আজ আমি আপনাদের সম্মুখে মহা বিজ্ঞানময় প্রচলিত কোরআন হতে, আল্লাহ বা স্রষ্টার পরিচয় তুলে ধরতে চেষ্টা করবো। কারণ আজ বেশ কয়েক দিন ধরে লক্ষ করছি যে- ব্লগে কিছু ইসলাম বিদ্বেষী আল্লাহর অস্তিত্ব বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাই আমি তাদের সন্দেহ দুরীভূত করতে কিছুটা অগ্রহ নিয়েই এই লেখাটি উপস্থাপন করছি। আশা করি যারা আল্লাহর অস্তিত্ব ও ক্ষমতা বিষয়ে জানতে আগ্রহী তাদের জন্য এই লেখাটি চিন্তার খোরাক যোগান দেবে। আর যারা বিদ্বেষ বশতঃ আল্লাহ নাই প্রমাণে স্ব-চেষ্ট তাদের আশাহত করবে। আসুন আমরা মূল আলোচনা শুরু করি।

প্রচলিত কোরআনের সূরা এখলাসের চারটি আয়াতে বলেছে-

বলুন তিনিই এক আল্লাহ । অমুখাপেক্ষী আল্লাহ। তাহাকে কেহ জন্ম দেয় নাই। তিনিও কাহাকেও জন্ম দেন নাই। আর তাহার সমতুল্য কেহই নাই

এই সূরা এখলাসের এক নম্বর আয়াতের আলোকে ইসলাম পন্থীরা বলে থাকেন যে- আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। কিন্তু প্রচলিত কোরআনের মধ্যে মোট ৩১ টি আয়াতে আল্লাহ নিজেকে আমরা বলে পরিচয় দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে-প্রচলিত কোরআনের যে যে আয়াতে আল্লাহ নিজেকে আমরা বলেছেন, সে সকল আয়াতের অনুবাদের সময় অনুবাদকেরা আমরা এর স্থলে আমি লিখেছে। কিন্তু তারা কেন আমরা এর যায়গায আমি অনুবাদ করলেন সে বিষযে তাদের কাছ থেকেই উত্তরটি জানতে চাই। দয়া করে আপনারা যারা অনুবদক তারা বলবেন কেন আপনারা আমরা এর যায়গায় আমি লিখলেন?

এর পরে আমি প্রশ্ন রাখি সেই সকল ইসলামিষ্টদের প্রতি- যারা ধর্মকে পূঁজী করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। যারা মনে করেন এই কোরআন ও ইসলাম ধর্ম আপনাদের বাপ দাদার সম্পদ। তো- এত দিনেও অনুবাদকদের এই ভুল অনুবাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেন নি কেন? নাকি আপনারা এই অনুবাদ কে অর্থাৎ আমরা এর যায়গায় আমি অনুবাদ কে সঠিক অনুবাদ মনে করেন? আশা করি আপনারা এর জবাব করবেন।

প্রচলিত কোরআনের মধ্যে যে ৩১ টি আয়াতে আল্লাহ নিজেকে আমরা বলেছেন, তম্মধ্য হতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি আয়াত আপনাদের জ্ঞাতার্থে উপস্থাপন করলাম।

আর আমরাই জীবণ দান করি ও মৃত্যু দান করি, এবং আমরাই ইহার উত্তরাধীকার। সূরা হিজর আয়াতঃ ২৩

আর আমরাই সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীবাসীর উত্তরাধীকার থাকিয়া যাইব। সূরা মরিয়ম আয়াতঃ ৪০

আর আমরা জানি যাহারা দোজখে যাইবার অধিক উপযোগী। সূরা মরিয়ম আয়াতঃ ৭০

নিশ্চয় আমরা মৃতদিগকে জীবিত করিব। সূরা ইয়াসিন আয়াতঃ ১২

আর মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছি নফসের কু-মন্ত্রণা হইতে।আর আমরা রহিয়াছি তাহাদের স্কন্ধশীরা হইতেও নিকটে। সূরা কাফ আয়াতঃ ১৬

নিশ্চয় আমরাই জীবণ দেই ও আমরাই মৃত্যু ঘটায়। সূরা কাফ আয়াতঃ ৪৩

আমরাই তোমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছি তবুও সত্য স্বীকার করিতেছ না। সূরা ওয়াকিয়া আয়াতঃ ৫৭

উহাকে তোমরা সৃষ্টি করো- নাকি আমরা সৃষ্টি করি? সূরা ওয়াকিয়া আয়াতঃ ৫৯

আর আমরাই তোমাদের মৃত্যু নির্ধারণ করিয়াছি। আর আমরা উহাতে অসমর্থ নই। সূরা ওয়াকিয়া আয়াতঃ ৬০

