—————————————————————————————————————————————–

 (৩)  مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

(৩) মালিকী ইয়াউমী আলিফলাম দ্বীন

(৩) মহাবিশ্ব সৃষ্টির নর ও নারীর স্বভাব স্বত্বা বারের রাজা।

—————————————————————————————————————————————–

শব্দার্থ- মালিক- রাজা, ইয়াউমী- বার, আলিফলাম দ্বীন- নর ও নারীর স্বভাব স্বত্বা।

مَالِكِ – মালিক- রাজা, বাদশাহ। মালিক শব্দটি আল্লাহ্‌ বা উপাস্যের একটি গুণ বাচক নাম। অর্থাৎ আল্লাহ্‌ বা উপাস্যের যে গুণ বা ক্ষমতাটি সমগ্র মহাবিশ্বকে এবং প্রতিটি প্রাণীকে নিয়মের অধীন বা নিয়মিত ভাবে পরিচালিত করে চলেছে, বা সমগ্র মহাবিশ্ব এবং প্রতিটি প্রাণীর উপর কর্তৃত্ব বজায় রেখেছে, তাহাঁকেই মূলতঃ মালিক বা রাজা বলে। আর সে স্বত্বাটির নাম মন, হৃদয়, হার্ট বা قَلْب কালব। অর্থাৎ কালব বা হৃদয়ই মহাবিশ্বের সকল প্রাণীর উপর কর্তৃত্ব করে চলেছে।

يَوْمِ – ইয়াউমী- বার, আজ। প্রতিটি অনুবাদকই ইয়াউমু শব্দের অর্থ দিন লিখেছেন। কিন্তু বাংলা দিন শব্দটির আরবি শব্দ ‘نَهَار’ নাহার, এবং বাংলা রাত শব্দটির আরবি শব্দ ‘لَيل’ লাইল। তাই আরবি ইয়াউমু শব্দের বাংলা অর্থ দিন নয়। বরং, আরবি ইয়াউমু শব্দের বাংলা অর্থ বার অথবা আজ। অর্থাৎ একদিন বা এক নাহার এবং একরাত বা এক লাইল এর সম্মিলিত সময়ের নাম ইয়াউমু বা বার। আর সে সূত্র ধরেই সপ্তাহে সাতটি বারের উৎপত্তি হয়েছে। প্রতিটি বার একদিন ও

পাতা (২৭)

এক রাতের সমন্বিত সময়কেই বুঝানো হয়েছে। এই সাতটি বারের গুণাগুণ বিবেচনা করে সাতটি বারের নামকরণ করা হয়েছে। যদিও আরবি বার সমূহকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বার হিসাবে গণনা করে থাকে। একমাত্র শুক্র বারকে তারা জুম্মা বার বলে উল্লেখ করেছে।

বার- কোন ঘটনা সংঘটিত সংখ্যার একক কে বার বলা হয়। যেমন পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করতে ২৪ ঘণ্টা বা একরাত একদিন সময় লাগে। পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর প্রত্যেক আবর্তনের সময়কে এক একটি বার বলা হয়। ঠিক সেভাবেই গর্ভাশয়ে স্থান পাওয়া শুক্রবিন্দু গর্ভিণীর বক্ষদেশের সাত (শতদল কমল) ও পাঁচ (পঞ্চদল কমল) ভাণ্ড থেকে ৪০ সপ্তাহ, বা ২৮০ বার, বা ২৮০ তারিখ ব্যাপী যে রস, স্বত্বা বা উপাদান নাযিল বা অবতরণের মাধ্যমে গর্ভে স্থান পাওয়া শুক্রাণুকে প্রদান করেছে, তাঁর প্রতিটি তারিখের উপাদানের নাযিলকৃত সময়কে একেকটি ইয়াউমু বা বার বলা হয়। সে সূত্র ধরেই সপ্তাহের প্রতিটি বারের নামকরণ করা হয়েছে, শনিবার, রবিবার, সোমবার ইত্যাদি।

