আজ একে খন্দকারের লেখা বই “৭১ এর ভেতরে বাইরে” নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ দল ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ দল আলোচনা সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আজ চোখে পড়ার মত ভাবে যে বিষয়টি দৃশ্যমান হচ্ছে, তা হলো- একে খন্দকারের লেখা বইটিকে সঠিক প্রমাণে ব্যস্ত একটি দল, যারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলে দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে তারা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী দলের সাথে একজোট।আর বর্তমানে একে খন্দকারের লেখা বইটির বিরোধীতা করছেন, ও বইটির সমালোচনা করছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল, তথা মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া সম্ভব ছিল না, সেই জন মানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দলটি।

আজকের এই একবিংশ শতকে এসে, একে খন্দকারের ইতিহাস বিকৃতির বই লেখা, সেই বইটি নিয়ে আওয়ামীলীগ তথা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তির সমালোচনা করা, ও স্বাধীনতার পক্ষ দাবিকারী কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এক জোট হওয়া দলটির একে খন্দকারের লেখা বইটির পক্ষ অবলম্বন করায়, মনে পড়ে যায় সেই উনিশ শতকের, নয় এর দশকের ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের, হিন্দু হয়ে মুসলমানের ধর্মগ্রন্থ কোরাণের বাংলা অনুবাদ প্রকাশের কথা। মূলতঃ উনিশ শতকে গিরিশ চন্দ্র সেনের কোরাণের অনুবাদ প্রকাশ যে চক্রান্তে, বা যাদের চক্রান্তে সংঘটিত হয়েছিল, একবিংশ শতকের এই একে খন্দকারের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির বই প্রকাশ, সেই একই চক্রন্ত ও একই চক্রান্তকারীদের দ্বারা সংঘটিত।

সম্মানিত পাঠক-

উনিশ শতকের শেষ দিকে, অর্থাৎ ১৮৮০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত কোরাণের কোন বাংলা অনুবাদ ছিল না। তৎকালিন সময়ে রাসুলের আদর্শ পালনকারী দল, তথা গুরুবাদী দলটি কোরাণের মূল রহস্য বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে, ব্যখ্যা সহকারে শিষ্যদেরকে বুঝিয়ে আসছিল, ও কোরাণের আলোকে জীবণ গড়ার প্রয়োজনিয়তা প্রচার করে আসছিল। আর কোরাণের বিরোধী দল অর্থাৎ মোল্লারা তখন কোরাণের আরবী পড়া শিখিয়ে আসছিল, হরফে ১০ নেকি হিসাবে। তখন প্রায়ই গুরুবাদীদের সাথে মোল্লাদের বিতর্ক হতো এই কোরাণ নিয়ে। আর সে সময় কোরাণের আইনের নামে মোল্লারা এবাদৎ নামের যে সকল সংস্কৃতি পালন করতো, তা যে কোরাণ উল্লিখিত এবাদৎ নয়, তা গুরুবাদীরা প্রমাণ করে দিত। আর মোল্লারা গুরুবাদের কাছে বিতর্কে এসে, তাদের উপাসনা প্রণালী কোরাণরে সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তা প্রমাণ হয়ে যাওয়াতে, পরাজিত হয়ে ফিরে যেত।

মোল্লারা কোরাণের বাংলা অর্থ করলে, সে অর্থ তাদের মতবাদের সাথে কোরাণের অমিল দেখে, ও কোরাণের মর্মার্থ না জানার দরুন, কোরাণের বাংলা অনুবাদ করা পাপ বলে প্রচার চালাতো। সেই সাথে তারা প্রচার করতো, গুরুবাদীরা কোরাণের যে বাংলা অর্থ করে মানুষকে বুঝাচ্ছে, তাতে তারা শেষ বিচারে জাহান্নামে যাবে। কোন অবস্থাতেই কোরাণের বাংলা অনুবাদ করা যাবে না। কিন্তু ধিরে ধিরে কোরাণের বাংলা অনুবাদ ও মর্মার্থ সহ আলোচনার কারণে গুরুবাদীরা জনপ্রীয়তা অর্জন করতে থাকে। ঠিক সেই সময় মোল্লারা অনুভব করে যে, কোরাণের বাংলা অনুবাদ করা দরকার। কিন্তু মোল্লারা দেখলো, কোরাণের সঠিক অনুবাদ করলে তাদের মতবাদ মিথ্যা হয়ে যায়, এবং কোরাণে উল্লিখিত সাংকেতিক শব্দের অর্থ না জানায় তারা কোরাণের মর্মার্থ বুঝতেও ব্যর্থ হয়। তখন তারা নিজেদের মত করে, নিজেদের মতবাদ ও চেতনা মত কোরাণের বাংলা অনুবাদ করে। তাদের সেই বাংলা অনুবাদে কোরাণের বিকৃতি করা হয়।

কিন্তু এতদিন মোল্লারা প্রচার চালিয়ে এসেছে যে, কোরাণের বাংলা অনুবাদ করা পাপ। তাহলে এখন কিভাবে তারা কোরাণের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করবে। তখন মোল্লারা অর্থের বিনিময়ে হিন্দু গিরিশ চন্দ্র সেন কে ক্রয় করে নেন, এবং ১৮৮১ সালে গিরিশ চন্দ্র সেনের নামে, মোল্লাদের মতবাদ বা চেতনা মত কোরাণের প্রথম পারা বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করা হয়। সে সময় গুরুবাদীরা গিরিশ চন্দ্র সেন এর কোরাণের বাংলা অনুবাদ যে ভুল করা হয়েছে, বা কোরাণের সঠিক অনুবাদ করা হয় নাই তা প্রচার করলেও, মোল্লারা গিরিশ চন্দ্র সেনের কোরাণের বাংলা অনুবাদের পক্ষ অবলম্বন করে। আর এর পরে যত জন কোরাণের বাংল অনুবাদ করেছে, তারা সবাই গিরিশ চন্দ্র সেনের অনুবাদের অনস্মরণ করেই অনুবাদ করেছে। আর তখন থেকেই গুরুবাদীরা বলে আসছে যে, কোরাণের বাংলা অনুবাদ সঠিক নয়, এটা কোরাণের বিকৃত অনুবাদ করা হয়েছে।

