতুন সংবাদ নামে প্রচার।

লিখতে লাগে চারটি অক্ষর, নুন, বা, ওয়া, তা সব কয়।।

দুই

পঞ্চাশ হয় নুনের আঙ্কিক মান, দুই হলো বা অক্ষরের মান।

ওয়া এর মান ছয় সত্য জান, তা এর মান চারশত হয়।।

তিন

চারিশত আটান্ন রে, আঙ্কিক মান হয় চার অক্ষরে।

সেরু পাগলা বলছে তোরে, মনেতে জেনো নিশ্চয়।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৩

বেলায়েত শব্দের অর্থ কি, খুলে বলো তাই।

বেলায়েত কোন ভাষায় লেখা, হইয়াছে এ ধরায়।।

এক

বেলায়েত হয় কয় অক্ষরে।

অক্ষরগুলোর নাম হয় কি কি, কও সত্য করে।

কোন অক্ষরের মান হয় কতো, বলো তুমি আজ আমায়।।

দুই

সর্বমোট মান হয়েছে কতো।

সেই কথাটি এ আসরে, বলিবে সত্য।

এ আসরে শ্রোতা যতো, শুনে যেন প্রাণ জুড়ায়।।

তিন

সেরু পাগলার মনের বাসনা।

জানিবে তোমারও কাছে, বেলায়েত ব্যানা।

কোন কিতাবের কথা খানা, সত্য করে জানতে চাই।।  

 রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৪

নবুয়াতের আসল খবর, বুঝে নাও মন দিন থাকিতে।

না বুঝে নবুয়াত ব্যানা, রয়েছো মন কুপথেতে।।

এক

বেহেশতের আদম বেহেশতে নিতে, চাহে আমার পরওয়ার।

ধীরে ধীরে তাইতো ধরায়, পাঠায় নবী পয়গম্বর।

নবীর উপর পাঠায় বাণী – যে উহাকে সত্য মানি।

চলিতেছে দিন রজনী, ভয় কিসের তাঁর ত্রিজগতে।।

দুই

বেহেশতের আদম বেহেশতে গেলে, তাঁর কিছুই নাই প্রয়োজন।

সদা চিত্তে আনন্দিত, নিত্ত করে বিনোদন।

(তখন) সেই দেহে না থাকে ছায়া – গঠিত হয় নূরী কায়া।

আদ্য নূরের অংশ হইয়া, বিচরণ করে বেহেশতে।।

তিন

অংশ নূর যদি মিশতে চাই, যাইয়া আদ্য নূরে।

নূর নবুয়াত মানতে হবে, শোন বলি তোমারে।

(যদি) অংশ নূর ঐ আদ্য নূরে – যাইয়া মিশিতে পারে।

নিজকে নিজেই আল্লাহ্‌ ধরে, প্রচারিত হয় জগতে।।

চার

সেরু পাগলা ভেবে বলে, বেহেশত দোজখ এ ধরায়।

এই গানে বলে গেছি, তা মরার পরের কোথা নয়।

(তাই) নবুয়াতের আদ্য মর্ম – বুঝার পরে করো ধর্ম।

যেন সাধের মানব জন্ম, পড়েনা বৃথার খাতাতে।।

রচনা- ২৬-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৫

শোন নবুয়াত কাহাকে কয়।

নবীতে নবুয়াত বর্ত্ম, নবী তো নবুয়াত নয়।।

এক

বেহেশত হইতে যে ধন, এ ধরাতে হয় আগমন।

তাঁকে বেহেশতে আনয়ন, করাতে চান দয়াময়।।

দুই

চাইলে বেহেশতে ফিরে যেতে, যে কর্ম হবে করিতে।

স্রষ্টার দেওয়া সেই বিধানকে, বাক্য নবুয়াতো কয়।।

তিন

আওয়ালে ঐ শুন্য কারে, যে ধন নূর হইতে ঝরে।

আবার মিশতে চাইলে নূরে, নূর নবুয়াত মানতে হয়।।

চার

নবুয়াত হয় দুই প্রকারে, এক বাক্যে দুই আছে নূরে।

সেরু পাগলা কয় তোমারে, এই নবুয়াত পরিচয়।।

রচনা- ২৫-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৬

সকল বিষয় নবুয়াতে হয়।

কলেমা, নামায ও রোজা, হজ্জ, যাকাত সকলই রয়।।

এক

ধর্ম কর্ম করি যাহা, নবুয়াতি বিধান তাহা।

এছাড়া কি অন্য রাহা, আছে যা বেলায়েত কয়।।

দুই

গুরু ধরার আইন খানা, নবুয়াতে গেলো জানা।

নবুয়াতেই সব সাধনা, বর্ত্ম করে দয়াময়।।

তিন

তাই তো শুধায় তোমার তরে, বেলায়েত বলে কাহারে।

তোমার ধর্ম কি প্রকারে, বলো সেরু পাগলা কয়।।

রচনা- ২৫-০৮-২০০২ ইং সাল

 গান নম্বর- ১৩৭

নবুয়াত প্রাপ্ত যিনি, সে বিনে কুল পাবে না।

এ জগতে নবী যিনি, ও জগতে রাব্বানা।।

এক

নবীর ও মেরাজের কালে, পানির ও অভাব পড়িলে।

যেয়ে দেখে জিবরাঈলে, দুই যায়গাতে একজনা।।

দুই

হাশরের ময়দানে যবে, নাফসি নাফসি বলবে সবে।

নবুয়াত প্রাপ্তে বলিবে, উম্মাতি বাক্য খানা।।

তিন

যারা এই নবুয়াত বিধান, মানিয়া চলছে বর্তমান।

হাস্য রবে তাঁদের মুখখান, তা ছাড়া সব মলিনা।।

চার

তাইতে বলি ত্বরা করে, নবুয়াতের বিধান ধরে।

করো ধর্ম এ ভূধরে, সেরু পাগলার এই ব্যানা।।