গর্ভাশয়ে অবস্থিত শুক্রাণুকে শিশুতে রূপান্তরিত করণে, গর্ভিণী হতে যে সকল স্বভাব উৎপত্তি স্বত্বা যে সময় প্রাপ্ত হয়েছে, বা যতবার প্রাপ্ত হয়েছে, সেই স্বত্বা প্রাপ্তির, সময় বা স্বত্বাপ্রাপ্তি সংখ্যাকে এক একটি বার বলে। আর শুক্রাণু যে স্বত্বা সমূহ প্রাপ্ত হয়েছে, যথা- জীবিতশক্তির স্বভাব সমূহ, জ্ঞানশক্তির স্বভাব সমূহ, কর্মশক্তির স্বভাব সমূহ, যৌনশক্তির স্বভাব সমূহ, দর্শনশক্তির স্বভাব সমূহ, শ্রবণশক্তির স্বভাব সমূহ ও বাকশক্তির স্বভাব সমূহ এর উৎপত্তি স্বত্বা সমূহকে দ্বীন, বা স্বভাব স্বত্বা বলে, এবং যে মহাশক্তি স্বভাব স্বত্বা সুমুহকে শুক্রাণুর নিকট নাযিল বা অবতরণ করে তাহাঁকেই রব বা প্রতিপালক।

الدِّينِ – আলিফলাম দ্বীন- নর ও নারীর স্বভাবস্বত্বা। গর্ভস্থিত শুক্রাণুর নর ও নারীতে স্বভাব উৎপত্তির জন্য যে সকল উপাদান গর্ভিণী হতে প্রাপ্ত হয়েছে, তাঁর প্রতিটি স্বভাবের উৎপত্তি স্বত্বাকে এক একটি দ্বীন বা স্বভাবস্বত্বা বলে।

সকল অনুবাদকগণই আরবি দ্বীন শব্দের বাংলা অর্থ করেছে ধর্ম। কিন্তু ‘ইয়াউমি দ্বীন’কে ‘কেয়ামতের দিন’ ও ‘বিচার দিন’ অনুবাদ করেছেন। সে সূত্র ধরেই প্রচলিত কোরআনের প্রত্যেক অনুবাদকগণই এই আয়াতের অর্থ করেছে ‘কেয়ামত দিবসের মালিক’ অথবা ‘বিচার দিনের মালিক’। আরবি দ্বীন শব্দের বাংলা অর্থ ধর্ম হলে, এই আয়াতের ‘ইয়াউমি দ্বীন’ এর অর্থ কিভাবে ‘কেয়ামত দিবশ’ ও ‘বিচার দিবশ’ হয়? আসলে এ বিষয়টি কেবল মাত্র সে সকল অনুবাদকগণই বলতে পারবে, যারা তাঁদের অনুবাদে ‘ইয়াউমি দ্বীন’ এর অর্থ ‘বিচার দিবশ’ ও ‘কিয়ামত দিবশ’ লিখেছে। তবে ঐ সকল অনুবাদকেরা এই আয়াতে ব্যবহৃত ‘দ্বীন’ শব্দকে, ‘কেয়ামত’ ও ‘বিচার’ দাবীর পক্ষে যে সকল যুক্তিই উপস্থান করুক না কেন, তা যে একেবারেই ভিত্তিহীন ও অসার তাতে কোনই সন্দেহ নাই।

আরবি ‘দ্বীন’ শব্দের বাংলা অর্থ ‘ধর্ম’। আর ধর্ম শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে, বা ব্যাখ্যা করলে দেখা

পাতা (২৮)

