৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হলে বিদেশী পর্যবেক্ষকরা আসতে পারবে না ধুয়া তুলে, বিএনপি নির্বাচন এক মাস পিছানোর দাবী জানায়। বলিষ্ঠ কণ্ঠে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির সেই দাবী নাকচ করে দেয়। কারণ হিসাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশী পর্যবেক্ষকের আসতে পারার উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ নির্বাচন পিছাবে না। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের স্বাধিনতা মতোই নির্বাচন হবে। আমি মনে করি বিএনপি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের মানহানি করেছেন ও ওবায়দুল কাদের তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। অথচ এখন শুনছি ডিসেম্বর মাসে ভোট হলেও বিদেশী পর্যবেক্ষকেরা আসতে রাজী। এতে করে ওবায়দুল কাদেরের প্রতি একজন বাঙালি হিসাবে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো।

এবার নির্বাচন কমিশন আইন করেছে যে, পর্যবেক্ষকেরা দেখবে, শুনবে, কিন্তু তাৎক্ষনিক মিডিয়ায় কোন মত প্রকাশ করতে পারবে না। নির্বাচনের দিন পর্যবেক্ষক দল কি দেখল ও কি শুনলো, তা রিপোর্ট আকারে ইসির কাছে জমা দিবে। ইসি তদন্ত করে দেখবে তাঁদের দেওয়া রিপোর্ট কতটুকু সঠিক, তাঁর উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এতে করে পর্যবেক্ষক দলের পক্ষ নিয়ে বিএনপি সহ স্বাধীনতা বিরোধীরা ধুয়া তুলেছে যে, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ নির্বাচন বিষয়ে দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এবং ইসি নাকি পর্যবেক্ষক বিষয়ে মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এখানে ইসি কি ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, ও কীভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন বিষয়ে ইসির দুর্বলতা তা আমি নরাধম বুঝতে সক্ষম নই? পর্যবেক্ষকের কাজ হল পর্যবেক্ষণ করা ও তাঁর রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া। নির্বাচন কমিশন যাচায় করে যদি দেখতে পায় রিপোর্টটি সঠিক তাহলে তারা ব্যবস্থা নেবে। সে ব্যবস্থা নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নেওয়া যাবে, অর্থাৎ হয়ে যাওয়া নির্বাচন বাতিল করে পুনঃ নির্বাচনের মাধ্যমে। আর যদি পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ইসি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

আর পর্যবেক্ষকের দেওয়া রিপোর্ট সঠিক হলে, ও ইসি রিপোর্ট পাওয়ার পরে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, তখন পর্যবেক্ষক দল, তাঁর সঠিক রিপোর্ট তথ্য প্রমাণ সহ মিডিয়ার কাছে উপস্থাপন করবে। তখন অবশ্যই জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাবে। কিন্তু একদল পর্যবেক্ষকের মিথ্যা তথ্য নির্বাচনকালীন সময়ে মিডিয়ায় প্রকাশ হলে, ও সেই মিথ্যা তথ্য প্রকাশের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংস ঘটনার সৃষ্টি হলে যে ক্ষয় ক্ষতি হবে তাঁর দায় ভার কে নেবে? অতএব, ইসি পর্যবেক্ষক বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা অনেক দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ও সময়োচিত। এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য জনগণ কর্তৃক ইসি একটি ধন্যবাদ পেতেই পারে।

(25) বার পঠিত

One Responses

Leave a Reply