রচনা- ০৫-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৮

আল্লাহ্‌ একেশ্বরেতে ছিল।

সৃষ্টির আদি অনন্তাদি, খোদ অঙ্গে গুপ্ত ছিল।।

এক

খোদ অঙ্গের পৃষ্ঠেরই আড়ে, নবুয়াত রয় ডিম্বাকারে।

সৃষ্টির আশ্রয় তাঁহার দ্বারে, নিগমে নূর ঝরালো।।

দুই

নূর মোহাম্মদ নূরেতে হয়, সর্বাঙ্গে নবুয়াত বর্ত্মায়।

একিন বৃক্ষে নিলে আশ্রয়, পঞ্চ তন এক হইলো।।

তিন

নবুয়াত বিভক্ত করে, আশ্রয় দেয় আরশের পরে।

সেরু পাগলায় কয় সবারে, ইঙ্গিতেই ব্যক্ত হলো।।

রচনা- ১৬-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৯

মোহাম্মদ খাতামান নবী, কোরআনে তা লেখা রয়।

কোরআন খাতামান নবুয়াত, তিনিই দেন তাঁর পরিচয়।।

এক

বিদায় হজ্জে নবী বলে, আমি বিদায় হয়ে গেলে।

আসবে না কেউ নবী বলে, মনেতে মানো নিশ্চয়।।

দুই

খাতামান নবুয়াত নামে, রয়ে যাবে ধরা ধামে।

বুঝে নাও তা কোরআন খানে, লিখিত সর্ব বিষয়।।

তিন

দ্বীন হলো আজ পরিপূর্ণ, মানতে পারলে হবে ধন্য।

না মানিলে পাপে গন্য, হবে সেরু পাগলে।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪০

বেলায়েত শব্দের অর্থ কি, তাই বলো তুমি আমায়।

বেলায়েত বলিতে রাসুল, কি দিয়াছেন পরিচয়।।

এক

এই বেলায়েত কি প্রকারে, আসিয়াছে ভব পরে।

এখন তাহা কি রূপ ধরে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

দুই

বেলায়েতের মালিক কে-বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

দলিল থাকলেও জানাইবা, নইলে ছাড়াছাড়ি নাই।।

তিন

সেই বেলায়েত কেমন করে, মানতেছে জীব ভব পরে।

কথা কও মূল সূত্র ধরে, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪১

নবীকে নবুয়াত ভাবা, এটা তোমার পাগলামী।

নবীতে নবুয়াত বর্ত্ম, ভাবিয়া দেখো তুমি।।

এক

জীব উদ্ধার করিবার তরে, পাঠায় বাণী ধীরে ধীরে।

লেখা রয় কিতাবের পরে, এ কথাটি লও মানি।।

দুই

সহিফা হয় একশো খানা, পূর্ণ কিতাব রয় চারখানা।

এতেই রয় নবুয়াত ব্যানা, তাই মানো দিবাযামী।।

তিন

নবী নবুয়াত গ্রহীতা, স্রষ্টা হয় নবুয়াত দাতা।

মিথ্যা নয় রে এহি কথা, সেরু পাগলা কয় জানি।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪২

নবুয়াতের কথা ছাড়া, আর কি আছে এ ধরায়।

থাকলে বলো আমার কাছে, শুনে প্রাণ জুড়াক শ্রোতায়।।

এক

তাহাতে রয় কি-কি বিধান, অনুমান না-কি বর্তমান।

এখন তা কথায় অবস্থান, কিভাবে করে সবাই।।

দুই

কেমনে ধর্ম করতে হবে, নবুয়াতে লেখা যবে।

সত্য মিথ্যা এই ভবে, নবুয়াতেই জানা যায়।।

তিন

কার কথায় বেলায়েত করো, কেমনে তাহা পালন করো।

জানিতে চাই পাগলা সেরু, খুলে বলো আজ আমায়।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৩

শোন নবুয়াত পরিচয়।

নূর নবুয়াত নূরে মিশে, আত্মশুদ্ধি করে যায়।।

এক

আলিফে বিসমিল্লাহ্‌ এসে, লা মাকামে গেলে মিশে।

মীম হতে নবুয়াত এসে, বিসমিল্লাহ্‌তে প্রাণ জুড়ায়।।

দুই

বিসমিল্লাহ্‌ গোবিন্দ হলে, অমনি আসে ধরায় চলে।

মীম হরফ রূপান্তর হলে, কলেমাতে নাম ভাঁড়ায়।।

তিন

কলেমাতে বারি তায়ালা, নবুয়াত রূপে খেলছে খেলা।

তাইতে কহে সেরু পাগলা, (নূর) নবুয়াত স্বয়ং স্রষ্টায়।।

রচনা- ২৬-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৪

নবুয়াতের কথা মিথ্যা নয়।

একত্রিশ অক্ষর দিয়ে, তামাম কোরআন লেখা হয়।।

এক

বিসমিল্লাহ্‌ উনিশ অক্ষরো, কলেমাতে অক্ষর বারো।

যোগ করিয়া দেখতে পারো, একত্রিশ হবে নিশ্চয়।।

দুই

আদি সত্বা একত্রিশের, রূপটি তাঁর নূর নবুয়াতের।

এর গুণাগুণ পরিচয়ের, জন্যই কোরআন লেখা হয়।।

তিন

কোরআন পড়ে কোরআন ভজো, (নূর) নবুয়াত কোরআনে মজো।

সুন্দর হবে দেহ রাজ্য, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

 

