মসজিদে নববিতে ফজরের নামাযের ইমামতি করা অবস্থায় আবু লুলু খঞ্জর দিয়ে ওমোরকে  উপর্যুপরি ছয়টি আঘাত করে। একটি আঘাত তাঁর নাভির নিচে লাগায়, পাকস্থলী কেটে যায়। তবে সব থেকে মজার ব্যপার হলো, খঞ্জরের আঘাতে ওমোর পড়ে গেলেও, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ আহত ওমোরকে রক্ষা করার চেষ্টা না করে, খঞ্জরের আঘাতে পড়ে যাওয়া ওমোরকে পাশে রেখে, নিজে ইমামতি শুরু করে নামাজ শেষ করে। এমন কি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ চিৎকার করে মুসাল্লিদিগকে বলে, নামায শেষ হওয়ার আগে কেউ যেন কাতার না ভাঙ্গে ও নামায না ছাড়ে। কিন্তু ওমোরের শুভানুধ্যায়ীরা আব্দুল্লাহ ইবনে আওফের কথায় কর্ণপাত না করে, নামায শেষ না করেই ওমোরকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, ও হত্যাকারী আবু লুলু কে আটক করে।

ওমোরের জ্ঞান ফিরে এলে এক চিকিৎসক তাঁকে দুধ পান করালে, নাভির নিচের কাটা স্থান দিয়ে সেই দুধ বের হতে থাকলে চিকিৎসক জানিয়ে দেয় যে, ওমোর হয়তো এ যাত্রায় আর সুস্থ হবে না। তাঁর মৃত্যু অনিবার্য। তখন আবু সুফিয়ানের পক্ষ হতে একজন ওমোরের পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর কে খলীফা নির্বাচন করার পক্ষে প্রস্তাব রাখলে, ওমোর সরাসরি তা নাকচ করে দেন। কারণ, ওমোর জানতো যে, তার ছেলে আব্দুল্লাহ আবু সুফিয়ানের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করবে না, এতে করে আবু সুফিয়ানের অভিলাষ পূর্ণ হবে, এবং ইসলামের সমূহ ক্ষতির সম্ভাবনা রয়ে যাবে।

ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্বাচনের ব্যপারে ওমোর- ওসমান অথবা আলীকে অসিয়ত করে। কিন্তু আবু সুফিয়ান কোন অবস্থাতেই যেন, আলী অথবা ওসমান এই দুই জনের কেউই ইসলামের তৃতীয় খলীফা হতে না পারে, সে জন্য ওমোরের অসিয়তকে প্রাধান্য না দিয়ে জুরি বোর্ডের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্বাচনের পক্ষে জোরালো মত প্রকাশ করে। সে ক্ষেত্রে তিনজনকে ইসলামের তৃতীয় খলীফা পদে প্রার্থী হিসাবে প্রস্তাব রাখা হয়। প্রার্থী তিনজন হলেন-

(ছাব্বিশ)

আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, ওসমান ইবনে আফফান ও আলী ইবনে আবি তালেব। সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য একজন করে ভোটার বা জুরি সদস্য থাকবে। যথা- আলীর পক্ষের জুরি সদস্য যুবায়ের ইবনে আওয়াম, ওসমানের পক্ষের জুরি সদস্য তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফের পক্ষে জুরি সদস্য সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাসকে নির্বাচিত করা হয়। সপ্তম হিসাবে থাকলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর। তবে আবু সুফিয়ান কর্তৃক আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোরের উপরে নির্দেশ ছিল যে, সে যেহেতু খলীফা হওয়ার জন্য প্রার্থী হতে পারবে না, তাই সে যেন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ এর পক্ষে ভোট প্রদান করে। আবু সুফিয়ান তথা উমাইয়া পরিবার ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যে, কোন অবস্থাতেই ইসলামের তৃতীয় খলিফা হিসাবে আলী অথবা ওসমানের কেউ হতে না পারে, এবং কোন অবস্থায়ই যেন আব্দুর রহমান ইবনে আওফের খলীফা নির্বাচিত হওয়ায় কোন বাধা না থাকে।

আয়েশার ইচ্ছাতে ওমোরের দাফন আবু বকরের পাশে করা হয়, এবং ওমোরের জানাজা নামাযের ইমামতি করে সুহায়েব।

ওসমান কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখার হলেও আবু সুফিয়ানের সাথে তাঁর মতবিরোধ হয় এই কারণে যে, আবু সুফিয়ান বিশ্বাস করতো, মোহাম্মদের জামাই হওয়ার কারণে ওসমানের যে ক্ষমতা ও অধিকার থাকা প্রয়োজন তাঁকে তা দেওয়া হলে, উমাইয়া পরিবারে শাসন ক্ষমতা আবু সুফিয়ান পরিবার থেকে ওসমান পরিবারে চলে যাবে। তাই সে ওসমানকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য আয়েশার সাথে জোট করে, আলী ও ওসমানকে শাসন ক্ষমতার বাইরে রাখার সকল চেষ্টা করতে থাকে। আর সে জন্যই ওসমান উমাইয়া পরিবারের হওয়া সত্ত্বেও আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে। সে সূত্র ধরেই ওসমান ও আলীর মধ্যে একটা বন্ধু ভাবাপন্ন হয়ে যায়।

