بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

শব্দার্থ- বি- প্রতি, ইসম- নাম, আল্লাহ্‌- উপাস্য, আলিফলাম রাহমানি- গর্ভাশয়স্থিত নর ও নারী উপাদানের, আলিফলাম রাহিম- দয়াময় নার ও নারী উপাদান।

আয়াতের অনুবাদ- গর্ভাশয়স্থিত নর ও নারী উপাদানে,দয়াময় নর ও নারী উপাদানের উপাস্যের নামের প্রতি।

সকল অনুবাদকেরাই এই আয়াতের অর্থ করেছে- শুরু করছি দাতা দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে। কিন্তু এই আয়াতের কোথাও শুরু করছি বাংলা শব্দদ্বয়ের বিপরীতে আরবি শব্দ ব্যবহার হয় নি। শুরু করছি শব্দদ্বয়ের আরবি শব্দ না থাকা সত্ত্বেও অনুবাদকেরা কেন যে, শুরু করছি শব্দদ্বয় ব্যবহার করলো, এ বিষয়ে বুঝতে আমি অপারগ, এ বিষয়ের ব্যাখ্যা কেবল ঐ সকল অনুবাদকেরাই দিতে পারবে। যারা বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর বাংলা অর্থ ‘শুরু করছি দাতা দয়ালু আল্লাহ্‌র নামে’ অনুবাদ করেছে।

পবিত্র প্রচলিত কোরআনে মাত্র একবার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বাক্যটি ব্যবহার হয়েছে, আর এই বাক্যটি সূরাত নামল এর ৩০ নম্বর আয়াতে লিপিবদ্ধ হয়েছে।

      إِنَّهُ مِنْ سُلَيْمَانَ وَإِنَّهُ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

পাতা (৭)

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- ইন্নাহু মিন সুলাইমানা ওয়া ইন্নাহু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সূরাত নামল- আয়াতঃ৩০

আয়াতের শব্দার্থ- ইন্নাহু- নিশ্চয় উহা, মিন- হতে, সুলাইমানা- সুলাইমানের, ওয়া- আর, ইন্নাহু- নিশ্চয় উহা, বি- প্রতি, ইসম- নাম, আল্লাহ্‌- উপাস্য, আলিফলাম রাহমানি- গর্ভাশয়স্থিত নর ও নারী উপাদান, আলিফলাম রাহিম- দয়াময় নর ও নারী উপাদানে।

আয়াতের বাংলা অর্থ- নিশ্চয় উহা সুলাইমান হতে আর নিশ্চয় উহা গর্ভাশয়স্থিত নর ও নারী উপাদানে দয়াময় নর ও নারী উপাদান উপাস্যের নামের প্রতি।

এই আয়াতের মূল বক্তব্য বুঝতে হলে সূরাত নামল এর ২৮ নম্বর আয়াত থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পড়তে হবে। সূরাত নামল এর ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

(সুলাইমান বললো) তুমি আমার এই গ্রন্থ নিয়ে যাও। অতঃপর এটা তাঁদের কাছে নিক্ষেপ করো, তাঁরপর তাঁদের কাছ থেকে সরে থাকো এবং দেখো, তারা কি জবাব দেয়।

নামল ২৯ আয়াতে বলেছে-

قَالَتْ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ إِنِّي أُلْقِيَ إِلَيَّ كِتَابٌ كَرِيمٌ

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- কালাত ইয়া আইউহাল মালাউ ইন্নি উলকিইয়া ইলাইয়া কিতাবুন কারিম।

আয়াতের বাংলা অর্থ- (স্ত্রীলিঙ্গ) বলিল, হে পূরণকারীগণ, উহা থেকে আমাকে নিশ্চয় সম্মানিত গ্রন্থ নিক্ষেপ করেছে।

এর অর্থ এই দাঁড়ায় যে, সুলাইমান থেকে সম্মানিত গ্রন্থ পূরণকারীদের কাছে, তথা সেই কিতাব বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বিলকিসের কাছে নিক্ষেপ করেছে, যা বিলকিস প্রকাশ করেছেন উক্ত সূরাত এর উক্ত আয়াতে।

সার কথা- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা মূলতঃ শুক্রাণু বুঝানো হয়েছে। এই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম লিখতে মোট ১৯টি অক্ষর লাগে। আর সে ১৯টি অক্ষর হলো-

১। ب – বা- ২,  ২। س – সিন- ৬০,  ৩। م – মীম- ৪০,  ৪। ا  – আলিফ- ১,  ৫। ل – লাম- ৩০,  ৬। ل – লাম- ৩০,  ৭। ه – ছোটহা- ৫,  ৮। ا  – আলিফ- ১ ,  ৯। ل – লাম- ৩০,  ১০। ر – রা- ২০০  ১১। ح – বড়-হা- ৮,  ১২। م – মীম- ৪০  ১৩। ن – নুন- ৫০,  ১৪। ا  – আলিফ- ১,  ১৫।