খাজা বাবা

গান নম্বর- ১৪৫

খাজা বাবার কুদরৎ এমনি।

লোটাতে ভরিয়া নিলো, আনা সাগরের পানি।।

এক

খাজা ভারতে আসিলে, বসে আনা সাগর কুলে।

নাওয়া খাওয়া আনার জলে, সমাধা করেন তিনি।।

দুই

সাগর পাড়ে হিন্দু ছিলো, পানি নিতে বাধা দিলো।

কাতরে খাজায় বলিলো, চাহি এক লোটা পানি।।

তিন

রাজী হলে হিন্দুগণে, এক লোটা পানি তখনে।

খাজায় যখন ভরে আনে, ভারত শুকায় তখনি।।

চার

পানির অভাব হলে পরে, সবাই আসে খাজার তরে।

চাহে পানি বিনয় করে, ধরে চরণ দুখানি।।

পাঁচ

যাকে পানি দিতে বাধা, পানির জন্য তাকেই সাধা।

সেরু পাগলা বলে খোদা, তোমার লিলার কি জানি।।

রচনা- ৩১-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৬

ভারতে বেহেশতো বাগান, বসালেন খাজা বাবায়।

দেখারি বাসনা হলে, আজমিরেতে চলো যায়।।

এক

চিশতীয়া তরীকা ধরি, করেছে ইসলাম প্রচারি।

মুসলমানের ডঙ্কা ভারি, করেছেন সে একেলায়।।

দুই

লাখে লাখে ভক্তগণে, পাগল খাজা বাবার গানে।

আশেকি আর আশেকানে, সেই গানে ইসলাম ছড়ায়।।

তিন

কি দেবো তুলনা তারি, মেসাল দিতে আমি নারি।

সেরু পাগলা বিনয় করি, কয় দেখিতে ত্বরা আয়।।

রচনা- ৩১-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৭

খাজা বাবা এলেন এ ধরায়।

পাঁচশত সাইত্রিশ হিজরি, চৈদ্দই রজ্জব দেখো তাই।।

এক

সঞ্জরের গিয়াস হয় পিতা, উম্মুল ওয়ারা হলেন মাতা।

পবিত্রা পবিত্র স্বত্বা, মিলনের ফসল ইহাই।।

দুই

পিতৃ মাতৃ উভয় কুলই, রয়েছেন ঐ হযরত আলী।

তাঁর চৈদ্দ সিঁড়ি পরের অলি, আমাদের খাজা বাবাই।।

তিন

ভেবে সেরু পাগলা বলে, পড়ো খাজার চরণ তলে।

ডাকো খাজা বাবা বলে, দাদা, নাতি, বাবা, ভাই।।

রচনা- ২৮-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৮

খাজা বাবার নৌকা ভিড়ে রয়েছে কুলে।

সেই নৌকায় উঠো পারের বাসনা হলে।।

এক

সেই নৌকাতে উঠার আগে, পারের কড়ি লইও মুখে।

খাজা খাজা যিকির করো, নাচেরই তালে।।

দুই

বাবার নাম মুখে থাকিলে, (বাবাই) আদরে নাই নিবে তুলে।

ভয়ের বালায় না রবে আর, পারের ই কালে।।

তিন

নাও ছাড়িয়া গেলে পরে, লাভ হবে না চরণ ধরে।

অপারেতে থাকবে পড়ে, সেরু পাগলে।।

রচনা- ০৩-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৯

হিন্দেরই সুলতানরে বাবা, হিন্দেরই সুলতান।

আজমিরে উড়াইলো যিনি, ইসলামী নিশান।।

এক

হিন্দেতে রয় হিন্দুরই বাস, (বাবা) দিলেন সেথায় শান্তির আভাস।

ধর্ম ত্যাজে হিন্দুরা সব, হইলো মুসলমান।।

দুই

(বাবা) পূজারীদের কাছে গেলো, মূর্তিরে কোথা বলাইলো।

তাই দেখে হিন্দুরা গ্রহণ, করিলো ইসলাম।।

তিন

এই ভাবেতে ধীরে ধীরে, মুসলমান হইলো আজমিরে।

সেরু পাগলা বিনয় সুরে, গাহে খাজার শান।।

রচনা- ১৬-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫০

কি দিব তুলনা তাহারই।

গারীবো নেওয়াজ ও খাজা, দয়াল বাবা আজমেরি।।

এক

আল্লাহ্‌রই আশেক দেওয়ানা, গানেতে হইলেন ফানা।

গাহিয়া আশেকি গানা, দিদার পায় মাশুকেরি।।

দুই

শুনিয়া তাঁর এশকের ই গান, যিকির করে জমিন আসমান।

যেতে চাই হইয়া খানখান, শুনিয়া গান খাজারি।।

তিন

গানে এতো মধু ছিলো, খাজা বাবাই জানাইলো।

তাই সেরু পাগলা বলিলো, শোন তাঁর গান প্রাণ ভরি।।

রচনা- ২৪-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫১

কি গান শুনাইলো খাজা, ভারত এসে।

চলো মন যায় ছুটে ঐ, খাজার দেশে।।

এক

খাজা হয় হিন্দের অলি, ফোটায় ইসলামের কলি, ভারত বর্ষে।

আল্লাহ্‌রই শান বাবাই সে গান, গাইলো হেঁসে।।

দুই

শুনে সব মাতোয়ারা, সে গানে পাগল পারা, হারায় দিশে।

তথাকার হিন্দুগণে খাজার সনে, গেলো মিশে।।

তিন

সে গানের প্রতি কথা, হৃদয়ে রাখে গাঁথা, প্রেমাবেশে।।

আল্লাহ্‌ প্রেমে পাগল হইলো, সেই প্রবাসে।।

চার

ভেবে কয় পাগলা সেরু, খাজাই ইসলামের গুরু, ভারতবর্ষে।

তাঁর কথাতেই মুসলমান হয়, ধর্ম ত্যাজে।।

রচনা- ২৪-০৮-২০০১ ইং সাল

 

