প্রার্থনা

গান নম্বর- ১

আমি দ্বীনহীন কাঙ্গাল, পাপে লিপ্ত চিরকাল, পার করো ওগো দয়াল অধমে।

এ জনম পাপে ভরা, নাই গতি তুমি ছাড়া, পাপীরে দিও ঠাই চরণে।।

এক

শিশুকাল ছিল মোর অবোধাবস্থায়, মাতৃস্নেহ পুঁজি সর্বদায়।

কিশোরও বেলাতে গেলো দিন খেলাতে, পিরিতে মজিলাম যৌবনে।।

দুই

(বয়স) গেলো বায়ান্ন যৌবনের রঙ্গ, সাঙ্গ দিলো কখন আনমনে।

হারিয়ে যৌবন বাহার বলি দয়াল পার কাণ্ডার, তসবি জপি এখন এক ধ্যানে।।

তিন

(শেষে) বলি আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ ওগো রাসুলাল্লাহ, হিল্লা দেখিনা আর ভুবনে।

বলে গুরু সামসুদ্দিন সেরু পাগলায় পুঁজিহীন, থাকতে পুঁজি কেন আসলিনে।।

রচনা- ২৬-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

 

সৃষ্টিতত্ব

গান নম্বর- ২

শনিতে শোণিত ধারায়, এ ধরায় কার আগমন।

যুগ-যুগান্তে প্রতি মাসান্তে, নবরূপে পেয়ে জীবন।।

এক

ঋতুর আগমনে প্রলয়ের মাধ্যমে, হয়ে অমাবস্যা রূপ।

দুনিয়ার তরে ষড়দিন ভরে, বসে রয় নিশ্চুপ।

কে-সে আসিয়া দেয় ভাসাইয়া, পাতালপূরীর দেশ।

লাল পতাকা উড়াইয়া পূরী, খুনে করে নিশ্বেস।

শনির খুনেতে পাতালপূরীতে, পড়ে না চন্দ্র কিরণ।।

দুই

শনি-বৃহস্পতির কালে, খুন ভাণ্ডস্থলে, পড়ে যদি কুন।

কুন ভাসিয়া যায় শনির শোণিত ধারায়, হয় নাকো ভ্রূণ।

তাতে হয় লানতি পাতালগামী পতি, অসতী হয় পূরী।

না রয় উপাস্যযোগ্য বেঁধে যায় দক্ষযজ্ঞ, রয়ে যায় উত্তরসূরি।

এসে উত্তরী বায় জাত শুকাইয়া যায়, পায় না সেফাতি চরণ।।

তিন

আসিলে শুক্রবার লৌহ থাকে না আর, করে ভাণ্ড কুন হরণ।

প্লাবনের আগে আর থাকে না শনির বাহার, করে না খুনের স্মরণ।

নূহ না আসিলে হায় এ খুন থাকে কোথায়, মনে বাঞ্ছা জানিতে।

জানিলে এ জীবনে শান্তি পাবো তাঁর স্মরনে, ভরবে না জনম গ্লানিতে।

সামসুদ্দিনের দয়ার জন্য সেরু পাগলার জনম ধন্য, পেয়েছি গুরু চরণ।।

রচনা- ২৪-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

 

হাশর

গান নম্বর- ৩

সে কথা মনেতে রাখছোনি, ও সজনী, সে কথা মনেতে রাখছোনি।

যেদিন আজরাইল আসিয়া তোমার, লইবে প্রাণখানি, ও সজনী।।

এক

(সেদিন) কেউ তোমার হবে না সহায়, বন্ধু আপনার।

একাকিনী যেতে হবে, কবরও মাঝার।

স্ত্রী, পুত্র, বাপ, মা শুধুই, ফেলবে চোখের পানি।।

দুই

কি কথা বলিয়া তুমি, এসেছিলে ভবে।

তা তুমি গিয়াছো ভুলে, সংসার কলরবে।

কি সেদিন তুলিয়া দিবে, হাশরও মীযানি।।

তিন

দিনে দিনে ফুরাইলো, তোমার গণা দিন।

যতো সব ইন্দ্রিয় আদি, হয়ে গেলো ক্ষীণ।

ঘুমাইয়া রয়েছো কভু, এখনো জাগনি।।

চার

কখন জানি যায় ভেঙ্গে যায়, জীবন খেলাঘর।

যাদের তুমি ভাবলে আপন, সবাই কিন্তু পর।

সেরু পাগলার সঙ্গে শুধুই, যাবে আমল খানি।।

রচনা- ০৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

দালান কোঠা পাকা বাড়ি, সবই পড়ে রবে।

সমন জারি হলে পরে, চলে যেতে হবে।।

এক

কিসের গৌরব কিসের বড়ায়, দু-দিনেরই এই দুনিয়ায়।

সাঙ্গ হলে জীবন খেলা, রঙ্গ থেমে যাবে।

সেদিন তোমার এ ছাই গৌরব, কাজে না লাগিবে।

অন্ধকার কবরে তোমায়, একাই থাকতে হবে।।

দুই

কিসের স্ত্রী কিসের কন্যা, মরলে সঙ্গে কেউ যাবে না।

খালি হাতে একা পথে, বিদায় করে দেবে।

পুত্র পরিজনো তখন, শেষ বিদায় জানাবে।

এক নিমেষেই সেদিন সবাই, পর হইয়া যাবে।।

তিন

সময় থাকতে দুনিয়ারো, মোহ ছেড়ে দ্বীনকে ধরো।

নিদান কালে দ্বিনই কেবল, সঙ্গের সাথী হবে।

দ্বীন বিনে সকলেই তোমার, বিরুদ্ধে  দাঁড়াবে।

সেরু পাগলা বলে ধর্ম, রসেই থাকো ডুবে।।

রচনা- ২২-০৯-২০১৫ ইং সাল

 

নারী

গান নম্বর- ৫

মা হয়ে এসেছি গো ধরায়।

জগতো জননী আমি, হয়েছি সৃষ্টির মাথায়।।

এক

আমি মাতা জগদ্ধাত্রী, করি সেবা অহরাত্রি।

সবাই আমার পুত্রাপুত্রি, আমি বিনে কিছুই নাই।।

দুই

আওয়ালে ঐ শুন্য কারে, আমিই ছিলাম তাঁর ভিতরে।

মা হয়ে বিশ্ব স্রষ্টারে, স্বয়ং দুগ্ধ পান করায়।।

তিন

উদ্ধারিতে চৈদ্দ ভুবন, সৃষ্টি করলাম পাক পাঞ্জাতন।

সৃষ্টিতে নাই রে প্রজনন, ইচ্ছাতেই সকল বানায়।।

চার

দুগ্ধ পানে ইচ্ছা হলো, তাই তো আল্লাহ্‌ মা ডাকিলো।

তাই সেরু পাগলা বলিলো, জানবি রে ফানাফিল্লাহই।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

কোন আনাসে পুরুষ তৈরি, করিয়াছেন দয়াময়।

রূহের তাহার নাম কি বলো, নফসেরো নাম কি বা হয়।।

এক

অজুদের তাঁর নাম কি বলো, রাহাটি কি নামে ছিলো।

মোকাম তাহার কোথায় হলো, দাও মঞ্জিলের পরিচয়।।

দুই

মক্কেলের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

রঙ স্বাদ কেমন হয় তোমার, সত্য বলো মিথ্যা নয়।।

তিন

সামসুদ্দিনে বলছে ডেকে, অধমো সেরু পাগলাকে।

চেনাও পুরুষ বলে কাকে, প্রথম পুরুষ কে বা হয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

আনাসের খাকের ফেল কতো, তাই বলো আজ আমারে।

কি কি নামে আছে তাহা, বলিবে সত্য করে।।

এক

কলবে খাকের ফেল কয়টি হয়, একে একে দাও পরিচয়।

তোমার নফসে ফেল কয়টি রয়, জানাও তুমি আমারে।।

দুই

ফেল কতো তোমার অজুদের, কতোটি ফেল হাকিকতের।

কতো ফেল হয় যামাদাতের, তাই বলো সত্য করে।।

তিন

পাগলা সেরুর এই বাসনা, আদমের পরিচয় জানা।

সামসুদ্দিন গো ইহার ব্যানা, জানাও এই অধমেরে।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

জানতে চাই তোমারি কাছে, সেই পুরুষের পরিচয়।

কি কারণে কি প্রকারে, গঠলেন প্রভু দয়াময়।।

এক

পুরুষ শব্দের অর্থ কিবা, কায়া তাহার গড়েন কেবা।

কোন আনাসে তাও বলিবা, সূক্ষ্ম কথা জানতে চাই।।

দুই

পুরুষ বস্তু না কি বাক্য, গঠলেন করে কাকে লক্ষ্য।

দলিল মতো দেবে সাক্ষ্য, প্রথম পুরুষ কে বা হয়।।

তিন

সেই পুরুষের জন্ম কবে, নাকি সৃষ্টি তাও বলিবে।

সেরু পাগলায় বলছে ভেবে, কোন স্বত্বাকে পুরুষ কয়।।

রচনা- ২১-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

আমি মা সব প্রসবকারিণী।

তাই তে বিশ্বে নামটি আমি, ধরিয়াছি জননী।।

এক

প্রজনন বিনে প্রসব, ইচ্ছা মাতৃত্বে এসব।

সৃষ্টির ই এই বিভু বৈভব, আমারই হাতে জানি।।

দুই

বিশ্ব প্রসব যে করেছে, মাতা বিনে হবে কি সে।

আল্লাহ্‌ই প্রথম প্রসব করছে, ত্রি প্রকারে নূরানী।।

তিন

সেই নূর প্রসব পরে, তোরা বিশ্ব চরাচরে।

জন্ম মৃত্যু ধারা ধরে, করো গো বিচরণী

চার

জন্মদাতার জনম পরে, জগদ্ধাত্রী আগে হয় রে।

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, স্রষ্টায় প্রসবকারিণী।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

আমি প্রভু অতি দয়াবান।

প্রকাশিতে ইচ্ছে হলো, তাই সব সৃষ্টি করিলাম।।

এক

নিজে বিনা প্রজননে, নূর ঝরালাম শব্দ কুন এ।

মোহাম্মদ হয় নূরী তনে, নূর মোহাম্মদ সর্ব স্থান।।

দুই

(তখন) হাসান, হোসেন, আলী সৃষ্টি, ফাতিমাসহ নবী গোষ্ঠী।

নহে কথা ফষ্টি, নষ্টি, দলিলে আছে প্রমাণ।।

তিন

হাসান, হোসেন কর্ণ ফুল হয়, মা ফাতিমা গলেতে রয়।

মাথার তাজে আলী নিশ্চয়, একিনে হই অবস্থান।।

চার

রূপে তখন হই ময়ূরী, নয় রে পুরুষ নবী নারী।

সেরু পাগলায় বলছে তোরি, করো নারীর তরিক সন্ধান।।

রচনা- ২১-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১১

মাটির কায়া বেহেশতে তে, রয় অচেতন হইয়া।

চেতনা করিলাম দেখো, আমি হাওয়া যাইয়া।।

এক

আমারো ইচ্ছাতে তোমায়, গঠনো করিলাম কাদায়।

নিথর ও পাথর অবস্থায়, ছিলে তুমি পড়িয়া।।

দুই

বাম অঙ্গেতে প্রবেশ করে, রৌশনী করিলাম তোরে।

কালেব হতে নিরে নূরে, দিলেম রপ্ত করিয়া।।

তিন

তোমারো বামেতে আমি, আছি সদা দিবাযামি।

তোমাতে না থাকলে আমি, প্রকৃতি নিতো খাইয়া।।

চার

 শুধু তোমার বামেতে নয়, বিধির বামেও এই আমিই রই।

আমিই তোমার বিধিবাম হই, সেরু পাগলায় কয় তাহা।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১২

আব হায়াত, আব কাওসার, যমযম, রয়েছে নারীর কাছে।

তিনটি নদীই খুঁজে দেখো, প্রকৃতিতেই রয়েছে।।

এক

যখন শুক্র হয়েছে ক্ষয়, অপবিত্র তুমি নিশ্চয়।

আব কাওসার পানে অবশ্যয়, পবিত্র হবে শেষে।।

দুই

করিলে আবে হায়াত পান, অজুদে পাবে নব প্রাণ।

আশিতেও পাইবে যৌবন, পৌঁছিলে সূক্ষ্ম দেশে।।

তিন

পান করিলে আবে যমযম, আনন্দিত হবে হরদম।

সেরু পাগলা কয় আদ্যদম, নারীর ত্রিবেণীই আছে।।

রচনা- ২৩-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩

হয়েছে শুক্রেরই জনম, মাতৃ শক্তি হৃদে ধরি।

বীজ তো নহে হয় তোমারি, করছো বীজের বাহাদুরি।।

এক

মাতৃগর্ভে শতদলে, পেয়েছো সপ্ত সেফাত।

পঞ্চদল কমলো হতে, পেয়েছিলে পাঁচটি জাত।

হাইউন, আলিমুন, কুদিরুন সামিউন, বাছের কলিমুন।

শেষেতে হইলো মুরিদুন, সাতটি সেফাত নামে ধরি।।

দুই

হাইউন হয় জীবিত শক্তি, আলিমুনে হলো জ্ঞান।

কুদিরুনে কর্ম শক্তি, সামিউনে হয় শ্রবণ।

বাছের অর্থ দর্শন শক্তি কলিমুনে হয় বাকশক্তি।

মুরিদুন হয় যৌন শক্তি, সব দিলো ঐ গর্ভধারী।।

তিন

এক এক শক্তি পাহিয়াছো, চল্লিশ চল্লিশ দিন ধরে।

সপ্ত সেফাত হলো পূর্ণ, দুশো আশি দিন পরে।

এখন শক্তি হইতেছে ক্ষয় নারীর কাছে আছে নিশ্চয়।

সেরু পাগলা বলতেছে ভয়, থাকবে না সাধিলে নারী।।

রচনা- ২৩-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪

নারী ছাড়া এই জগতে, নাই কাহারো মুক্তি নাই।

তাইতে পুরুষ ত্বরা করে, ধরো এসে নারীর পায়।।

এক

নারী হয় আব হায়াতের খনি, নারীর কাছে নবধন রয়েছে জানি।

যেই নবধন পানে বিল্লাল, পুনঃ জীবন ফেরত পায়।।

দুই

নারীতে রহে আবে কাউসার, যেই পানিতে করে অজু দ্বীনেরো সর্দার।

মেরাজ কালে করে অজু, উম্মে হানীর ফোয়ারায়।।

তিন

নারীতে রয়েছে আব যমযম, যাহাতে বিসমিল্লাহ্‌ গড়া হইতেছে হরদম।

যেই বিসমিল্লাহ্‌র হয় না ওজন, দিলে তামাম দুনিয়ায়।।

চার

নারী সাধন না করার পরে, বিসমিল্লাহ্‌ হারাইলো সূরা তওবার উপরে।

চুক্তি বাতিল করে দিলো, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৬-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫

