ইবনে কাসিরসহ প্রায় সকল তাফসীরকারক বা প্রচলিত কোরআনের সকল ব্যাখ্যাকারীগণই বলেছেন যে, সূরাত ফাতিহাত দিয়েই সালাত আদায় করা হয় হেতু সূরাত ফাতিহাত অর্থ সূচনা, আরম্ভ, শুরু ইত্যাদি। কিন্তু আরবি ফাতিহা শব্দের বাংলা অর্থ কোন অবস্থাতেই সূচনা বা আরম্ভ নয়। বাংলা আরম্ভ, শুরু ও সূচনা শব্দের আরবি শব্দ-  بِدَايَة – বিদায়াত।

প্রচলিত কোরআনের তাফসিরকারকগণ সূরাত ফাতিহাতকে اُمُّ الكِتَب উম্মুল কিতাব বা বইয়ের মা বা গ্রন্থের মা বলে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু মূল বিষয় হল সূরাত ফাতিহাত হল প্রচলিত কোরআনের সৃষ্টি সমূহ কর্তৃক স্রষ্টা সমীপে তাঁর প্রশংসা কীর্তন ও সৃষ্টি শান্তি প্রাপ্তির জন্য চাহিদা সমূহ পূরণের আবেদন।

মোল্লারা বলে থাকেন যে, প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌ বা স্রষ্টার বাণী। কিন্তু সূরাত ফাতিহাতের বাণী সমূহ পড়লে দেখা যায় যে, এই সূরাতের বাণী সমূহ স্রষ্টার বাণী নয়, এই সূরাতের বাণী সমূহ মাখলুক বা সৃষ্টির বাণী (সূরাত ফাতিহাতের আয়াতের অনুবাদের সময় এ বিষয়ে জানতে পারবেন)। স্রষ্টার বাণী কোরআন কিন্তু সৃষ্টির বাণী তো কোরআন হতে পারে না। সে সূত্রে সূরাত ফাতিহাত সৃষ্টির বাণী হওয়াই, কোন অবস্থাতেই সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হতে পারে না।

তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির মতে প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌ বা স্রষ্টার বাণী নয়। প্রচলিত কোরআন মোহাম্মদের গবেষণার ফসল বা মোহাম্মদের বাণী। আর মূল কোরআন হল আল্লাহ্‌র বাণী বা উপাদান। আর প্রচলিত কোরআনের সূরাত ফাতিহাত হল সকল সৃষ্টির পক্ষ থেকে শান্তি প্রাপ্তির জন্য চাহিদা সমূহ পূরণ বিষয়ক জিজ্ঞাসা ও স্রষ্টার ক্ষমতা বিষয়ের প্রশংসা বিষয়ক বাণী। আর পূর্ণাঙ্গ প্রচলিত কোরআন হল, জীব কীভাবে শান্তি প্রাপ্তির উপাদান সমূহ প্রাপ্তি হবে ও কি ধরণের আইন সমূহ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে, মোহাম্মদ কর্তৃক উপস্থাপিত সেই বাণী সমূহের সমাহার। প্রচলিত কোরআন মোহাম্মদের বাণী সূত্রে, সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ। কারণ সূরাত ফাতিহাতের মাধ্যমে সৃষ্টির আবেদনের প্রেক্ষিতে, মোহাম্মদ যে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, তাহাই এই প্রচলিত কোরআন।

পাতা (সতেরো)

যেহেতু প্রচলিত কোরআন মোহাম্মদ কর্তৃক সৃষ্টি সমূহের শান্তি প্রাপ্তির দিক নির্দেশনার বাণী সমগ্র। আর সূরাত ফাতিহাতের বাণী সমূহ সৃষ্টি সমূহের পক্ষ থেকে শান্তি প্রাপ্তির চাহিদা পূরণ বিষয়ক জিজ্ঞাসা ও স্রষ্টার ক্ষমতা ও প্রশংসা সমূহ। সে সূত্রে সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হওয়াতে কোন বাধা থাকে না। আর সে সূত্র ধরেই সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হিসাবে স্থান পেয়েছে।

