পাতা (এগারো)

الاَيَة – আয়াত

বাংলা উচ্চারণ- আলিফ লাম আয়াত

শব্দটির বাংলা অর্থ- মহাবিশ্ব সৃষ্টির নর ও নারী স্বত্বার শ্লোক

অর্থাৎ প্রচলিত কোরআনে স্থান পাওয়া প্রতিটি সূরাত এ থাকা মোট শ্লোক সংখ্যার প্রতিটি শ্লোককে নর এবং নারী স্বত্বার এক একটি আয়াত বা শ্লোক বলা হয়েছে।

نَزِل – নাযিল

বাংলা উচ্চারণ- নাযিল

শব্দটির বাংলা অর্থ- অবতীর্ণ, অবতরণ

অবতীর্ণ শব্দের ব্যাখ্যা- কোন ব্যক্তি, বস্তু ও উপাদান এক স্থান হতে অন্য যে কোন স্থানে উপস্থিত, উপস্থাপিত ও উপস্থাপন হওয়াকে নাযিল বা অবতীর্ণ বলে।

অবতরণ এর ব্যাখ্যা- কোন ব্যক্তি, বস্তু ও উপাদান উপর হতে নিচে পড়া অথবা নামিয়ে আনাকে অবতরণ বলে।

প্রচলিত কোরআনে ব্যবহৃত نَزِل নাযিল শব্দটি অবতরণ ও অবতীর্ণ দুই অর্থেই ব্যবহার হয়েছে। প্রচলিত কোরআন অনুবাদের সময় নাযিল এর স্থানে শব্দটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

প্রচলিত কোরআনে স্থান পাওয়া ১১৪টি সূরাতকে নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণের দিক থেকে দুটি স্থানকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর একটি স্থান হলো মক্কা ও অপর স্থানটি হলো মদিনা। অর্থাৎ প্রচলিত কোরআনের যে সকল সূরাত মোহাম্মদ মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ে রচিত হয়েছে, সে সকল সূরাতসমূহকে মক্কী সূরাত, এবং যে সকল সূরাত মোহাম্মদ মদিনায় অবস্থানকালীন সময়ে রচিত হয়েছে, সে সকল সূরাতসমূহকে মাদানী সূরাত বলা হয়।

প্রকাশ থাকে যে, প্রচলিত কোরআনে এমন অনেক সূরাত আছে, যে সকল সূরাত এর মধ্যে থাকা কিছু সংখ্যক আয়াত বা শ্লোক মক্কায় রচিত হয়েছে, আবার কিছু সংখ্যক আয়াত মদিনায় রচিত হয়েছে। একই সূরাত মক্কায় রচিত আয়াত ও মদিনায় রচিত আয়াতের মিশ্রিত হলেও, সে সকল সূরাতকে শুধু মক্কী ও শুধু মাদানী সূরাত হিসাবে গন্য করা কোন অবস্থাতেই সঠিক হতে পারে না।

পাতা (বারো)

প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা এ ধরণের সূরাত সমূহের কিছু সূরাতকে মক্কী ও কিছু সূরাতকে মাদানী হিসাবে নির্ধারণ করে প্রচলিত কোরআনকে বিকৃত করেছেন।

এমনকি, প্রচলিত কোরআনের এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যে সকল আয়াতসমূহ রচনার সময় মোহাম্মদ মক্কা বা মদিনায় অবস্থান না করে মক্কা মদিনার বাইরে অন্য কোন স্থান অবস্থান করেছেন। সে সকল আয়াতসমূহকে ও প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা মক্কী ও মাদানী সূরাত বলেই লিপিবদ্ধ করেছেন। তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি প্রচলিত কোরআন সংকলকদের এ ধরণের কর্মকে গর্হিত অপরাধ বলে মনে করে।

