আমি আমার থেকে মহাবিশ্বে আর কাউকেই বেশি ভালোবাসি না। আমি যাহা কিছু করি প্রথমতঃ আমি ভালো থাকার জন্য করি। কেউ যদি বলে আমি আমা অপেক্ষা তোমাকে বেশি ভালোবাসি, তাহলে সে মিথ্যা বলে, নয় অজ্ঞতা বশতঃ বলে। মুলতঃ প্রতিটি প্রাণীই হয় নিজেকে ভালবাসে, নয় তাঁর ইচ্ছাকে ভালবাসে, অন্য কাউকে নয়। অনেকে তাঁর ইচ্ছাকে ভালোবেসে সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য জীবনে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু কেউ নিজেকে ভালোবেসে কখনোই নিজের জীবনের ক্ষতির সম্মুখীন হয় নি। তাই প্রতিটি প্রাণীরই উচিৎ তাঁর নিজেকে ভালবাসতে শেখা।

আপনি যদি নিজেকে ভালবাসেন, তাহলে কোন অবস্থাতেই আপনি মিথ্যা বলতে পারবেন না। কারণ, যেই আপনি আপনাকে এতো ভালবাসেন, সেই আপনি কখনোই নিজেকে পৃথিবীর বুকে মিথ্যাবাদী রূপে উপস্থাপন করে, নিজেকে অপমানিত করতে পারেন না। আর যদি আপনি নিজেকে ভালো না বেসে আপনার ইচ্ছাকে ভালোবাসেন, তাহলে নিজ ইচ্ছা পূরণ করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতেও দ্বিধা করবেন না, এবং মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার জন্য নিজেকে অপমানিত করতেও দ্বিধা করবেন না।

আপনি যদি নিজেকে ভালবাসেন তাহলে কোন অবস্থাতেই আপনি চুরি করতে পারেন না। কেন না যেই আপনি আপনাকে এতো ভালবাসেন সেই আপনি আপনাকে সমাজের বুকে কোন অবস্থাতেই চোর রূপে উপস্থাপন করে, নিজেকে অপমানিত করতে পারেন না। আপনি যদি আপনাকে ভালবাসেন কোন অবস্থাতেই আপনি খুন করতে পারেন না, ধর্ষণ করতে পারেন না, হিরোইন, মদ, গাঁজা, সিগারেট, পান ও চা খাইতে পারেন না। কারণ এর সবগুলিই আপনার জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আজ থেকে নিজেকে ভালবাসতে শিখুন। সুখী, সুন্দর ও শান্তিময় জীবন গড়ে তুলুন।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

 

(42) বার পঠিত

6 Responses

  • আবু সাইদ

    তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির মতে,যদি সকল জীব পঞ্চ ভূতে বা উপাদানে সৃস্টি হয়।তবে সৃস্টির তো ব্যক্তিগত কোন অস্তিত্ব থাকতে পারে না,সবই তো স্রস্টার অস্তিত্ব।যেহেতু সৃস্টি,যাহা দ্বারা সৃস্টি,তাহাই স্রস্টা।সূতরাং সৃস্টির আমিটা কে?আর যে নিজেকে ভালবাসিল না,সে তো স্রস্টাকেই ভালবাসিল না,নয় কি?সূতরাং আমার স্রস্টা কি, আমাতে নিরাপদ?

    • গুরুজি

      আমাতে স্রষ্টা নিরাপদ নয় এমন ভাবেন কেন? ভাবুন,  আমিই আমার কাছে নিরাপদ নই, অথবা স্রষ্টাই স্রষ্টার কাছে নিরাপদ নয়।

  • আবু সাইদ

    দুঃখীত।আমার নীরাপত্তা স্বত্বা কি আমাতে নিরাপদ?

    • গুরুজি

      হ্যাঁ! নিরাপদ। তবে কেউ কেউ ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে ইচ্ছা পূরণের জন্য নিরপত্তা স্বত্বাকে অনিরাপদ করে ফেলে।

  • আবু সাইদ

    স্রস্টা এবং গুরুর আদেশ-নির্দেশই হোক আমাদের সকলের ইচ্ছা এবং কর্ম।

    • গুরুজি

      উপাস্য আপনার আশা পূর্ণ করুক।

Leave a Reply