মুলতঃ উম্মুল কিতাব বা গ্রন্থের জননী তাকেই বলা যায়, যাহার নিকট হতে গ্রন্থের জন্ম হয়। সে সূত্রে উম্মুল কিতাব বা গ্রন্থের জননী হল মহাবিশ্ব সৃষ্টির নারী স্বত্বা। কারণ মহাবিশ্ব সৃষ্টির নারী স্বত্বাকে লক্ষ করেই সকল গ্রন্থের উৎপত্তি বা সৃষ্টি হয়েছে। তাই সূরাত ফাতিহাত উম্মুল কোরআন নয়, উম্মুল কোরআন হল মহাবিশ্ব সৃষ্টির নারী স্বত্বা। তবে প্রচলিত কোরআনের দৃষ্টিতে ও যে, উম্মুল কিতাব বা গ্রন্থের জননী হিসাবে নারীকেই ইঙ্গিত করেছে, তা প্রচলিত কোরআনে উল্লিখিত উম্মুল কিতাবের আয়াতের স্থলে বিসদ আলোচনা করা হবে।

প্রচলিত কোরআনের ব্যাখ্যাকারীরা বলেছেন যে, সূরাত ফাতিহাতের আর একটি নাম হল- সাবআ মাছানি। প্রচলিত কোরআনের অনুবাদকেরা সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতের  سَبْعًا الْمَثَانِي সাবআ মাছানি শব্দদ্বয়ের বাংলা অনুবাদ করেছেন সাবআ অর্থ সাত ও মাছানি অর্থ সর্বদায় পঠিত। সে সূত্রে সাবআ মাছানি শব্দদ্বয়ের অর্থ করেছেন সর্বদায় পড়িবার সাত আয়াত। সূরাত ফাতিহাতের আয়াত সংখ্যা ও সাত এবং মোল্লাদের প্রচলিত নামায পড়তে সূরাত ফাতিহাত প্রত্যেক রাকাতেই পড়তে হয়, সে সূত্র ধরেই তারা সূরাত ফাতিহাতকেই সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতে উল্লিখিত সাবআ মাছানি বা সর্বদায় পড়িবার সাত বলে নির্ধারণ করে, সূরাত ফাতিহাতের নাম দিয়েছেন সাবআ মাছানি। আসুন আমরা দেখে নিই প্রচলিত কোরআনের সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতে মোহাম্মদ কি বলেছেন।

     وَلَقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ

আয়াতের বাংলা উচ্চারণ- ওয়া লাকাদ আতাইনাকা সাবআ মিনাল মাছানি ওয়াল কুরআনাল আযিম।

প্রায় সকল অনুবাদকেরাই এই আয়াতের বাংলা অনুবাদ করেছে- আর আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত আর মহান কোরআন। কিন্তু সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতের মধ্যে আয়াত শব্দটি ব্যবহার হয় নি। তাহলে কীভাবে হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতের অর্থ “আর আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পঠিত সাতটি আয়াত আর মহান কোরআন” হতে পারে? মূলত ঐ আয়াতের অর্থ হবে আর আমি আপনাকে দিয়েছি সর্বদায় পঠিত সাত আর মহান কোরআন। এই

পাতা (আঠারো)

আয়াতের মধ্যে কোন অবস্থাতেই আয়াত শব্দটি আসতে পারে না। অনুবাদকেরা এই আয়াতে আয়াত শব্দটি সংযুক্ত করে প্রচলিত কোরআনের বিকৃতি সাধন করেছেন, এবং সমগ্র মানব মণ্ডলীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছেন।

সম্মানিত পাঠক!

সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতটি পড়লেই পরিস্কার হয়ে যাবে যে, মোল্লাদের অনুবাদ মোতাবেক সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ নয়। কারণ এই আয়াতে বলা হয়েছে “আর আমি তোমাকে দিয়েছি পুনঃ পুনঃ পড়িবার সাত আর মহান কোরআন” তাঁর মানে পুনঃ পুনঃ পড়িবার সাত আলাদা বস্তু বা বিষয় এবং মহান কোরআন আলাদা বিষয় ও বস্তু।

এই আয়াতের প্রেক্ষিতে মোল্লাদের দাবী সূরাত ফাতিহাতকেই প্রচলিত কোরআন সাবআ মাছানি বা সর্বদায় পঠিত সাত বলেছে। মোল্লাদের অনুবাদ সত্য হলে এই আয়াতের দৃষ্টিতে কোরআন ও পুনঃ পুনঃ পঠিত সাত আলাদা দুটি বিষয় বা বস্তু হয়ে যায়। কারণ ঐ আয়াতে পুনঃ পুনঃ পড়িবার সাত এবং মহান কোরআন এর মাঝখানে ওয়া বা আর কথাটির মাধ্যমে পুনঃ পুনঃ পড়িবার সাত ও মহান কোরআনকে আলাদা দুটি বিষয় হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। তাই কোন অবস্থাতেই পুনঃ পুনঃ পঠিত সাত কোরআনের অংশ হতে পারে না। আর সে সূত্রেই মোল্লাদের বলা সাবআ মাছানি বলতে সূরাত ফাতিহাত হলে, কোন অবস্থাতেই সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হতে পারে না। আর সূরাত ফাতিহাত যদি প্রচলিত কোরআনের অংশ হয়, তাহলে সূরাত ফাতিহাত সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতের সাবআ মাছানি হতে পারে না। এখন মোল্লাদেরকেই সিদ্ধান্ত দিতে হবে যে, সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ, না কি সূরাত ফাতিহাত সাবআ মাছানি।

মূলত সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতের আমি তোমাকে দান করেছি সর্বদায় পঠিত সাত বলতে বুঝানো হয়েছে, মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টিকে স্রষ্টা সর্বদায় পঠিত যে সাত দিয়েছেন তাহলো- জীবিত শক্তি, জ্ঞান শক্তি, কর্ম শক্তি, শ্রবণ শক্তি, বাক শক্তি, দর্শন শক্তি ও যৌন শক্তি। মহাবিশ্বের সকল সৃষ্টিতেই এই সাত শক্তি বিদ্যমান ও ক্রিয়াশীল রয়েছে বা পঠিত হইতেছে।

প্রচলিত কোরআনের ব্যাখ্যাকারী প্রায় সকলেই উল্লেখ করেছেন যে, সূরাত ফাতিহাত এর আরেকটি গুণ বাচক নাম হল হামদ বা প্রশংসা। কারণ হিসাবে তারা বলেছেন যে, এই সূরাতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র হামদ বা প্রশংসা করা হয়েছে, তাই সূরাত ফাতিহাতের নাম হামদ।

যদি তাই হয়ে থাকে যে, সূরাত ফাতিহাতের মাধ্যমে আল্লাহ্‌র হামদ বা প্রশংসা করা হয়েছে, তাহলে

পাতা (উনিশ)

আল্লাহ্‌র হামদ বা প্রশংসাকারী কে? আল্লাহ্‌ নিজেই কি নিজের প্রশংসা করেছেন, নাকি সৃষ্টি সমূহ আল্লাহ্‌র প্রশংসা করেছেন? এখানে পরিস্কার যে, আল্লাহ্‌ নিজেই নিজের প্রশংসা করে নাই। কারণ সূরাত ফাতিহাতে আল্লাহ্‌ হামদ শব্দের মাধ্যমে নিজেই নিজের প্রশংসা করলে, সূরাত ফাতিহাতের পাঁচ হতে সাত এই তিন আয়াতে আমরা তোমারই উপাসনা করিতেছি, আমাদিগকে সরল পথে পরিচালিত কর ও আমাদিগকে পথভ্রষ্ট করিও না, এই বাক্যগুলিও কি আল্লাহ্‌র বাণী? যদি ঐ তিনটি আয়াত আল্লাহ্‌র বাণী হয় তাহলে আল্লাহ্‌ কার কাছে অনুরোধ করে বলছে যে, আমরা তোমারই উপাসনা করিতেছি, আমাদিগকে সরল পথে পরিচালিত কর ও আমাকে পথভ্রষ্ট করিও না। তাহলে কি আল্লাহ্‌র উপরেও কেহ আছে, যার কাছে আল্লাহ্‌ এই প্রার্থনা করছেন?

