سُوْرَةْ اَلْفَاتِحَةْ

সূরাত আল ফাতিহাত

পাতা (চৈদ্দ)

  سُوْرَةْ  (সূরাত) শব্দের বাংলা অর্থ প্রতিচ্ছবি, اَل  (আল) শব্দের বাংলা অর্থ সমস্ত বা সমগ্র, فَتِحَ (ফাতিহা) শব্দের বাংলা অর্থ খোলা বা উম্মুক্ত। আর فَاتِحَةْ (ফাতিহাত) শব্দের বাংলা অর্থ প্রস্তাবনা।  কিন্তু সূরাত ফাতিহাত এর فَاتِحَ (ফাতিহা) লিখতে ফা অক্ষরের সাথে অউচ্চারিত আলিফ ব্যবহৃত হয়েছে। অউচ্চারিত আলিফযুক্ত ফা ব্যবহৃত ফাতিহা শব্দের বাংলা অর্থ হালকা। এই হালকা এর সাধারণ অর্থ- সামান্য, মৃদু ও সহজ। তবে প্রচলিত কোরআনে অব্যবহৃত আলিফ অক্ষরকে সব সময় মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বাকে বুঝতে হবে। সূত্রানুসারে প্রচলিত কোরআনে ব্যবহৃত “সূরাত আল ফাতিহাত” বাক্যের বাংলা অর্থ- “প্রতিচ্ছবিতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বার সমগ্র প্রস্তাবনা সহজ ভাবে উম্মুক্ত করিতেছি”

অর্থাৎ, সূরাত আল ফাতিহাতের মাধ্যমে প্রচলিত কোরআন, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর উপাদানের চাহিদা বা অভাব সমূহের প্রতিচ্ছবির প্রস্তাবনা সহজ ভাবে উম্মুক্ত করা হয়েছে বা উপস্থাপন করা হয়েছে। সে সূত্রে প্রচলিত কোরআন পরিস্কার ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর উপাদানের চলার পথে চাহিদা বা অভাব আছে। তাই মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বা তাঁর চাহিদা বা অভাব পূরণের জন্য সহজভাবে তাঁর প্রস্তাবনা সমূহ উম্মুক্ত বা উপস্থাপন করেছে।

তাহলে কি আমরা বুঝবো যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী উপাদানের কোন চাহিদা বা অভাব নাই? মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা কি তাঁর চাহিদা বা অভাব পূরণের জন্য কোন প্রস্তাবনা উম্মুক্ত বা উপস্থাপন করে নাই?

ঠিক তাই! মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বার চাহিদা বা অভাব আছে, কিন্তু মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বার কোন চাহিদা বা অভাব নাই। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি স্বত্বা বা নারী স্বত্বা নিজেই স্বয়ংসম্পন্ন। মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রধান ও প্রথম উপাদান হলো হাইড্রোজেন। একমাত্র হাইড্রোজেন নিজেই নিজের সাথে প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করতে সক্ষম। মহাবিশ্বের অন্য কোন উপাদানই নিজেই নিজের সাথে প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করতে সক্ষম নয়। হাইড্রোজেন নিজেই নিজের সাথে প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার ও রূপান্তরিত হতে সক্ষম হেতু, হাইড্রোজেনকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা বলা হয়েছে। হাইড্রোজেন নিজেই নিজের সাথে প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার কালে দ্বিতীয় উপাদান অক্সিজেন সৃষ্টি করে চলেছে।

সার কথা, মহাবিশ্ব সৃষ্টির মৌল উপাদান হাইড্রোজেন নিজেই নিজের সাথে প্রজননের মাধ্যমে নতুন হাইড্রোজেনের সৃষ্টি করে চলেছে। হাইড্রোজেন নিজেই নিজের সাথে সঙ্গমকালে অগ্নির ক্রিয়াশীল হলে, হাইড্রোজেনের মল হিসাবে অক্সিজেনের উৎপত্তি ঘটে। আর যখন এক ভাগ অক্সিজেন ও দুই