এ বিশ্ব হয় প্রকৃতির দান, প্রকৃতি হলো নারী।

প্রকৃতির সাধনা করো, হে পুরুষ গুণোধারী।।

এক

আগে পুরুষ ও প্রকৃতির কথা বিচার বিচার কর।

এই পুরুষ হয় প্রকৃতির দান, নারীকেই সব প্রকৃতি মান।

আদ্য শক্তি বুঝে নারীর সাধন কর তবেই তুমি খুঁজে পাবে খোদ ঈশ্বর।

মনেতে অটলের আশা, প্রথমে প্রকৃতির ভাষা।

বুঝে হৃদে করো বাসা, এই মুক্তির পথ তোমারি।।

দুই

মা খাকি মা ব্রহ্মা রূপে দুনিয়ায়।

মা হাওয়া মা গঙ্গা রূপে, স্রষ্টা নিজেই এলেন ভবে।

প্রকাশ করতে এলেন তাঁহার পরিচয় মাতৃ রূপে এসেছেন জেনো নিশ্চয়।

এসেছে কি পুরুষ রূপে, জানিলে বলো আমাকে।

পুরুষ কি প্রকৃতি আগে, নির্ণয় করো তাঁহারই।।

তিন

নারী সাধন ছাড়া জীবের মুক্তি নাই।

মাতাকে পরওয়ার ভেবে, করো সাধন এই ভবে।

প্রকৃতিই প্রকৃতি সাধে দুনিয়ায় হে পুরুষ না সেধে তোমার উপায় নাই।

যদি মুক্তির আশা থাকে, ভজো গৃহের ঐ নারীকে।

সেরু পাগলায় বলছে ডেকে, আদ্য বিধিই হয় নারী।।

রচনা- ৩০-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬

পিতা হইবার বাসনা, থাকলে মাতৃ সাধন করো।

মাতা হতে ওহে পুরুষ, পিতৃ শক্তি হৃদে ধরো।।

এক

পঞ্চদল কমলো হতে, মা দিয়াছে পাঁচটি জাত।

যা থেকে এই দেহ গড়া, দিয়ে আদ্য প্রণিপাত।

সে স্বত্বা কুন শক্তির পরে – প্রভাব ফেলে ধীরে ধীরে।

দুশো আশি দিনের পরে, ব্যক্তি রূপে চরাচরো।।

দুই

শতদল কমলো হতে, শপ্ত সেফাত সৃষ্টি হয়।

যে ধনে পিতা বানালো, সে ধন ইহার মধ্যে রয়।

সে ধন হৃদে আসে যখন – মতি রূপে পরিবর্তন।

রতি রূপে হয়ে ক্ষরণ, পিতা রূপটি প্রকাশ করো।।

তিন

পিতৃ শক্তি হারা হয়ে, হয়েছো অকৃতজ্ঞ।

মণি হারা ফণী হলে, করিয়া মরণ যজ্ঞ।

আবার মণি পেতে হলে – পড়ো নারীর চরণ তলে।

(তাঁর) চার চরণের ধুলি পেলে, সেরু পাগলার হবে শুক্র।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭

আমি হইলাম সেই ফাতিমা।

জায়নামাজের নীচে সম্পদ, ক্ষুধার জ্বালায় প্রাণ বাঁচে না।।

এক

আমার সম্পদ আমি খেলে, উম্মত পার করবো কোন বলে।

তুমি নবীর উম্মত হলে, পারের তোমার ভয় রবে না।।

দুই

গিয়ে রাসুল বাঁচাইবার, নিয়েছিলাম উম্মতের ভার।

উম্মতের কারণে বারবার, ধরায় করি আনাগোনা।।

তিন

উম্মত শব্দের অর্থ এবার, ক্রীতদাস রূপেতে প্রচার।

ঐ রূপ তুমি হলে আমার, অপারে পড়ে থাকবে না।।

চার

আসমানে আর জমিনেতে, সম্পদ নিয়ে দিনেরাতে।

বাঞ্ছা করি উদ্ধারিতে, সেরু পাগলা তাও বোঝে না।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১

বাচ্চার জনম দিতে কাঁকড়ায়, নিজের জীবন হারাইলো।

তাই বলে কি ভাবোরে মন, তাঁহার জনম বৃথায় গেলো।।

এক

কাঁকড়ারো গর্ভেতে যখন, বাচ্চা উপবিষ্ট হয়।

ধীরে ধীরে বাচ্চা সকল, মাকে খেয়ে করে লয়।

মাতা কাঁকড়া মারা গেলে – বাচ্চা কাঁকড়ার জনম মিলে।

কাঁকড়া পরিণত খোলে, সন্তান জন্ম তবু দিলো।।

দুই

কাঁকড়া যেমন নিজের জীবন, সন্তানে করে প্রয়োগ।

সন্তানে এক মায়ের জীবন, শত ভাগে করে ভোগ।

এক কাঁকড়ায় দেয় শত সন্তান – একই মাতা সবারই প্রাণ।

সন্তানই মা মাতায় সন্তান, এই রূপে প্রকাশ পাইলো।।

তিন

তেমনি নারী পুরুষ মাঝে, দিয়ে স্বত্বা বিসর্জন।

এক হইতে শত শত, দিলো সন্তানের জনম।

তুমি নারীর অংশ কলা – বলিতেছে সেরু পাগলা।

নারীই সুজলা সুফলা, নারী বৈ পুরুষ বিকলো।।

রচনা- ০৩-১১-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯

আদম তৈরির মূল বৃত্তান্ত, বলতেছি করো শ্রবণ।

অপ্রাকৃত নূর ঝরালো, নূর শেষে হয় নূরী তন।।

এক

মোহাম্মদ আহাম্মদ আহাদ, তিন রূপে নূর ছিল আযাদ।

অপ্রাকৃত রূপে আহাদ, রহিয়াছে সারাক্ষণ।

মোহাম্মদ প্রকৃতি রূপে, গড়েছে বিশ্ব ভুবন।।

দুই

আহাম্মদ ঐ পুরুষ রূপে, বর্ত্ম রয় সেই খোদ সমীপে।

তিনজন সৃষ্টি হয় তিন রূপে, স্রষ্টা নূর ঝরায় যখন।

এক ক্ষণে তিনজনের সৃষ্টি, প্রথম নারীর আগমন।।

তিন

মা হাওয়া মা বহ্নি রূপে, মা খাকি মা গঙ্গা রূপে।

আমি নারী একে একে, গড়েছি বিশ্ব ভুবন।

ফেরেশতা এই খাক লইয়া, গড়েছে আদম গঠন।।

চার

মা খাকিতে আহাম্মদ যায়, আরদুল্লাহ নাম হয় সেথায়।

আহাদ নূর যেই খফিই বর্তায়, পঞ্চ অজুদ পায় চেতন।

সেরু পাগলা বলে ভেবে, নারীই হয় সবার জীবন।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২০

নারী না হইলে ভবে, কিছুই হতো নাই।

নারী গড়ে বিশ্ব ভুবন, নারী হয় আদ্য স্রষ্টায়।।

এক

স্রষ্টা প্রকৃতিরো রূপ ধরে।

একে একে তিন ফোটা নূর, প্রসবো করে।

সেই নূরে আঠারো হাজার, মাখলুকাত সৃষ্টি করায়।।

দুই

বিশ্ব নবী প্রকৃতির আকার।

প্রকৃতিই প্রকৃতি গড়ে, হইয়া সাকার।

নিরাকার সাকার হইয়া, আকার গড়ে এ ধরায়।।

তিন

করো পুরুষ প্রকৃতির সাধনা।

তা-না হলে প্রকৃতিতে, শান্তি পাবে না।

শান্তি হয় স্রষ্টার কামনা, বলতেছে সেরু পাগলায়।।
রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২১

মা খাকির কিয়দ অংশে, আদমের গঠন।

তাই নিয়ে তাঁর লাফালাফি, নাচানাচি কি রকম।।

এক

মা খাকি এই ধরণী গড়ে।

মা হাওয়া মা গঙ্গা দেখো, ভবেরই পরে।

মা বহ্নি উত্তপ্ত রাখে, স্রষ্টার গড়া এ ভুবন।।

দুই

কিঞ্চিৎ খাক জিবরাঈল পাইয়া।

আদম সুরাত গঠন করে, বেহেশতে নিয়া।

মিকাইল মা গঙ্গার পানি, আদমে ভরে তখন।।

তিন

আদমকে উত্তপ্ত করিবার।

আজাজিল মা বহ্নি হতে, অগ্নি দেয় এবার।

মা হাওয়া প্রবেশ করিলে, আদম দেখো পায় চেতন।।

চার

আদম চেতন হইবার পরে।

একা ভালো নাহি লাগে, দুশ্চিন্তায় পড়ে।

সেরু পাগলা বলে আদ্য, নারীর তাইতে আগমন।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২২

মাটি দ্বারা আদম তৈরি, দলিলে প্রচার।

অজুদ তাঁহার হয় আরেফেল, এ কথা জানা সবার।।

এক

ইনসান তৈরি জমাট রক্তে হয়।

অজুদ তাঁহার হয় অহেদাল, তালিমে তা কয়।

আদম ইনসান এক হলো না, করিয়া দেখো বিচার।।

দুই

জ্বিন সৃষ্টি আনাছের আতশে।

জ্বিনের রূহু হয় হায়ানী, জানাইলাম শেষে।

তিন আনাছে তিনজন সৃষ্টি, জানাতো গেলো এবার।।

তিন

পুরুষ হয় কোন আনাছে তৈরি।

রূহু তাঁহার আছে বলো, নাম হয় কি তাঁরি।

অজুদ তাঁহার আছে নিশ্চয়, নামটি বলো কি তাঁহার।।

চার

নফসো রাহা মোকাম ও মঞ্জিল।

ঈমানের একিন কি তাঁহার, কে তাঁহার মক্কেল।

পুরুষ তথ্য জানার ইচ্ছা, রয়েছে সেরু পাগলার।।

রচনা- ১১-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২৩

আদম হাওয়াকে ফেলে দিলো, জেদ্দা আর শরম দ্বীপে।

আদমে শিখিলো কালাম, মুক্তি দাতার সমীপে।।

এক

কাঁদে আদম তিনশো বছর, হঠাতে পড়িল নজর।

স্রষ্টা ঐ আরশের উপর, যে নাম লিখে রেখেছে।।

দুই

আদমে সে নামটি ধরে, পুনঃ পুনঃ স্মরণ করে।

দেখে আদম হাওয়ার তোরে, হঠাৎ পৌঁছে গিয়েছে।।

তিন

হাওয়াকে পাইবার তরে, দেখো আদম কালাম পড়ে।

হাওয়া পাইতে আদমরে, কোথায় কালাম পড়েছে।।

চার

যদি কালাম পড়ে থাকে, জানাও তা সেরু পাগলাকে।

নইলে ভবে এই হাওয়াকে, ভজো মন গুরু ভজে।।

রচনা-২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

পাপ করে ঐ পুরুষগণে, নারী করে না।

নারী খায় পবিত্র খানা।।

এক

নারী জন্ম গ্রহণের পরে।

বিবাহের পূর্ব পর্যন্ত রয় বাপের ঘরে।

বাপের উপর থাকে নারীর দায়িত্ব খানা।।

দুই

বিয়ের পরে যায় স্বামীর ঘরে।

তখন থেকে স্বামী তাঁহার ব্যয় বহন করে।

স্বামীর ধনেই মিটায় নারীর সকল বাহানা।।

তিন

পুরুষ নারীর মন ভরাইতে।

কতো যে পাপ করিতেছে এহি ভবেতে।

সেরু পাগলা বলে নারী এসব করে না।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

নারীর মন ভরানোই হয় পুরুষের কামনা।

জগতে ঢুঁড়ে দেখো না।।

এক

দিনে যায় ভ্যান গাড়ি ঠেলিতে।

সারা জীবন যায় যে গাধার খাটনি খাটিতে।

পরিশ্রমের ধনে পূরায় নারীর বাসনা।।

দুই

রাতে করিতে যায় চুরি।

দেখো না পড়িলে ধরা গলে দেয় ছুরি।

নারীর মন ভরাইতে তাঁহার যায় জীবন খানা।।

তিন

নারী তোমার সাধনারই ধন।

নারীর মন রাখিতে কতো হারাইলো জীবন।

সেরু পাগলা বলে ভবে ঘুরে দেখো না।।

রচনা- ২৬-৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

সারাজনম ঝোলায় পুরে, মাকে বহে দিন রজনী।

এই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অলি, ছিল ওয়াস করণী।।

এক

রাসুলে জানিতে পারে, মরবে বিল্লাল তিন দিন পরে।

কেহ তারে বাঁচাইতে নারে, পাগলায় ফিরায় জীবনী।।

দুই

রাসুলে পারেনি যাহা, পাগলে পেরেছে তাহা।

মাতৃ ভক্তির জন্য ইহা, সম্ভব তাহা লও মানি।।

তিন

তাইতে কয় সেরু পাগলে, পড়ো মায়ের চরণ তলে।

একবার দোয়া করে দিলে, হইবে পরশ মণি।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