রাধা

গান নম্বর- ১৫২

ত্রেতায় আমি হলেম সীতা রাম।

সত্যে আমি লক্ষ্মী নামে, এসেছিলাম ধরাধাম।।

এক

দ্বাপরেতে রাধা নামে, আসি বিষূভানু ধামে।

মা কীর্তিকা বানু নামে, (যার) উদরে জন্ম নিলাম।।

দুই

যুগে যুগে নাম ভাঁড়িয়ে, আমি লক্ষ্মী যায় বেড়িয়ে।

রাধা নামে যায় দাঁড়িয়ে, দেখাইতে গোলোকধাম।।

তিন

তোমারও পরিচয় কি বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

কি বলো হয় কৃষ্ণ শিবা, কি হেতু এই ধরাধাম।।

চার

হয়ে আয়ানের ভাগিনা, মামী কেনো করো বাসনা।

তাই জনতে হলো বাসনা, সেরু পাগলার মনস্কাম।।

রচনা-০২-০৩-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৩

কেমন করে জানলে তুমি, আবদ্ধ সীতা লঙ্কায়।

রাবনেই করেছে চুরি, নিশ্চিত হলে কার কথায়।।

এক

সীতা যখন চুরি গেলো, রামে তো বাড়ি না ছিল।

তবে কেমনে জানতে পারলো, তাই জানাও তুমি আমায়।।

দুই

পারো যদি সত্য বলতে, তবেই রাজী আছি মানতে।

কৃষ্ণ নামে এই ধরাতে, রাম তুমি এসেছো তাই।।

তিন

রামই যখন কৃষ্ণ হলে, পরিচয়টি বলো খুলে।

জানতে চাই সেরু পাগলে, নইলে তোমার রক্ষা নাই।।

রচনা- ০২-০৩-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৪

সত্যে লক্ষ্মী রূপেতে ছিলাম।

নারায়ণ রূপেতে তোমায়, আমি বরণ করে নিলাম।।

এক

কেমনে তুমি ভক্তের হাতে, পারলে আমায় তুলে দিতে।

কেমনে পারলে মেনে নিতে, এ কথা বুঝতে নারিলাম।।

দুই

বর্গা দিলে এমন জায়গায়, লাঙ্গল আছে ফাল তাঁহার নাই।

এ দুঃখ মরিলে কি যায়, অচল কৃষক আমি পেলাম।।

তিন

বলো কি দোষ আমার ছিল, বর্গা ভাবে যেতে হলো।

সেরু পাগলা তাই বলিল, তোমার কি হয় নি দুর্নাম।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৫

দ্বাপরে রাধা নাম হয় আমার।

মাতা মোর কীর্তিকা বানু, বিষূভানু নাম পিতার।।

এক

নারায়ণের ললাট হতে, এসেছিলাম আমি সত্যে।

নাম ছিল লক্ষ্মী রূপেতে, পরিচয় দিলাম আমার।।

দুই

ত্রেতা যুগে সীতা নামে, আসি জনক রাজা ধামে।

কলিই বিষ্ণু প্রিয়া নামে, এসেছি ধরার মাঝার।।

তিন

চার যুগে চার রূপে আমি, ভূলোক ঘুরি দিবাযামী।

এ মহা ভারতের বাণী, নহে তো সেরু পাগলার।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৬

চার যুগের চার রুপের কথা, জানতে চাই আমি এবার।

কোন যুগে কোন নামটি ধরে, নিজকে করেছো প্রচার।।

এক

কোন যুগে কাহার উদরে, আসিয়াছো ভব পরে।

পিতার নাম কি হয় ভূধরে, বাসনা তাহি জানার।।

দুই

চার হস্ত নিয়ে দ্বাপরে, এসেছিলে ভব পরে।

কখন কোন ঘটনার পরে, দু-হস্ত হলো তোমার।।

তিন

বাঁকি দু-হাত বর্তমানে, রহিয়াছে কোন স্থানে।

সেরু পাগলা তাই এখানে, জানতে চাই কাছে তোমার।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৭

দ্বাপরে কয় রঙ ধরেছো।

কোন রঙ ধরে কত বছর, অবস্থান তুমি করেছো।।

এক

কোন কারণে কি রঙ নিলে, আদি রঙ কোথায় রাখিলে।

কোন রঙে কোন নামে ছিলে, কাহার নামে নাম নিয়েছো।।

দুই

কোন নামের কি আছে সুধা, তা পানে কার হ’রে ক্ষুধা।

কোন রঙে তুমি আছো সদা, কার বা রঙে রঙ ধরেছো।।

তিন

সেরু পাগলা কয় তোমারে, জানিলে বলো আমারে।

আজকে তুমি কি আকারে, এই আসরে এসেছো।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল  

 

শয়তান

গান নম্বর- ১৫৮

নামিয়াছি খেলিতে ফুটবল।

আল্লাহ্‌ আমার প্রতিপক্ষ, খেলার মাঠ ভবের সকল।।

এক

আল্লাহ্‌ই চাই বেহেশতে নিতে, কিন্তু আমি দোযখেতে।

চেষ্টায় আছি নিয়ে যেতে, দিয়ে মোর শক্তি সকল।।

দুই

চাচ্ছে আল্লাহ্‌ ক্যারি করে, নিতে বেহেশতের ভিতরে।

কিন্তু আমি লাথি মেরে, ফেলতে চাই দোজখের তল।।

তিন

খেলার শেষে দেখা গেলো, আল্লাহ্‌ আমায় দুই গোল দিলো।

একাত্তর গোল আল্লাহ্‌ই খেলো, এই তো খেলার ফলাফল।।

চার

খেলায় হলো আমার জিতো, হইলো আল্লাহ্‌ পরাজিত।

খাইলে আদম লাথি গুঁতো, বলতেছে সেরু পাগল।।

রচনা- ২৫-০৮-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৯

দ্বিতীয়ে মকরুম আবেদ হয়।

আজাজিল নামেতে আমার, সর্ব প্রথম পরিচয়।

এক

তৃতীয়েতে নামটি আমার, দিয়েছেন তোমার পরওয়ার।

শয়তান নামে প্রকাশ তাহার, জানিয়া লহো নিশ্চয়।।

দুই

আতশি সুরাতে আমি, ফিরিতেছি দিবাযামি।

অগ্নিতে সৃষ্টি হই আমি, এ কথা তো মিথ্যা নয়।।

তিন

হাদিস ও কোরআনের বাণী, এ পর্যন্তই আমি জানি।

কথা সত্য লহো মানি, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬০

তেহাত্তরের একাত্তর জন, চলিছে আমার কথায়।

তুমি একা না চলিলে, আমার তাতে দুঃখ নাই।।

এক

আল্লাহ্‌র সাধের আদম তুমি, বেহেশতো তোমার কারণই।

গড়িয়াছে জগত স্বামী, বিলাসে থাকিবে তাই।।

দুই

বিলাস থেকে বাহির করে, কষ্টেতে ফেলিলাম তোরে।

এ কষ্টের পর চিরতরে, ফেলিবো দোজখ খাতায়।।

তিন

তাইতে কয় সেরু পাগলে, আদম তুমি এ স্থলে।

এসে পড়ো আমার দলে, ভক্তি রাখো আমার পায়।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬১