উপরিক্ত যুক্তির প্রতি উত্তরে প্রচলিত কোরআনের ব্যাখ্যাকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ্‌ নিজেই সূরাত ফাতিহাতের মাধ্যমে সৃষ্টিকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, কীভাবে আল্লাহ্‌র প্রার্থনা করতে হবে তা তিনি নিজেই উপস্থাপন করেছেন। মোল্লাদের এই যুক্তির খণ্ডন হল, আল্লাহ্‌ যদি সৃষ্টিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সূরাত ফাতিহাতের বাক্য সমূহ বলে থাকেন, তাহলে ঐ বাক্য সমূহ বলার পূর্বে “কুল” বা “বল” শব্দটি ব্যবহার করতেন। তাহলে সূরাত ফাতিহাতের আয়াত হতো – কুল আল হামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। যার অর্থ হতো- বলুন, সমস্ত প্রশংসা মহাবিশ্বের প্রতিপালক উপাস্যের জন্য। কিন্তু সূরাত ফাতিহাতে তা করা হয় নি।

এর উত্তরে মোল্লারা বলেন যে, যদি সূরাত ফাতিহাত কুল শব্দ দিয়ে শুরু করতো তাহলে সালাতে ঐ সূরাত পাঠ করলে মুসাল্লি বা নামাজী কাকে বলতো যে- বল, সমস্ত প্রশংসা মহাবিশ্বের প্রতিপালক উপাস্যের জন্য? এর যুক্তি খণ্ডন হল- তাহলে সূরাত এখলাসে নামাজী কাকে বলে যে, কুল হু আল্লাহু আহাদ। অর্থ- বল, তিনিই এক উপাস্য। নামাযে নামাজী যদি সূরাত এখলাসে কুল হু আল্লাহু আহাদ বা বল তিনিই এক উপাস্য বলতে পারে, তাহলে সূরাত ফাতিহাতে নামাজী কেন বলতে পারবে না যে, কুল আল হামদু লিল্লাহ?

মূল কথা প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌র বাণী হলে, কোন অবস্থাতেই সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হতে পারে না। কেনো না সূরাত হিজরের ৮৭ নম্বর আয়াতে সর্বদায় পড়িবার সাত ও মহান কোরআনকে আলাদা বিষয় বা বস্তু হিসাবে উপস্থাপন করেছে। তবে, যদি প্রচলিত কোরআন মোহাম্মদের বাণী হয় তাহলে সূরাত ফাতিহাত প্রচলিত কোরআনের অংশ হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। কারণ সৃষ্টি সমূহ সূরাত ফাতিহাতের সাতটি আয়াতের মাধ্যমে স্রষ্টার প্রশংসা করে শান্তি প্রাপ্তির জন্য প্রার্থনা করেছে, আর মোহাম্মদ পূর্ণাঙ্গ প্রচলিত কোরআনের মাধ্যমে সৃষ্টির শান্তি প্রাপ্তির জন্য পথ প্রদর্শন করেছে।

পাতা (কুড়ি)

প্রচলিত কোরআনের সকল ব্যাখ্যাকারীগণই সূরাত ফাতিহাতকে সূরাতুশ শিফা বা রোগ আরোগ্যকারী সূরাত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু একটু সাধারণ জ্ঞানে চিন্তা করলে প্রত্যেক পাঠকই অনুধাবন করতে পারবেন যে, কোন অবস্থাতেই সূরাত ফাতিহাতের নাম সূরাতুশ শিফা বা রোগ আরোগ্যকারী হতে পারে না। যেহেতু সূরাত ফাতিহাত সৃষ্টির শান্তি প্রাপ্তির জন্য তাঁর চাহিদা সমূহ উপস্থাপন করেছেন। সেহেতু সূরাত ফাতিহাতকে বড় জোর রোগ আরগ্যের আবেদনি সূরাত বলা যেতে পারে। সূরাতুশ শিফা সেই সকল সূরাত সমুহকেই বলা যেতে পারে, তা হল সূরাত ফাতিহাতের মাধ্যমে আবেদনের প্রেক্ষিতে রোগ মুক্তির জন্য যে সকল সূরাত বা উপাদান সমূহ প্রদান করা হয়েছে সে সকল সূরাত সমূহকেই।