পাতা (পনেরো)

ভাগ হাইড্রোজেন একীভূত হয়, তখন উভয়ের মধ্যে অন্তর্নিহিত অবস্থায় থাকা অগ্নিতে, উভয়ে জ্বলে মল হিসাবে পানির উৎপত্তি ঘটে। আর যখন হাইড্রোজেনকে জ্বলতে সাহায্যকারী হিসাবে অক্সিজেন ব্যবহৃত হয়, তখন উভয়ের জ্বলনের মল হিসাবে কার্বনডাই অক্সাইড ও তাপের সৃষ্টি হয়। তাই, মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা হলো দাতা, আর মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বা হলো গ্রহীতা।

কারণ, মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা কাহারও সাহায্য ব্যতীতই নিজেই নিজের বংশ বিস্তার ও রূপান্তর ঘটাতে পারে, কিন্তু হাইড্রোজেন থেকে সৃষ্ট উপাদান সমূহ একাকী বংশবিস্তার ও রূপান্তরিত হতে পারে না। হাইড্রোজেন বা প্রকৃতি বা নারী স্বত্বার দানেই অক্সিজেন বা পুরুষ বা নর স্বত্বার উৎপত্তি। সে জন্যই প্রকৃতি দাতা ও পুরুষ গ্রহীতা। আর এই দাতা ও গ্রহীতাকেই প্রচলিত কোরআন اَللَّه আল্লাহ্‌ বা উপাস্য বলে পরিচয় দিয়েছে। তাই সূরাত আল ফাতিহাত এর বাংলা অর্থ- “প্রতিচ্ছবিতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বার সমগ্র প্রস্তাবনা সহজ ভাবে উম্মুক্ত করিতেছি”

সম্মানিত পাঠক!

মোহাম্মদ প্রচলিত কোরআনে মহাবিশ্বের সৃষ্টি সমূহের উপাস্যকে আল্লাহ্‌ বলে সম্বোধনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সৃষ্টি সমূহকে কি বার্তা দিয়েছেন, আসুন আজ আমরা সে বিষয়টি জেনে নিই।

আরবি আল্লাহ্‌ শব্দটি লিখতে মোট চারটি অক্ষর ব্যবহার হয়েছে। সে অক্ষরগুলি হলো-

ا  – আলিফ- অর্থাৎ মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বা। অক্সিজেন

ل – লাম- মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা। হাইড্রোজেন

ل – লাম- মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা। হাইড্রোজেন

ه – ছোটহা- মহাবিশ্ব সৃষ্টির অগ্নি স্বত্বা। আগুন

এখানে দেখা গেলো আল্লাহ্‌ শব্দটি লিখতে একটি পুরুষ বা নর স্বত্বা = এক কণা অক্সিজেন, দুটি প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা = দুই কণা হাইড্রোজেন ও উভয়ের মধ্যে অন্তর্নিহিত ভাবে অবস্থান করা একটি করে অগ্নি স্বত্বা = দুই কণা অগ্নি এর সম্মিলিত রূপের নাম হলো আল্লাহ্‌। উপরিউক্ত চার অক্ষর বা উপাদানের পাঁচ কণার সম্মিলিত শক্তি বা রূপের নাম আল্লাহ্‌।

মূলত আল্লাহ্‌ এক ও অদ্বিতীয় নয়। আল্লাহ্‌ হলো তিন উপাদানের পাঁচ কণার সম্মিলিত রূপ। আর

পাতা (ষোল)

সে জন্যই প্রচলিত কোরআনের অনেক জায়গায় লিখিত হয়েছে যে, আমরা সৃষ্টি করেছি, আমরা রিজেক দেয়, আমরা মৃত্যু ঘটাইবো।

 

প্রচলিত কোরআনের দৃষ্টিতে ও যে স্রষ্টা এক নয়, স্রষ্টা যে একাধিক এ বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(67) বার পঠিত

8 Responses

  • শুক্রধর

    গুরজী, আপনার লেখা থেকে বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ অভাবী আর প্রকৃতি অভাব মুক্ত তাহলে আমরা কেন প্রকৃতির উপাষনা না করে আল্লাহর উপাষনা করব?

