বন্ধু ছাড়া প্রাণীসমূহ সুখী ও শান্তিতে থাকতে পারে না। সে জন্যই সৃষ্টির প্রতিটি প্রাণীই কোন কোন বন্ধুকে অবলম্বন করে জীবনে সুখী হওয়ার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝে অনেকে এমন আছে, যে বন্ধু নিয়ে সুখে দিন যাপন করছে, আবার কেউ কেউ সুখের আশায় বন্ধু নির্বাচনে ভুল করে সুখের পরিবর্তে দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে, শত্রুর সঙ্গে জীবন যাপন করে চলেছে। তাই প্রতিটি প্রাণীরই উচিৎ বন্ধুত্ত্ব করার আগে, সঠিক বন্ধু নির্বাচন করা।

প্রাণীর জীবনে সর্ব প্রথম বন্ধু হল সুস্থ স্বাস্থ। যার স্বাস্থ যত সুস্থ সে তত শক্তিশালী ও পরিশ্রমী হয়। আর যে পরিশ্রম করতে পারে তাঁর পার্থিব জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে না। তাই প্রতিটি প্রাণীরই উচিৎ, সুস্থ স্বাস্থের সাথে বন্ধুত্ব করা। আর সুস্থ স্বাস্থের সাথে বন্ধুত্ব করতে হলে প্রতিটি প্রাণীর জন্য প্রয়োজন, কোন স্বত্বা বা উপাদান প্রাণী সমূহকে সুস্থ রাখতে সক্ষম সেই স্বত্বা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও সেই স্বত্বা সমূহ সঞ্চয়ের মাধ্যমে সুখী ও শান্তিময় জীবন গড়ে তোলা।

প্রাণীর জীবনের দ্বিতীয় বন্ধু হল জ্ঞান। যার জ্ঞান যত উন্নত, তাঁর জীবনকে সুখময় করে সাজিয়ে তোলার জ্ঞান তত উন্নত। তাই প্রতিটি প্রাণীর উচিৎ জ্ঞানের সাথে বন্ধুত্ব করা। আর জ্ঞানের সাথে বন্ধুত্ব করতে হলে প্রথমেই জানা উচিৎ কোন উপাদান বা স্বত্বায় জ্ঞান উৎপত্তি হয়। জ্ঞান উৎপত্তি স্বত্বা থেকে জ্ঞানস্বত্বা সঞ্চয়ের মাধ্যমে উন্নত জ্ঞানের অধিকারী হয়ে সুখময় জীবনের অধিকারী হতে, জ্ঞান উৎপত্তি স্বত্বার সাথে বন্ধুত্ব করুন।

প্রাণীর জীবনে তৃতীয় বন্ধু হল যৌন শক্তি, চতুর্থ বন্ধু দর্শন শক্তি, পঞ্চম বন্ধু বাক শক্তি, ষষ্ঠ বন্ধু শ্রবণ শক্তি, সপ্তম বন্ধু রূপ বা চেহারা। উক্ত শক্তি সমূহ যার যত উন্নত, সুখী ও শান্তিময় জীবন গড়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সে তত উন্নত। তাই দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সুখী ও শান্তিময় জীবন গড়ে তুলতে, উক্ত শক্তি সমূহের উৎপত্তি স্বত্বার সহিত বন্ধুত্ত্ব করুন। আর ঐ শক্তি সমূহের সহিত বন্ধুত্ব করতে হলে প্রতিটি প্রাণীরই উচিৎ যে, উক্ত শক্তি সমূহের উৎপত্তি স্বত্বা বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা ও সেই স্বত্বা সমূহ সঞ্চয়ের মাধ্যমে উক্ত শক্তি সমূহকে উন্নত করা।

তাই নিজ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উপরিউক্ত বন্ধুদের সাথে, অর্থাৎ শক্তি সমূহের উৎপত্তি স্বত্বা সমূহের সাথে বন্ধুত্ত্ব স্থাপন করুন। আর উক্ত স্বত্বা সমূহ বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য, উক্ত স্বত্বা বিষয়ে জ্ঞান প্রাপ্ত গুরুর শরণাপন্ন হউন, ও স্বত্বা সঞ্চয়ের চেষ্টা করুন।