ফেরেশতাকে করতে সেজদা, বলেছেন সৃষ্টি কর্তা।

জ্বিনকে তো বলে নাই দেখো, করিতে আদম সেজদা।।

এক

সৃষ্টিকর্তার কথা শুনে, যতো ফেরেশতা তখনে।

দিলো সেজদা ঐ আদমে, (কেবল) আমি দিলাম না সেজদা।।

দুই

আমি ছিলাম জ্বিনের বংশ, নহে ফেরেশতারই অংশ।

আমি হই অগ্নি সারাংশ, নয় আমার সেজদার কথা।।

তিন

জ্বিনকে সেজদা করতে বললে, দিতাম সেজদা স্বদলবলে।

বৃথায় আমায় লানত দিলে, তোমার ঐ সৃষ্টিকর্তায়।।

চার

ন্যায় বিচারক নামটি যাহার, করিলো কেমন অবিচার।

ভেবে দেখো তুমি এবার, সেরু পাগলায় বলছে তা।।

রচনা- ১৭-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬২

আমি শয়তান হই তোমারই যম।

সর্ব রূপ ধরিয়া আমি, এ জগতেই বিচরণ।।

এক

বেহেশত হইতে আমি, করিয়াছি বিপথগামী।

এ ধরাতে তাইতে তুমি, করিয়াছো আগমন।।

দুই

এ বিশ্বে আমার কারণে, ঘুরিতেছো তিন ভুবনে।

ভুবন ভরালে সন্তানে, সকলই আমার কারণ।।

তিন

আল্লাহ্‌র সাথে পাল্লা করে, আনিয়াছি এই ভূধরে।

আবার নেবো দোযখ পূরে, সেরু পাগলার এই বচন।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৩

অগ্নিতে সৃষ্টি হয়েছি ভাই।

শক্তিতে আজাজিল আমি, মোকরুম আবেদ কয় আল্লাহ্‌ই।।

এক

রূহু আমার হয় হায়ানী, ঈমান বেল গায়েব একিনী।

মোকামে হই কাবকাউসিনী, শরিয়াতি রাহা তাই।।

দুই

নফসো আমার হয় আম্মারা, অজুদে মোমকেনাল ধারা।

মঞ্জিল হয় নাছুতে ঘেরা, রঙটি আমার রয় ছিয়ায়।।

তিন

স্বাদটি আমার হয় কড়ুয়া, সৃষ্টি শুরু আমায় দিয়া।

সেরু পাগলা কয় ভাবিয়া, শয়তানের এই পরিচয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৪

কোন আনাছে আদম তৈরি, করিয়াছেন দয়াময়।

রূহের তাহার নাম কি বলো, নফসেরো নাম কিবা হয়।।

এক

অজুদের কি নামটি বলো, রাহাটি কি নামে ছিলো।

মোকাম তাহার কোথা বলো, দাও মঞ্জিলের পরিচয়।।

দুই

মক্কেলের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

রঙ স্বাদটি কেমন হয় তাহার, সত্য বলো মিথ্যা নয়।।

তিন

সামসুদ্দিনে বলছে ডেকে, অধমো সেরু পাগলাকে।

চেনো আদম বলে কাকে, লও গো খাকের পরিচয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৫

পাঁচটি ফেল আনাসের আতশের।

ভুখ, পিয়াস আর নিন্দ, হজম, সুস্থি এই পাঁচ প্রকারে।।

এক

উপাসনায় বাধা আমি, আমি হই মূল উপাসনী।

তোমাতে না থাকলে আমি, দাম রবে না আদমের।।

দুই

ভুখ, পিয়াস নিবারণে, যাও আদম কর্ম সন্ধানে।

আলস্যে রইবে ঘুমে, সুযোগ কোই এবাদতের।।

তিন

সুস্থিতে আলস্য আনে, ভুখ আসে তোর ঐ হজমে।

এই পাঁচ ফেল অন্তরায় ধর্মে, কথা সেরু পাগলের।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৬

আব, আতশ, বাদ, খাক আর সাফা, দিয়ে প্রাণীর সৃষ্টি হয়।

পাঁচ বস্তুর হয় পাঁচটি অজুদ, পাঁচটি নামে পরিচয়।।

এক

ওয়াযেবল আর অহেদাল, আরেফেল ও মোমকেনাল।

সর্বশেষে মোমতেনাল, পঞ্চ অজুদ এরে কয়।।

দুই

আতশের অজুদ মোমকেনাল, খাকের অজুদ হয় আরেফাল।

খাক হয় আদমের সুরাত হাল, শয়তান মোমকেনালে রয়।।

 তিন

এক এর মাঝে পাঁচজন আছি, তাঁর একটি আমি গাইতেছি।

আর একটি তোমায় পেয়েছি, বলবো কথা দুজনায়।।

চার

সেরু পাগলা বলছে হেথা, হবে না আজ বাজে কথা।

বলবে তুমি দলিল কথা, নইলে তোমায় ছাড়বো না।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৭

জ্বলন্ত আগুনের বাতাস, দিয়ে জ্বিনের সৃষ্টি হয়।

এ কথাটি মিথ্যা নহে, দেখো তা কোরআনে রয়।।

এক

হিজরের সাতাশ আয়াতে, আর রহমান পনেরোতে।

দেখো লেখা আছে তাতে, জ্বিন জাতির পরিচয়।।

দুই

কোনো চিজ সমস্ত চিজকে, পারে না হজম করিতে।

একমাত্র আমিই সকলকে, হজম করে করি লয়।।

তিন

শক্তিতে শ্রেষ্ঠ হই আমি, ঢুঁড়ে দেখো ত্রিভুবনী।

সেরু পাগলার নয় এ বাণী, কোরআনেই তা লেখা রয়।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৮

এই ধরণীর প্রায় সকলেই, চলিছে আমার কথায়।

গাধার মতো তুমিই শুধু, থাকলে পড়ে অন্য ঠাই।।

এক

তোমায় আমি প্রবেশ করে, কর্ম করায় এ ভূধরে।

পড়লে ধরা থাকি দূরে, মাইর পাওনা কেবল তোমায়।।

দুই

আমার কিছুই করতে নারো, নিজের ক্ষতি নিজেই করো।

আমি হই সবার উপরো, মেনে নাও তুমি হেথায়।।

তিন

এ ধরাতে সুখ চাহিলে, এসে পড়ো আমার দলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, শয়তান বিনে নাই উপায়।।