তাহা তোমরা অঙ্কুরিত করো- না আমরা অঙ্কুরিত করি? সূরা ওয়াকিয়া আয়াতঃ ৬৪

নিশ্চয় আমরা নাযিল করিয়াছি নাযিলকৃত কোরআনে। সূরা দাহর আয়াতঃ ২৩

এই যে প্রচলিত কোরআনে আল্লাহ ৩১ টি আয়াতে নিজেকে আমরা বললো, আবার সূরা এখলাসে আল্লাহ নিজেকে এক ও অদ্বিতীয় বললো, তাহলে অবশ্যয়ই প্রচলিত কোরআন স্ব-বিরোধী কথা বলেছে। পাতি নাস্তিকেরা এই পোষ্ট থেকে এ রকম একটি রসদ পাওয়াতে, আনন্দে হয়তো গদো গদো হতে পারেন। এখানে আপনাদের আনন্দিত হওয়ার কিছুই নাই। বরং এই উভয়বিধ বিষয়ের মর্মার্থ বুঝলে হিংসায় আপনাদের মাথায় হাত উঠে যাবে। এমন কি সেই বিজ্ঞানীদের ও মাথায হাত উঠে যাবে যারা দাবি করছেন যে তারা ইশ্বর কণা আবিস্কার করে ফেলেছেন। কারণ আরবের এক অশিক্ষীত মহাম্মদ ১৪০০ বছর আগে প্রচলিত কোরআনে যাহা বলে গিয়েছেন। ১৪০০ বছর পরেও তারা তারঁ ধারে কাছেও যেতে পারেন নি।

মূলত যারা বলছেন যে- তারা ইশ্বর কণিকা আবিস্কার করে ফেলেছেন, মূলত তারা ইশ্বর কণা আবিস্কার করতে পারেন নাই। তারা মূলত আবিস্কার করেছে আল্লাহ হতে ধাপে ধাপে সৃষ্ট পাঁচটি নূরের, পাঁচতম সৃষ্ট জালালী নূর। তাদের কে ইশ্বর কণা আবিস্কার করতে হলে এখনো আল্লাহ হতে সৃষ্ট চারটি নূরকে পাড়ি দিতে হবে। সে চারটি নূরের নাম- আদি নূর, জাতী নূর, সেফাতি নূর ও জামালী নুর। এর পরেই কেবল ইশ্বর কণা আবিস্কার করা সম্ভব।

এখন আমি প্রশ্ন রাখি সে সকল ইসলামিষ্টদের প্রতি- যারা কোরআন, মহাম্মদ ও আল্লাহর অবমাণনাকারীকে হত্যা করতে প্রতীজ্ঞাবদ্ধ। আপনারা বলুন, সূরা এখলাসে বলা আল্লাহ এক ও কোরআনের ৩১টি আয়াতে আল্লাহকে আমরা বলার কারণ কি? এবং আপনারা প্রমাণ করুন যে- প্রচলিত কোরআনে বলা উভয় কথাই সঠিক। আর তা প্রমান না করতে পারলে তো পাতি নাস্তিকেরা এই কোরআনকে সঠিক বলে মানবে না। আপনারা ধর্মকে পূঁজী করে জীবিকা নির্বাহ করবেন, আর আল্লাহ কোরআন ও মহাম্মদ সত্য প্রমাণে আমাদেরকে প্রাণ পণ লড়াই করতে হবে।

লেখাটি প্রথম যেখানে পোষ্ট করেছিলাম


১। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নেওয়া ছলনাময়ী আশ্রয়টুকুর নামই, প্রেম বা ভালবাসা। সেরু পাগলার বাণী।

২। যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই ইসলাম বা শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। আর- যাহার চিন্তা বাক্য ও কর্ম, নিজের, সমাজের, দেশের তথা বিশ্ব অ-শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে নিযোজিত, সেই অ-ইসলাম বা অ-শান্তি ধর্মের লোক। তা সে যে সম্প্রদায়েরই হউক না কেন। সেরু পাগলার বাণী।

৩। আস্তিক হলো তারাই- যারা বিশ্বাস করে আল্লাহর অস্তিত্ব আছে। আল্লাহ দেহধারী, তাকে দেখা যায় ও তাকে ধরা যায়।
নাস্তিক হলো তারা- যারা মনে করে আল্লাহ নিরাকার, তাকে দেখা ও ধরা যায় না।
আর যারা বিশ্বাস করে স্রষ্টা বলতে কিছু নাই, তারা মূলতঃ ভণ্ড। সেরু পাগলার বাণী।।

(70) বার পঠিত

0 Comments

Leave a Reply