আদমে কালাম শিখেছে, হাওয়া কালাম শিখে নাই।

কি হেতু শিখিলে কালাম, বলো আদম তুমি তাই।

এক

জেদ্দাতে আসিবার পরে, পড়লে কালাম ঘটা করে।

যেই কলেমা পড়ার পরে, ঠিকানা পেলে হাওয়ার।

হাওয়া কালাম না পড়িলেও, তোমার দেখা ঠিকই পায়।।

দুই

হাওয়াকে সন্তুষ্ট রাখতে, নামিলে আদম কর্মেতে।

হাওয়া যেনো কোন মতে, তোমায় ছেড়ে নাহি যায়।

এটা সেটা এনে দিয়ে, হাওয়ার মন ভরালে তাই।।

তিন

পরিশ্রমের ধন আনিয়া, হাওয়া বিবির হাতে দিয়া।

কি কারণে কি পাইয়া, গোলাম হলে কোন ঠেকাই।

হাওয়া বিবি গোলাম নয়রে, বিলাসে জীবন কাটায়।।

চার

সেরু পাগলা ভেবে বলে, আদম তুমি পাপী ছিলে।

তাইতে কালাম পাঠ করিলে, হাওয়া পাওয়ার বাসনায়।

হাওয়াই তোমার মুক্তি দাতা, তাই থাকো তাঁর সাধনায়।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

শরম দ্বীপে নামার পরে, হাওয়ার সব লাগে চেনা।

সাড়ে তিনশো বছর কখন, কেটেছে তাঁর নাই জানা।।

এক

ছিল হাওয়া ঘুমোঘোরে, জেগে দেখে আদমেরে।

দাঁড়ায়ে তাঁহার শিয়রে, দেখে চোখ তাঁর প্রায় কানা।।

দুই

এ হাল কেন শুধালে পর, বলে সাড়ে তিনশো বছর।

কেঁদেই কাটিয়েছি প্রহর, খুঁজতে তোমার ঠিকানা।।

তিন

আজকে যে কি আনন্দ মোর, বলতে আমি হচ্ছি বিভোর।

পাশে রহিবে জীবনভর, কথা দাও লক্ষ্মী সোনা।।

চার

তুমি আমার সাধনার ধন, তুমি আমার জীবন মরণ।

সেরু পাগলা বলে আদম, হাওয়া ছাড়া বাঁচে না।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর-

জান্নাত মায়ের পদতলেতে।

মাতৃ সেবা করো তুমি, থাকিয়া এই ভবেতে।।

এক

বোস্তামে বায়েযিদ ছিল, রাতে মায়ে পানি চাহিল।

কলসে পানি না ছিল, ছুটে যায় পানি আনিতে।

দুই

দূর থেকে পানি আনিয়া, গ্লাসেতে পানি ঢালিয়া।

জননীকে দিতে গিয়া, দেখে মা রয় ঘুমেতে।

তিন

বায়েযিদে মনে ভাবে, ডাকলে মায়ে কষ্ট পাবে।

ঘুম থেকে উঠিলেই তবে, দিবো পানি খাইতে।

চার

নিশি ভোর হইলো যখন, জননীর ঘুম ভাঙ্গে তখন।

শিয়রে দেখে রয় চেতন, বায়েযিদ পানি হাতে।।

পাঁচ

মা জননীর মনে পড়ে, মাঝ রাতে ঐ ঘুমের ঘোরে।

পানি চাই সন্তানের তরে, জল ছিল না কলসিতে।।

ছয়

তা হলে কি আমার বাছাই, সারাটি রাত জেগেই কাটায়।

মায়ের তখন এই ভাবনায়, জল ঝরে দুই চোখেতে।।

সাত

বুকেতে জড়িয়ে ধরে, চুমা খেয়ে আদর করে।

দুহাত তুলে দোয়া করে, সন্তান নাও মোর জান্নাতে।।

আট

মায়ের দোয়া কবুল হলো, বায়েযিদ আওলিয়া হলো।

সেরু পাগলা তাই বলিল, থাকো মায়ের ভক্তিতে।।

রচনা- ২৬-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ৩০

আমার জন্য গাধার মতো, খাটিছো জীবন ভরি।

তাইতে তোমায় নাওয়াই খাওয়াই,  আদর ও সোহাগ করি।।

এক

গরু, ঘোড়া পোষে সবাই, কাজ করাবে বাসনা তাই।

কৃষক তারে নাওয়ায় খাওয়ায়, রাখে যত্নের উপরি।।

দুই

গরু যদি ভাবে রে মন, আমি হই বড় মহাজন।

এ ভাবনা তাঁর বোকার মতন, দেখো না চিন্তা করি।।

তিন

গরু যেমন যত্ন করো, তোমারটারেও তেমনি ধরো।

নারী হয় সবার উপরও, বচন সেরু পাগলারি।।

রচনা- ১১-০৬-২০০৩ ইং সাল

 গান নম্বর- ৩১

বীজের হিসাব রাখে পুরুষ, আসরে বলে সবাই।

খোঁজ নিয়ে দেখেছি আমি, আসলে ধানায় পানায়।।

এক

মানিক গঞ্জের রশিদ সরকার, মমতাজ বধু ছিল তাঁর।

শ্রেষ্ঠ শিল্পী নামে প্রচার, তাঁর ঘরে বোবা জন্মায়।।

দুই

পাবনাতে উম্মত বয়াতি, তিন কন্যা তাঁহার সন্ততি।

টেবুনিয়ায় শওকত বয়াতি, তিন কন্যা তাঁর দেখা যায়।।

তিন

ত্রিবেণীর বাউল সলেমান, আল্লহই করছে দুই কন্যা দান।

চার কন্যার করেছে বাগান, কালীগঞ্জের আকবর শাঁই।।

চার

খোরশেদ আলম বৈডাঙ্গাতে, তাঁর ঘরে হয় কন্যা তিনটে।

আকলিমা হয় নিস্বন্ততে, বলিছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৬-১২-২০০৪ ইং সাল

 

পুরুষ তত্ত্ব

গান নম্বর- ৩২

অপ্রাকৃত পরোয়ারদেগার।

সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, সংহার কর্তা নাম তাঁহার।।

এক

নামে যাহার কর্তা আছে, নারী ভাবা হবে মিছে।

নারী হলে দেখো বুঝে, কর্ত্রী নাম হতো প্রচার।।

দুই

কর্তা আছে যাহার নামে, সে পুরুষ এই ধরা ধামে।

স্রষ্টা পুরুষ সৃষ্টি কামে, দেখো না ভেবে একবার।।

তিন

নারী পুরুষ স্রষ্টা নহে, সে ইহাদের ঊর্ধ্বে রহে।

নিজে অপ্রাকৃত হয়ে, চালাচ্ছে বিশ্ব সংসার।।

চার

স্রষ্টা অপ্রাকৃত ভবে, রূপ ভাঁড়ালেই পুরুষ হবে।

নূর ঝরায় সে নারী রূপে, এ দর্শন সেরু পাগলার।।

রচনা- ২১-০২-২০০৫ ইং সাল

 

কাম তত্ব

গান নম্বর- ৩৩

প্রথমে কাম শেষেতে কাম, কাম বিনে আর কিছু নাই।

কাম থেকে কামনা সৃষ্টি, তাঁর পরে প্রেমে আশ্রয়।।

এক

কাম উদিত হলে পরে, সিদ্ধি করতে মনে ধরে।

ছলনাকে আশ্রয় করে, কাম ক্ষুধা মিটাতে চাই।।

দুই

যে সত্বায় কামেরো উদ্রেক, আদ্য স্বত্বা দলিল উল্লেখ।

খোদ খোদা লয়ে নব ভেক, সৃষ্টি করে জগতময়।।

তিন

ধ্বংস ছাড়া সৃষ্টি হয় না, স্রষ্টা তাঁর নিজেই নমুনা।

সেরু পাগলার এহি ব্যানা, কামেই পাবে পরিচয়।।

রচনা- ১৯-০৮-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৪

আমি কাম হইলাম দেহরাজ।

আমার জন্য তুমি ও প্রেম, সাজিয়াছো এত সাজ।।

এক

আমারো কারণে ধরা, স্বয়ং প্রভুর সৃষ্টি করা।

কাম দেখো ভুবনে ভরা, ছাড়িয়া ভূষণ লাজ।।

দুই

যেই কামে আল্লাহ্‌র ললাটে, পছিনা পড়িলো ছুটে।

পড়িলো স্রষ্টা বিভ্রাটে, শুরু করে সৃষ্টি কাজ।।

তিন

সেই নূর মোহাম্মদ নামে, স্রষ্টাতে মশগুল হয় প্রেমে।

কাম হেতু প্রেম জানো মনে, সেরু পাগলা বলে আজ।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৫

পঞ্চ কামে ভরা জগতময়।

অকাম, স্বকাম, কুকাম, সুকাম, নিষ্কাম নামে পরিচয়।।

এক

অকামে কাম সবই বৃথা, পণ্ডশ্রম যাহার ব্যাখ্যা।

ফল শুন্য সে হয় অযথা, এ কথা জেনো নিশ্চয়।।

দুই

ইশ্বর আজ্ঞা কয় যাহারে, অজুদে স্বকাম প্রচারে।

ঋপূর তাড়নার কাম রে, তাহারেই কুকামও কয়।।

তিন

শেষ ভালো যেই কামে থাকে, সুকাম বলিবে তাহাকে।

শুক্ল কৃষ্ণ উভয় পক্ষে, সুকামেরই হবে জয়।।

চার

আদ্য শক্তির অধিকারী, জগতে নিষ্কাম প্রচারি।

সেরু পাগলা বিনয় করি, কয় সব কাম এখানেই রয়।।  

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৬

আল্লাহ্‌র পরে কাম অবস্থান, ভেবে দেখো সর্বদায়।

যেই কামে মোহাম্মদ সৃষ্টি, হলো প্রেম নমুনায়।।

এক

কামেতে ঝরে পছিনা, পছিনা হয় নূরে নামা।

কাম ছাড়া প্রেম জমিতো না, সৃষ্টি কি জন্মের বেলায়।।

দুই

কাম নাই যাহার দেহেতে, দাউজ নাম বলে ভবেতে।

নারী প্রেম তাঁর নাই ভাগ্যেতে, ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।।

তিন

দেহেতে যার কাম রয়েছে, প্রেম তাহার প্রয়োজন আছে।

কাম বিনে প্রেম হবে মিছে, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৭

কামের ও মাধ্যমে দেখো, প্রেমো রস সৃষ্টি হলে।

কাম ছাড়া প্রেম স্বত্বা সৃষ্টি, হয়নি কোন কালে।।

এক

কামেতে কুন অণুক্ষরণ, বৃহস্পতি অণুকরণ।

মোহাম্মদ নামেতে ধরণ, কামক্ষুধায় বাঁধা ছিলে।।

দুই

বৃহস্পতিই ভাগাভাগ হলে, পঞ্চ প্রেমের সৃষ্টি মিলে।

দেখো পঞ্চদল কমলে, শেষে প্রেম স্থান নিলে।।

তিন

শপ্ত পঞ্চ নামে আক্ষা, বারো অক্ষর হল লেখা।

পাবে মোহাম্মদের দেখা, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ০৮-০৭০১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৮

প্রেম বস্তু কোন মোকামেতে রয়।

কোন আনাছে তৈরি সে-যে, রুহু কি নামেতে হয়।।

এক

অজুদটি কি বলো প্রেমে, আছে তাহা কি-বা নামে।

মঞ্জিল রাহা হয় কোনখানে, বলো গো করে নির্ণয়।।

দুই

নফসটি তাঁর হলো কি-বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

কি বলো হয় প্রেমের শিবা, করে তাহা সু-নিশ্চয়।।

তিন

প্রেমের ও মক্কেলো বলো, কি নামে রহিয়া গেলো।

ভেবে কয় সেরু পাগলো, সুক্ষ কথা জানতে চাই।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৯

কামের ও কারণে তুমি, আসিয়াছো দুনিয়ায়।

কাম ছাড়া এই দুনিয়ার মুখ, কে দেখাইতো তোমায়।।

এক

যেই কামে আদম ও হাওয়া, সীমা লঙ্ঘে বেহেশতে গিয়া।

গুপ্তাঙ্গ যায় প্রকাশিয়া, তাই আসিলো এ ধরায়।।

দুই

কাম বস্তু নাহি জাগিলে, আদম হাওয়া কেমনে মিলে।

কেমনে অপবিত্র হলে, ভেবে দেখো তুমি তাই।।

তিন

সেরু পাগলা ভাবিয়া কয়, কাম ছাড়া প্রেম দরকারই নাই।

প্রেম থাকে কামেরই আশায়, সর্বক্ষণে সর্ব ঠাই।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪০

হেতু বস্তু হয় কামে গন্য।

নি-হেতু কি আছে বলো, যাহা সকলের মান্য।।

এক

হেতু কার্য সিদ্ধি আশে, জড়াতে হয় প্রেমাবেশে।

হেতু ছাড়া প্রেম হয় মিছে, প্রেম সেখানে নগন্য।।

দুই

যেই প্রেম হয় কাম হেতু, জেনো সে তৃতীয় বস্তু।

এক আল্লাহ্‌ কাম দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ে প্রেম হয় ধন্য।।

তিন

আল্লাহ্‌ একেশ্বরে ছিল, সৃষ্টি হেতু মনে জাগলো।

তাই সেরু পাগলা বলিল, প্রেম হলো কামের জন্য।।

রচন- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪১

প্রেম ছিল মীমের ও কোঠাতে।

লামে আলিফ কামের পরে, মীম তালা গেলো ফেটে।।

এক

মিমে প্রেম গচ্ছিত ছিল, মাশুকের প্রয়োজন হল।

তাই আল্লাহ্‌ আলিফে গেলো, লামের মধ্যে মিশিতে।।

দুই

লামে আলিফ যায় মিশিয়া, ধৃ-স্বত্বা হরণ ক্রিয়া।

হয়ে যায় কুন প্রকাশিয়া, তাই ঈসা আসমানেতে।।

তিন

কুন গোবিন্দ রূপটি ধরে, যেই আসিল এই ভূধরে।

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, প্রেম সৃষ্টি এই কামেতে।।

রচনা- ০৮-০৭-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৪২

ভবে প্রেম হয় কতো প্রকার, জানতে চাই আমি হেথায়।

কোন প্রেমের কি নাম হয়েছে, কোন প্রেম রয় কোন অবস্থায়।।

এক

কোন প্রেম তৈরি কোন আনাছে, কাহার কোন মক্কেলা আছে।

কে কোন অবস্থায় রয়েছে, কি রূপেতে সর্বদায়।।

দুই

কোন প্রেম বলো কাহার তরে, রহিয়াছে ভব পরে।

কোন প্রেমে ঐ স্রষ্টার তরে, বাঁধা রয়েছে সবাই।।

তিন

ভবের লোক রয় কামে মত্ত, সবারই প্রেম শুন্য চিত্ত।

সেরু পাগলা তাই প্রেম তত্ব, তোমার কাছে জানতে চাই।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