রচনা- ২৯-০৬-২০০৪ ইং সাল    

 

আদম

গান নম্বর- ১৬৯

আদম তৈরির বাসনা হলো।

তখন আল্লাহ্‌ ফেরেশতারে, এ কথা জানাইলো।।

এক

ফেরেশতা বলে আল্লাহ্‌রে, নতুন সৃষ্টির দরকার নাই রে।

মোরা তো বন্দেগী করে, গাহি তোমার গুণগান।।

দুই

নতুন যারে সৃষ্টি করবে, শুধুই ফ্যাসাদ বাড়াবে।

বৃথা কেনো সৃষ্টি তবে, সকলেই যুক্তি দিলো।।

তিন

আল্লাহ্‌ কয় তোমরা জানো না, মানব সৃষ্টিই মূল বাসনা।

না হলে কিছুই করতাম না, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৬ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭০

পাঁচ চিজে প্রাণীরও গঠন হয়।।

সত্য করে বলো তুমি, শয়তানেরই পরিচয়।।

এক

আগুন, পানি, বাতাস, মাটি, সাফা দিয়ে হয় পঞ্চটি।

এতে হয় মানব দেহটি, শয়তান কোন চিজেতে হয়।।

দুই

আদমের আগে না পরে, সৃষ্টি করে শয়তানেরে।

বলো কথা দলিল ধরে, নইলে কথা নেবো না।।

তিন

যে তোমায় সৃষ্টি করিলে, সেই তো সেজদা দিতে বলে।

কার কথায় সেজদা না দিলে, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১

খাক চিজে আদমের গঠন, রূহু তাহার জামাদাত।

নফস তাহার মুলহেমারো, নিমকিন হয় তাহার স্বাদ।।

এক

অজুদ তাহার আরেফালো, জিবরাঈল তাহার মক্কেলো।

ঈমানের একিন আইনুলো, রাহা তাহার হাকিকাত।।

দুই

মোকাম সোলতানন নসিরা, জবরুত হয় মঞ্জিলের ধারা।

এতেই আদম তৈরি সারা, করেছেন আদি আহাদ।।

তিন

সেরু পাগলা তালিম হতে, পরিচয় দিলো তোমাতে।

তোমার পরিচয় জানিতে, জিজ্ঞেস করিল তাবৎ।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

 গান নম্বর- ১

কে বলে পাঁচ চিজে আদম, ভ্রান্ত তোমার ধারণা।

এক চিজে আদমের গঠন, কোরআন খুলে দেখো না।।

এক

হিজরের ছাব্বিশ আয়াতে, আনয়াম আয়াত দ্বিতীয়তে।

তোয়াহা আয়াত পঞ্চান্নতে, বিশ আয়াত রুম দেখো না।।

দুই

আর রহমান চৈদ্দ আয়াত, নূহ চৈদ্দ, এগারো সাফফাত।

আবার নূহ সতেরো আয়াত, পড়িলেই যাবে জানা।।

তিন

পাঁচ চিজে আদম গড়িলে, বলো তা রয় কোন দলিলে।

জানতে চাই সেরু পাগলে, নইলে তোমায় ছাড়ছি না।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৩

পাঁচ চিজে প্রাণীরও সৃষ্টি, পাঁচ অজুদে বর্তমান।

আব, আতশ, খাক, বা আর সাফা, এই হইলো পাঁচ জাতের নাম।।

এক

সাফার অজুদ ওয়াযেবল, বাদের অজুদ হয় অহেদাল।

আতশের অজুদ মোমকেনাল, সত্য করে জানাইলাম।।

দুই

আবের অজুদ মোমতেনাল, খাক দেহ হলো আরেফাল।

পাঁচ অজুদের পঞ্চটি হাল, তালিম হতে বলিলাম।।

তিন

কোন জাতে শয়তান হয় সৃষ্টি, কি হয় তাঁর অজুদের নামটি।

সেরু পাগলা বলে খাঁটি, কথা জানতে চাহিলাম।।

রচনা- ১০-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৪

স্রষ্টার বন্দেগীতে আদম, রয়েছে সদায়।

তাইতে মৃত্যুর পরে আদম, যাবে বেহেশত খানায়।।

এক

আল্লাহ্‌ হয় সর্ব সৃষ্টির স্রষ্টা।

মিথ্যা নহে সত্য জানো, এহি কথাটা।

তাঁর দেওয়া বিধান মানাটা, তাঁর দাসত্বের পরিচয়।।

দুই

বন্দেগী করলে বিধান মতো।

অবশ্যয় পাইবে আদম, সুখের বেহেশত।

মিথ্যা নয় এ কথা সত্য, কোরআন খুলে দেখো তাই।।

তিন

তুমি কাহার বন্দেগী করো।

বিচার শেষে কোথায় যাবে, বলতে কি পারো।

সে জায়গাটির নাম বলো কি, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৫

পঞ্চ রূহু সকল প্রাণীর হয়।

হাইয়ান, নাবাদাত, যামাদাত, কুদচি আর ইনসানি হয়।।

এক

পাঁচ রূহু হয় পাঁচ মোকামে, ফেরে সদা নিত্ত ধামে।

আগমে কি সেই নিগমে, ঘুরিতেছে জ্যোতির্ময়।।

দুই

মোকাম তাহার আছে পাঁচটি, পাঁচ মঞ্জিলে করে ঘাঁটি।

মিথ্যা নয় সে কথা খাঁটি, তালিমে তা লেখা রয়।।

তিন

শয়তান রূহের নাম কি বলো, মোকামটি কি নামে ছিল।

মঞ্জিলটি কি নামে হলো, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৯-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১

শেষ বিচারে সঠিক আদম, যাইবে বেহেশত ধাম।

অনন্তকাল সেথায় তাঁরা, করিবে আয়াস আরাম।।

এক

যে আদম বেহেশতে যাবে, সুস্বাদু খানা খাইবে।

শীতল বিছানা পাইবে, বলিতেছে পাক কোরআন।।

দুই

শয়তানের স্থান শেষ বিচারে, কোন জায়গায় হইতে পারে।

বলো কথা দলিল ধরে, তোমার সে জায়গাটির নাম।।

তিন

কি হবে তোমারও খানা, পাইবে কেমন বিছানা।

সেরু পাগলায় প্রশ্নখানা, করিল ওহে শয়তান।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

