পাতা (১)

তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির মাধ্যমে আপনার আগামীর জীবন সুখী ও সমৃদ্ধশালী হউক এই কামনা রেখে, সর্ব প্রথম তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি কি, সে বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই।

সম্মানিত পাঠক,

আপনারা অবগত আছেন যে, বর্তমান মুসলিম বিশ্বে অনেকগুলো তরীকা বিদ্যমান। এ সকল তরীকা সমূহের মধ্যে প্রধান প্রধান তরীকাগুলি হলো- সুন্নি, শিয়া, কাদিয়ানী, হানাফি, ওহাবি, দেওবন্দি ইত্যাদি। এ ছাড়া ও গুরুবাদে ও বেশ কয়েকটি তরীকা প্রতিষ্ঠিত রূপ পেয়েছে। যেমন, (১) চিশতিয়া তরীকা (২) কাদরিয়া তরীকা (৩) নকশাবন্দী তরীকা (৪) মোজাদ্দেদিয়া তরীকা (৫) বাহাই তরীকা।

এ সকল তরীকা সমূহের উৎপত্তি ঘটেছে মোহাম্মদ ইন্তেকালের তৃতীয় শতাব্দী হতে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে। প্রকাশ থাকে যে, মোহাম্মদের জীবদ্দশায় উক্ত নামে কোন তরীকাই ছিল না। আর চিশতিয়া, কাদরিয়া, নকশাবন্দী, মোজাদ্দেদিয়া ও বাহাই এবং শিয়া, সুন্নি, কাদিয়ানী, দেওবন্দি, হানাফি ও ওহাবি এর একটি ও মূলতঃ তরীকা নয়। তরীকার এই নামগুলোর উৎপত্তি হয়েছে তরীকা প্রতিষ্ঠাকারীর জন্মস্থানের নাম, গোত্রীয় নাম ও নিজ নামের উপর ভিত্তি করে। মোদ্দা কথা হলো- প্রচলিত কোরআন উপরিউক্ত তরীকাগুলোকে, কোন অবস্থাতেই তরীকা বলে স্বীকার করে না। প্রচলিত কোরআনের দৃষ্টিতে যদি কোন তরীকা থেকে থাকে, তা হলো “তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি”।

الطَرِيقَةِ سُنَّةَ اَللَّهِ

তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি

তরীকা শব্দের বাংলা অর্থ পথ বা নিয়ম। সুন্নাত শব্দের বাংলা অর্থ বৎসর, আদর্শ, আচরণ, ঐতিহ্য। আল্লাহ্‌ শব্দের বাংলা অর্থ উপাস্য। তাই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি বাক্যটির বাংলা অর্থ- উপাস্যের বাৎসরিক আদর্শ, আচরণ ও ঐতিহ্যের পথ বা নিয়ম। অর্থাৎ যে পন্থা বা নিয়ম অবলম্বন করলে জীবসমূহ উপাস্যের সৃষ্ট এক বৎসরের আদর্শ, আচরণ ও ঐতিহ্যের অধিকারী হতে পারে, তাহাঁকেই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি বলা হয়। মহাবিশ্বে আল্লাহ্‌ বা উপাস্যের বাৎসরিক আদর্শ, আচরণ ও

(পাতা-২)

ঐতিহ্যের থেকে উত্তম আর কোন পন্থা বা তরীকা নাই। মহাবিশ্বে একটাই তরীকা বা পন্থা। তা হলো তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি।

তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুন্নাতাল্লাহি বা উপাস্যের বাৎসরিক আদর্শ, আচরণ ও ঐতিহ্য বিষয়ক জ্ঞান লাভ করা। সেক্ষেত্রে উপাস্যের বাৎসরিক হিসাব আমাদের গণনায় কতো হবে সে বিষয়ে প্রচলিত কোরআন বলেছে যে-

وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- ওয়া ইন্না ইয়াউমু ইন্দা রাব্বিকা কা-আলফি সানাতিন মিম্মা তাউদ্দাওনা। সূরাত হজ্জ- আয়াতঃ৪৭

আয়াতের বাংলা অর্থ- আর নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার এক বার, আপনার গণনায় হাজার বৎসর হবে। সূরাত হজ্জ- আয়াতঃ৪৭

আবার সূরাত আস সাজদায় বলেছে-

يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- ইউদাব্বিরুল আমরি মিনাস সামায়ি ইলাল আরদি।