প্রচলিত কোরআনের ব্যাখ্যাকারীগণ সূরাত ফাতিহাতকে সূরাতুর রকিয়্যাহ বা ফুঁ দেওয়ার সূরাত বলে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে ফুঁ দিলে রোগ আরোগ্য হয়। এর প্রমাণ সাপেক্ষে প্রায় প্রত্যেক ব্যাখ্যাকারীগণই বলেছেন যে, হযরত আবু সাইদ (রাঃ) একবার এক সাপে কাটা রোগীকে সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে ফুঁ দেওয়ায় সেই সাপে কাটা রোগী ভালো হয়ে যায়। পরে মোহাম্মদকে এ বিষয়ে অবহিত করলে তিনি বলেন যে, আবু সাইদ কীভাবে জানলো যে এই সূরাত রকিয়্যাহ বা ফুঁ দেওয়ার সূরাত।

আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, পৃথিবীর প্রায় ৮০% সাপ বিষাক্ত নয়। আর যে সকল সাপ বিষাক্ত নয়, সে সকল সাপে কামড় দিলে কোন চিকিৎসা ছাড়াই সে সুস্থ থাকবে। আবু সাইদের ফুঁ দেওয়ার বিষয়টিও সে রকম হতে পারে। আর মোহাম্মদ যদি বলে থাকেন যে, সূরাত ফাতিহা পাঠ করে ফুঁ দিলে রোগ ভালো হয়ে যাবে, বা সাপে কাটা রোগী ভালো হয়ে যাবে। তাহলে বর্তমানে এমনকি মোহাম্মদের জীবদ্দশায় যাদের বিভিন্ন রোগ হয়েছে ও সাপে কেটেছে, মোহাম্মদ কি সে সকল রোগীকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, না নিজেই সূরাত ফাতিহাত পড়ে ফুঁ দিয়ে রোগ মুক্ত করেছেন?

মুলতঃ মোহাম্মদের জীবদ্দশায় যে সকল সাহাবীদের অসুখ হতো বা সাপে কাটতো, মোহাম্মদ সে সকল রোগীকে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, নিজে সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে ফুঁ দিয়ে রোগ মুক্ত করেন নাই। এ বিষয়ে মোল্লাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, যদি সূরাত ফাতিহাত পড়ে ফুঁ দিলে রোগ সমূহ ও সাপে কাটা রোগী সুস্থ হয়ে যায়, তাহলে বর্তমানে সাধারণ রোগগ্রস্ত ও সাপে কাটা রোগী এমনকি মোল্লারাও  অসুস্থ হলে ও সাপে কাটলে সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে ফুঁ না দিয়ে রোগ মুক্তির জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় কেন?

পাতা (একুশ)

এই প্রশ্নের জবাবে মোল্লারা বলেন যে, পুতপবিত্র মানুষ সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে ফুঁ দিলে রোগ মুক্ত হবে, অপবিত্র মানুষ সূরাত ফাতিহাত পড়ে ফুঁ দিলে কোন উপকার পাওয়া যাবে না। তাহলে কি বুঝবো যে, সূরাত ফাতিহাতের ক্ষমতা অপেক্ষা পুত পবিত্রতার ক্ষমতা বেশি? আর পুত পবিত্রতার ক্ষমতা বেশি হলে, পুত পবিত্র ব্যক্তি সূরাত ফাতিহাত কেন, অন্য যা কিছু বলে ফুঁ দিলেই কাজ হবে।