প্রচলিত কোরআনের সংকলকদের সূরাত সমূহের নাযিল স্থান নির্ধারণের এই প্রক্রিয়াটিকে, তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি সঠিক বলে মনে করে না। কারণ প্রচলিত কোরআনের সূরাত সমূহের প্রায় অর্ধেক সূরাতের মধ্যে থাকা আয়াতসমূহ মোহাম্মদ মক্কা ও মদিনা উভয় স্থানে অবস্থানকালে রচিত হয়েছে। এবং বেশ কিছু আয়াত মোহাম্মদের মক্কা ও মদিনার বাইরে অবস্থানকালে রচিত হয়েছে। তাই কোন অবস্থাতেই প্রচলিত কোরআনের সংকলকেরা প্রচলিত কোরআনের সকল সূরাত সমূহকে মক্কী ও মাদানী সূরাত হিসাবে লিপিবদ্ধ করতে পারে না। মূলত যারা প্রচলিত কোরআনের সঙ্কলন করেছেন, তারা মূল কোরআন কি, সূরাত কি, নাযিল কি ও নাযিলের স্থান কি তা মোহাম্মদের নিকট হতে জ্ঞান প্রাপ্ত হয় নাই। তাই তারা প্রচলিত কোরআন সংকলনে এরূপ ভুল করেছেন।

মূলত প্রচলিত কোরআনের আয়াত বা শ্লোক সমূহ শুধুমাত্র মক্কা ও মদিনায় রচিত হয় নি। কিন্তু মূল কোরআনের সকল আয়াত বা উপাদান সমূহ শুধুমাত্র মক্কা ও মদিনায় নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়েছে। তাই মূল কোরআনের সূরাতের নাযিল স্থান মক্কা ও মদিনা। প্রচলিত কোরআনের সূরাত সমূহ নির্দিষ্ট ভাবে মক্কা ও মদিনায় নাযিল হয় নাই। সে জন্য কোন অবস্থাতেই প্রচলিত কোরআনের সূরাত সমূহকে মক্কী ও মাদানী লেখা হতে পারে না।

কীভাবে মূল কোরআনের আয়াতসমূহ মক্কা ও মদিনায় অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়েছে, তা জানতে হলে একমাত্র আলী ইবনে আবু তালিবের নিকট থেকেই জানতে হবে। আলী ইবনে আবু তালিবের নিকট ব্যতীত এ বিষয়ে জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়া কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। কারণ, প্রচলিত কোরআনে মোহাম্মদ নিজেই লিপিবদ্ধ করেছিলেন যে, আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তাঁর দরজা। কিন্তু যারা প্রচলিত কোরআন সঙ্কলন করেছে তারা আলী ইবনে আবু তালিবের নিকট থেকে কোন প্রকারে জ্ঞান লাভ করে নাই। সে জন্যই তারা প্রচলিত কোরআনে এই ধরণের ভুল করেছে।

মূল কোরআনের সূরাত সমূহ নাযিলের স্থান হিসাবে মোহাম্মদ সাংকেতিক ভাবে মক্কা ও মদিনাকে ব্যবহার করেছে। মুলত মক্কা হলো মদিনার দক্ষিণে অবস্থিত সে সূত্রে মদিনা মক্কার উত্তরে অবস্থিত। অর্থাৎ মূল কোরআনের সূরাত সমূহ নাযিলের স্থান হিসাবে মোহাম্মদ উত্তর ও দক্ষিণকে নির্ধারণ করেছে। উত্তর হলো নারী এবং দক্ষিণ হলো নর। আর সে জন্যই নরকে নারীর দক্ষিণ হস্ত বা ডান

পাতা (তেরো)

দিকে রাখার নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে। সে নিয়ম অনুসারেই বিবাহের সময় নরকে নারীর ডান দিকে বা দক্ষিণ দিকে, এবং শয়নকালেও নরকে নারীর ডান পাশে বা দক্ষিণ পাশে রেখে শয়ন করার নিয়ম রাখা হয়েছে।

সার কথা, নর হতে যাহা নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়েছে সে সকল উপাদান বা সূরাত সমূহকে মক্কী উপাদান বা সূরাত বলে, এবং নারী হতে যাহা নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়েছে সে সকল উপাদান বা সূরাত সমূহকে মাদানী উপাদান বা সূরাত বলে। এই হিসাবটি আহাদি বা একক হিসাবের নামকরণ।