আয়াতের বাংলা অর্থ- সে-ই আদেশ দ্বারা পরিচালিত করেন মহাশূন্য থেকে পৃথিবী পর্যন্ত। সূরাত আস সাজদা- আয়াতঃ৫

ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- সুম্মা ইয়ারুজু ফি ইয়াউমিন কানা মিকদারুহু আলফা সানাতিন মিম্মা তাদুউনা।

আয়াতের বাংলা অর্থ- তারপর তা এক বারের মধ্যেই তাঁর কাছে উঠে যাবে। যা তোমাদের গণনায় হাজার বৎসর হবে। সূরাত আস সাজদা- আয়াতঃ৫

অর্থাৎ, উপাস্যের একদিন সমান আমাদের গণনায় হাজার বৎসর, তাহলে প্রভুর বাৎসরিক সময় গণনা সমান আমাদের গণনায় কতো সময় হতে পারে বা হবে, সে সময়ের জ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার পন্থাকেই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহি বা উপাস্যের বাৎসরিক আদর্শ, আচরণ ও ঐতিহ্যের পথ বা নিয়ম বলা হয়।

(পাতা-৩)

তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির প্রথম শ্রেণীর নাম হুঁশ দর দম। এই পাঠের আলোচ্য বিষয় হুঁশ দর দম বলতে এলমে তাসাউফের দৃষ্টিতে মুলতঃ কি বুঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা করা।

সম্মানিত পাঠক-

হুঁশ শব্দটি বাংলা ভাষার শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত কোন ভাষা থেকে হুঁশ শব্দটি বাংলা ভাষাতে এসেছে সে বিষয়ে সঠিক ধারণা বাংলা ভাষাবিদদের কাছে নাই। তবে ধারণা করা হয় যে, হুঁশ শব্দটি জ্ঞান, চেতনা, চৈতন্য ইত্যাদি মৌলিক শব্দকে উপস্থাপন করতে, হিজরি পঞ্চম শতকে খাজা মইনুদ্দিন চিশতী সাংকেতিক শব্দ হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন। আর তখন থেকেই বিভিন্ন ভাষাতে হুঁশ শব্দটি চেতনা, চৈতন্য, জ্ঞান শব্দের সমার্থক শব্দ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মূলত হুঁশ শব্দটি এলমে তাসাওয়াফ কর্তৃক আবিষ্কৃত সাংকেতিক শব্দ। যার বাংলা অর্থ জ্ঞান, চেতনা, চৈতন্য।

দর শব্দটি ও একই ভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসা শব্দ। যার বাংলা অর্থ প্রবাহিত বা প্রবাহমান। দম শব্দটি ও অনুরূপ ভাবে এলমে তাসাওয়াফধারীদের দ্বারা আবিষ্কৃত শব্দ যার বাংলা অর্থ বায়ু। সে হিসাবে হুঁশ দর দম শব্দের বাংলা অর্থ বায়ুর প্রবাহিত বা প্রবাহমান বিষয়ে জ্ঞান। সার কথা, মহাবিশ্ব সৃষ্টির উপাদান সমূহে বায়ু প্রবাহ বিষয়ক জ্ঞানকেই এলমে তাসাউফের দৃষ্টিতে হুঁশ দর দম বলে।

এলমে তাসাউফের দৃষ্টিতে তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির প্রথম শ্রেণী ‘হুঁশ দর দম’ এ, আপনি প্রচলিত কোরআনের আলোকে মহাবিশ্ব সৃষ্টির উপাদান সমূহে বায়ুর প্রবাহ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করবেন। কারণ বায়ু হচ্ছে, যে কোন প্রাণীর জন্য অপরিহার্য একটি উপাদান। আপনি খাদ্য গ্রহণ না করে, শুধুমাত্র পানি পান করে ৩০ দিনের অধিক বেঁচে থাকতে সক্ষম হবেন না। আবার আপনি পানি পান না করে, শুধুমাত্র খাদ্য গ্রহণ করে তিন দিনের অধিক সময় বেঁচে থাকতে পারবেন না। অপর দিকে পানি ও খাদ্য গ্রহণের পরেও শুধুমাত্র বায়ু সেবন না করলে মাত্র তিন মিনিট ও আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন না। তাহলে দেখা গেলো যে, জীবের জন্য সব থেকে অপরিহার্য উপাদানটির নাম হলো বায়ু। সেই