পাতা (৮)

 ل – লাম- ৩০,  ১৬। ر – রা- ২০০,  ১৭। ح – বড়-হা -৮,  ১৮। ي  – ইয়া- ১০  ১৯। م – মীম- ৪০

অর্থাৎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এর মধ্যে ১৯টি অক্ষর তথা, ১৯টি উপাদান রয়েছে। আর ১৯টি উপাদানের নাম সমূহ হলো, উপরিউক্ত নাম বা অক্ষরগুলি। এই ১৯টি অক্ষরের মধ্যে মৌলিক অক্ষর রয়েছে মোট ১০টি। যথা-

১। (ক) ل – লাম- পুন্যমান- ৩০,  (খ) ل – লাম- পুন্যমান- ৩০,  (গ) ل – লাম- পুন্যমান- ৩০,  (ঘ) ل – লাম- পুন্যমান ৩০,

২। (ক) م – মীম- পুন্যমান- ৪০,  (খ) م – মীম- পুন্যমান- ৪০,  (গ) م – মীম- পুন্যমান- ৪০

৩। (ক) ا  – আলিফ- পুন্যমান- ১,  (খ) ا  – আলিফ- পুন্যমান- ১ ,  (গ) ا  – আলিফ- পুন্যমান- ১,

৪। (ক)  ر – রা- পুন্যমান- ২০০,  (খ)  ر – রা- পুন্যমান- ২০০,

৫। (ক) ح – বড়-হা- পুন্যমান- ৮,  (খ) ح – বড়-হা- পুন্যমান- ৮,

৬। ب – বা- পুন্যমান- ২,

৭। س – সিন- পুন্যমান- ৬০,

৮। ه – ছোটহা- পুন্যমান- ৫,

৯। ن – নুন- পুন্যমান- ৫০,

১০। ي  – ইয়া- পুন্যমান- ১০

বিসল্লাহির রাহমানির রাহিমে লেখা মৌলিক এই দশটি অক্ষর বা শুক্রাণুতে থাকা মৌলিক দশটি উপাদান দ্বারা জীবদেহের মৌলিক ১০টি ক্রিয়াশীল অংশের উৎপত্তি হয়েছে। জীবদেহের মৌলিক ১০টি ক্রিয়াশীল অংশ বা অঙ্গের নাম-

১। কালেব ২। রূহ ৩। শের ৪। খফি ৫। আখফা ৬। নফস ৭। আব ৮। আতশ ৯। খাক ও ১০। বাদ। জীবদেহে ক্রিয়াশীল উক্ত দশটি অংশ বা অঙ্গকে লতিফা বলা হয়।

পাতা (৯)

(১) লাম- আরবি লাম অক্ষরটি দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি স্বত্বা বা নারী স্বত্বার আলামত বহন করে।  জীবদেহে লাম অক্ষর দ্বারা- কালেব অঙ্গকে বুঝানো হয়েছে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতে ব্যবহৃত লাম অক্ষর দ্বারা জীব দেহের কালেব বা হার্টকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেনোনা জীবদেহে পরিচালিত হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াকে প্রকৃতি স্বত্বা বা নারী স্বত্বা বলা হয়। আর লাম অক্ষরটি চারবার ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে যে, কালেব বা হার্ট এর মূল ক্রিয়া চার ভাগে বিভক্ত। যথা-

মানব হৃৎপিন্ড ৪টি মূল প্রকোষ্ঠে বিভক্ত, ডান অলিন্দ ও ডান নিলয় এবং বাম অলিন্দ ও বাম নিলয় ।

মূলত লাম হলো হাইড্রোজেন।

(২) মীম- আরবি মীম অক্ষরটি দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির অপ্রাকৃত স্বত্বা বা না পুরুষ না প্রকৃতি স্বত্বা ও প্রকৃতি ও পুরুষ স্বত্বার সংমিশ্রণে উৎপত্তি স্বত্বাকে বুঝানো হয়েছে। জীবদেহে মীম হরফকে শের বলা হয়। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতে মীম অক্ষরটি তিন বার ব্যবহৃত হওয়ার মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে যে, উক্ত মীম নামক অপ্রাকৃত স্বত্বা দ্বারা মহাবিশ্বের (১) নর (২) নারী (৩) নপুংশক তিন প্রজাতিকেই স্বত্বা দান করে সঞ্জীবিত রাখেন, এবং এই অপ্রাকৃত স্বত্বা তিন বিভাগ থেকে সঞ্জীবনী স্বত্বা প্রদান করে থাকে। আর বিভাগ তিনটি হলো- ১। আব হায়াত, ২। আব কাউসার, ৩। আব জমজম।