যায়, ধর্ম শব্দটির মূলে অন্তর্নিহিত ভাবে স্বভাব শব্দটি লুকায়িত রয়েছে। যেমন, আমরা প্রায় বলে থাকি যে আগুনের ধর্ম পোড়ানো, পানির ধর্ম ভিজানো ইত্যাদি। এই বিষয়টাকে আমরা এভাবেও বলে থাকি যে, আগুনের স্বভাব পোড়ানো, পানির স্বভাব ভিজানো। তাই আরবি ‘দ্বীন’ শব্দটির শুদ্ধ বাংলা অর্থ ‘ধর্ম’ বা ‘স্বভাব স্বত্বা’। আর ‘দ্বীন’ শব্দটির বাংলা অর্থ ‘ধর্ম’ লেখার কারণে, ও ‘ধর্ম’ শব্দের অপব্যাখ্যার কারণে মানব প্রজাতিতে, সমূহ দলাদলি ও সংঘাতের উৎপত্তি ঘটেছে বলে তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি মনে করে।

আরবি ‘দ্বীন’ শব্দটির বাংলা অর্থ ‘ধর্ম’ বললে, মূলতঃ আমরা সঠিক ভাবে এর কার্য কারণ বিষয়, ও তাঁর প্রয়োজনীয়তা ও ধরণ বুঝতে পারি না। আর সে জন্যই বিভিন্ন সম্প্রদায় তাঁদের সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে ধর্ম বলে চালিয়ে দিচ্ছে, এবং ধর্ম শব্দের সঠিক অর্থ না বুঝার কারণে, মহাবিশ্বের সকল প্রাণী সমূহ ধর্মীয় উপাসনা ভুলে গিয়ে, বা বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সৃষ্টির অন্যান্য প্রজাতির মতো মানব প্রজাতিতেও সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি পালন নিয়ে এক সম্প্রদায় আরেক সম্প্রদায়ের সাথে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে। আর সেই সকল সাম্প্রদায়িক কোন্দলকে সম্প্রদায়ের নেতারা ধর্মীয় কোন্দল নামে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মূলতঃ ও সকল কোন্দল সমূহের একটি কোন্দল ও ধর্মীয় কোন্দল নয়। বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় কোন্দল নামে প্রচারিত প্রতিটি কোন্দলই সাম্প্রদায়িক কোন্দল।

মহাবিশ্বের সকল প্রাণীর ধর্ম বা স্বভাব একই। আর সেই ধর্ম বা স্বভাব সমূহ হলো, প্রতিটি সৃষ্টি জন্ম গ্রহণ ও মৃত্যু বরণ করে, প্রত্যেকের আহার, নিদ্রা, সুখ ও দুঃখ রয়েছে। সুখে সকল সৃষ্টিই আনন্দিত ও পুলকিত হয়, এবং দুঃখে ব্যাথিত ও শিহরিত হয়। প্রত্যেক প্রজাতিয় প্রাণীতেই সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী স্বভাবের এবং সু-আচারি, অত্যাচারী স্বভাবের প্রাণী বিদ্যমান। উক্ত স্বভাব বা আচরণ সমূহের উৎপত্তি স্বত্বাকেই মূলতঃ দ্বীন বা স্বভাব স্বত্বা বলে। আর এই দ্বীন বা স্বভাব স্বত্বা মহাবিশ্বের সৃষ্ট সকল প্রাণীতেই এক। কিন্তু মহাবিশ্বের সৃষ্ট প্রাণী সমূহের সকল সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড এক নয়। এক সম্প্রদায়ের সাথে অন্য সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠানেও রয়েছে অনেক ভিন্নতা। যেমন, মসজিদ কেন্দ্রিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মোল্লা কর্তৃক গড়া সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি- প্রচলিত নামায, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি। মন্দির কেন্দ্রিক হিন্দু মোল্লা কর্তৃক গড়া সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি- বিভিন্ন পূজা পার্বণ, গির্জা কেন্দ্রিক খৃষ্টান সম্প্রদায়ের মোল্লা কর্তৃক গড়া সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি সমূহ, ও মঠ কেন্দ্রিক বৌদ্ধ মোল্লা কর্তৃক গড়া সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি সমূহ।