পাতা (৪)

বায়ু প্রবাহ বিষয়ে শিক্ষা বা জ্ঞানার্জন করা হবে এলমে তাসাউফের প্রথম শ্রেণী হুঁশ দর দম ক্লাশের মূল উদ্দেশ্য। আর বায়ু প্রবাহ বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতে হলে সর্ব প্রথমে আমাদিগকে সঠিক ভাবে প্রচলিত কোরআন জানতে হবে। হুঁশ দর দম শ্রেণীতে জ্ঞান লাভ করা যাবে, দেহ মধ্যে কোন কোন স্থানে কি পরিমানে বায়ু বিদ্যমান রয়েছে, সে বায়ু সমূহ কি কি নামে আছে ও দেহ মধ্যে কি গতিতে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। বায়ুর গতি প্রকৃতির কি ধরণের প্রবাহে জীব শান্তিময় জীবন প্রাপ্ত হবে, বায়ু গতি প্রকৃতির বা প্রবাহের কি ধরণের বিভ্রাট হলে, জীব কি ধরণের অশান্তির শিকার হবে, কি প্রক্রিয়ায় বায়ু প্রবাহের বিভ্রাট দূরীভূত করে পুনরায় শান্তিময় জীবনে ফিরে যাওয়া যাবে, এবং বায়ু সাধন করে কীভাবে শান্তিময় দীর্ঘায়ু লাভ করা যাবে। আসুন, এই শ্রেণীতে আমরা প্রচলিত কোরআনের মাধ্যমে মহাবিশ্ব সৃষ্টিতে, বায়ু প্রবাহের রহস্যময় জ্ঞান অর্জন শুরু করি।

القُرْاَنْ

কোরআন

কোরআন আরবি শব্দ। যার বাংলা অর্থ পঠিত। প্রচলিত কোরআনে উল্লিখিত কোরআন বা পঠিতকেই এলমে তাসাউফের ভাষায় প্রবাহ বা প্রবাহমান বলে প্রকাশ করেছে। প্রচলিত কোরআনে ‘কোরআন’ শব্দটি লিখতে প্রথমে আলিফ ও লাম অক্ষর ব্যবহার হয়েছে। অথচ ব্যবহৃত আলিফ ও লাম উচ্চারিত হয় নি। উচ্চারিত হয়েছে আলিফ ও লাম অক্ষর বাদ দিয়ে শুধু ‘কোরআন’ শব্দটি। আলিফ ও লাম অক্ষর উচ্চারিত হয় নি, অথচ কোরআন লিখতে আলিফ ও লাম অক্ষর ব্যবহার হয়েছে। উচ্চারিত না হওয়া সত্ত্বেও কেন ‘কোরআন’ লিখতে আলিফ ও লাম অক্ষরের ব্যবহার হয়েছে অবশ্যই তা আমাদের জানা প্রয়োজন। জেনে রাখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোন পাঠক প্রচলিত কোরআনে ব্যবহৃত অ-উচ্চারিত অক্ষর সমূহের মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই পাঠক প্রচলিত কোরআনে আলোচিত বিষয়ের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছুই বুঝতে সক্ষম হবে না।

সম্মানিত পাঠক-

আসুন, আজ আমরা জেনে নিই, প্রচলিত কোরআনে ব্যবহৃত অ-উচ্চারিত অক্ষর সমূহের মর্মার্থ। সে লক্ষে প্রথমে জেনে নিই, প্রচলিত কোরআনে- কোরআন লিখতে অ-উচ্চারিত আলিফ ও লাম অক্ষরের ব্যবহার কেন হয়েছে তাঁর সঠিক ও গোপন বিষয় বা মর্মার্থ।

পবিত্র প্রচলিত কোরআনের যেখানেই অ-উচ্চারিত আলিফ অক্ষর ব্যবহার করতে দেখা যাবে,

পাতা (৫)

সেখানেই বুঝে নিতে হবে যে, ঐ আলিফ অক্ষর দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ বা নর স্বত্বা বা উপাদানকে উপস্থাপন করেছে। আর যেখানে অ-উচ্চারিত লাম অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেই বুঝতে হবে যে, ঐ লাম অক্ষর দ্বারা মহাবিশ্ব সৃষ্টির প্রকৃতি বা নারী স্বত্বা বা উপাদানকে উপস্থাপন করেছে। সূত্রানুসারে প্রচলিত কোরআনে উল্লিখিত القُرْاَنْ ‘কোরআন’ শব্দটি লিখতে যেহেতু অ-উচ্চারিত আলিফ ও লাম অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এই কোরআন শব্দের মূল অর্থ হবে “মহাবিশ্বের পুরুষ ও প্রকৃতি স্বত্বায় পঠিত”।

