তখন আমাকে বৃক্ষ অপেক্ষা অধম মনে হয়। যখন আমি দেখি বৃক্ষ একই অবস্থানে অবস্থান করে তার সকল চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। কিন্তু আমি স্বঘোষিত সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ হওয়া স্বত্বে ও একই স্থানে অবস্থান করে আমার সকল চাহিদা পুরণ করতে সক্ষম নই।

তখন মনে হয় আমি বৃক্ষ অপেক্ষাও অধম। যখন আমি দেখি বৃক্ষের নিকটে যে ছায়া চাই, বৃক্ষ তাকেই ছায়া প্রদান করে। কিন্তু আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হওয়া স্বত্বেও সকল ছায়া প্রত্যাশীকে ছায়া দিতে পারি না।

তখন আমাকে মনে হয় আমি বৃক্ষ অপেক্ষা অধম। যখন আমি দেখি বৃক্ষের ছায়া গ্রহণের পরেও বৃক্ষের ডাল ভাঙ্গে ও বৃক্ষকে খুচিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে। সেই ক্ষত বিক্ষতকারী সেই গাছের কাছে ছায়া নিতে গেলেও, সেই বৃক্ষ তাকে ছায়া দিতে না করে না। কিন্তু আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব দাবী করলেও আমার ক্ষত বিক্ষতকারীকে আমি ছায়া দিতে পারি না, বরং প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করি।

তখন আমাকে মনে হয় আমি বৃক্ষ আপেক্ষাও অধম। যখন আমি দেখি বৃক্ষের নিচে বসে চোর চুরির পরিকল্পনা করে, খুনি খুনের পরিকল্পনা করে, ধর্ষক ধর্ষণের পরিকল্পনা করে, সাধু উপাসনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু বৃক্ষ কারও কথা কাউকেই বলে দেয় না। সে সকলের কথা শোনে ও গোপন রাখে। কিন্তু আমি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব দাবীকারী মানুষ হয়েও সকলের কথা গোপন রাখতে পারি না।

কিন্তু তখন আমাকে মনে হয় আমি বৃক্ষ অপেক্ষাও উত্তম। যখন আমি দেখি কোন দুর্ঘটনা কবলিত প্রাণী সাহায্যের আশায় আর্তনাদ করে, বৃক্ষ ছুটে গিয়ে তাকে সেবা দিতে পারে না, কিন্তু আমি পারি।

তখন আমাকে মনে হয় আমি বৃক্ষ অপেক্ষাও উত্তম। যখন আমি দেখি বৃক্ষের ছায়া গ্রহণের পরেও বৃক্ষকে ক্ষত বিক্ষত করে, বৃক্ষের নিচে বসে চোর চুরির পরিকল্পনা করে, খুনি খুনের পরিকল্পনা করে, ধর্ষক ধর্ষণের পরিকল্পনা করে, কিন্তু বৃক্ষ তাকে তার খারাপ কাজ থেকে নিবৃত করতে একটি সদুপদেশ দিতে পারে না। কিন্তু আমি পারি।

আসুন প্রথমত আমরা বৃক্ষের মতো উত্তম হই এবং পরিশেষে আমরা মানুষের মতো উত্তম হওয়ার চেষ্টা করি।  


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। গুরুজি সেরু পাগলার বাণী।।

(13)

0 Comments

Leave a Reply