ওমোরের লাথির আঘাতে দরজা ভেঙ্গে ফাতেমা পেটে আঘাত পেয়ে পড়ে যায়। এতে করে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফাতিমা পেটের যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় রক্তপাত। তিনদিন পরে ফাতিমার গর্ভপাত হয়ে যায়। সেখানে অপরিণত অবস্থায় এক মৃত পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। দাফনের পূর্বে সে সন্তানের নাম রাখা হয় মহসিন। ওমোরের লাথির আঘাতে সেই যে রক্তপাত শুরু হল, এই রক্তপাত শেষ পর্যন্ত ফাতিমাকে মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছে দিল। মোহাম্মদ মারা যাওয়ার ৭৬ দিন
(কুড়ি)
পরে, মাত্র ১৯ বছর বয়সে, সকলের বড় ৮ বছরের সন্তান হাসানসহ, হোসেন, যয়নব ও রোকেয়াকে শিশু অবস্থায় চির এতিম করে দিয়ে, ফাতিমা মৃত্যুবরণ করেন।
ইতিহাসবেত্তারা ইতিহাসের পাতায় লিখেছেন যে, আবু বকর সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন, কিন্তু আসল সত্য হল নারীদের মধ্যে সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন খাদিজা, ও পুরুষদের মধ্যে সর্ব প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছেন আলী। ইতিহাসবেত্তারা ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর হওয়ার যোগ্যতা হিসাবে বলেছেন, মেরাজের কাহিনী আবু বকর বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করেছিলেন, তাই মোহাম্মদ তাঁকে সিদ্দিক উপাধি দিয়েছিলেন। মোহাম্মদ মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে নামাজে ইমামতির নির্দেশ দিয়েছেন। মূলত এ কথাগুলি একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট।
মোহাম্মদ মৃত্যুর প্রায় ২৫০ বৎসর পরে মোহাম্মদের উদ্ধৃতি দিয়ে উমাইয়া পরিবারের যুক্তিতে প্রচলিত কোরআন অমান্যকারীদল দ্বারা লিখিত গ্রন্থ হাদিসে, এ সকল বিষয় যুক্ত করেছে। হাদিস হল বিজ্ঞানময় প্রচলিত কোরআনের বিরুদ্ধে অবৈজ্ঞানিক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অন্ধবিশ্বাসীদের দ্বারা রচিত গ্রন্থসমূহ। হাদিসে মোহাম্মদের মেরাজের যেই কাহিনী বর্ণনা করেছে, প্রচলিত কোরআন তা স্বীকার করে না। বিজ্ঞানময় প্রচলিত কোরআনে হাদিসে উল্লেখিত মোহাম্মদের ঐ রকম উদ্ভট মেরাজের কথা লিখিত হয় নি। প্রচলিত কোরআনে যখন মোহাম্মদের মেরাজের বিষয় নিয়ে কিছুই বলে নাই, সেখানে মোহাম্মদের মেরাজের কাহিনী বিনা প্রশ্নে আবু বকরের বিশ্বাস করার কোন প্রশ্নই আসে না। আর সেই মেরাজ কাহিনী বিশ্বাসের জন্য আবু বকরের সিদ্দিক উপাধি পাওয়া, একেবারেই ভিত্তিহীন। আর, নামাজের ইমামতি শুধু আবু বকর নয় অনেকেই করেছে। যেহেতু নামাজ কোন ফরয এবাদত না, তাই নামাজে ইমামতি করার জন্য আবু বকর ইসলামের প্রথম খলীফা হওয়ার যোগ্য, একথা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
ইতিহাস লেখকেরা বলেছেন, আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের পরে ইসলাম গ্রহণ করেছে। তাঁদের একথা একেবারেই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট। যদি আবু সুফিয়ান মক্কা বিজয়ের পরে ইসলাম গ্রহণ করতো, তাহলে ইসলামের প্রথম খলীফা আবু বকর নয়, আবু সুফিয়ানই হতো। কারণ, আবু সুফিয়ান আবু বকর, ওসমান ও ওমোর অপেক্ষা অনেক বেশি প্রভাবশালী ও প্রতিপত্তিশালী ছিল। এবং সে আবু বকর অপেক্ষা ১৩ বছরের বড় ছিল। কিন্তু, সে বয়সে সকলের চেয়ে বড় হওয়া সত্ত্বেও, এবং সমাজে সকলের চেয়ে প্রভাব ও প্রতিপত্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও, শুধু মাত্র ইসলাম গ্রহণ করে নাই হেতু, সে ইসলামের প্রথম খলীফা হওয়ার অযোগ্য ছিলেন।
মোহাম্মদ মৃত্যুর পরে আবু বকর, ওসমান ও ওমোর, আবু সুফিয়ানের পরামর্শে প্রচলিত
(একুশ)