মূলতঃ গিরিশ চন্দ্র সেন কোরাণের অনুবাদ করে নাই। কোরাণের অনুবাদ করেছিল মোল্লারা, আর তা প্রকাশ করেছিল গিরিশ চন্দ্র সেনের নামে। আর গিরিশ চন্দ্র সেন অর্থের বিনিময়ে মোল্লাদের করা কোরাণের বাংলা অনুবাদ, নিজের অনুবাদ নামে প্রকাশ করে।

আজ ২০১৪ সালে এসে আমরা ১৮৮১ সালের মতই, একদলের মতবাদে লেখা বই, অন্যের নামে প্রকাশের পূণরাবৃত্তি দেখলাম। আজ আমরা দেখলাম একে খন্দকার “৭১ এর ভিতরে বাইরে” নামক যে বইটি তার নামে প্রকাশ করেছে, সে বইটির রচয়ীতা একে খন্দকার নয়। এই বইটির রচয়ীতা ইসলামের শত্রু ও স্বাধীনতা বিরোধীরা। আর তারা একে খন্দকারকে গিরিশ চন্দ্র সেনকে ক্রয় করার মত অর্থ দিয়ে ক্রয় করে নিয়ে, তার নামে বইটি প্রকাশ করেছে।

তার মানে, গিরিশ চন্দ্র সেন এর বাংলা কোরাণ , ও একে খন্দকারের ৭১ এর ভিতরে বাইরে বইটি, একই চক্রান্তকারী কর্তৃক, একই কৌশলে প্রকাশ।

গিরিশ চন্দ্রের নামে কোরাণের বাংলা অনুবাদ প্রকাশের পরে ইসলামের মূল দল, বা গুরুবাদীরা যেমন গিরিশ চন্দ্রের কোরাণের অনুবাদের বিরোধীতা করেছে, একে খন্দকারের বই প্রকাশের পর ঠিক তেমনিই, মুক্তিযুদ্ধের মূল দল, তথা আওয়ামী লীগ এর বিরোধীতা করছে। আর সে সময় যেমন ইসলামের শত্রু ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লারা গিরিশ চন্দ্রের পক্ষ অবলম্বন করেছিল, বর্তমানেও ঠিক তেমনি ভাবেই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ দল, তথা ইসলামের শত্রু ধর্ম ব্যবসায়ী ও ধর্ম নিয়ে রাজনীতিকারীরা একে খন্দকারের পক্ষ অবলম্বন করছে।

অতএব সাধু সাবধান।

লেখাটি প্রথম প্রকাশ হয় ২৭/০৯/২০১৪ ইং/ টুডে ব্লগ ও আমার ব্লগ ডট কম এ


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

 

(38) বার পঠিত

4 Responses

  • অঞ্জন

    প্রিয় গুরুজি,
    বাংলা অনুবাদে কোরআন বিকৃতি প্রতিয়মান।
    এ্যারাবিকরা বা অন্য দেশেও প্রচলিত কোরআনের মুল অর্থ থেকে দুরে সরে আছে বলে মনে করি।
    কিন্তু এমন কোন গোত্র বা জাতি আছে কি যারা কোরআনের মুল অর্থ মেনে চলছে বা বুঝতে পারছে??

    • গুরুজি

      জন্ম সূত্রে যে বা যাহারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী স্বত্বা বা উপাদান  ৫০% অধিক, অর্থাৎ কমপক্ষে ৫১% প্রাপ্ত হয়েছে, সে বা তাহারা প্রচলিত কোরআনের আইন মতো চলছে। তবে প্রচলিত কোরআন পড়ে বুঝে নয়, প্রকৃতির নিয়মে।

      তবে যদি প্রচলিত কোরআনের আইন সমূহের মূল অর্থ জেনে কেউ সে মতো চললে, সে তাঁর জীবনের আমূল পরিবর্তন, তথা শান্তি প্রাপ্ত হতে পারে

      প্রচলিত কোরআনের সঠিক অর্থ অল্প কিছু লোক জানে, তবে তারা গোপনে নিভৃতে সে আইন মেনে জীবন যাপন করে চলেছে। আবার কেউ কেউ তাঁর নিকটতম বিশ্বস্ত লোককে সে আইন জানানো ও মেনে চলার জন্য সাহায্য করে চলেছে।

       

  • শুক্রধর

    গুরুজী, আমরা কোরআনের সঠিক অনুবাদ কত দিনে পেতে পারি?

    • গুরুজি

      গ্রন্থ আকারে পেতে ২০২০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে ১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত সৃষ্টির ইসলামের ইতিহাস ও প্রচলিত কোরআন ইতিহাস পোষ্ট সমাপ্ত করার চেষ্টা করবো। সেই সাথে কিছু কিছু প্রচলিত কোরআনের অনুবাদ ব্যাখ্যাসহ পোষ্ট করার চেষ্টা করবো।

      এছাড়াও বর্তমানে যারা শিষ্য হিসাবে নিবন্ধিত হচ্ছে, তারাও আগামী ১২ বৎসর শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে, নিজের শারীরিক, মানসিক ও দীর্ঘায়ু বিষয়ে জ্ঞান লাভ ও উন্নতি সাধনের পাশাপাশি, প্রচলিত কোরআনের অনুবাদ ও করতে পারবে।

Leave a Reply