স্বকামে শাঁই যখন জ্বলিলো।

পঞ্চ জাতের সৃষ্টি দেখো, তখনই হয়ে গেলো।।

এক

কামে জাত জ্বলিলো যখন, আলিমুন সেফাত হয় তখন।

নূর কামে হলো মুরিদুন, আহদিয়াত সহুত হলো।।

দুই

আহদত কুয়াতে সেপ্ত হলে, কুদিরুন তখন জন্মিলে।

আহদিয়াত জাত সে কালে, হাইউন সেফাতে ছিলো।।

তিন

চার এতবার যখন যায় কামে, চার সেফাত হলো তখনে।

সেরু পাগলা বলছে জেনে, এর বহু পর প্রেম হলো।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

পাঁচ জাত সৃষ্টি স্রষ্টার স্বকামে।

আব, আতশ, খাক, বাত আর সাফা, এই হইলো পঞ্চ নামে।।

এক

আল্লাহ্‌ একেশ্বরে ছিলো, সৃষ্টিরও বাসনা হলো।

স্বকামে নিজেই জ্বলিলো, আপনি আপন ধামে।।

দুই

আপন ধামে জ্বলে যখন, সাফা সৃষ্টি হলো তখন।

সাফার কামে হাওয়ারে মন, আগুন হয় হাওয়ার কামে।।

তিন

অগ্নি কামে পানি সৃষ্টি, পানির কামে হলো মাটি।

স্বকামে সবই হয় সৃষ্টি, (সেরু) পাগলা কয় নয়রে প্রেমে।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪

প্রেম নাইরে প্রেম নাইরে ভবে, কাম ছাড়া প্রেম ভবে নাই।

ঢুঁড়ে দেখো এই ধরাতে, ঘুরছে সব কামের নেশায়।।

এক

কাম সিদ্ধি করার আশে, জড়াতে হয় প্রেমাবেশে।

ব্যাথা দিয়ে অবশেষে, প্রেম তোমার চলিয়া যায়।।

দুই

কাম হলো উদ্দেশ্য রে মন, প্রেম তোমার ছলনারো ধন।

কাম উদ্ধারে প্রেমালাপন, করে চলেছে সবাই।।

তিন

কাম ক্ষুধা মিটিয়া গেলে, চলে যায় সব প্রেমকে ফেলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, প্রেম হলো মিথ্যার আশ্রয়।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৬

প্রেমের ছলনাতে যেও না।

কাম ক্ষুধা মিটিয়া গেলে, দিয়ে যাবে বেদনা।।

এক

কাম প্রয়োজন জেনো নিশ্চয়, প্রেম তোমার হলো অভিনয়।

অভিনয়ে কাম সারতে হয়, তারপর আর প্রেম থাকে না।।

দুই

কামে কামে হয় কামাতুর, তখনই দেয় প্রেমেরই সুর।

পিছে পিছে করে ঘুর ঘুর, নিয়ে কামের বাসনা।।

তিন

কামের জন্য প্রেম করে মন, কাম জগতে অমূল্য ধন।

সেরু পাগলার মন উচাটন, কাম ছাড়া প্রেম বোঝে না।।

রচনা- ১৬-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৭

কামে বানাইলো ঢেঁকির আশ্বালা।

আমি এদিক গেলে মারে বাড়ি, ওদিক গেলে দেয় ঠ্যালা।।

এক

কামেতে চাই রঙ মহলে, রঙের খেলা খেলিতে।

জানমাল আমার যায় খোয়ায়ে, রমণ ক্রিয়ার গলিতে।

ওসে কামের ধান্দায় নাছোড় বান্দা, ঘনিয়ে দিলো বেলা।।

দুই

কাম নদীতে প্রেমের বৈঠা উজান বেয়ে চলতে হয়।

ছয় ঋপূতে বাড়ি মেরে ভেটেলেতে দেয় পাঠায়।

আমা সর্বস্ব করিলো ভস্ম, চিতায় পোড়ানো কয়লা।।

তিন

ঋপূর বসে চললে পরে কামে আমায় দেয় জ্বালা।

প্রেমের বসে চললে আমি ঋপূতে বসায় মেলা।

সামসুদ্দিন কয় পাগলা সেরু আস্ত বদজাতের চেলা।।

রচনা- ০৫-০৩-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৮

কামেরও কারণে তোমার ঘাড়ে দেখি বেহালা।

তাইতে তুমি আসিয়াছো, গান শোনাতে এই বেলা।।

এক

কামের জ্বালা বুকে নিয়ে, করেছিলে একটি বিয়ে।

শেষে কামের বিনিময়ে, পেলে সন্তানের জ্বালা।।

দুই

মেটাতে সন্তান কামনা, ধরিলে গানের বাহানা।

সন্তান সুখ দেখবে বাসনা, গান কামের নিয়ে ঠ্যালা।।

তিন

এই কামের টাকা বাড়ি নিয়ে, কামিনীর হাতে তুলে দিয়ে।

সংসারে সুখ যাচ্ছো চেয়ে, বলতেছে সেরু পাগলা।।

রচনা- ২৯-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৯

কাম নিয়ে মন ছুটাছুটি প্রেম করিবার সময় নাই।

কামে কামে জীবন গেলো, প্রেমে মন পেলো না ঠাই।।

এক

এক কামে ঝরে পছিনা, আদম পায় বেহেশত খানা।

মিটাইতে কাম কামনা, আদম হাওয়া দুনিয়ায়।।

দুই

এ ধরায় চৌদ্দ ভুবনে, বেড়াইতেছো কাম কারণে।

ভুবন ভরিলো সন্তানে, দুইজনার কাম কামনায়।।

তিন

কাম যেথা রাজার আসনে, প্রজা রূপে প্রেম সেখানে।

সেরু পাগলা এই ভুবনে, কাম বিনে প্রেম দেখে নাই।।

রচনা- ২৯-১০-২০০০ ইং সাল

 

শিস্য

গান নম্বর- ৫

ঘুণে ধরা পঞ্চ অজুদ কেমনে বাঁচাই।

ষড়ঋপূ ধীরে ধীরে খেয়ে করে যাচ্ছে লয়।।

এক

মাতৃ গর্ভে প্রবেশো কালে।

আয়ু কতো ছিল আমার তাই বলো খুলে।

কেনো সন্তান অঙ্গহানী হয়ে আসে এ ধরায়।।

দুই

পূর্ণ আয়ু কি করে বাঁচি।

কোন স্বত্বার অভাবে আয়ু হারা হইতেছি।

সে স্বত্বা কও কি প্রকারে পাবো আমি দুনিয়ায়।।

তিন

সোনার অঙ্গ হয়ে গেলো ক্ষীণ।

ধীরে ধীরে হলাম আমি জীবন যৌবনহীন।

কেমনে কাটাবো দুর্দিন খুলে বলো আলেক শাঁই।।

চার

সেরু পাগলা দাঁড়ায়ে দ্বারে।

আশা মনে দয়াল গুরু যদি উদ্ধারে।

উদ্ধার না করিলে গুরু কিসের তুমি দয়াময়।।

রচনা- ২৮-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

ইন্নাদ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম কয় আল্লাহ্‌ই।

প্রভুর মনোনীত ধর্ম শান্তি পাওয়া সর্বদায়।।

এক

শান্তির সংজ্ঞা হলো কি প্রকার।

কি পাইলে শান্তি পাবে জীব সকল ধরার।

কি পেলে অশান্তি রয় না, শান্তি বহে দুনিয়ায়।।

দুই

কি হয় বলো কারণ অশান্তির।

জানিতে চাই ভক্ত তোমার হইয়া অধীর।

না জানলে অশান্তি ব্যানা, শান্তি কি আর পাওয়া যায়।।

তিন

কি করলে অশান্তি দূর হবে।

এই কথা জানায়ে গুরু শান্তি দাও ভবে।

অশান্তি যেন না পায় তোমার, ভক্ত ঐ সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৮-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

ছয় লতিফার কর্ম কি কি আমারে জানাও।

কাহার কোথা হয় বসতী সত্য করে বলো তাও।।

এক

কোন লতিফা হয় কতো প্রকার।

কোন লতিফার কি রূপ সাধন, বাসনা জানার।

তুমি না জানালে গুরু, জানার যায়গা নাই কোথাও।।

দুই

কোন রূহু কোন আনাছে বর্ত্ম।

সেই রূহের সাধনায় বলো, রয় কি কি শর্ত।

কোন রূহু কোন অজুদেতে, জানিয়ে ভক্ত তরাও।।

তিন

কোন রূহের কোন নফস হয় বলো।

নফস রূহের এই অজুদে, ফেল কতো হলো।

করিয়ে সাধন ভক্তেরই ধন, উদ্ধারিতে ফিরে চাও।।

চার

সেরু পাগলা হয়েছে জ্ঞানহীন।

দয়া করে দয়াল গুরু জানাও আদ্য দ্বীন।

নইলে ভক্তের অবেলাতে শুকনা ডাঙায় ডোবে নাও।।

রচনা- ২৭-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

গুরু কি ধন চিনিলাম না।

কে করে মুরিদ কে হয় মুরিদ, জানাও গো ইহারও ব্যানা।।

এক

মুরিদ শব্দের অর্থ বা কি, মুরিদ হলে পাইব কি।

না হলে মুরিদ কিবা ক্ষতি, মুর্শিদ বস্তুর কোন ঠিকানা।।

দুই

মুর্শিদে কি নিয়ে যাবো, তাঁর নিকটে কি পাইবো।

কোন শর্তে মুরিদ হবো, এ কথা আমায় বলো না।।

তিন

দিনে দিনে দিন ফুরালো, গুরু ভাগ্যে না জুটিলো।

মুরিদ হওয়া না ঘটিলো, এ দুঃখ মরলেও যাবে না।।

চার

সামসুদ্দিনের চরণ ধরি, সেরু পাগলা বিনয় করি।

কহে ছাড়ো ছল চাতুরী, এইক্ষণে মুরিদ করো না।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৫