মহাবিশ্বের সৃষ্ট প্রাণী সমূহের তৈরি সাম্প্রদায়িক আচার অনুষ্ঠান পালনে, এক সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠানের সাথে, আরেক সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠানের কোন মিল নেই। এমনকি এক সম্প্রদায়ের আচারের সাথে, আরেক সম্প্রদায়ের আচার রীতিমত সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছে। এমন কি সাংঘর্ষিক অবস্থানে রয়েছে এক সম্প্রদায়ের সাথে আরেক সম্প্রদায়ের খানা – খাদ্য নিয়েও। যেমন মুসলিম সম্প্রদায় গরু খাওয়াকে হালাল ও শূকর খাওয়াকে হারাম হিসাবে পালন করে, অপর দিকে হিন্দু

পাতা (২৯)

সম্প্রদায় শূকর খাওয়াকে হালাল ও গরু খাওয়াকে হারাম ও গরুকে তারা তাঁদের দেবতা হিসাবে মান্য করে। আর সে সূত্র ধরেই মুসলিম কর্তৃক গরু খাওয়া অর্থাৎ মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক হিন্দু সম্প্রদায়ের গো-দেবতা হত্যা ও ভক্ষণকে কেন্দ্র করে, হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা ও হতাহতের কথা অহরহ শোনা যায়। এদিকে মুসলিম সম্প্রদায় যদি গরু খাওয়া হালাল ও শূকরকে তাঁদের দেবতা হিসাবে মান্য করতো, তাহলে হিন্দু মুসলিমে দাঙ্গা ও হতাহতের ঘটনা অনেক বেশি ঘটতো। ভাগ্য ভালো সৃষ্ট প্রাণীকে দেবতা জ্ঞানে মান্য করার মতো ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত থেকে মুসলিম সম্প্রদায় দূরে আছে, তা না হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের কপালে অনেক দুর্ভোগ ছিল।

মূলতঃ প্রচলিত কোরআন উল্লিখিত দ্বীন বা স্বভাব স্বত্বা সৃষ্টি করেছে মহাবিশ্বের সৃষ্টি সমূহের উপাস্য বা আল্লাহ্‌। আর সেই স্বভাব স্বত্বা সকল প্রজাতিয় সৃষ্টিতে একই, কোন ব্যতিক্রম নাই। আর সৃষ্টির সম্প্রদায় সমূহের তৈরি সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি তৈরি করেছে সৃষ্ট জীবেরা, সে জন্যই  এক সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির সাথে আরেক সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির কোন মিল নেই, বরং সাংঘর্ষিক।

—————————————————————————————————————————————–

 (৪)   إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

(৪) ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাইন

(৪) আমরা তোমারই উপাসনা করি, করবো আর আমরা তোমাকেই সাহায্য করি, করবো।

—————————————————————————————————————————————–

শব্দার্থ- ইয়্যা- হে, ওগো, কা- তোমার, তোমাকে, নাবুদু- আমরা উপাসনা করি, করবো, ওয়া- আর নাস্তাইন- আমরা সাহায্য করি, করবো।

نَعْبُد – নাবুদু- শব্দটির বাংলা অর্থ- আমরা উপাসনা করি, করবো। আরবি বুদু শব্দের বাংলা  অর্থ উপাসনা। ‘না’ শব্দটি আরবি আনা বা আমি শব্দের বহু বচন। তাই না শব্দটির বাংলা অর্থ আমরা। বুদু বা উপাসনা ফেয়েল বা ক্রিয়া’টি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল ইঙ্গিত করে। তাই এ স্থলে ‘নাবুদু’ শব্দটির বাংলা অর্থ আমরা উপাসনা করি ও করবো। মূলতঃ গর্ভাশয়ে অবস্থিত শুক্রাণুতে যখন গর্ভিণীর বক্ষদেশ থেকে স্বত্বা বা উপাদান নাযিল বা অবতরণ করে, তখন সেই স্বত্বা বা উপাদান সমূহ ‘আমরা উপাসনা করি ও করবো’ অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েই গর্ভস্থিত শুক্রাণুতে প্রবেশ করে। সেই অঙ্গীকারের কারণেই প্রতিটি প্রাণীতেই গর্ভ থেকে প্রাপ্ত স্বত্বা বা উপাদান তাঁর উপাসনা বা ক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রাণীতে থাকা গর্ভ থেকে প্রাপ্ত স্বত্বা বা উপাদান সমূহ, উপাসনা বা ক্রিয়া করছে বলেই সৃষ্টি সমূহ প্রাণপ্রাপ্ত হয়ে সচল রয়েছে।