আবার নারীর বক্ষদেশে অবস্থিত ডান বা দক্ষিন ও বাম বা উত্তর স্তনের মহাভাণ্ড থেকে যে উপাদান সমূহ বা সূরাত সমূহ নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়, তাঁহার ডান স্তন মহাভাণ্ডের নাযিলকৃত উপাদান বা সূরাত সমূহকে মক্কী সূরাত এবং বাম স্তন মহাভাণ্ডের নাযিলকৃত উপাদান বা সূরাত সমূহকে মাদানী সূরাত বলে। এই হিসাবটিকে আহাম্মদি বা দ্বৈত বা যুগল হিসাব বলে।

আবার নারীর বক্ষদেশ বা দুই স্তন থেকে যে উপাদান সমূহ বা সূরাত সমূহ নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়, সেই উপাদান বা সূরাত সমূহকে মক্কী সূরাত বলে, এবং নারীর স্ত্রী লিঙ্গ হতে যে উপাদান সমূহ বা সূরাত সমূহ নাযিল বা অবতরণ ও অবতীর্ণ হয়, সে সকল উপাদান সমূহ বা সূরাত সমূহকে মাদানী সূরাত বলে। এই হিসাবটিকে মহাম্মদি বা সামষ্টিক হিসাব বলে।

আবার মক্কা বলতে মা ও মদিনা বলতে স্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মায়ের নিকট হতে সন্তান যে সকল উপাদান প্রাপ্ত হয়, তাহাঁকে মক্কী সূরাত বলে, এবং স্ত্রীর নিকট হতে স্বামী যে সকল উপাদান প্রাপ্ত হয়, তাহাঁকে মাদানী সূরাত বলে।

———————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————————-

১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(112) বার পঠিত

9 Responses

  • অঞ্জন

    মিথ্যা কথা হাজার জন বিশ্বাস করলেও সেটা মিথ্যা,

    সত্য কথা কেউ বিশ্বাস না করলেও সেটা সত্য।

    সত্যে ভরে উঠুক সবার হৃদয়চিত্ত।

  • আবু সাইদ

    তরীকাতে সূন্নাতাল্লাহির মতে,মক্কা ও মদিনা বলতে কি বুঝায়।

  • গুরুজি

    এই পোষ্টে মক্কা মদিনার যে পরিচয় উপস্থাপন করা হয়েছে, তাই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির মত। কারণ তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি হলো, উপাস্যের আইন, পথ বা পদ্ধতি।  আর মোহাম্মদ সে পথ ও পদ্ধতি প্রচলিত কোরআনে সাংকেতিক ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। সেই সংকেতের যে অর্থ, তা-ই এই পোষ্টে উপস্থাপন করা হয়েছে।

  • অঞ্জন

    প্রিয় গুরুজি,

    লা ইলাহা উচ্চারন করতে কোন ব্যন্জন বর্নের প্রয়োজন হয় না, নিজে নিজে উচ্চারিত হতে পারে। এ বিষয়ের একটি লেখা চাই।

    আর নতুন পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

     

    • গুরুজি

      লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ লিখতে কোন ব্যাঞ্জন বর্ণ লাগে নাই, কথাটি সঠিক নয়। মূলত ঐ বাক্যটিতে নুক্তা ওয়ালা কোন বর্ণ ব্যবহার হয় নাই। ঐ বাক্যে যে সকল বর্ণ ব্যবহার হয়েছে সে বর্ণ সমূহ নুক্তাবিহিন বর্ণ।

  • আবু সাইদ

    মীম আয়াত সমূহে যে বস্তু বা উপাদান অবতীর্ণ ও অবতরন হয়,সে সকল সূরাতসমূহ মাক্কি না মাদানী।

    • গুরুজি

      মহাম্মদি হিসাবে মীম এর উপাদান মক্কী, কিন্তু আহাম্মদি হিসাবে মীমের একাংশের উপাদান মক্কী ও অপর অংশের উপাদান মাদানী। ভালো ভাবে পোষ্টটি পড়লে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

  • আবু সাইদ

    আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ(ব্লগ হওয়ায়,ভক্তের ভক্তির ভাব শ্রদ্ধা এড়িয়ে গেলাম)।দয়া করে রাসূল(সাঃ)এর হিজরত বিষয়ে,কোন ব্যাখ্যা বা পোস্ট দিবেন।

    • গুরুজি

      চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

Leave a Reply