    • গুরুজি

      আমার লেখার কোন বাক্যের কারণে আপনি বুঝলেন যে, আল্লাহ্‌ অভাবী ? দয়া করে পরিস্কার করুন।

  • শুক্রধর

    আল্লাহ পুরুষ না প্রকৃতি?

    • গুরুজি

      পুরুষ ও প্রকৃতির সম্মিলিত মহাশক্তির নাম আল্লাহ্‌। যাহা আল্লাহ্‌ লিখতে ব্যবহৃত অক্ষরের আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

  • অঞ্জন

    চার অক্ষর বা উপাদানের পাঁচ কণার সম্মিলিত শক্তি বা রূপের নাম আল্লাহ্‌।

    প্রিয় গুরুজি,

    এই ৫ কণা সম্মিলিত হলে বা একীভূত হলে কি বোধসম্পন্ন ও ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন সত্ত্বায় পরিনত হয়?

    আল্লাহ ডাকলে কি কণা গুলো সাড়া দেয়?

  • গুরুজি

    এই ৫ কণা সম্মিলিত হলে বা একীভূত হলে কি বোধসম্পন্ন ও ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন সত্ত্বায় পরিনত হয়?

    না! এই পাঁচ শক্তি একত্রিত হলে উৎপত্তি হয় পানি এবং ঐ পানিতে অন্তর্নিহিত উৎপত্তিগত শক্তির নাম আল্লাহ্‌।

    আল্লাহ ডাকলে কি কণা গুলো সাড়া দেয়?

    না! আল্লাহ্‌ ডাকলে ঐ কণা গুলি সাড়া দেয় না। তবে পান করলে আল্লাহ্‌ সাড়া দেয়। এই পানি হলো জীব উৎপত্তির আশ্রয়স্থল। তবে আব কাউসার বা পবিত্র পানি পানের মাধ্যমে জীব পবিত্র হতে পারে, আব জমজম বা সুমিষ্ট বা ঝরনার পানি পানের মাধ্যমে জীব আনন্দময় ও সুখী হতে পারে এবং আব হায়াত বা জীবন পানি পান করলে জীবের হায়াত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হতে পারে।

     

    • অঞ্জন

      যেহেতু আল্লাহ ডাকলে কণা গুলো সাড়া দেয় না, পানি পান করলে আল্লাহ সাড়া দেয়।

      তাহলে আল্লাহ ডাকা কি নিস্ফল?

      যে পানি পান করলে আল্লাহ সাড়া দেয়, এটা কি শুধু উপরোল্লিখিত তিন প্রকার পানি?

       

      • গুরুজি

        তাহলে আল্লাহ ডাকা কি নিস্ফল?

        উপাদান গ্রহণ ব্যতীত শুধু আল্লাহ্‌ ডাকা নিস্ফল। তবে উপাদান গ্রহণকালে নিয়ম করে আল্লাহ্‌ ডাকায় কর্মে একনিষ্ঠতা সৃষ্টি হেতু আশানুরূপ ফল লাভ হয়ে থাকে।

        যে পানি পান করলে আল্লাহ সাড়া দেয়, এটা কি শুধু উপরোল্লিখিত তিন প্রকার পানি?

        সকল প্রকার পানি পানেই আল্লাহ্‌ সাড়া দিয়ে থাকে, কিন্তু উপরিউক্ত তিন প্রকার পানি পানে আল্লাহ্‌ সবচেয়ে বেশি সাড়া দিয়ে থাকে।

         

Leave a Reply