পাতা (৩০)

   نَسْتَعِينُ – নাস্তাইন- শব্দটির বাংলা অর্থ- ‘আমরা সাহায্য করি ও করবো’। ‘আস্তাইন’ শব্দের বাংলা অর্থ সাহায্য করি বা করবো। ‘না’ শব্দটি ‘আনা’ বা আমি শব্দের বহু বচন। তাই ‘না’ শব্দের বাংলা অর্থ আমরা। তাই নাস্তাইন শব্দের বাংলা অর্থ- আমরা সাহায্য করি বা করবো। এখানেও ‘নাবুদু’র মতোই ‘আমরা সাহায্য করি, করবো’ বাক্যটি গর্ভ থেকে প্রাপ্ত হওয়া স্বত্বা বা উপাদান সমূহের বক্তব্য বলেই বিবেচনা করতে হবে। সে সূত্রে ‘আমরা সাহায্য করি, করবো’ বলতে, একথাই বুঝাতে চেয়েছে যে, গর্ভে অবস্থান কালে শুক্রাণু যে সকল স্বত্বা বা উপাদান সমূহ প্রাপ্ত হয়েছে, তা তোমাতে উপাসনা করে ও করবে, এবং তুমি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে, যদি কখনো আমাদের (স্বত্বা সমূহের) সাহায্য চাও, তাহলে আমরা (স্বত্বা সমূহ) তোমাকে সাহায্য করবো। অর্থাৎ, যে সকল প্রাণী বর্তমানে মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত ধন খরচ করে ধন শূন্য হয়ে যাচ্ছে, বা গিয়েছে তারা যদি পুনরায় ‘রাহিম’ বা দয়াময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তাহলে রাহিম বা দয়াময় পুনরায় ধন দানের মাধ্যমে সেই প্রাণীকে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছেন। তাই যারা মাতৃ সূত্রে প্রাপ্ত ধনহারা হয়েছেন ও হচ্ছেন, ধন প্রাপ্তির জন্য তাঁদের করণীয় হলো ‘রাহিম’ এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, বা ধন সঞ্চয় করা।

‘ইয়্যাকা নাবুদু ইয়্যাকা নাস্তাইন’ বাক্যের বাংলা অর্থ- আমরা তোমারই উপাসনা করি ও করবো, আর আমরা তোমাকেই সাহায্য করি ও করবো। উক্ত বাক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি সমূহ মাতৃগর্ভ থেকে যে স্বত্বা সমূহ প্রাপ্ত হয়ে এসেছে, সেই স্বত্বা সমূহের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। অর্থাৎ কলেমা তৈয়বের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। কলেমা তৈয়ব সৃষ্টি সমূহের গর্ভাশয়ে স্থান পাওয়া শুক্রাণুকে বলছে যে, আমরা যাহারা তোমাতে প্রবেশ করলাম সকলেই তোমার উপাসনা করব, আর আমরা সকলেই তোমাকে সাহায্য করবো।