“মহাবিশ্বের পুরুষ ও প্রকৃতি সত্ত্বায় পঠিত” শব্দ বা বাক্যের মাধ্যমে মোহাম্মদ মহাবিশ্বের প্রাণীসমূহকে কি বার্তা দিয়েছেন, আসুন আজ আমরা সে বিষয়ে জেনে নিই।

পবিত্র প্রচলিত কোরআনের সূরাত রাদ এর ১৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে যে-

وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ

আয়াতের আরবি উচ্চারণ- ওয়া লিল্লাহি ইয়াসজুদু মান ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি।

আয়াতের বাংলা অর্থ- মহাশূন্য ও পৃথিবীর মধ্যে অবস্থিত সকল কিছুই উপাস্যের জন্য সেজদা বা প্রণিপাত করিতেছে।

এই আয়াতের মাধ্যমে প্রচলিত কোরআন, পাঠকমণ্ডলীকে বার্তা দিচ্ছে যে, মহাবিশ্বের সকল প্রাণীই উপাস্যের জন্য সেজদা বা প্রণিপাত করে। আর প্রচলিত কোরআন পাঠ করতে গেলে পনেরোটি সেজদা বা প্রণিপাতের সম্মুখীন হতে হয়। সে সূত্রে মহাবিশ্বের সকল প্রাণীতেই কোরআন বা পঠিত বিদ্যমান, ও মহাবিশ্বের সকল প্রাণীই উপাস্যের জন্য সেজদা বা প্রণিপাতের মাধ্যমে, উপাস্যের আদেশ ও নিষেধ পালনে ব্রতী রয়েছে। আর এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, প্রচলিত কোরআন শুধুমাত্র কোন এক প্রজাতিয় প্রাণীর জন্য লিখিত হয় নি বা এক প্রজাতিয় প্রাণীর জন্য বার্তা বহন করে না, বরং প্রচলিত কোরআন মহাবিশ্বের সকল প্রজাতিয় প্রাণীর জন্য লিখিত হয়েছে, ও সকল প্রকার প্রাণীর জন্য বার্তা বহনকারী গ্রন্থ হিসাবে বিরাজমান।

উক্ত আয়াতে সেজদা বা প্রণিপাত বিষয় উপস্থাপন হয়েছে। তবে আজ আমি সেজদা বা প্রণিপাত বিষয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিবো না। কারণ প্রচলিত কোরআন উপস্থাপনের সময় সূরাত ও আয়াত উপস্থাপনের ধারাবাহিকতায় সেজদা শব্দটি আসবে, তখন সেজদা বা প্রণিপাত বিষয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

পাতা (৬)

সার কথা, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পুরুষ ও প্রকৃতি বা নর ও নারী উপাদানে যে মহাউপাদান অবিরত পঠিত হচ্ছে, সে উপাদানের পঠিত রূপকে কোরআন বলা হয়। যেমন জীবদেহে অবিরত ভাবে রক্ত প্রবাহমান, বায়ু প্রবাহমান, সেই সাথে অন্যান্য অনেক উপাদান প্রবাহমান। যে মহাউপাদান জীব সমূহে উপাদান সমূহকে প্রবাহমান রেখেছে, সেই প্রবাহমান মহাউপাদান ও উপাদান সমূহের সমষ্টিকে মূল  কোরআন বলা হয়। আর মূল কোরআন চিনতে ও জানতে যে গ্রন্থ সহায়ক ভুমিকা পালন করছে, সে গ্রন্থের নাম প্রচলিত কোরআন। আর প্রচলিত কোরআনকে চিনতে ও জানতে যে বা যিনি সহায়ক ভুমিকা পালন করছে, তাঁর নাম মুর্শিদ। আর কাউকে মুর্শিদের পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে, এলমে তাসাউফের বারোটি ক্লাশ পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে খলীফা বা প্রতিনিধি উপাধি লাভ করতে হবে। আর সে লক্ষ নিয়েই তরীকাতে সুন্নাতাল্লাহির পথযাত্রা।

(34) বার পঠিত

0 Comments

Leave a Reply