সার কথা, যদি সূরাত ফাতিহাতের ক্ষমতা হয়ে থাকে যে, তা পাঠ করে ফুঁ দিলে কাজ হবে, তাহলে তা যে কেউ যে কোন অবস্থায়, অর্থাৎ পবিত্র বা অপবিত্র অবস্থায় পাঠ করলেও ফল পাওয়া যাবে। যেমন সৃষ্টি আবিস্কার করেছে বিষ। যার ক্ষমতা হল প্রাণ নাশ করা। এখানে পবিত্র ব্যক্তি বা অপবিত্র ব্যক্তির যে কেউ যে কাউকে সেই বিষ খাওয়ালে, বিষ তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং প্রাণ নাশ করবে।

সূরাত ফাতিহাতকে মোহাম্মদ রকিয়্যাহ বা ফুঁ দেওয়ার সূরাত বলে থাকলে, এবং সূরাত ফাতিহাত পাঠ করে কোন রোগী ও সাপে কাটা ব্যক্তিকে ফুঁ দিলে যদি তাঁর রোগ মুক্ত না হয়, তাহলে অবশ্যই মোহাম্মদ মিথ্যা কথা বলেছে। আর যদি আমরা বিশ্বাস করি যে, মোহাম্মদ কোন অবস্থাতেই মিথ্যা বলেন নি এবং মোহাম্মদ মিথ্যা বলতে পারেন না, তাহলে অবশ্যই যে বা যারা বলছেন যে, সূরাত ফাতিহাত রকিয়্যাহ বা ফুঁ দেওয়া সূরাত সে বা তারা মিথ্যা বলছেন। আপনার সাধারণ জ্ঞান থাকলে অবশ্যই আপনাকে উপরিউক্ত দুটি সিদ্ধান্তের যে কোন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। একসাথে আপনি দুটি সিদ্ধান্তকে সঠিক বলতে পারেন না।  এক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই সূরাত ফাতিহাতের নাম সূরাতুর রকিয়্যাহ হতে পারে না।

এরূপ ভাবে প্রচলিত কোরআনের তাফসীরকারক বা ব্যাখ্যাকারীরা সূরাত ফাতিহাতের অনেক নাম দিয়েছেন। মূলত ও সকল নাম সমূহ ব্যাখ্যাকারীদের নিজস্য মতবাদ, মোহাম্মদের বক্তব্য নয়। তাই সূরাত ফাতিহাতের বাহিরে অন্য নাম সমূহকে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করা নিতান্তই ব্যক্তিগত ব্যপার, এতে পাপ পুণ্যের কিছু নাই।

তবে সব থেকে মজার ব্যপার হল এই যে, হযরত ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ এবং আবুল আলিয়া বলেন যে, সূরাত ফাতিহাত মক্কায় নাযিল হয়েছে তাই সূরাত ফাতিহাত মক্কী। আবার আবু হুরাইরা, মুজাহিদ, আতা বিন ইয়াসার এবং ইমাম যুহুরি বলেন যে, সূরাত ফাতিহাত মদিনায় নাযিল হয়েছে তাই সূরাত ফাতিহাত মাদানী। (তাফসীরে ইবনে কাসির, প্রথম খণ্ড, ৫৫ পৃষ্ঠা)

সৌদি আরব থেকে অনুবাদিত ও ব্যাখ্যাকৃত কোরআনুল কারিমের প্রথম খণ্ড ৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “অবশ্য কেউ কেউ বলেছেন, এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবার কারো মতে এটা একবার মক্কায়

পাতা (বাইশ)

এবং আরেক বার মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছিল। তাছাড়া এর অর্ধেক মক্কায় এবং অপর অর্ধেক মদিনায় নাযিল হয়েছে বলেও কেউ কেউ মত প্রকাশ করেছেন” এবং তাফসীরে ইবনে কাসিরের প্রথম খণ্ড ৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “আবু লাইস সমরকান্দীর (রঃ) একটি অভিমত কুরতুবী (রঃ) এও নকল করেছেন যে, এই সূরাটির প্রথম অর্ধাংশ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং শেষ অর্ধাংশ মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে”

সৌদি আরবের কোরআনুল কারিম ও ইবনে কাসিরের তাফসীর থেকে ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, সূরাত ফাতিহাতের নাযিলের স্থান নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কারণ কেউ কেউ বলেছে সূরাত ফাতিহাত মক্কায় নাযিল হয়েছে, আবার কেউ কেউ বলেছেন সূরাত ফাতিহাত মদিনায় নাযিল হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন সূরাত ফাতিহাতের অর্ধেক আয়াত মক্কা ও অর্ধেক আয়াত মদিনায় নাযিল হয়েছে। তাহলে প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা কিসের ভিত্তিতে নিশ্চিত হলেন যে, সূরাত ফাতিহাত মক্কী?