প্রায় সকল অনুবাদকের বক্তব্য হলো, উক্ত আয়াতের বক্তব্য- উপাসনাকারী বা নামাজীর বক্তব্য। কারণ প্রত্যেক নামাজেই সূরাত ফাতিহাত পাঠের মাধ্যমে প্রতিটি নামাজিই  উক্ত বক্তব্য উপস্থাপন করে থাকে। এখানে প্রশ্ন আসে যে, এই আয়াতের বক্তব্য- ‘আমরা তোমারই উপাসনা করি, করবো, আর আমরা তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি’ করবো। অথচ একক ব্যক্তি নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হয়ে, আমি না বলে আমরা বলাটা কতটুকু সঠিক? এক ব্যক্তি নামাযে দাঁড়িয়ে আমরা উপাসনা করি ও আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি বলে কেন? নামাযে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তি হলে বলবে, আমি উপাসনা করি ও আমি সাহায্য প্রার্থনা করি। এক ব্যক্তি নামাযে দাঁড়িয়ে আমি না বলে আমরা বলার কারণ কি? প্রচলিত কোরআনের কোন অনুবাদক ও ব্যাখ্যাকারী এ বিষয়ে সঠিক ও যুক্তিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করতে পারে নাই। কারণ, এই কথার সঠিক ও যুক্তিপূর্ণ তথ্য তাঁদের কাছে নাই। তারা যাহা বলে তাহা বাস্তবতা ভিত্তিক নয়, তারা যাহা বলে তাঁর সবই অনুমান ভিত্তিক।

মূলতঃ এই আয়াতে ‘আমরা তোমারই উপাসনা করি, করবো আর আমরা তোমাকেই সাহায্য করি ও করবো’ বাক্যের মাধ্যমে, মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহ, পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহকে বলছে আর পিতৃসূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহ মাতৃসূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহকে বলছে। আর মাতৃ সূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহ একটি নয়,

পাতা (৩১)

একাধিক, আবার পিতৃ সূত্রে প্রাপ্ত ধন সমূহ ও একটি নয়, একাধিক। সে জন্যই এ স্থলে আমি শব্দ ব্যবহার না করে, আমরা শব্দ ব্যবহার করেছে। এই বাক্যটি যদি উপাসক বা নামাজী কর্তৃক বাক্য হতো, তাহলে একক নামায আদায়কারীর জন্য আমরা শব্দটি না বলে আমি শব্দটিই বলতো। যেহেতু আমি শব্দ না বলে আমরা শব্দ বলেছে, এবং মাতৃ ও পিতৃ সূত্রে প্রাপ্ত ধন একটি নয় বরং একাধিক। এই একাধিক ধন সমূহই এই বক্তব্য বলছে বলেই এই আয়াতে আমি না বলে আমরা বলা হয়েছে।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

 

(109) বার পঠিত

10 Responses

  • অঞ্জন

    গুরুজি,

    ইসলাম ধর্মে শুকরকে হারাম করা হলো কেনো?

    pig fat বা শুকর চর্বি শারীরিক ক্ষতি হয়, তাই বলে হারাম করার কারণ কি?

    • গুরুজি

      শুকরের ত্বক ও মানুষের ত্বক প্রায় একই রকম। শুকরের মাংস কূটবুদ্ধি সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, ও আত্মিয়তার সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন, অর্থাৎ মমতার বন্ধনকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে তোলে। তবে ঐ স্বত্বা অন্যান্য খাবারেও কমবেশি থাকে, কিন্তু শুকরের মাংসে সব থেকে বেশি থাকে। শুকরের মাংসের পরে মদে সব থেকে বেশি ঐ উপাদান বিদ্যমান। তাই প্রচলিত কোরআন শূকরকে হারাম করেছে।

      তবে এ ছাড়াও বিশেষ আরেকটি কারণে শুকরের মাংসকে হারাম করা হয়েছে, যে টা উন্মুক্ত পোষ্টে লিখতে চাই না। পাসওয়ার্ড দেওয়া পোষ্টে এক সময় লেখা হবে। সূরাত বাকারার মধ্যে কি কি হারাম করা হয়েছে, সেই আলোচনার সময় উপস্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

      • অঞ্জন

        সুরাত আনফালে মনে হয় বলা আছে, নামাজ পাপ কাজ থেকে দুরে রাখে। যারা পাপ কাজ না করে তাদের তাহলে নামাজ না পড়লেও হয়।

        প্রচলিত নামাজ কতোটুকু যুক্তিযুক্ত?

