একবিংশ শতাব্দীর উন্নত প্রযুক্তির যুগেও কোন কোন সম্প্রদায়ে এখনো অনেক অবৈজ্ঞানিক ও গোঁড়া কুসংস্কার শিকড় গেড়ে বসে আছে। সে সকল কুসংস্কার সমূহকে সে সকল সম্প্রদায় সমূহ এখনো গর্বের সাথে উন্নত প্রযুক্তির প্রচার মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এবং এতে করে নারী এবং পুরুষের মধ্যে বৈষম্য ও সংঘাত শতাব্দীর পর শতাব্দী স্ব-গৌরবে টিকে আছে। ইতিপূর্বে এই হিন্দু সম্প্রদায়েই সহমরণের মতো এক ভয়াবহ প্রথা চালু ছিল। যে প্রথার মাধ্যমে স্বামী মারা গেলে ধর্মীয় গোঁড়া নীতির দোহায় দিয়ে মৃত স্বামীর সাথে জীবিত স্ত্রীকে এক চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। বহু শতাব্দী ধরে এই ভয়ানক প্রথাটি চালু থাকার পরে গত শতাব্দীতে সে কু-প্রথাটি বিলুপ্ত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই সহমরণ প্রথাটিতে অনেকগুলি বৈষম্য মূলক নীতি বর্তমান ছিল। সেই বৈষম্য মূলক নীতিগুলো হল-

(১) স্বামী মারা গেলে জীবিত স্ত্রীকে সহমরণে যেতে হতো। কিন্তু স্ত্রী মারা গেলে জীবিত স্বামীকে সহমরণে যেতে হতো না।

(২) নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বা সম্পদ, ধর্মপতিদের মাধ্যমে সমাজপতিদের হাতে তুলে দিলে মৃত স্বামীর সাথে জীবিত স্ত্রীকে সহমরণে যেতে হতো না। এতে করে অর্থ ও সম্পদশালী লোকেরা তাঁদের বিধবা কন্যা বা ঘরের বিধবা বউকে সহমরণ থেকে রক্ষা করতে পারলেও, অর্থ ও সম্পদহীন বিধবারা ধর্মপতি ও সমাজপতিদের ধার্য অর্থ বা সম্পদ না দিতে পারায় সহমরণের মতো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতো।

(৩) অর্থ ও সম্পদ দেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু মাত্র ধর্মপতি ও সমাজপতিদের ললুপ দৃষ্টির লালসার শিকার হয়েও অনেক বিধবাকে সহমরণে যেতে বাধ্য করা হতো। আবার ধর্মপতি ও সমাজপতিদের মন রক্ষা করে চলার গোপন অঙ্গীকারের মাধ্যমে স্বামী বিয়োগ অনেক বিধবা সহমরণ হতে অব্যাহতি পেত।

বর্তমান হিন্দু সম্প্রদায়ে সহমরণ প্রথা বাতিল হলেও, এখন পর্যন্ত লগ্নভ্রষ্টার মতো এক কুসংস্কার ও কুপ্রথার মাধ্যমে কেবল মাত্র নারী জাতিকেই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আসুন জেনে নিই লগ্ন কি ও লগ্নভ্রষ্টা কি। লগ্ন হল- পঞ্জিকার মাধ্যমে ধর্মপতিদের দ্বারা নারী ও পুরুষের বিবাহ সম্পন্নের নির্ধারিত ক্ষণ বা সময়কে লগ্ন বুঝায়। কোন কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত লগ্নে বিবাহ সম্পন্ন করতে না পারলে, সেই বিবাহটির লগ্ন বিবাহ ছাড়া অতিবাহিত হওয়ার জন্য সেই বিবাহটি লগ্নভ্রষ্ট হয়। এক্ষেত্রে ঐ নারী ও পুরুষটির ঐ সময়ের জন্য বিবাহ স্থগিত হয়ে যায়। নির্ধারিত লগ্নে বিবাহ সম্পন্ন না হওয়ার জন্য বিবাহের জন্য নির্ধারিত নারীটির গায়ে লগ্নভ্রষ্টার তকমা লাগিয়ে ঐ মেয়েটিকে, অপয়া, অশুচি, অপবিত্র বিশেষণ যোগ করে দেয়। যাতে করে ঐ লগ্নভ্রষ্টা নারীকে কোন ছেলে আর বিয়ে করতে চান না। কারণ  লগ্নভ্রষ্টা নারীকে বিয়ে করলে নাকি পরিবারের অমঙ্গল হবে। হিন্দু ধর্মপতিদের দ্বারা বেঁধে দেওয়া এই কু নীতির কারণে বর্তমান হিন্দু সমাজে অনেক লগ্নভ্রষ্টা নারী আর কোন দিনই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেনি, এবং সারাটি জীবন অবিবাহিত অবস্থায় অতিবাহিত করে মৃত্যু বরণ করছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লগ্নভ্রষ্টা কুপ্রথার বৈষম্যের দিকটি হল- লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিবাহ না হওয়া মেয়েটিকে, অপয়া, অশুচি, অপবিত্র এর তকমা দিলেও, লগ্নভ্রষ্টা মেয়েটির সাথে যে ছেলেটির বিবাহ হতে যাচ্ছিল, সে ছেলেটিকে কিন্তু লগ্নভ্রষ্ট উপাধি দেওয়া হয় না। লগ্নভ্রষ্ট ছেলেটির সাথে অন্য যে কোন মেয়ের বিবাহে হিন্দু সমাজে কোন বাধা নেই। এরকম অনেক কুসংস্কারের বোঝা মাথায় নিয়েই টিকে আছে হিন্দু সম্প্রদায়। আর এসকল কুসংস্কারকেই তাঁরা ধর্ম জ্ঞানে জানে ও ধর্ম হিসাবেই মান্য করে চলেছে বর্তমান বিজ্ঞানের যুগেও।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(21) বার পঠিত

One Responses

  • অঞ্জন

    প্রার্থনা অবিরত।

    ওদের চৈতন্য হোক।

Leave a Reply