গুরু বস্তু কতো প্রকার।

কি রঙ কি নাম কিবা মোকাম, মঞ্জিল রাহা হয় কি তাহার।।

এক

কোন আনাছে গুরু তৈরি, একিন মক্কেল কি হয় তারি।

বলো স্বাদ হয় কি প্রকারি, জানলে বলো খবর তাহার।।

দুই

কোথা রয় গুরু অবস্থান, সত্য করে বলো সন্ধান।

নেবো না কোথা অনুমান, পরিচয় দাও সত্যতার।।

তিন

কি হারায়ে আমি শিস্য, করিবো আজ গুরু দাস্য।

কোন শক্তিতে গুরু শিস্যই, রেখেছে দাস্য বিচার।।

চার

ভেবে কয় সেরু পাগলে, পড়বো গুরুর চরণ তলে।

(তাই) জানাও গুরু কাকে বলে, ভ্রান্তি দূর হউক আমার।।

রচনা- ২০-০৯-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৫

দুটি শব্দের মর্ম অর্থ জানতে ইচ্ছা হয়।

মুরিদ ও বায়াতের ব্যানার, জানাও পরিচয়।।

এক

মুরিদ শব্দের অর্থ কিবা, বলো গুরু গেলো দিবা।

কোন স্বত্বা মুরিদের শিবা, হয়েছে নির্ণয়।।

দুই

কি হলো বায়াতের অর্থ, বায়াতে রয় কি কি শর্ত।

বায়াত স্বর্গ নাকি মর্ত, কি রূপে সে রয়।।

তিন

সেরু পাগলার এই মিনতি, জানাও মুরিদ ও বায়াতি।

কে কোন জায়গায় রয় স্থিতি, ভজনের সময়।।

রচনা- ১৯-০২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৬

বায়াত শব্দের অর্থ বিক্রয়, একথা সবার জানা।

কি ধন বিক্রির পরে ভক্ত, গুরুতে হলো ফানা।।

এক

যেদিন গুরু বায়াত হলে, কি ধন বিক্রয় করেছিলে।

কি মুল্য তাঁর পেয়েছিলে, আমার জানার বাসনা।।

দুই

কিনেছিলো গুরু যে ধন, বলো তাহার কি প্রয়োজন।

মুল্য বাবদ পেলে যে ধন, কি তাঁর প্রয়োজন খানা।।

তিন

সে ধন বলো কাহার তরে, রহিয়াছে কি প্রকারে।

সেরু পাগলা গুরুর তরে, জানবে এই তাঁর কামনা।।

রচনা- ২০-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৭

আমি কি বিক্রিত দ্রব্য, নাকি আমি বিক্রেতা।

জানিতে বাসনা আমার, গুরুর তরে এই কথা।।

এক

বিক্রিত দ্রব্য হলেরে, কে আমারে বিক্রয় করে।

দ্রব্যের কি লাভ বিক্রির পরে, শুনিতে চাই সে বার্তা।।

দুই

আমি বিক্রেতা হইলে, কি বিক্রয় হয় সে স্থলে।

যাহা বিক্রয় করে দিলে, হবে ভক্তের মুক্ততা।।

তিন

সেরু পাগলা কেঁদে বলে, আছি আমি কোন স্থলে।

বিক্রেতাকে দ্রব্য বললে, শিস্যের জাগবে অনাস্থা।।

রচনা- ২০-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৮

হতে চাই রাঙা চরণও দাসী।

শ্রীচরণের শক্তি যেনো, নিও না তুমি গ্রাসি।।

এক

মনে আশা ঐ চরণে, দাসী রূপে সর্বক্ষণে।

প্রেমেরো নিকুঞ্জ বনে, থাকিতে অভিলাষী।।

দুই

তুমি গুরু হলে সহায়, ভয় কভু না থাকে আমায়।

চরণ সেবে হই ধন্য তাই, আমি এই আশার আশি।।

তিন

যে চরণ দাস উপকরণ, ধরিয়া করিছে সৃজন।

সদ্য ফোটা ফুলের আনন, দর্শনেই স্বর্গবাসী।।

চার

ফকির, দরবেশ, সাধু, গুরু, যে ফুল থেকে হলো শুরু।

কেঁদে বলে পাগলা সেরু, ঐ চরণ ভালোবাসি।।

রচনা- ৩০-১০-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৫৯

বলো মুরিদ কিসে গন্য হয়।

জাতে নাকি সেফাতেতে, ঘোরে সে সর্ব সময়।।

এক

গুরুর কি ধন শিস্যে এলে, ধরার জীবকে মুরিদ বলে।

সৃষ্টি কি জন্মেরই কালে, এ ধন বলো কোথা রয়।।

দুই

সৃষ্টি কালে পেলে এ ধন, গুরুর কাছে কি প্রয়োজন।

পূর্বেতে না পেলে এ ধন, গুরু পেলো কোন সময়।।

তিন

যে ধন গুরু মনুষ্যকে, প্রদান করে একে একে।

মুরিদ রূপে ধরার জীবকে, দিয়ে যাচ্ছে পরিচয়।।  

চার

সে ধন বলো কি প্রকারে, এসেছিলো গুরুর ধারে।

মুরিদকে সে কেমন করে, দিচ্ছে সেরু পাগলা কয়।।

রচনা- ১৯-০৯-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

যাহাদেরে খুন করিয়া, পেয়েছিলাম এই জীবন।

আজ তাহাকে খুনের পরে, হারাইলাম সোনার যৌবন।।

এক

চল্লিশ লক্ষ খুনের পরে, দাঁড়াইলাম মানব ধড়ে।

আদ্য খুন হৃদয়ে ধরে, দেখিলাম এই ত্রিভুবন।।

দুই

ত্রিভুবনের এক ভুবনে, চৌদ্দ ভুবন রয় সেখানে।

তারই শতদল আসনে, সংহারে মেতেছে মন।।

তিন

সংহারে সংযোগ বস্তু, হারা হলাম আমি নিত্ত।

খুনে খুনে আহাদ তত্ব, ধরেছে জরদ বরণ।।

চার

কি করি আর কারে শুধাই, কেমনে এই মরা বাঁচাই।

বাঁচাও গুরু হয়ে সহায়, সেরু পাগলার কুন মরণ।।

রচনা- ২৭-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

বলো বলো ওহে গুরু, বলো আমি কি করি।

দেহ বস্তায় যে ধন ছিল, সবই তো যাচ্ছে পড়ি।।

এক

প্রথমে বস্তা ভালোই ছিল, পথি মধ্যে মাল ছড়ালো।

(দেখি) সবারই এক দশা হলো, (বস্তা) ছিদ্র ছিল বোধ করি।।

দুই

(শুধু) আমার বস্তা ছিদ্র হলে, জানতাম ইহা আমার ভুলে।

ঢুঁড়ে দেখি লোক সকলে, ছিদ্র বস্তা সবারই।।

তিন

আমার দোষে এ ছিদ্র নয়, ইহা প্রভুর ইচ্ছাতে হয়।

নইলে কেন সবারই এক হয়, বলো এ দোষ কার ধরি।।

চার

বলো এখন কি করিব, কেমনে ছিদ্র সারিবো।

কেমনে মাল পুরাইবো, (ভেবে) সেরু পাগলা যায় মরি।।

রচনা- ১০-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

কি থেকে সেফাত উৎপত্তি হয়।

জানলে কথা বলো হেথা, সেই সেফাতের পরিচয়।।

এক

কোথা সেফাত গুপ্ত ছিল, কি প্রকারে প্রকাশিলো।

কি জাতে কি সেফাত হলো, সেফাত অর্থ কি-বা হয়।।

দুই

বলো সেফাত কতো প্রকার, সেফাতগুলি হইলো কার।

কোন আনাসে বসতী কার, বলো করে সুনিশ্চয়।।

তিন

সেরু পাগলার এহি বচন, আনাস তৈরির কি-বা কারণ।

কি-বা নামে কি-বা বরণ, অনুমানের কার্য নয়।।

রচনা- ১৩-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

অজুদ মাঝে বায়ু বলো আছে কতো প্রকারে।

কি-কি নামে আছে তাহা, কি কর্ম তারা করে।।

এক

কোন বায়ুর অবস্থান কোথা, কি-বা কর্ম করে সেথা।

সত্য জানলে বলো হেথা, শুনুক শ্রোতা আসরে।।

দুই

কোন বায়ু হ্রাসেতে কি হয়, বৃদ্ধিতে কীরূপো সেথায়।

কীরূপে বায়ুস্থিতি হয়, শুনতে চাই সুক্ষ্মের ঘরে।।

তিন

পাগলা সেরুর এই বাসনা, শুনিবে আজ বায়ুর ব্যানা।

অনুমান কোথা নেবো না, বলো দর্শনের পরে।।

রচনা- ১৩-০৩-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬

অজুদ মাঝে পিত্ত বলো, আছে কতো প্রকারে।

কি-কি নামে আছে তাহা, কি কর্ম তারা করে।।

এক

কোন পিত্তের কোথা অবস্থান, সত্য করে দেবে সন্ধান।

নেবো না কোথা অনুমান, বলিবে সুক্ষ্ম করে।।

দুই

কি-বা কর্ম করে সেথা, আমায় তুমি বলো হেথা।

যথা কি আছে অযথা, জানাও তুমি আমারে।।

তিন

কেঁদে বলে পাগলা সেরু, ওহে আমার দয়াল গুরু।

তোমার শেষ আমার শুরু, তাই বলো ত্বরা করে।।

রচনা- ১৩-০৯-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৫

কোন কলেমায় বাইয়াত করিবে।

কোন কলেমায় কাহার কাছে, রাসুল বাইয়াত হয় কবে।।

এক

কলেমা পড়িলে কুফের, না পড়িলে হয় গো কাফের।

কি হয় কলেমার রকম ফের, কি রূপে পড়াইবে।।

দুই

হয় কলেমা মুক্তির বিধান, বলিয়াছে ঐ পাক কোরআন।

কেমনে পড়িতে ফরমান, করেছে আল্লাহ্‌ই তবে।।

তিন

রাসুল বাইয়াত যেই কলেমায়, উম্মতে কি পড়বে তাহাই।

তবে আর ব্যবধান কোথায়, উম্মত রাসুল এই ভবে।।

চার

জানাও কলেমার হাকিকত, জানাও অরুজ নযুল তাবৎ।

তনযিয়া, তসবিয়া, সজুদ, সেরু পাগলায় জানিবে।।

রচনা- ২৮-২০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৬

গুরু শব্দের অর্থ কি-বা হয়।

গুরু সে হয় কতো প্রকার, কি-কি নামে তাঁরা রয়।।

এক

কোন গুরুর কেমনও ভজন, কোন গুরু পায় কেমন আসন।

কোন গুরু কিসের মহাজন, বলো করে সুনিশ্চয়।।

দুই

কোন গুরুর কি আহার আছে, কি প্রকারে আহার নেয় সে।

কোন গুরু কোন রঙ এ মিশে, করিয়াছে জগত জয়।।

তিন

বলো আজ তুমি কোন গুরু, সেখান থেকেই হবে শুরু।

শিস্য তোমার নহে ভীরু, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৭

মানুষ গুরু কাহাকে বলে।

সিদ্ধ হয় মোর সর্ব সাধন, যেই গুরু নিষ্ঠা হলে।।

এক

মানুষ গুরুর যেই আনাছ হয়, বলো তাহার ফেল কয়টি রয়।

ঐ আনাছ কলবে নিশ্চয়, রয়েছে কয়টি ফেলে।।

দুই

ফেল বলো কয়টি তাঁর রূহের, কতো ফেল তাহারও নফসের।

কতো ফেয়েল তাহার অজুদের, বলো তুমি জানিলে।।

তিন

তাঁর রাহার ফেল আছে কয়টি, অজুদে মোকাম মঞ্জিলটি।

সুরাত মেসাল খুঁটিনাটি, জানবে সেরু পাগলে।।  

রচন- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৮

পরম গুরু রয় কোন আনাছে।

রূহের তাহার নাম কি বলো। নফসো কি নামে আছে।।

এক

অজুদ তাহার কি নামে হয়, কি নামে তাহার রাহা রয়।

মোকাম তাহার আছে নিশ্চয়, কি নামে রহিয়াছে।।

দুই

শুনি মঞ্জিল রয়েছে তাঁর, নামটি বলো কি-বা তাহার।

কি নাম হয় তাহার মক্কেলার, ঈমানের একিন কি-সে।।

তিন

রঙটি তাহার বলো কি-বা, কেমন তাহার স্বাদ বলিবা।

অচৈতন্যে গেলো দিবা, সেরু পাগলা কয় শেষে।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৬৯

পরম গুরুর স্ব-ইচ্ছাতে, হয়েছে সৃষ্টির সৃজন।

মাতাগুরু তাইতে আমায়, করেছে গর্ভ ধারণ।।

এক

পিতা গুরুর ঔরসেতে, ছিলাম সহি সালামতে।

তাঁর সম্পদে এই ধরাতে, হয়েছি প্রতিপালন।।

দুই

এলাম শিক্ষা গুরুর ধারে, শিক্ষিত হইবার তরে।

পরম গুরু কি রূপ ধরে, করিতেছে বিচরণ।।

তিন

শিক্ষা বিষয় দর্শন পেতে, হবে দীক্ষা গুরুই যেতে।

যেই গুরু পারে দেখাতে, সেই গুরুর হয় প্রয়োজন।।

চার

পরম গুরু পূজনীয়, কাদিম সেজদা তাকেই দিও।

বাঁকি গুরু হয় শ্রদ্ধেয়, সেরু পাগলার এই দর্শন।।

রচনা- ১৫-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

গুরুকে মনুষ্য জ্ঞান যার, তাঁর গতি অধঃপতন।

সেই গুরুর করিব দাস্য, যেই গুরু হলো পরম।।

এক

পরম গুরুর মূল পরিচয়, শিক্ষা গুরু জানে নিশ্চয়।

তাঁর নিকটে তাই যেতে হয়, যখন শিক্ষার প্রয়োজন।।

দুই

শিক্ষা গুরু যা শেখাবে, দীক্ষা গুরু তা দেখাবে।

শেখা দেখা এই ভবে, গুরুবাক করে শ্রবণ।।

তিন

পরম গুরু চিনতে জানতে, যায় শিক্ষা দীক্ষা গুরুতে।

যায় নি তাঁর বন্দেগী করতে, শোন গুরু দিয়া মন।।

চার

যেথায় পরম দর্শন হয় না, করায় দাসত্বের বাহানা।

সেই গুরু হয় ধর্মকানা, সেরু পাগলা কয় এখন।।

রচনা- ১৬-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

আহার নিদ্রা নাই পরমের, জন্ম মৃত্যু তাহার নাই।

কেউ তাঁকে দেই নাইরে জন্ম, সেও কিছু জন্ম দেই নাই।।

এক

তাঁর ইচ্ছাতেই জন্ম মরণ, তাঁর ইচ্ছাতেই বিশ্বভুবন।

সৃষ্টির স্রষ্টা যেই পরম, তাঁর দাসত্ব করতে চাই।।

দুই

তোমার আহার নিদ্রা আছে, মৃত্যু তোমার ঘোরে পিছে।

তোমার জন্ম ধরার মাঝে, দিয়েছে পিতামাতায়।।

তিন

তুমি করো যার পূজনা, আমারও তাহাই কামনা।

তাইতে হেথায় আনাগোনা, শিক্ষা দীক্ষার বাসনায়।।

চার

কেমন গুরু বুঝিয়াছি, তুমি হলে বড়ই পাঁজি।

বিধর্মী তোমার কারসাজি, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১৬-১১-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

ভজনেরই কোথা কিছু জানতে আমি চাই।

কেমনে করি আদ্য সাধন, জানাও গুরু দয়াময়।।

এক

শুনি পঞ্চ অজুদ হয় আমার।

কোন অজুদের কিবা ভজন, বাসনা জানার।

কাহার কিবা আহার আছে, সত্য করে বলো তাই।।

দুই

সাধনের বলো কেমন রীতি।

সাধন ছাড়া করলে ভজন, কি হবে গতি।

সাধিতে সাধ হয় যে আমার, সাধন তত্ব জানা নাই।।

তিন

তুমি গুরু পারেরই কাণ্ডার।

তাইতে এ জ্ঞান পাইতে আশা, নিকটে তোমার।

সেরু পাগলা আছে বসে, দয়াল গুরু ভরসায়।।

রচনা- ২৭-১১-২০০০ ইং সাল

 