        নামাজে সুরাত সমুহ পাঠ কি ফলদায়ক নাকি মোল্লাতন্ত্রের ফলাফল?

        • গুরুজি

          সুরাত আনফালে মনে হয় বলা আছে, নামাজ পাপ কাজ থেকে দুরে রাখে।

          সূরাত আনকাবুত ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে “নিশ্চয় সালাত নির্লজ্জ ও অশ্লীল কাজ হইতে বিরত রাখে”। তাঁর মানে, অশ্লীল ও নির্লজ্জ কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তি সালাত পালন করলে অশ্লীল নির্লজ্জ ও অশ্লীল কাজ হইতে মুক্ত থাকবে।

          যারা পাপ কাজ না করে তাদের তাহলে নামাজ না পড়লেও হয়।

          যার রোগ নাই সে কোন দুঃখে ঔষধ সেবন করবে।

          প্রচলিত নামাজ কতোটুকু যুক্তিযুক্ত?

          প্রচলিত এই নামায শারীরিক ব্যায়াম ব্যতীত অন্য কোন ফলদায়ক নয়।

          নামাজে সুরাত সমুহ পাঠ কি ফলদায়ক নাকি মোল্লাতন্ত্রের ফলাফল?

          এটা মোল্লাদের তৈরি এক পদ্ধতি।

           

  • মাসুম

    সালাম গুরুজী,,

    স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী

    গুরুজী, এই বানীটার একটু ব্যাখ্যা জানার ছিলো।।

    সত্য সহায় হোক সর্বজীবে

  • গুরুজি

    কেহ যদি কাহারো নিকট থেকে কিছু পেতে চাই, তাহলে যাহার নিকট থেকে পেতে চাই তাঁহার সাথে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে। যেখানে কোন পাওয়ার আশা নাই, তাঁর সাথে কেউ কখনো সম্পর্ক করে না বা ভালোবাসায় জড়ায় না। কেহ কাহারো সাথে ভালোবাসায় জড়ানোর প্রথম শর্ত হল, তাঁর নিকট থেকে সে কিছু পেতে চাই, বা কোন স্বার্থ উদ্ধার করতে চাই। আর কাহারো নিকট থেকে কিছু পেতে বা স্বার্থ উদ্ধার করতে হলে যে ক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়, বা যে আশ্রয়ের গ্রহণ করতে হয়, বা যে ছলনার আশ্রয় নিতে হয়, সে আশ্রয়টুকুর নামকে প্রেম বা ভালোবাসা বলে।

    সারকথা, ভালোবাসার উদ্দেশ্যই হল, যাহাকে ভালোবাসোতে আগ্রহী হচ্ছি, তাঁর নিকট থেকে কিছু পাওয়ার বাসনা আছে, বা স্বার্থ উদ্ধারের কিছু আছে। যেখানে কিছু পাওয়ার নাই ও কোন স্বার্থ উদ্ধারের নাই, কোন কালেই তাঁর সাথে প্রেম বা ভালোবাসা হয় না, বা করে না। অর্থাৎ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যে আশ্রয় নেওয়া হয়, বা যে ছলনাটুকু করতে হয়, তাঁর নামই প্রেম বা ভালোবাসা।

  • আবু সাইদ

    কোন পদ্ধিতিতে বা কিভাবে,রাহিম বা দয়াময়ের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারি? —আমি ওপার হয়ে বসে আছি,ওহে দয়াময়| পাড়ে লয়ে যাও আমায়||

  • অঞ্জন

    নতুন পোস্টে কোনক্রমেই কমেন্ট করা যাচ্ছে না

    • গুরুজি

      কেন কমেন্ট করা যাচ্ছে না? কমেন্ট তো করেছেন দেখছি।

Leave a Reply