 

বান্দা

গান নম্বর- ১৭৭

কে বুঝিতে পারে সৃষ্টি কর্তার কুদরতি।

দ্বীপ জ্বালা ঘর করে আঁধার, আঁধারে ছড়ায় জ্যোতি।।

এক

(তুমি) মুখ ভরা গজাইলে দাড়ি, মন সেথায় দিলে না দয়াল দাড়ি রাখারি।

কেটে দাড়ি মুখ পরিস্কার, করে দাড়ির কুখ্যাতি।।

দুই

(আবার) মন দিয়েছো দাড়ি রাখিবার, কভু মুখে দাড়ি তুমি দাওনি গো তাহার।

যে চারটা দিয়েছ দাড়ি, তাই রেখেই তাঁর সুন্নাতি।।

তিন

(আবার) অফুরন্ত দিলে যারে ধন, দাতা হইবার বাসনা জাগাওনি তাঁর মন।

ও ধন টাকশালে তুলিয়া রাখে, ভুখি থাকে অনাথি।।

চার

(আবার) মন দিয়াছো দাতা হইবার, ধনের অভাব রাখিয়াছো তাহারই উপর।

সেরু পাগলা ভেবেই গেলো, পেল না কোন গতি।।

রচনা- ১০-১০-১৯৯৮ ইং সাল   

গান নম্বর- ১৭৮

কর্জ চেয়ে আল্লাহ্‌ কেনো, ঋণের ব্যবহার দেখায়।

ঋণ কর্জ দু-রকম হয়, কর্জ কেন ঋণের মতোই।।

এক

ঋণ নিলে সুদ দিতে হয়, কর্জেতে সুদ নাহি রয়।

কর্জে আসল শোধিতে হয়, সুদ দিলেই ঋণ হয়ে যায়।।

দুই

মুজাম্মেল কুড়ি আয়াতে, তাগাবুন আয়াত সতেরোতে।

বলেছো তোমায় কর্জ দিতে, দ্বিগুণ ফেরত দেবে তাই।।

তিন

কেনো তুমি কর্জ চেয়ে, সুদসহ তা দাও ফিরায়ে।

সেরু পাগলা জানতে চাহে, ত্বরা তা জানাও আমায়।।

রচনা- ০৩-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৯

কিসের অভাব আছে আল্লাহ্‌র, বান্দার কাছে কর্জ চাই।

ন্যায় বিচারক নামটি তোমার, সুদি কারবার কেন হেথায়।।

এক

নিয়ে এক দেবে দ্বিগুণ, বলেছো মুজাম্মেল, তাগাবুন।

কর্জে হাসানা দিলে এক গুণ, দ্বিগুণ ফেরত দেবে তাই।।

দুই

রাজ্জাক নাম শুনি তোমার, কি দরকার কর্জে হাসানার।

তুমিই তো অন্নেরও ভাণ্ডার, লও কেনো কর্জ বৃথায়।।

তিন

ধান্দা লাগে আমার মনে, (তুমি) পারো না কিছুই জীব বিহনে।

তাইতে ঘোর জীবের সনে, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮০

তুমি আর কতো ভোগ, ভোগাবে আমায়, পাঠাইয়া ভব পারে।

তুমি না গড়িলে প্রভু, আমি আসিতাম না কভু, পড়িতাম না আজ ফেরে।।

এক

তুমি কত ভালোবেসে, হেথা পাঠাইলে শেষে, দিশে হারায় এ সংসারে।

তুমি না আনলে আসতাম না, বিপাকে পড়তাম না, কাঁদিতাম না ভব পারে।।

দুই

তুমি গড়লে নিজ ইচ্ছায়, কর্ম করি কার ইচ্ছায়, কার ইচ্ছায় থাকি সংসারে।

এতো সবই তোমার ইচ্ছা, পাপ পুণ্যের বোঝা, কেনো দিলে মানুষেরে।।

তিন

শুনি তোমার ইচ্ছা বিনে, বন্ধ সব ভুবনে, কেমনে পাপ পুণ্য মানুষ করে।

সেরু পাগলা ভেবে কয়, হলে সামসুদ্দিন সদয়, তবেই সে ভেদ জানতে পারে।।

রচনা- ০৭-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮১

এ কেমন বিচার তোমার।

তুমি রহমান নাম ধরে, বসে আছো চিরতরে, এ কেমনো অবিচার।।

এক

দাতা দয়ালু নাম শুনি, পড়ে কোরআন খানি, বুক বাঁধি ভরসার।

আমার শত অপরাধ, তুমি ক্ষমিবে অবাধ, তুমিই আমার মূলাধার।

এখন দেখিতেছি আমি, ন্যায্য বিচারক তুমি, ক্ষমিবার হাত নাই তোমার।।

দুই

আমি মহা গোনাহগার, তুমি মালিক ক্ষমিবার, আজ তাকাও দৃষ্টিতে ক্ষমার।

যদি ক্ষমা পায় আমি, ওগো জগত স্বামী, এ হইলো কোন বিচার।

যদি ন্যায্য বিচার করো, রহমান নাম ছাড়ো, আদলু নাম করো প্রচার।।

তিন

নাম রহমান রহিম শুনি, কাহহার নাম খানিও, ধরাতে হইলো প্রচার।

যদি রহমান সত্য হও, আদলু তুমি নও, সামসুদ্দিনে কয় আমার।

সেরু পাগলা হয় দ্বীন কানা, আল্লাহ্‌ দুটির একটিও না, নিয়েছে আশ্রয় মিথ্যার।।

রচনা- ০৯-০২-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮২

এ কেমন কথা তোমার।

শুনি বিচারে তোমার, হয় এক প্রকার, দয়াতে বেশুমার।।

এক

তোমার কোন দয়াতে শুনি, কাদিরও জ্বিলানি, সুযোগ পায় কোরআন শিক্ষার।

ওসে মায়ের গর্ভ থেকে,আসলো কোরআন শিখে, হাফেয আঠারো পারার।

পীর কি কাজও করিলো, তাঁর প্রতিদ্বান পাইলো, জানিতে ইচ্ছা আমার।।

দুই

যতো নবী পয়গম্বর, কোন কর্মের উপর, জনম পেলো উচ্চতার।