গুরু

 গান নম্বর- ৭

গুরু হয় অমূল্য নিধি, তাঁর তুলনা হয় না রে মন।

দিন থাকিতে তাঁর চরণে, করো আত্ম সমর্পণ।।

এক

সে যে মহামন্ত্রে মহামতি, জীব উদ্ধারে পরম ঠাই।

ত্রিজগৎ ঢুঁড়িয়া দেখো, হবে না এর তুলনায়।

ধরাতে সে জীব উদ্ধারে – সদা মনে বাঞ্ছা করে।

ভক্ত উদ্ধার হইতে পারে, হইলে মুক্তির আকিঞ্চন।।

দুই

মুক্তির আশে গুরুর তরে, কেউ মাথা নোয়ালে না।

গুরুর কাছে গেলে তুমি, নিয়ে ভবের বাসনা।

করিলেনা গুরু ভক্তি – চাহিলে না ভব মুক্তি।

ছাড়িলে না কামাসক্তি, পাহিলে না তাঁর দরশন।।

তিন

যা তোমার মমতার বস্তু, গুরু পদে বলি দাও।

আত্ম পদে গুরুস্থিতি, স্বহস্তে তুলিয়া নাও।

গুরুতে এক আত্মা হয়ে – স্বনাম তুমি দাও হারিয়ে।

সেরু পাগলা সবিনয়ে, করিতেছে এই নিবেদন।।

রচনা- ১৪-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৪

নিজকে চিনিতে চাইলে এসো গুরুর কাছেতে।

সেথায় গেলে আপনা সুরাত, আপনি পাবে দেখিতে।।

এক

আয়না ছাড়া যায়না দেখা, আপনি আপন সুরাত।

গুরু নামের আয়না দিয়া, দেখে নাও আপন মুরাত।

নিজকে চিনলে ভয় রবে না, কঠিনো পুলসিরাতে।।

দুই

গুরু হলো আয়না মতি, আয় না ছুটে আয় না আয়।

হৃদ মন্দিরে হৃদয় দিলেই, কেবল তারে দেখতে পায়।

অচেনায় চিন মানুষ সে যে, আলোক আন্ধা বান্দাতে।।

তিন

শয়নে স্বপনে যারে, ত্রি-জ্ঞানেতে ভাবো নাই।

গুরুর কাছে গেলে তুমি, এই নয়নেই দেখবে তাই।

সে যে নূরের উপর নূরের ছটা, দেখবে আপন সুরাতে।।

চার

আপন সুরাত আপনি দেখে, আপনি হবেন আশেকান।

যেই সুরাত দেখিয়া আপনি, হইছেন একদিন পেরেশান।

এই সুরাতেই আল্লাহ্‌ রাসুল, কয় সেরু পাগলেতে।।

রচনা- ২৫-১০-২০১৬ ইং সাল

গান নম্বর- ৭

বামে গুরু ভক্তের দায়, নেমে এলেন হেথায়।

উদ্ধারিতে ভক্ত আসিলেন তিনি।

সে হইলো মা জননী আমার মা গো-।।

এক

গুরু ভক্তি স্বর্গ বাস, অবহেলা সর্বনাশ।

তাইতে তোমরা হও, গুরুরো দাস।

গুরু হয় মতি, ভক্তের গতি, সে বিনে রতি ঘাতিনী।।

দুই

পরশিলে গুরু চরণ, ভক্ত হয় অমরণ।

সে বিনে উদ্ধারের নাইরে আশ।

ধরিতে গুরু করো লঘু শুরু, ডাইনে লঘুর অবস্থানি।।

তিন

শপ্ত পঞ্চ নামে, আছে ডানে বামে।

লঘু গুরু হয় যাহারো নির্যাস।

সামসুদ্দিনে কয়, সেরু পাগলা অধম হয়, লঘু বাদ গুরু সন্ধানী।।

রচনা- ০৫-০৯-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৬

কেন করলে বিয়োগ ঘাটে মাঠে।

বিয়োগের বাহাদুরি, করেছে ফতুরি, ফেলেছে আজ ঘোর সংকটে।।

এক

বিয়োগ অঙ্ক কতই সহজ, করছো ভবে তাই তুমি রোজ।

কোন দিন কি নিয়েছো খোঁজ, যাচ্ছে পুঁজি কার নিকটে।।

দুই

বিয়োগী যে সেই বিবাগী, পুজির ঘোরে দেবেই দাগী।

মেজাজে সে হয় বদরাগী, ব্যবসা তাহার উঠবে লাটে।।

তিন

হোক না পুঁজি আঠারো আনা, করলে বিয়োগ কিছুই রয় না।

বিয়োগ অঙ্কের এই নমুনা, (নইলে) ঢুঁড়ে দেখো এ তলাটে।।

চার

সেরু পাগলা ভাবিয়া কয়, দেহের স্বত্বা যা করছো ক্ষয়।

উহাই বিয়োগ জানো নিশ্চয়, মার তালা ক্ষয় কপাটে।।

রচনা- ১০-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৭

গুরু কি ধন চিনরে মন।

আনাছে যা বাত বলা হয়, তাহারেই কয় গুরু ধন।।

এক

হেলা, চলা, ফোলা, কাপা, হাঁই, এই পাঁচ গুণ বাত আনাছের হয়।

রঙ সবুজ স্বাদ খাট্টা হয়, হক্কল একিন হয় তাঁর ঈমান।।

দুই

ইস্রাফিল যাহার ও মক্কেল, লাহুত হয় তাহার ও মঞ্জেল।

অজুদ তাহার ওয়াজেবেল, সর্বক্ষণে তাই জানো মন।।

তিন

রূহু যাহার হয় ইনসানি, নফসো তাহার মোতমাইন্নি।

রাহা তাঁর মারিফাত জানি, এই হয় গুরুর মহাজন।।

চার

সেরু পাগলা কয় শিস্য তুমি, গুরুকে ছেড়ো না ভ্রমী।

ভজ গুরু দিবাযামী, করো গুরু আলিঙ্গন।।

রচনা- ০২-০১-১৯৯৬ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৮

তাহারেই তো বলে গুণী।

যে জন আদ্য শক্তি গুণের জন্য, রয় জেগে দিবস রজনী।।

এক

সর্ব বৃহৎ বৃদ্ধি করে, গুণ অঙ্ক বলে তাহারে।

(নয়লে) দশের সাথে দশ গুণ করে, (দেখো) কিরূপ বৃদ্ধি হয় তখনই।।

দুই

যোগেতে যোগেতে যে জন, হয়েছে বড় মহাজন।

করিতে পারে সে হরণ, শতদলের সপ্ত মণি।।

তিন

শতদল অঙ্কেতে গুণ, উহাই আদ্য শক্তিতে কুন।

না করে খুন ঐ আদ্য কুন, যে হয়েছে আম্মারা খুনি।।

চার

ভেবে কয় সেরু পাগলে, রেখে দৃষ্টি গুণ স্থলে।

সদা পোড়ো যোগ অনলে, একদিন তুমি হবেই মুনি।।

রচনা- ০৮-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৭৯

সাধু হওয়া ভাবছো সহজ, সাধনায় তো সহজ নয়।

সাধনায় সিদ্ধি হলে, তবেই তারে সাধু কয়।।

এক

মাতৃস্তনে যে ধনো রয়, শিশু চুমুকে দুগ্ধ সে পায়।

ঐ স্তনে জোঁক লাগলে ভাই, রক্ত ছাড়া নাহি পায়।।

দুই

জোঁক স্বভাবে করলে গমন, লহু তোমার হবে ভোজন।

শিশু স্বভাবে পাবে দুগ্ধ ধন, সাধনায় গেলে বুঝবে তাই।।

তিন

বে-সাধনায় সাধু যারা, অকালে পড়িবে মারা।

তাই সাধনার এতো তাড়া, সেরু পাগলা বলছে তাই।।

রচনা- ৩১-১০-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৮০

যার নয়নে যা লাগে ভালো।

যদিও অন্ধকার হয় তা, তবুও সে দেখে আলো।।

এক

কাঠঠোকরা পাখী আছে, থাকে যদিও মেওয়া গাছে।

ভুলেও যায় না ফলের কাছে, আজনম শুকনা কাঠ ঠোকালো।।

দুই

সাপের মাথায় আছে মণি, সে জানে না মণির মূল্যখানি।

নামিয়ে রেখে মাথার মণি, সদায় সাপে বেঙ খাইলো।।

তিন

নারিকেল ভরা জলে, রসিকের মন তাইতে ভোলে।

অড়ং এর আশায় নারীর দলে, শাঁস বাদে ঐ মালোই নিলো।।

চার

সেরু পাগলায় বলছে তোরে, হয় যদি কেউ গাঁজা খুরে।

রস শাঁসের ভাগ দিয়ে ছেড়ে, ছোবা নিয়েই মন ভরালো।।

রচনা- ১২-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

তাহারেই তো বলে যোগী।

যে জন আদ্য শক্তি যোগের জন্য, সদারে মন রয় বিরাগী।।

এক

করিতে যোগ করো বিয়োগ, নিজ দেহের কামিনী রোগ।

হেরিয়া কামিনী সম্ভোগ, করে নিত্ত কাঞ্চন ভোগী।।

দুই

বিষয় বিলাস বিফল ভাবিয়া, গুরুই আদ্য পাথেয় জানিয়া।

গুরু পদে হৃদ চুম্বিয়া, (যে) হয়েছে বিষয় বিরাগী।।

তিন

ছাড়িয়া মনের আপন বিভ্রাট, ভেবে নবী ধন সেই শ্রেষ্ঠ পাঠ।

নবীর নবুয়াতি সেই বড় লাট, এ আশায় রয় রজনী জাগি।।

চার

সামসুদ্দিন কয় চাইলে বাঁচতে, হওগে বহাল ঐ যোগেতে।

সেরু পাগলা বিয়োগেতে, মন দিয়ে রহে বিবাগী।।

রচনা- ০৫-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

মতু কাবলা আনতা মতু, রাসুলেতে ফরমায়।

মরার আগে মরো রে মন, মুক্তি পাওয়ার বাসনায়।।

এক

মরার আগে মরতে হলে, পড়ো গুরুর চরণ তলে।

পোড় গুরুর ভোজানলে, আহার যোগাও পঞ্চাত্মায়।।

দুই

দাস্য বৃত্তে স্ববিক্রয়ে, আত্মশুদ্ধি করো গিয়ে।

গুরুর মহা মন্ত্র নিয়ে, ধরে রাখো রসনায়।।

তিন

মরার আগে যার মরণ হয়, সমন বলে তাঁর কিসের ভয়।

নিজ দেহ তাঁর হয় যমালয়, যম তাঁকে দেখলেই ডরাই।।

চার

থাকে না তাঁর জন্ম মৃত্যু, অনিত্ত হয়ে যায় নিত্ত।

বিচার নাই তাঁর প্রভু ভৃত্য, ভেবে কয় সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২১-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

অংকে যেন ভুল করো না।

সদা পুঁজিই গুণ করিও, ভুলেও যেন ভাগ করো না।।

এক

গুণে সদা রেখো খেয়াল, নইলে হইও যোগে বহাল।

বিয়োগে পুঁজির হয় কি হাল, সদা করেও টের পেলে না।।

দুই

একাধারে করিও গুণ, জীবনেও ঝরিবে না কুন।

ধরিবে না পুজিতে ঘুণ, একথা কেনো বোঝো না।।

তিন

করো যদি যোগ পুঁজিতে, কিঞ্চিৎ হলেও বৃদ্ধি তাতে।

জানবে বিয়োগ লোকসানেতে, করে সে পদচারণা।।

চার

যদি পড়ো ভাগের হাটে, পুঁজি তোমার উঠবে লাটে।

পড়িবে গুরু বিভ্রাটে, সেরু পাগলার এই ব্যানা।।

রচনা- ০৩-০৮-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

পারেরো কাণ্ডারি, গুরু গুণোধারী, জগতের পূজারী সেই।

সে যে অমূল্য রতনো, সাধনারো ধনো, ভবে তাঁর তুলনা নেই।।

এক

জীব উদ্ধারের আশে, প্রতি মাসে মাসে, রজে বীজে সে বেড়ায়।

ওসে আলাকেরই মাঝে, থাকে সকাল সাঁঝে, খুজলে পাবে সর্বদায়।

ত্বরা খোঁজ এই গুরুকে, ভজো গো তাহাঁকে, মুক্তি পাবার কারণেই।।

দুই

যেথায় আদ্য কুন, আদি কারে খুন, ভ্রূণে গুরু দয়াময়।

ওসে তনেরই মাঝারে, সদা বসত করে, খুঁজে দেখো কলেমায়।

আহাদ রূপে বারী, হয়ে আদ্য নূরী, ঘুরিতেছে জগতেই।।

তিন

সেরু পাগলা কহে, গুরু মানুষ নহে, ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।