আমি পূর্বেই উপস্থাপন করেছি যে, প্রচলিত কোরআনের সূরাত সমূহের মধ্যে এমন অনেক সূরাত আছে, যার কিছু আয়াত মক্কায় ও কিছু আয়াত মদিনায় রচিত হয়েছে, কিন্তু প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো সূরাত সমূহকে মক্কী ও মাদানী নির্ধারণ করেছেন। এটা প্রচলিত কোরআনের বিকৃতির মধ্যেই পড়ে।

মূলত প্রচলিত কোরআন নাযিল মক্কা ও মদিনায় হয়েছে মোহাম্মদ তা বলে নাই। মোহাম্মদ বলেছে মূল কোরআন নাযিল হয়েছে মক্কা ও মদিনায়। মূল কোরআন নাযিল হয়েছে, প্রচলিত কোরআন নাযিল হয় নাই। প্রচলিত কোরআন রচিত হয়েছে। এ বিষয়ে পর্ব পাঁচ এ আলোচনা করা হয়েছে।

সার কথা, আমার গুরুজি সামসুদ্দিন চিশতী বলেছেন, সূরাত ফাতিহাতের কম পক্ষে তিনটি আয়াত মোহাম্মদ মদিনায় অবস্থানকালে রচিত হয়েছে এবং বাঁকি আয়াত সমূহ মোহাম্মদ মক্কায় অবস্থানকালে রচিত হয়েছে। এ কথা আলী ইবনে আবু তালিব তাঁর শিষ্য হাসান বসরিকে বলেছেন। কিন্তু প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা আলী ইবনে আবু তালিবের বক্তব্যকে প্রচলিত কোরআন গ্রন্থ আকারে প্রকাশের সময় গ্রহণ করে নি।

সূরাত ফাতিহাত এর আয়াত সংখ্যা নিয়েও মতানৈক্য আছে। তাফসীরে ইবনে কাসিরের প্রথম খণ্ড ৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, সূরাত ফাতিহাত এর আয়াত সংখ্যার ব্যপারে “আমর বিন উবায়েদ আটটি এবং হুসাইন য’ফী ছয়টিও বলেছেন”। এতেই প্রতীয়মান হয় যে, যারা প্রচলিত কোরআন সংকলন করেছে, তারা প্রচলিত কোরআনকে সন্দেহাতীত, ও নির্ভুলভাবে সংকলন করতে পারে নি।

পাতা (চব্বিশ)

তাফসীরে ইবনে কাসিরের ৫৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيم বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরাত ফাতিহাতের পৃথক আয়াত কিনা তাতে মতভেদ রয়েছে। সমস্ত ক্কারী, সাহাবী (রাঃ) এবং তাবেইর (রঃ) একটি বিরাট দল এবং পরবর্তী যুগের অনেক বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বী সুরা-ই- ফাতিহার প্রথম, পূর্ণ একটি আয়াত বলে থাকেন। কেউ কেউ একে সূরা-ই- ফাতিহারই অংশ বিশেষ বলে মনে করেন। আর কেউ কেউ একে এর প্রথম মানতে বা স্বীকার করতে চান না।

আর এই কথার উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে অনেকেই প্রচলিত কোরআনের সূরাত ফাতিহাতের প্রথম আয়াত হিসাবে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখে আসছে, এবং সূরাত ফাতিহাতের ছয় ও সাত নম্বর আয়াতকে একত্রিত করে সাত নম্বর আয়াত হিসাবে প্রচলিত কোরআন গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করেছেন। প্রচলিত কোরআনে সূরাত হিজরের নয় নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে যে,

