—————————————————————————————————————————————–

(৫)         اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

 (৫) ইহদিনা আলিফলাম সিরাতাল মুস্তাকিম।

৫। আমাদিগকে প্রদর্শিত করাও নর ও নারীর পথ সকলকে সোজা ভাবে।

—————————————————————————————————————————————–

শব্দার্থ- ইহদিনা- আমাদিগকে প্রদর্শন করাও, প্রদর্শিত করো, আলিফলাম সিরাত- নর ও নারীর পথ, আলমুস্তাকিম- সকলকে সোজা ভাবে।

اهْدِنَا – ইহদিনা- আমাদিগকে প্রদর্শন করাও। هَدَي আরবি হাদা শব্দের বাংলা অর্থ প্রদর্শন করানো, প্রদর্শিত করানো। না শব্দটি আনা বা আমি, বা আমাকে শব্দের বহু বচন। সে সূত্রে না শব্দের অর্থ আমাদিগকে। তাই ইহদিনা শব্দের বাংলা অর্থ, আমাদিগকে প্রদর্শন করাও।

الصِّرَاطَ – আলিফলাম সিরাত- আরবি সিরাত শব্দের বাংলা অর্থ পথ। আলিফলাম সিরাত শব্দের বাংলা অর্থ নর ও নারীর পথ। আর নর ও নারীর পথ বলতে, মাতৃ সূত্রে প্রাপ্ত স্বত্বা নর ও নারী প্রজাতির যে সকল পথ সমূহে গমনাগমনের মাধ্যমে সৃষ্টি সমূহকে জীবিত শক্তি দান করছে, চোখকে দৃষ্টি শক্তি দান করছে, মগজকে বুদ্ধি শক্তি দান করছে, দেহকে কর্ম শক্তি দান করছে, লিঙ্গকে যৌন শক্তি দান করছে, কর্ণকে শ্রবণ শক্তি দান করছে ও মুখকে কথা বলার শক্তি দান করছে, সেই সকল পথ সমুহকেই প্রচলিত কোরআন আলিফলাম সিরাত বা নর ও নারীর পথ বলেছে।

الْمُسْتَقِيمَ – আল মুস্তাকিম- আরবি মুস্তাকিম শব্দের বাংলা অর্থ সহজ, সরল, সোজা। অর্থাৎ,

পাতা (৩২)

মাতৃ সূত্রে প্রাপ্ত প্রতিটি প্রাণীর সাত সেফাত বা গুণ সমূহের উৎপত্তি স্বত্বা, যথা- হাইউন- জীবিত স্বত্বা, আলিমুন- জ্ঞান স্বত্বা, কুদিরুন- কর্ম স্বত্বা, মুরিদুন- যৌন স্বত্বা, সামিউন- শ্রবণ স্বত্বা, বসিরুন- দর্শন স্বত্বা ও কলিমুন- বাক স্বত্বা সমূহ যে সকল পথে গমনাগমনের মাধ্যমে প্রাণীকে সক্রিয় রাখে, সে সকল পথ সমূহের অবস্থাকে আরবিতে মুস্তাকিম ও বাংলায় সোজা, সহজ ও সরল বলে। আল শব্দের বাংলা অর্থ সকল, সমস্ত। আল মুস্তাকিম শব্দের বাংলা অর্থ  সকলকে সোজা ভাবে, সকলকে সহজ ভাবে, সকলকে সরল ভাবে।

“ইহদিনা আলিফলাম সিরাত আল মুস্তাকিম” বাক্যের মাধ্যমে মাতৃ ও পিতৃ সূত্রে প্রাপ্ত স্বত্বা সমূহ বা উপাদান সমূহ, উপাদান সমূহের প্রাপক, বা রাসুল, বা প্রতিটি প্রাণীকে বলছে যে, আমাদিগকে প্রদর্শন করাও নর ও নারীর পথে, সকলকে সহজ ভাবে। অর্থাৎ চোখকে যে উপাদান বা স্বত্বা দৃষ্টি শক্তি যোগান দিচ্ছে, মাতৃ সূত্রে প্রাপ্ত সেই বসিরুন বা দর্শন স্বত্বা বলছে, যেন নর ও নারীর পথে, সকলকে সহজ ভাবে গমনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ দৃষ্টি দান করতে পারে। আর এভাবেই হাইউন বা জীবিত স্বত্বা, আলিমুন বা জ্ঞান স্বত্বা, কুদিরুন বা কর্ম স্বত্বা, মুরিদুন বা যৌন স্বত্বা, সামিউন বা শ্রবণ স্বত্বা ও কলিমুন বা বাক স্বত্বা উক্ত বাক্যের মাধ্যমে তাঁর আরজি পেশ করেছে। যেন তাঁদের প্রাপ্ত সম্পূর্ণ স্বত্বাকে প্রদর্শন করানো হয় নর ও নারীর পথ, সকলকে সহজ ভাবে।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(73) বার পঠিত

6 Responses

  • অঞ্জন

    গুরুজি,

    যদি সুরাত পাঠে ইশ্বর কণা সাড়া না দেয়, তবে এই আয়াত বা শ্লোক পাঠের প্রয়োজন কি?

    • গুরুজি

      এই আয়াত বা শ্লোক পাঠের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক আনুস্থানিকতা বজায় থাকে, এ ছাড়া আর কোন লাভ হয় না।

  • অঞ্জন

    কৃতজ্ঞতা

  • অঞ্জন

    গুরুজি,

     

    সুফিবাদীরা বলে নবীর আত্মা জীবিত ,নবী শুধু দেহ ত্যাগ করেছে।

     

    নবীর আত্মা কি জীবিত?

     

    যদি থাকে,তাহলে কোথায় আছে?

     

    দরুদ পাঠে আত্মা সাড়া দেয় কিনা?

     

    • গুরুজি

      সুফিবাদিরা কি বলে টা দিয়ে ধর্ম ও এবাদত বিবেচনা করা জরুরী নয়, জরুরী হল প্রচলিত কোরআন কি বলেছে।

  • অঞ্জন

    আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন সে সৎপথ প্রাপ্ত হয় এবং তিনি(আল্লাহ) যাকে পথভ্রস্ট করেন,তুমি তারজন্য কখনো পথপ্রদর্শনকারী (পীর-মুর্শিদ) পাবে না।

    সুরাত কাহাফ,আয়াত ১৭।

     

    অনুসরণ করো তাদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চায় না, এবং যারা সৎপথ প্রাপ্ত।

     

    সুরাত ইমায়িন,আয়াত ২১।

     

    জন্ম-জন্মান্তরের কৃতজ্ঞ

    আপনার মতো পথ প্রদর্শক পেয়ে।

    আমি তোমা বিনে ঘোর সংকটে, না দেখি উপায়, পাড়ে লয়ে যাও আমায়।

Leave a Reply