সে যে রূপে নিরাঞ্জন, বর্ত্ম রয় ত্রি-তন, এক রূপে এক রঙে নয়।

ত্রিজগতে ঘোরে, চতুর্থ রঙ ধরে, পাবে তুমি খুঁজিলেই।।

রচনা- ৩১-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ৮

করছো রে মন কার উপাসন।

ওয়ামা খালাকতু জিন্না ওয়াল, ইনসা ইল্লা লিইয়া বুদুন।।

এক

বলছে আল্লাহ্‌ কোরআনেতে, জ্বিন ও ইনসান পৃথিবীতে।

সৃষ্টি করছি মোর বন্দেগীতে, অন্য কিছু করো না মন।।

দুই

পড়ো নামায বেহেশতের আশায়, না পড়িলে দোযখের ভয়।

আল্লাহ্‌র তো বন্দেগী এ নয়, বেহেশত দোযখের কারণ।।

তিন

মান আরাফা নাফসাহু, ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু।

নিজকে চিনলে চিনবে আল্লাহু, পাইবে মাওলার দরশন।।

চার

রাসুল যিনি নিজকে চিনে, ত্বরা যাও সেই গুরু ধামে।

সেরু পাগলা গুরুর চরণে, মরতে চাই তাই জ্যান্তে মরণ।।

রচনা- ২০-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৬

ঝরা ফুলে হয় না পূজা, ঝরার আগেই তুলতে হয়।

যেই ফুলে হয় গুরু পূজা, সে ফুল তো সামান্য নয়।।

এক

কলেমা বৃক্ষেরই আগে, ফোটে সে ফুল শপ্ত ভাগে।

রূপে সে রক্তিমা রাগে, তৃতীয়ায় পূঁজিতে হয়।।

দুই

জগ জুড়ে এই একই ফুল, পাগল করেছে অলিকুল।

ভক্ত তুমি না করে ভুল, এই ফুল পূজায় করো লয়।।

তিন

জীবগণের ঐ জন্ম পথে, ফোটে যে ফুল জলস্রোতে।

সেরু পাগলা কয় জগতে, অরসিকের কার্য নয়।।

রচনা- ০৫-০৬-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৭

অষ্টাঙ্গ যোগ ইহারেই কয়।

নিয়ম, আসন, ধ্যান, প্রাণসংযম, ধারণা, সমাধি, প্রত্যাহার, যম।

ইহাই অষ্টাঙ্গ করো শ্রবণ, এই অঙ্গে যোগ করিতে হয়।।

এক

 ষট কর্মে করো শরীর শোধন, দৃঢ়তা আনো করিয়া আসন।

মুদ্রা দ্বারা স্থিরতা আন, প্রাণায়াম লঘুতা জন্মায়।।

দুই

প্রত্যাহারে হয় ধীরতা, সমাধি দ্বারা নির্লিপ্ততা।

ধ্যেই বস্তুর প্রত্যক্ষতা, ধ্যান দ্বারা আত্মাতে হয়।।

তিন

দ্বাদশবার প্রাণায়ামে একবার প্রত্যাহার, দ্বাদশবার প্রত্যাহারে ধারণা একবার।

একবার ধ্যান হয় দ্বাদশ ধারণায়, দ্বাদশ ধ্যানে এক সমাধি হয়।।

চার

সমাধি সাধিত হলে পরে, ব্রহ্ম জ্যোতির আবির্ভাব হয় রে।

(ব্রহ্মের) পরম জ্যোতি রয় অন্তরে, সেরু পাগলায় ব্যক্ত সে হয়।।

রচনা- ০৩-০৭-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৮

শুদ্ধ দেহ তাহাকেই কয়।

প্রাণ, অপান, জীবাত্মা, নাদবিন্দু, পরমাত্মা।

সংমিলন সংঘটিত যথা, এইগুলি যেই ঘটে রয়।।

এক

শোধন, দৃঢ়তা, লাঘব, স্থৈর্য, প্রত্যক্ষ, নির্লিপ্ত, ধৈর্য।

এই শপ্ত সাধন দেহে ধার্য, করলে অনিবার্য বিশুদ্ধ হয়।।

দুই

ধারণা, নিয়ম, প্রাণায়াম, আসন, প্রত্যাহার, ধ্যান, সমাধি ও যম।

(যোগের) আটটি অঙ্গ কয় যোগীগণ, অষ্টাঙ্গ যোগ ইহারেই কয়।।

তিন

প্রাণসংরোধ, সমাধি, আসন, প্রত্যাহার, ধারণা ও ধ্যান।

এ ছয়টি যোগের অঙ্গ নাম, যোগ বিনে মুক্তি নাই হেথায়।।

চার

সেরু পাগলাকে সামসুদ্দিন বলে, তুমি হয়েছো মন গণ্ডগোলে।

নহে যোগ বিয়োগ করিলে, (তাই) অকালেই দেহ বিয়োগ হয়।।

রচনা- ০৩-০৭-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৮৯

তোর শ্রীচৈতন্য কবে হবে।

শ্রী হারা হইলে পরে, তোমারে কুশ্রী দেখাবে।।

এক

শ্রী হইলে যুগলো শ্রী, দেখাবে তোমারে সুশ্রী।

অচৈতন্যে তোমার ঐ শ্রী, দিনে দিনে হারাইবে।।

দুই

হলে শ্রীতে মতির আবির্ভাব, শ্রী মতির হবে না অভাব।

শ্রীমতি আসিয়া অবাধ, শ্রী-শ্রী সদা বলিবে।।

তিন

সজাগ ঘরে হয়না চুরি, রইলে তুমি ঘুমোঘোরী।

সকলি শ্রী নিলো হ’রি, ভাবলে না কিসে উদ্ধারিবে।।

চার

হইলে শ্রীচৈতন্য ভাব, হবে না শ্রী এর ই অভাব।

সামসুদ্দিন কয় চৈতন্য ভাব, হারাসনে পাগলা সেরু ভবে।।

রচনা- ২১-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

সার হবে তোর কাঁদাকাটা।

খেলে বাজী হারিয়ে পুঁজি, দিচ্ছরে মন পাছা বাটা।।

এক

দেহ গুদাম দিলো পিতায়, মাল ভরিল তোমার মাতায়।

(তুমি) মহাজন সাজিলে তথায়, বিকাইলে মাল যথা তথা।।

দুই

অর্থ নিয়ে মাল দিতে হয়, বেচাকানের এই নিয়ম রয়।

ছয় দালালের কুমন্ত্রণায়, মাল দিয়ে নিলে না টাকা।।

তিন

এখনো তোমার সময় আছে, যাও ছুটে মন গুরুর কাছে।

ব্যবসার যতো বিদ্যে আছে, দেবে গো তোমারে শিক্ষা।।

চার

করছো ব্যবসা বিনা শিক্ষায়, পুঁজি হারা হচ্ছো গো তাই।

তাইতে সামসুদ্দিনের দরগায়, সেরু পাগলার নিত্ত হাঁটা।।

রচনা- ২১-০৬-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

যেমন কর্ম তেমনই ফল, দেহ হতেই হয় তোমার।

যে স্বভাবে মরবে তুমি, পুনঃ সে ভাবে জন্ম তাঁর।।

এক

ঊর্ধ্ব অধঃ ভাবে, ঘড়ির কাঁটা ঘোরে যবে।

কর্ম বসে তেমনি জানবে, মৃত্যুর পর জনম আবার।।

দুই

মানব শরীর যতো, আম মৃত্তিকাময় কলশীর মতো।

জীবন তোমার জলের মতো, অবিরত ক্ষয় করে তাঁর।।

তিন

অগ্নি সম যোগ জানিবে, যোগেতে তন পুড়াইবে।

তবেই তো ক্ষয় বন্ধ হবে, এ বচন সেরু পাগলার।।

রচনা- ০৭-০৩-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

 (মন) হরি নাম জপ সদায়।

মুখে পড়ুক সদা হ’রি, নহ রূপো হরী, হ’রি রূপো যেন হয়।

এক

হরি সদা করো হ’রি, থাকবে না ভয় হোরী, হরি করো সর্বময়।

হোরী সদা তোমার পাশে, হ’রিবার আশে, বসে আছে সর্ব ঠাই।

হরি হয়ে আছে চুপ, কোন হ’রির কি রূপ, না জানলে জনম বৃথায়।।

দুই

দেখো হোরী তে রয় হরী, গাহে কীর্তন হরি, হরি রূপে সর্বদায়।

আবার হোরীর দেখা পেলে, যায় সে হরি তলে, স্বরূপ তোমার হ’রি হয়।

সদা করো হরির তালাশ, হরি রবে বারো মাস, হোরী হ’রিতে করিবে ভয়।।

তিন

হলে হরী স্বভাব, হবে হরির অভাব, রবে হোরী আনন্দ সদায়।

হরি যাইবে কাল হোরী, তোমার সর্বস্ব যাবে হ’রি, সামসুদ্দিন বলিছে তাই।

সেরু পাগলার যে সব হরি, হোরী নিলো তাহা হ’রি, বিপথে চলিছে তাই।।

শব্দার্থ- হরি- পানি, ইশ্বর, হোরি- পদ্ম, হরী- ব্যাঙ, হোরী- সাপ, হ’রি- হরণ করা, হ’র-পাক পাঞ্জাতন।

রচনা- ১৫-০১-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

লাটের মতো করছো রে ব্যয়, মহাজনের দেয়া কড়ি।

টাকশালের মাল ফুরাইলে, পড়বে হাতে হাত বেড়ী।।

এক

সত্য পথে হলো প্রকাশ, অসত্যে কেন হয় অভিলাষ।

কুপথে হারালি আবাস, হইলি বে ঈমানদারী।।

দুই

ষোল আনা পুঁজি পেলে, কে তাহা তোর কেড়ে নিলে।

আমোদে পুঁজি উড়াইলে, কেউ তাহা নেইনি কাড়ি।।

তিন

পুঁজি হারা হবে যেদিন, মহাজনে ধরবে সেদিন।

কেমনে শোধিবে এ ঋণ, সেরু পাগলায় কয় তোঁরী।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

মেঘে ভরা আসমান দেখি, বারিতে আছে বন্ধন।

যেমন মেঘ তেমনই থাকে, হলেও তাহা বরিষণ।।

এক

মেঘেতে আকাশ ঢাকা, আছে বারি ধরে রাখা।

মন যদি হয় কামুয়াকা, হয় না তখন বরিষণ।।

দুই

এই দেখিলাম মেঘে ভরা, বহিবে বরষা ধারা।

আমি দেখে হলাম দিশে হারা, শুষ্ক দেখি কুঞ্জ বন।।

তিন

মেঘ বারি আশায় আছি বসে, পশ্চিমে মেঘ উঠলো ভেসে।

জমিন দেখি গেলো ভেসে, হয় নি আসমান বরিষণ।।

চার

সেরু পাগলার মন নয় সাধা, তাই এপথে কতো বাধা।

সামসুদ্দিন কয় ওরে গাধা, করো গুরু নিরিখ মন।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯

মরঘাটাতে থেকে রে মন, পারের আশা করো না।

মরঘাটাতে মরতে হবে, পার হইতে পারবে না।।

এক

মরঘাটাতে জন্ম তোমার, মনে আশা হইবে পার।

মরঘাটাকে ছেড়ে এবার, পারঘাটাতে এসো না।।

দুই

(নদীর) উপর দিয়ে পার হতে হয়, (তুমি) পাতালে রয়েছো নিশ্চয়।

পাতালে সবার মরণ হয়, তাই আর পাতাল ধেও না।।

তিন

আসমানেতে হয় পারাপার, (সেথায়) নবীর নৌকা করছে রে পার।

সেরু পাগলা বলছে এবার, ভুলেও আসমান ছেড়ো না।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৬

পাতালে দ্বিমুখী করণ, পাপ পুণ্য দুটিই রয়।

পাপের কাজটি সবাই জানে, পুণ্য জানতে গুরু চাই।।

এক

পাতালে চরণ ডুবালে, জ্বলবি সদা পাপানলে।

ঈমান তোর যাবে বিফলে, আখেরাত হবে হায়খায়।।

দুই

সাবধানে রাখিয়া চরণ, পাতালি ধন হৃদে ধারণ।

করতে পারলে ও ভোলা মন, হজ্জ, তায়াম্মুম তাহার হয়।।

তিন

পাতাল কর্মে রয় নফি এযবাত, জানবে নেই আসমানেও তফাৎ।

নাহি বুঝে নফি এযবাত, সেরু পাগলা পাতাল ধায়।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৭

আসমানে আল্লাহ্‌রই আসন, জমিনে জীবেরই বাস।

হোসনে সদা পাতালগামী, হবে রে তোর সর্বনাশ।।

এক

 ধারণ করো হৃদে আসমানী ধন, দেখবি আল্লাহ্‌র নাম রহমান।

শত মুশকিল হবে আসান, ঘুচবে রে দুঃখ নৈরাশ।।

দুই

রেখে আসমান পাতালে গমন, ঈমান তোমার হবে হরণ।

 অকালে হইবে মরণ, পাপে তোমায় করবে গ্রাস।।

তিন

আসমানেতে হয় পারাপার, পাতালে হয় চোরের কারবার।

সেরু পাগলা বলছে এবার, আসমানে থাক বারো মাস।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৯৮

নিম গাছে আম ফলানো যায়, কলম বিদ্যা জানিলে।

কুস্বভাব সুস্বভাবী হয়, গুরু বাক্য মানিলে।।

এক

এই ভবে ঘুরে দেখো মন, বাঁধছে কলম ইচ্ছে মতন।

করতেছে স্বাদ পরিবর্তন, চিন গাছে ভিন ফল ফলে।।

দুই

কুস্বভাবী গুরুর তরে, পৌঁছিলে সুস্বভাবেরে।

দেবে যখন কলম করে, নতুন ভাব আসবে দিলে।।

তিন

তাইতে  বলি ত্বরা করে, যাও ছুটে মন গুরুর ধারে।

কুস্বভাব তোর যাবে দূরে, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ১২-০৬-২০০৪ ইং সাল

 

কলেমা

গান নম্বর- ৯৯

যাহাতে সৃষ্টি তোমার, মরণ তোমার তাঁর কারণ।

কিসে মরণ কিসে সৃষ্টি, জানতে রে তুই কর সাধন।।

এক

আরশেতে ছিল মোকাম, কলেমা হয় যাহারই নাম।

তাতেই সৃষ্টি জীবন ও কাম, কামই তোর মৃত্যুর কারণ।।

দুই

কলেমাতে হরফ বারো, জানবি সদা বারি রূপ তারো।

তাতেই বাঁচো তাতেই মরো, তা বিনে সব অকারণ।।

তিন

(কলেমা) বারি রূপে করেছো হরণ, (হয়ে) নুক্তা রূপ পেয়েছো জনম।

উহাই স্বরূপ জানবি রে মন, সেরু পাগলা কয় এখন।।

রচনা- ৩১-১০-১৯৯৩ ইং সাল

 

চাঁদ

গান নম্বর- ১০

সাড়ে তিন চন্দ্রে ইনসান সৃষ্টি, তাহার হিসাব শোন রে মন। 

জ্বিন সৃষ্টিও সাড়ে তিনে, সৃষ্টি লিলা এক রকম।।

এক

দ্বিদলে যে চাঁদ রয়েছে, দুভাগে বিভক্ত আছে।

তাইতে দ্বিদল নাম হয়েছে, শত পঞ্চ নাম তাঁর শোন।।

দুই

শত নামী হয় শপ্ত চাঁদ, মৈথুনে ক্ষরণ হয় আধ আধ।

আধেতে ইনসানের আবাদ, আধেতে জ্বিন জেনো মন।।

তিন

শপ্ত চন্দ্রের অর্ধ যে হয়, সাড়ে তিন চন্দ্র তাহারে কয়।

সেরু পাগলা বলে নিশ্চয়, সৃষ্টি লিলা এই রকম।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