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ

আরবি উচ্চারণ- ইন্না নাহনু নাযযালনায যিকরা ওয়া ইন্না লাহু লা হাফিযুনা। সূরাত হিজর আয়াত ৯

বাংলা অর্থ- নিশ্চয় আমরা অবতীর্ণ করেছি এই স্মরণ (কোরআন) আর নিশ্চয় আমরাই উহার সংরক্ষক।

প্রচলিত কোরআনের তাফসিরকারক রা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, যিকরা বলতে এই প্রচলিত কোরআনকেই বলেছে। যদি তাঁদের কথা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এই প্রচলিত কোরআনকে যারা নাযিল করেছেন, তারাই এই প্রচলিত কোরআনের সংরক্ষণ করবে। তাহলে প্রচলিত কোরআনের আয়াত সংখ্যা ৬৬৬৬ থেকে কমে ৬২৩৬ আয়াত হল কীভাবে, এবং আয়াত ও সূরাত এর ব্যপারে এতো মতানৈক্য কেন? ইহাতে কি প্রমাণ হয় না যে, এই প্রচলিত কোরআন আল্লাহ্‌র দেওয়া মূল কোরআন নয়?


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

 

(69) বার পঠিত

9 Responses

  • শুক্রধর

    অনেক কিছু নতুন করে জানতে পারছি꫰ চালিয়ে যান গুরুজী, সত্য জানতে ও প্রকাশে সাথে থাকার চেষ্টা করব꫰

    • গুরুজি

      লেখাটি পড়া ও সাহস যোগানোর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  • অঞ্জন

    সময় সিদ্ধ, সময় সত্য, সময় পারাপার উন্মত্ত।

    সত্য বাধি কি দিয়ে আর

    সত্য জানা উচিত সবার।

  • আবু সাইদ

    সর্বদায় পড়িবার সাত দ্বারা কি স্রস্টার শপ্ত সিফাতকে বুঝানো হয়েছে?সর্বদায় পড়িবার সাত এবং কোরআন আলাদা বিষয়/বস্তু কিভাবে,বুঝিয়ে বলবেন?

    • গুরুজি

      সর্বদায় পড়িবার সাত দ্বারা কি স্রস্টার শপ্ত সিফাতকে বুঝানো হয়েছে?

      হ্যাঁ! এবং তা পোষ্টে লিখে দেওয়া হয়েছে। যেমন- জীবিত শক্তি, জ্ঞান শক্তি, কর্ম শক্তি, শ্রবণ শক্তি, বাক শক্তি, দর্শন শক্তি ও যৌন শক্তি।

      সর্বদায় পড়িবার সাত এবং কোরআন আলাদা বিষয়/বস্তু কিভাবে,বুঝিয়ে বলবেন?

      এখনো প্রাণী বা জীব রূপে সৃষ্টি হয় নাই অবস্থার অনুপ্রাণের সমষ্টিকে কোরআন বলে। আর অনুপ্রাণ খণ্ডিত হয়ে জীব বা প্রাণীতে রূপান্তর হলে, সেই জীব বা প্রাণীতে সর্বদায় পঠিত সাত এর উৎপত্তি হয়।

  • আবু সাইদ

    আমার বাটন মোবাইল সেট হওয়ায়,আমি গুরুজির পোস্টগুলো পুরাপুরি পড়তে পারিনা।পোস্টের উপর একটা আবরণ পড়ে।বিধায় অনেক সময় গুরুজির আলোচিত বিষয়ের উপর প্রশ্ন করে বসি!এ জন্য গুরুজির কাছে এবং ভক্ত ভাইদের কাছে আমি ক্ষমা চাচ্ছি,দয়া করে সবাই আমাকে ক্ষমা করতে মর্জি হয়।

    • গুরুজি

      তারপরেও পড়তে গেলেও অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। এটা শুধু আপনার বেলায় নয়, আমার বেলাতেও হয়। এজন্য ক্ষমা চাওয়ার কিছু নাই। তারপরেও ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  • আবু সাইদ

    গুরুজি:আপনার চরণেও লাক্ষও কোটি ভক্তি।

    • গুরুজি

      ভক্তি রইলো আপনার প্রতিও।

Leave a Reply