আবু সুফিয়ানের যুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, যে ছয় জনকে খলীফা নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে একটি ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যতক্ষণ সিদ্ধন্তে উপনিত না হতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই ঘরের বাইরে আসতে পারবে না। কোন তথ্য আদান প্রদানের প্রয়োজন হলে সেটা আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর আদান প্রদান করবে।

আবু সুফিয়ানের চিন্তা ছিল, যদি আলী, ওসমান ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ দুটি করে ভোট পায়, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোরের ভোটে যেন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্বাচিত হয়। আর যদি আব্দুর রহমান তিন ভোট, আর আলী দুই ভোট ও ওসমান এক ভোট পায়, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর যেন ওসমানকে ভোট প্রদান করে। তাহলে আলী ও ওসমান দুইটি

(সাতাইশ)

করে ভোট পাবে ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তিন ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে যাবে। আর যদি আলী এক ভোট ও ওসমান দুই ভোট এবং আব্দুর রহমান ইবনে আওফ তিন ভোট পায়, তাহলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর যেন, সেক্ষেত্রে আলীকে ভোট প্রদান করে।

কিন্তু আবু সুফিয়নের সব চিন্তাকে পর্যবসিত করে, আলী ইবনে আবি তালেব তাঁর নিজের ভোটসহ তাঁর পক্ষের জুরি সদস্য যুবায়ের ইবনে আওয়ামের ভোটও, ওসমান ইবনে আফফানকে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেই, সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক যুবায়ের ইবনে আওয়াম ও আলী ইবনে আবি তালেব ওসমান ইবনে আফফানকে ভোট প্রদান করে। এতে করে ওসমান ইবনে আফফান চার ভোট ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ দুই ভোট পেয়ে, ওসমান ইবনে আফফান ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্বাচিত হয়। এ ক্ষেত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোর ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। কারণ আব্দুল্লাহ ইবনে ওমোরের ভোট পেলেও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ নির্বাচিত হতে পারতো না, তাই সে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিন দিনের জন্য সুহায়বকে সাময়িক খলীফার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওমোরের হত্যার পিছনে কার হাত আছে তা জানতো হরমুযান নামে এক ব্যক্তি। আবু সুফিয়ানের বিশ্বাস ছিল, জুরি বোর্ডে ইসলামের তৃতীয় খলীফা হিসাবে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ নির্বাচিত হবে। তখন আর ওমোর হত্যার বিচার হবে না। কিন্তু, আবু সুফিয়ানের সব পরিকল্পনা বিফল করে দেয় আলী পক্ষের দুটি ভোট। আর তাতে ইসলামের তৃতীয় খলীফা হিসাবে নির্বাচিত হয় ওসমান ইবনে আফফান।

ওসমান ইবনে আফফান ইসলামের তৃতীয় খলীফা নির্বাচিত হলে, আবু সুফিয়ান ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ নিশ্চিত হয়ে যায় যে, ওসমান খলীফা পদে অধিষ্ঠিত হলেই ওমোর হত্যার তদন্ত হবে, এবং হরমুযান ওমোর হত্যার আসল হত্যাকারী কে তা প্রকাশ করে দেবে। তাই আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও আবু সুফিয়ান সিদ্ধান্তে উপনিত হয় যে, এই অবস্থায় হরমুযানকে আর বাঁচিয়ে রাখা যায় না। সে সিদ্ধান্ত মোতাবেক জুরি বোর্ডে ওসমান খলীফা নির্বাচিত হওয়ার তারিখে, সন্ধ্যা বেলায় আবু সুফিয়ানের লোকেরা, হরমুযানকে নিহত করে, এবং হরমুযানের হত্যাকারী হিসাবে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও আবু সুফিয়ানের দলের লোকেরা উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমোরকে আটক করে। যদিও উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমোর হরমুযানের হত্যা বিষয়ে কিছুই অবগত ছিল না।

ওসমান খলীফা পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরে প্রথম যে বিচার মীমাংসা করে, তা হল- হরমুযান হত্যার বিচার। যার হত্যাকারী হিসাবে অভিযুক্ত উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমোর। বিচারে সাক্ষী হিসাবে আবু

(আটাইশ)