তবে, পার্থিব জীবনে নিজেকে সুখে রাখার জন্য, নিজ দেহের বাইরে প্রথম বন্ধু একজন নারী বা মা। আর প্রাপ্ত বয়সে একজন প্রাণীকে সুখী ও শান্তিময় জীবন গড়তে হলে সমপ্রজাতির বিপরীত লিঙ্গের প্রাণীকে বন্ধু হিসাবে প্রয়োজন। আর প্রাপ্ত বয়সে বিপরীত লিঙ্গের বন্ধু নির্বাচনে অর্থাৎ স্বামী, স্ত্রী নির্বাচনে ও স্ত্রী, স্বামী নির্বাচনে যে ভুল করলো, সে ইহলৌকিক অশান্তিতে নিমজ্জিত হল। আর যে জীবন চলার পথের পথ প্রদর্শক বা গুরু নির্বাচনে ভুল করলো, সে তার ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জীবনকে অশান্তিতে নিমজ্জিত করলো।

অতএব , সময় থাকতে সঠিক বন্ধু নির্বাচন করুন, ইহলোক ও পরলৌকিক জীবনকে সুখী ও শান্তিময় করে গড়ে তুলুন।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

 

 

(73) বার পঠিত

11 Responses

  • শুক্রধর

    গুরুজী, সঠিক গুরু চিনার উপায় কী?

    • গুরুজি

      যার বলা সূত্রানুযায়ী আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়, সেই সঠিক গুরু।

  • অঞ্জন

    নিস্তেজ হয়ে পড়া দেহের শিরাগুলো চিতকার দিয়ে বলে

    সত্য সহায় হোক সর্বজীবে

    • গুরুজি

      মুখে সত্য সহায় হউক সর্ব জীবে বলা অপেক্ষা, জীবে সত্য উপাদান সমূহের সহায় করানোই উত্তম। তাতে নিস্তেজ হয়ে পড়া শিরাগুলি আবার সতেজ হয়ে উঠতে পারে।

  • আবু সাইদ

    কোন কোন স্বত্বা বা উপাদান,আমাকে সুস্থ রাখতে পারে,জ্ঞানি করতে পারে,যৌবন শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং জীবিত শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে?দয়া করে বস্তু বা উপাদানের অবতরণ ও অবতীর্নর স্থান এবং বিধানসহ ব্যাখ্যা দিবেন।

    • গুরুজি

      এ সকল বিষয় পাসওয়ার্ড প্রটেক্টেড পেজ এ আলোচনা হবে। উন্মুক্ত নয়।

  • আবু সাইদ

    আর্থিক দরিদ্র ব্যক্তি কিভাবে ধর্ম জ্ঞান অর্জন করতে পারে,এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কি?ধর্ম জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে,যে কোন উপায়ে অর্থ উপার্জন করা কি তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির কোন আদেশ আছে?

    • গুরুজি

      আর্থিক দরিদ্র ব্যক্তি কিভাবে ধর্ম জ্ঞান অর্জন করতে পারে,এ বিষয়ে আপনার ব্যাখ্যা কি?

      কেউ দারিদ্রতার আবেদন করলে, যাচাই এর পরে সত্যতা প্রমাণ হলে, আংশিক ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

      ধর্ম জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে,যে কোন উপায়ে অর্থ উপার্জন করা কি তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির কোন আদেশ আছে?

      না! সৎ উপার্জনের অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ ও ধর্ম জ্ঞান লাভের নির্দেশ রয়েছে।

  • আবু সাইদ

    অর্থহীনতা,দ্বীনহীনতার কারন হলে,ধর্ম বা ইসলাম সার্বজননীন হয় কি?যারা দরিদ্রের যাঁতাকলে পৃষ্ঠ,আহার যোগাতে ক্লান্ত।তাঁদের ধর্ম জ্ঞান অর্জন কোন পথে?সাধ থাকলেও সাদ্ধ কারও কারও থাকে না,সাদ্ধটা তাঁদের সাধের উপর বর্তানোই কি তাঁদের শান্তি নয়?

    • গুরুজি

      মূলতঃ ইসলাম ধর্ম জানতে ও পালন করতে অর্থহীনতা কোন প্রতিবন্ধকতা নয়, মূল প্রতিবন্ধকতা হল মানসিকতার। জীবন চলার সকল খরচ বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থে পূরণ সম্ভব হলে, কেবল ধর্ম জানার জন্য অর্থাভাব হওয়াটা যুক্তিপূর্ণ বলে মেনে নেওয়া যায় না।

  • আবু সাইদ

    সকলের অন্তরে ধর্ম জ্ঞান অর্জনের মানসিকতার জন্ম হোক এই কামনা করি।সেই সাথে গুরুকৃপায় সকলের আর্থিক এবং আত্মিক সমৃদ্ধি কামনা করি।সত্য সহায় গুরুজি।সত্য সহায় হোক সর্বজীবে।

Leave a Reply