আবার কোন কর্মের ফলে, নমরুদ, ফেরাউন গড়িলে, কাফের নামেতে প্রচার।

আমার কোন কর্মের ফলে, আজ বেহালা বগলে, সুযোগ পেলাম গান শেখার।।

তিন

ধনী কোন কর্মের ফলে, বাড়ি গড়ে চব্বিশ তলে, গাছতলা কেন হয় আমার।

তোমার এ কেমন বিচার,, বৃথায় আদলু প্রচার, সবই তোমার অবিচার।

সেরু খাটিলে খাওয়াও, না খাটিলে তাড়াও, দেখাও আদলুর বাহার।।

রচনা- ১১-০১-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৩

দিলে ত্রিমুখ দেহ ঝোলা মোরে।

উপরও দিয়ে যা, ঢালি গো আমি, নিচ দিয়ে তা যায় বেরিয়ে।।

এক

প্রচারিলে নাম রহমান, ত্রিভুবনে কেও নাই এর সমান।

দয়ার ও ভাণ্ডার-ওগো পরওয়ার, তোর দয়া কি এই প্রকারে।।

দুই

দিলে রেজেক রাজ্জাক নামে, আনতে গেলাম গুণধামে।

ঢালি যা উপরে-নীচে যায় পড়ে, পড়েছি বিষমও ফেরে।।

তিন

এই হইলো তোমার বিচারে, তোলা ফেলা করাও মোরে।

এ নহে মাল দেওয়া-কাজ করিয়ে নেওয়া, মজুরী না দিয়ে মোরে।।

চার

বৃথায় তোমার নাম রহমান, মিছে খাটালে গুণধাম।

সেরু পাগলাকে বোকা-পেয়ে দিয়েছো ধোঁকা, সামসুদ্দিনে জানাই মোরে।।

রচনা- ০৮-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৪

নাম নিয়ে রাজ্জাক রহমান, করিতেছো চালাকি।

ভবের হাটে করে এতীম, দিচ্ছো গো মোরে ফাঁকি।।

এক

নামটি তোমার দাতা দয়াল, দ্বারে খাড়া তাই এ কাঙ্গাল।

দিলে এক ফুরন্ত জানমাল, ঝোলা দিলে ত্রিমুখী।।

দুই

ইয়া আদলু নাম শুনি তোমার, করিলে কেনো অবিচার।

(আমার) খাটা খাটনি হইলো সার, সন্ধ্যা ঘনালো দেখি।।

তিন

(আমার) দেহ বস্তায় যতই ভরি, তলা দিয়ে যায় গো পড়ি।

(শেষে) আছি শুন্য বস্তা ধরি, এ দুঃখ কিসে ঢাকি।।

চার

ডুবলো বুঝি দ্বীনোমণি, বাড়ি ফিরতে হয় এখনি।

মালহীন সেরু পাগলা তুমি, বাড়ি ফিরে বলবে কি।।

রচনা- ০৮-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৫

আল্লাহ্‌ নয়রে ন্যায় বিচারী।

আল্লাহ্‌ স্বার্থ টেনে বিচার করে, জানতে পারলাম কোরআন পড়ি।।

এক

কোরআন সূরা বাকারাতে, ত্রিশ হতে তেত্রিশ আয়াতে।

চাতুরী করিলো আল্লাহ্‌ই ফেরেশতার উপরি।

ফেরেশতারে না শিখায় নাম, শিখায় আদমেরি।

প্রথমে এইখানেই আল্লাহ্‌ করিলো কেমন চাতুরী।।

দুই

আদমকে শেখানোর পরে, জিজ্ঞাসিলো ফেরেশতারে।

সত্য করে বলো দেখি নামগুলি এদেরই।

কে-যে বড় তবেই আমি দেখবো বিচার করি।

ফেরেশতা কয় আল্লাহ্‌ বিনে, কেমনে আমরা জানতে পারি।।

তিন

পরে আল্লাহ্‌ আদমেরে, দ্রব্য নাম জিজ্ঞাসা করে।

আদমে সব নাম বলিলো সত্য প্রকাশ করি।

নিশ্চুপে রহিয়া গেলো ফেরেশতা হাজারই।

আল্লাহ্‌ তখন বলে আদম, উচ্চে নয় কি ফেরেশতারী

চার

আল্লাহ্‌ ন্যায় বিচারক হতো, উভয় দলকে শিক্ষা দিত।

নইলে শিক্ষা বাদ রাখিতো, দুই দলের উপরি।

আদমকে শিখায়ে নামকি করে নাই চাতুরী।

সেরু পাগলায় বলে আল্লাহ্‌, স্বার্থবাদীর সৃষ্টিকারী।।

রচনা- ০৪-০৯-১৯৯৭ ইং সাল


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।।

(102)

2 Responses

  • মাসুম মিয়া

    সালাম গুরুজী,

    খেলার শেষে দেখা গেলো, আল্লাহ্‌ আমায় দুই গোল দিলো।একাত্তর গোল আল্লাহ্‌ই খেলো, এই তো খেলার ফলাফল।।

    দুই গোল আর একাত্তর গোল বুঝলাম না গুরুজী

     

     

  • গুরুজি

    দুই গোল আর একাত্তর গোল বুঝলাম না গুরুজী

    হাদিস ও মোল্লাদের বক্তব্য হল- হাশরের ময়দানে সমস্ত মানুষের মোট ৭৩টি কাতার হবে। সেই ৭৩ কাতার হতে এক কাতার বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে, আর এক কাতার হিসাবের পরে জান্নাতে যাবে, এবং ৭১ কাতার জাহান্নামে যাবে। তাই শয়তান বলছে- আল্লা মাত্র দু কাতার মানুষকে জান্নাতে নিতে পারবে, আর শয়তান নিজে একাত্তর কাতার মানুষকে জাহান্নামে নিবে। তাই এটাকে ফুটবল খেলার সাথে তুলনা করে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ শয়তান কে দুই গোল দিয়েছে আর শয়তান আল্লাহকে একাত্তর গোল দিয়েছে।

Leave a Reply