সুফিয়ানের দল হতে প্রায় আটজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়। তম্মধ্যে দু’জন ছিল প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। আর তারা হলেন খৃষ্টান ক্রীতদাস যাফিনাহ ও সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস, যে আব্দুর রহমান ইবনে আওফের পক্ষে জুরি বোর্ডের সদস্য ছিল। হত্যার বিনিময়ে হত্যা অথবা রক্তমূল্যের বিনিময়ের মাধ্যমে শাস্তি সম্পন্ন হওয়ার আইন থাকায়, আলী ও ওসমানের বিচক্ষণতায় রক্ত মুল্যের বিনিময়ে মৃত্যুদণ্ড হতে উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমোর নিষ্কৃতি পায়। অবশ্য হরমুযানের পরিবার সে রক্তমূল্য গ্রহণ করেনি। কারণ, তারা বিশ্বাস করতো যে, উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমোর হরমুযানকে হত্যা করে নি। হরমুযানকে হত্যা করেছে ওমোর হত্যার পিছনে থাকা ষড়যন্ত্রকারী দল, অর্থাৎ আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও আবু সুফিয়ানের সাঙ্গ পাঙ্গরা

 


১। আলোচনা করে জ্ঞানীগণ, ঝগড়া করে অজ্ঞানীগণ ও মারামারি করে পশুগণ। সেরু পাগলার বাণী।

২। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

৩। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৪। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(167) বার পঠিত

19 Responses

  • আবু সাইদ

    পড়লাম

    • গুরুজি

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  • অঞ্জন

    জীবন্ত লেখনী……..

     

     

    • গুরুজি

      লেখাটি পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  • মোহাঃ কামরুল ইসলাম

    মূল কোরআন চিনতে প্রচলিত কোরআন জানুন= পর্ব-নয় বাকী আট পর্ব কেথায়?
     

    • গুরুজি

      এই ব্লগেই আছে। দয়া করে খুঁজে দেখুন। ব্লগের ফ্রন্ট পেজের একেবারে নিচে ১,২.৩ এর পরে নেক্সট লেখা আছে, ওখানে গিয়ে ১ এ ক্লিক দিলেই এক পেজ আগের পোষ্ট দেখা যাবে, ২ এ ক্লিক দিলে দুই পেজ পূর্বের পোষ্ট দেখা যাবে, আর নেক্সট এ ক্লিক দিলে আগের পোষ্ট সমূহ দেখা যাবে।

      • আবু সাইদ

        উক্ত বিষয়গুলো প্রচার এবং প্রকাশের পাশাপাশি প্রচলিত কোরানের সূরাতসমূহের তাসাউফ তত্বের উপর তাফসীর দিন,সর্ব জীবে মঙ্গল হবে।দিনতো চলে যাচ্ছে,জানবো কবে?আর এবাদৎ করবো কবে?কিসে হবে নাগীনি বশ,সাধবো কবে অমৃত রস?

        • গুরুজি

          সেপ্টেম্বর মাস থেকে শিক্ষা উদ্দেশ্যে লেখা শুরু করবো। তখন থেকে ধারাবাহিক প্রচলিত কোরআনের সুরাত, আয়াতের তরজমা, তাফসীরসহ তথ্য ও তত্ত্ব আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ্‌।

  • আবু সাইদ

    ধন্যবাদ।সেই অপেক্ষায় রইলাম।

  • মাসুম

    অনেক কিছু জানতে পারলাম,, ধন্যবাদ গুরুজী

    • গুরুজি

      লেখাটি পড়া ও মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

      • মাসুম

        আপরার প্রত্যেকটি লেখাই আমি পড়ি,, অপেক্ষায় ছিলাম প্রচলিত কোরবানি ঈদ নিয়ে কিছু লিখবেন,,

         

        • মাসুম

          আপনার হবে গুরুজী,,

        • গুরুজি

          আপনার এই মন্তব্যের অর্থ আমি বুঝি নাই। আপনি কি আমাকে থ্রেট দিলেন?

        • গুরুজি

          কোরবানি নিয়ে না লেখার করণ, ওটা কোরআনের অনুবাদের সময় আলোচনা করবো ।

  • মাসুম

    গুরুজী,, থ্রেট দেয়ার মতো এতোটুকু সাহস নেই,, কোরবানি সম্পর্কে জানার ইচ্ছা ছিলো,, ভূল হলে ক্ষমা করবেন।

    • গুরুজি

      থ্রেট না হলে- আপনার হবে গুরুজী,, উক্তির ব্যখ্যা দিন। ঐ উক্তির মাধ্যমে আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন।

  • মাসুম

    প্রথম কমেন্টসে আপনার লিখতে গিয়ে বানান ভূলে আপরার লিখে ফেলেছি,, পরের কমেন্টসে আপরার জায়গায় আপনার হবে ,, সেটাই বুঝাতে চেয়েছিলাম।।ভূল হলে ক্ষমা করবেন গুরুজী।।

    • গুরুজি

      ব্যাখ্যা যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। ধন্যবাদ।

Leave a Reply