মূলত মীম হলো পানি।

(৩) আলিফ- আরবি আলিফ অক্ষরটি দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ স্বত্বা বা নর স্বত্বাকে বুঝানো হয়েছে। জীবদেহে আলিফ অক্ষরটি দ্বারা খফিকে বুঝানো হয়েছে। জীবদেহের পুরুষ বা নর স্বত্বা হলো বীজ উৎপাদক স্বত্বা। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতে আলিফ অক্ষরটি তিনবার ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে যে, মহাবিশ্বে প্রাণী উৎপত্তিতে তিন প্রকারের বীজ উৎপাদন হয়ে থাকে। যথা- (১) নর (২) নারী (৩) নপুংশক।

মূলত আলিফ হলো অক্সিজেন

(৪) রা- আরবি রা অক্ষরটি দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির মৌল স্বত্বাকে খণ্ডাইত ও শংকরাইত করার স্বত্বা ও উপাদানকে বুঝানো হয়েছে। জীবদেহে রা অক্ষর দ্বারা আখফাকে বুঝানো হয়েছে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতে রা অক্ষরটি দু-বার ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে, রা অক্ষরটি জীবকে দুই জগতের বিষয়াদিকে শংকরায়নের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন মিশ্র স্বত্বায় রুপান্ত করে ও দুই জগতের বিষয়াদিকে গোচরীভূত করে। দুই জগত হলো- জমিন ও আসমান। জীবদেহে সাত আসমান ও সাত জমিন বিদ্যমান। যথা-

(১) আসমান- দম, কদম, অহম, ফহম, আক্কেল, এলেম, হেলেম।

(২) জমিন- গোশত, পোস্ত, হাড়, রোগ, গুর্দা, মণি, মগজ।

পাতা (১০)

(৫) বড়-হা- আরবি বড়-হা অক্ষরটি দ্বারা মহাবিশ্বের বিবর্তনকারী স্বত্বা বা উপাদানকে বুঝানো হয়েছে। জীবদেহে বড়-হা অক্ষরটি দ্বারা নফস বা কাম স্বত্বাকে বুঝানো হয়েছে। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম আয়াতে বড়-হা অক্ষরটি দু-বার ব্যবহারের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে যে, নফস দুটি ক্রিয়ার মাধ্যমে মহাবিশ্বকে বিবর্তিত করে চলেছে। তাঁর একটি হলো জন্ম ও অপরটি হলো মৃত্যু। এই জন্ম মৃত্যু ক্রিয়ার মাধ্যমে বড়-হা বা নফস বা কাম মহাবিশ্বকে পরিবর্তিত করে চলেছে প্রতি নিয়ত।

৬। বা- বা অক্ষর দ্বারা বাতাস

৭। সিন- সিন অক্ষর দ্বারা মাটি

৮। ছোট-হা- ছোট-হা অক্ষর দ্বারা আগুন

৯। ইয়া- ইয়া অক্ষর দ্বারা আলো ও

১০। নুন- নুন অক্ষর দ্বারা রূহ বা প্রাণকে বুঝানো হয়েছে।

সম্মানিত পাঠক-

প্রথমেই বলা হয়েছিল যে, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলতে এলমে তাসাউফ বা প্রচলিত কোরআনের পরিভাষায় শুক্রাণুকে বুঝানো হয়েছে। পুরুষ লিঙ্গে প্রধানত ১০টি শিরা রয়েছে। এই প্রধান দশটি শিরা হতে, আরও নয়টি উপশিরার উৎপত্তি হয়েছে। এই দশটি প্রধান বা মূল শিরা ও নয়টি উপশিরাসহ মোট উনিশটি শিরা দিয়ে উৎপত্তিগত ও নির্গত হওয়া উনিশ উপাদান বিশিষ্ট শুক্রাণু দিয়েই জীবের জন্ম প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়ে চলেছে সেই মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু থেকে। এই দশটি শিরার মধ্যে একটি শিরা হতে চারটি উপশিরা, দুটি শিরা হতে তিনটি করে উপশিরা ও অপর দুটি শিরা হতে দুটি করে উপশিরা বিদ্যমান রয়েছে।

উক্ত ১৯টি শিরা ও উপশিরা হতে ১৯ প্রকারের উপাদান মিশ্রিত শুক্রাণু উৎপত্তি হয় । মুলতঃ শুক্রাণুতে থাকা ১৯টি উপাদানকেই প্রচলিত কোরআন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে অভিহিত করেছে। মূলত বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ঐ উনিশ অক্ষরের পুণ্যমান ৭৮৬। যা বিসমিল্লাহ্‌তে ব্যবহৃত অক্ষর সমূহের পুণ্য মান যোগ করলেই পাওয়া যাবে।

(44) বার পঠিত

0 Comments

Leave a Reply