কোরআনের প্রায় ১০ হাজার আয়াত পুড়িয়ে ফেলে। প্রচলিত কোরআন থেকে প্রায় ১০ হাজার আয়াত পুড়িয়ে দিয়ে, আবু বকর ইসলামের প্রথম খলীফা নির্বাচিত হয়। এতে করে আবু বকরের খেলাফতি সময়ে প্রচলিত কোরআনের আয়াত সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার থেকে কমে প্রায় ৮ হাজারের মতো হয়ে যায়।
আবু বকর, ওসমান ও ওমোরের নেতৃত্বে প্রচলিত কোরআনের এই আয়াত কমে যাওয়া, ও অমুসলিম উমাইয়া পরিবারের সাথে হাত মেলানোর কারণে, সাধারণ মুসলমানেরা আবু বকরদের পক্ষ না নিয়ে, আলীর পক্ষ অবলম্বন করে। মূলত আবু বকরের খেলাফতি কালেই মুসলমানেরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মূল ইসলামী দল, অর্থাৎ আলীর দল, অন্যভাগ মুসলমান ও অমুসলমান মিশ্রিত দল, অর্থাৎ আবু বকর ও আবু সুফিয়ানের দল।
আবু বকরের খেলাফতি সময়ে প্রায় ৭০ শতাংশ সাধারণ মুসলমান আলীর পক্ষ অবলম্বন করে, আর মাত্র ৩০ শতাংশ সুবিধাবাদী, দলবাজ মুসলমান আবু বকর, ওসমান ও ওমোরের পক্ষে অবস্থান করে। কিন্তু, উমাইয়া পরিবার তথা অমুসলিমরা আবু বকরদের পক্ষ অবলম্বন করায়, মুসলমানেরা- অর্থাৎ আলীর দল, আবু বকরদের দলের কাছে সংখ্যালঘু দলে পরিণত হয়ে যায়।
আবু সুফিয়ানের পরামর্শে ও উমাইয়া পরিবারের ক্ষমতা যোগে, আবু বকরের খলীফা নিযুক্ত হওয়া, প্রচলিত কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে ফেলা, ও মোহাম্মদ মৃত্যুর ৭৬ দিন পরে ফাতিমার মৃত্যু হওয়ায়, আলী একেবারেই ভেঙ্গে পড়েন। সেই সাথে তাঁর চারজন শিশু সন্তানের প্রতিপালনের বিষয় চিন্তা করে, তিনি একেবারেই নিরব হয়ে যান। এর মধ্যে যে সকল মুসলমানেরা আবু বকরদের দ্বারা প্রচলিত কোরআন পুড়ানোর কথা জন সমক্ষে প্রকাশ করেছে, ও পুড়িয়ে ফেলা দশ হাজার আয়াতের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছে, তাকেই ভণ্ড নবী উপাধি দিয়ে হত্যা করেছে। মূলত আবু বকরের খেলাফতি কালে কেউই নিজেকে নবী বা রাসুল দাবী করেনি। তাঁরা শুধু প্রচলিত কোরআনের আয়াত পুড়িয়ে ফেলা, ও অমুসলিম আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ না করা সত্ত্বেও, তাঁর বুদ্ধিতে আবু বকরদের পরিচালিত হওয়ার বিরোধিতা করে, প্রকাশ্যে মুখ খোলার জন্যই তাঁরা নিজেকে নবী বা রাসুল দাবী করেছে অজুহাতে, ভণ্ড নবীর উপাধি দিয়ে, আবু সুফিয়ানের যুক্তিতে, ও আবু বকরের নির্দেশে ইসলামে নিবেদিত প্রাণ, অনেক জ্ঞানী ও বিজ্ঞ মুসলমানকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে।
এভাবেই আবু বকরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আবু সুফিয়ান, সাধারণ মুসলমান হতে জ্ঞানী, গুণী ও বিশিষ্ট বক্তা শ্রেণীর, ইসলামের একনিষ্ঠ কর্মীদেরকে ধিরে ধিরে হত্যা করতে থাকে। খেলাফতির দুই বৎসর তিন মাস পরে আবু বকর বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে, ১৩ হিজরি সনের ২২ এ
(বাইশ)
জমাদিউস সানির মধ্যরাতে মৃত্যু বরণ করেন।


১। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

২। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৩। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(65) বার পঠিত

2 Responses

  • শুক্রধর

    নামাজ ফরজ ইবাদত নয়? তাহলে নামাজ কী ইবাদত?
    তাহলে কী ফরজ ইবাদত?

    • গুরুজি

      ফরজ হল- যে কর্ম প্রতিটি জীবের জন্য অপরিহার্য। যাহা পরিহার করলে জীব ইহলোক ও পরলোকে অশান্তিতে নিমজ্জিত হবে।

      আর নামায হল- যে নির্লজ্জ ও অশ্লীল কাজের সাথে জড়িয়ে গেছে, সে নির্লজ্জ ও অশ্লীল কাজ হতে মুক্তির জন্য নামায আদায় করবে। যে নির্লজ্জ ও অশ্লীল কাজের সাথে জড়িত নয় তাঁর নামায পড়ার দরকার নাই। সে সূত্রে নামায প্রতিটি জীবের জন্য অপরিহার্য নয়।

      সূরা আনকাবুত- ৪৫ আয়াতটি দয়া করে পরে দেখুন।

Leave a Reply