অমাবস্যায় পূর্ণ শশী, দেখিয়াছি আসমানে।

পূর্ণিমায় থাকে না চন্দ্র, কামিনী ঐ জমিনে।।

এক

অমাবস্যা চন্দ্রঘাতী, থাকে না কুসুম আড়াই রাতি।

অমাবস্যায় শশী জ্যোতি, আলো ছড়ায় গগণে।।

দুই

পূর্ণ চন্দ্র পূর্ণিমাতে, যাও যদি কিরণ আশাতে।

(যদি) বিন্দু কামও রয় তোমাতে, আলোর দেখা পাবিনে।।

তিন

চন্দ্রেতে আলোকময়, কামে ধরা অন্ধকার হয়।

সেরু পাগলা তাই ভেবে কয়, নামগে কাম ঘাট বাঁধনে।।

রচনা- ২৮-১০-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১০

দ্বিদলে উঠিলে চন্দ্র, অমাবস্যা হয় না তাঁর।

বারো মুখী কুসুম কিরণ, ছড়ায় জ্যোতি একাধার।।

এক

এক চন্দ্র বারো মুখী, আছে দুভাগে বিভক্তি।

বিভক্তি দুভাবে চুক্তি, অন্যথা হয় না রে তাঁর।।

দুই

এক মুখে শতদল কমল, তাঁর কিরণে জীবন অটল।

তাঁর বিহনে স্বরূপ অচল, ছাড়িতে হয় ভূ-আধার।।

তিন

শশী কিরণ পঞ্চদলো, এতেই মুক্তির আলো।

এর অভাব পাপে ডুবালো, সেরু পাগলা কয় এবার।।

রচনা- ২৭-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৩

সাড়ে চব্বিশ চন্দ্রের হিসাব, করি গো হেথা বয়ান।

চন্দ্রমা, রজত প্রভঃ, উড়ুপতি, কনিয়ান।।

এক

শ্বেতাক্ষ, কনক প্রভঃ, করবিরো, স্বয়ম্প্রভঃ।

তালবৃন্ত, ত্রৈষ্টুভঃ, গরুড়াহৃত, অংশবান।।

দুই

গায়ত্র আর মহাসোম, জাগত, অগ্নিষ্টোম।

পাংক্ত আর দূর্বাসোম, রৈবত ও আংশুমান।।

তিন

ত্রিপদীযুক্ত, প্রতাপবানো, শঙ্করী আর ভুঞ্জবানো।

সেরু পাগলা দেয় প্রমাণো, সাড়ে তিনে অর্ধ চান।।

রচনা- ১৭-১২-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৪

খুন দিয়ে মাসেরই শুরু, খুন দিয়ে শেষ হলো মাস।

খুন থেকে খুনেরই হিসাব, জানিতে হও গুরু দাস।।

এক

খুনের আগাম বার্তা নিয়ে, মহররম ঐ আসে ধেয়ে।

শহীদানের রক্তে নেয়ে, কাফেরে করে উল্লাস।

সে রক্তের বদলাতে দেখো, হয়েছে ইসলাম প্রকাশ।।

দুই

সফরে ভ্রমণ করিয়া, আলাক রূপ গেলো হইয়া।

রবিউল আওয়াল বিজয়া, মহানবীর হয় প্রকাশ।

রবিউস সানিতে প্রভু, বলে হতে ক্রীতদাস।।

তিন

জমাদিউল আওয়াল এলো, সবাই জমায়েত হইলো।

জমাদিউস সানি দিলো, নবীতে পূর্ব আভাস।

রজ্জবে মেরাজ কারণে, যায় নবী সপ্তম আকাশ।।

চার

ভাগ্য বণ্টন হয় শাবানে, প্রাপ্তি ঘটে ঐ রমযানে।

সেহেরি ইফতারি ধ্যানে, সিয়ামকারীর নাভিশ্বাস।

তখন প্রভু ক্রীতদাসে, ফেতরা দেওয়ার দেয় আশ্বাস।।

পাঁচ

সবাই থাকি একই ধ্যানে, শবে কদর হয় কখনে।

সেজদা দেয় প্রভুর চরণে, গাছপালা আকাশ বাতাস।

সেজদায়ী ধন করলে গ্রহণ, মুক্ত হয় সব ক্রীতদাস।।

ছয়

দাসের ঘরে উঠেছে ধন, সওয়ালে তাই ঈদ আগমন।

যিলকদে যাকাত বিতরণ, পায় না যাকাত নেওয়ার দাস।

কার যাকাত কে নেই রে সেদিন, সর্ব ঘরেই রয় উল্লাস।।

সাত

যিলহজ্জ মাসের আগমনে, যায় ছুটে মক্কা মদিনে।

হজ্জ করিবার আশা মনে, তাইতে বান্দা হয় প্রবাস।

কোরবানির পশুরো খুনে, সমাপ্ত হয় বারো মাস।।

আট

বারো চন্দ্র আমার ইচ্ছায়, আসমানেতে ভ্রমণ করাই।

ইচ্ছা করলে এক অবস্থায়, রাখতে পারি হাজার মাস।

সেরু পাগলা কয় একথা, জানিতে হও গুরু দাস।।

রচনা- ১৩-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৫

সর্ব চন্দ্র স্বর্ণ বর্ণ, পঞ্চদশটি পত্র হয়।

শুক্লে এক এক পত্রৎপত্তি, কৃষ্ণে এক এক ঝরে যায়।।

এক

আংশুমান সোম ঘৃত গন্ধ, রজতপ্রভঃ আকৃতি কন্দ।

ভুঞ্জবান লশুনি সম, চন্দ্রমা সুবর্ণা ন্যায়।।

দুই

শ্বেতাক্ষ, গরুড়াহৃত, পাণ্ডু বর্ণ হয় আকৃত।

বৃক্ষাগ্রে রয় লম্বিত, এ কথা জেনো নিশ্চয়।।

তিন

চন্দ্র বর্ণ বলতে গেলে, আনন্দ বিরাজে দিলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, গুরু ধরে চিনতে হয়।।

রচনা- ১৭-১২-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৬

সর্ব চন্দ্রের শ্রেষ্ঠ দেখো, চন্দ্রমা সোম নামটি তাঁর।

পঞ্চ নদের সিন্ধু নামক, মহানদের নিম্নে স্থান।।

এক

হঠাৎ হঠবতেরই ন্যায়, জল মধ্যে ভেসে বেড়ায়।

তাঁর ঊর্ধ্বেতে জনম নেয়, ভুঞ্জবান আর আংশুমান।।

দুই

ক্ষুদ্রমানস সরোবরে, গায়ত্র ত্রৈষ্টুভঃ হয় রে।

পাংক্ত জাগত শাংকরে, খুঁজে নাও করে সন্ধান।।

তিন

অকৃতজ্ঞ, অকর্মণ্য, অবিশ্বাসী, হিংসুকগণো।

দেখিতে না পায় কখনো, সেরু পাগলার এই প্রমাণ।।

রচনা- ১৭-০৯-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৭

আমেনায় আহাম্মদ এলে, রমযানের চাঁদ তারে কয়।

মদিনা মক্কা হইবে, শোন গোপন পরিচয়।।

এক  

আনআম বাকারাহ হইলে, আহাম্মদ ধরায় আসিলে।

রমযানের চাঁদ তারে বলে, কথা কিন্তু মিথ্যা নয়।।

দুই

মোহাম্মদ আসিলে পরে, হজ্জের চাঁদ লইবে ধরে।

একাত্তর দিনে হজ্জ লও সেরে, তবেই হবে ঋপু জয়।।

তিন

রমযানের ঐ শেষের দশে, শবে কদর ফিরে আসে।

সে ধন জীবের হৃদে মিশে, সর্ব পাপ তাঁর করে লয়।।

চার

সপ্ত পঞ্চ নাম ধরিয়া, আসে মান্না ও সালওয়া।

সেহরি ইফতারি হইয়া, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৯-০২-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১০৮

বিসমিল্লাহ্‌র দশ বীজের খবর, কান থাকিলে করো শ্রবণ।

উনিশটি অক্ষরের মাঝে, পাবে দশ বীজেরো দর্শন।।

এক

আলিফ আর মীম তিন বার করে, ব্যবহৃত হইয়াছে।

বড় হে আর রে অক্ষরটি, দু-বার করে রয়েছে।

লাম অক্ষর ব্যবহার চার বার পাঁচ অক্ষর রয়েছে একবার।

নুন, ছোট হে, বে, সিন এ আর, ইয়া মিলে দশ বীজ ধারণ।।

দুই

আলিফেতে আল্লাহ্‌ বর্ত্ম, মীমে রয় দ্বীনের নবী।

লামেতে শিস্য রয়েছে, নুন খুঁজলে গুরু পাবি।

ছোট হেতে হলো হাওয়া বেতে আসা সিনে যাওয়া।

ইয়া খুঁজলে আমায় পাওয়া, রে অক্ষরে ফুল বরিষণ।।

তিন

বিসমিল্লাহ্‌র উনিশ অক্ষরের, দশ ভাগে এক পড়ে কম।

বড় হেতে আদম ব্যাটায়, কমায় বসে আদ্য দম।

দমে দমে এক কম পড়ে – বৃদ্ধি হয় ছোট হের ধড়ে।

নিশ্বেস করে আনফাসেরে, সেরু পাগলায় করে বর্ণন।।

রচনা- ১৪-১১-২০০৮ ইং সাল

 

জীব

গান নম্বর- ১০৯

পড়িয়া সুন্নি ফেকাহ দেখি রয়েছে লেখা, হবে বিচার মরণেরও পরে।

আমার দয়াল রে- শাস্তি মুক্তি বিচারেরও পরে।।

এক

ধরাতে পাপ পুণ্য যতো, করিয়াছি শত শত।

মরলে স্থান হিসাব অনুসারে।

ইল্লিন আরও সিজ্জিনেতে, রাখবে রূহু হিসাব মতে।

বেহেশত দোজখ হবে শেষ বিচারে।।

দুই

মরণেরও সাথে সাথে, রূহের স্থান দুই ভাগেতে।

বিচারের বাদ থাকিলো কি করে।

যদি বিচার বাদ রহিতো, সব রূহু এক জায়গায় রাখতো।

ভাগাভাগি হইতো বিচার করে।।

তিন

ধরায় জীবের কর্মফলে, বেহেশত দোজখ তারে দিলে।

ধরার শাস্তি দাও কোন কর্ম ধরে।

সে কর্ম কোন সময় বলো, সেরু পাগলা করেছিলো।

কোন স্থানে ঐ কর্ম সে করে।।

রচনা- ০১-০৫-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১১০

নাম ধরেছো পরমও বলে।

কোন আনাসে সৃষ্টি তুমি, কি রঙের তুমি হলে।।

এক

নফস তোমার কি নামে হয়, কোন মোকামে বসতী রয়।

রাহা তোমার বলো কি হয়, বিশ্রাম নাও কোন মঞ্জিলে।।

দুই

অজুদের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

স্বাদ এবং রঙ কেমন তোমার, চালনা কোন মক্কেলে।।

তিন

পরম কথা সংস্কৃতে, বলো কি তা হয় আরবিতে।

সেরু পাগলা চাই জানিতে, ঘুচাও ভ্রান্তি ভেদ বলে।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১১১

সাফাতে জনমো হয় তোমার।

বলো সাফার ফেল হয় কত, কত ফেল কলবে সাফার।।

এক

রুহু কুদচি শুনলাম তোমার, বলো আমায় ফেল কতো তাঁর।

কি রূপ কি স্বাদ কোন বস্তুটার, কোনখানে আহার বিহার।।

দুই

ওয়াজেবল অজুদ বলিলে, সে বলো রয় কয়টি ফেলে।

অহেদিয়াত কারে বলে, কর্ম বলো হয় কি তাঁর।।

তিন

সেরু পাগলার তালিম বিষয়, জানিতে যে মন সদা চাই।

কে বলো জানাবে আমায়, বলো খবর জানলে তাঁর।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১১২

নামটি তোমার পরমাত্মা, প্রভু তুমি নাহি হও।

পাঁচটি আত্মার মালিক যিনি, তাহারেই তো প্রভু কয়।।

এক

পরম তুমি প্রভুর সৃষ্টি, (কেনো) প্রভু রূপে করছো ফষ্টি।

আমার কাছে আছে কষ্টি, মিথ্যা বললে মানবো নয়।।

দুই

আমার নামটি হয় জীবাত্মা, আল্লাহ্‌ হয় আমার ও স্রষ্টা।

আমি জীব নয় রে স্রষ্টা, তেমনি তুমিও স্রষ্টা নও।।

তিন

আত্মা যদি স্রষ্টা হবে, স্রষ্টার পূজা কে করিবে।

সেরু পাগলা ইহাই ভাবে, বুঝিয়ে চিন্তা ঘুচাও।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

  গান নম্বর- ১১৩

এক অজুদে রহিয়াছে, পঞ্চ জীবের অবস্থান।

সূক্ষ্ম, স্থুল, বদ্ধ, মুক্ত, তটস্থ হয় যাহার নাম।।

এক

রজঃ বীজের রূপটি ধরে, যে স্বত্বা অজুদ মাঝারে।

আকার নাস্তি দেহ ধরে, রয়েছে ঐ আলাক ধাম।

সেই তো স্থুল জীব নামেতে, রহিয়াছে বিরাজমান।।

দুই

অজুদে দশ ইন্দ্রিয়াত্মিক, সজীব রাখে গুণণান্তিক।

তাহারে কয় তটস্থ জীব, দলীলে ইহাই প্রমাণ।

যে স্বত্বা হয় স্রষ্টার ই দাস, সূক্ষ্মজীব হয় তাহার নাম।।

তিন

পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, গড়িয়াছে মায়া সূত্র।

আবদ্ধ আমরা সর্বত্র, রহিয়াছি ধরাধাম।

যে শক্তি মায়াতে বাঁধে, বদ্ধজীব হয় তাহার নাম।।

চার

গুরু দাস্যে যেহি শক্তি, লয় করে ঐ মায়াশক্তি।

দূর করে দেয় সবাশক্তি, মুক্ত জীব হয় তাহার নাম।

সেরু পাগলা বলে জীবের, সঠিক পরিচয় দিলাম

রচনা- ২৩-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৪

কি দোষে বিদেশে পাঠালে।

এক দেহেতে ছিলাম আমরা, কতই না কুশলে।।

এক

কি অপরাধ করে গো শাঁই, সর্ব প্রথমে নূর ঝরায়।

পরেতে পৃথিবী গড়ায়, বলো কাহার কৌশলে।।

দুই

জীব রূপে ধরারই মাঝে, পাঠাইলে কিবা কাজে।

তাহাই ভাবি সকাল সাঁঝে, ইচ্ছাতে নাকি ভুলে।।

তিন

ভুলেই হউক আর হউক ইচ্ছাতে, পাঠিয়েছো এ ধরাতে।

ছিলাম তো আমরা তোমাতে, সৃষ্টির ও পূর্ব কালে।।

চার

আমি তোমার খণ্ড অংশ, আমি হই তোমারই বংশ।

আমি তুমি এক সারাংশ, বলছে সেরু পাগলে।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৫

এক দেহ হইতে এসে দুই নামে কেন পরিচয়।

এক বস্তুর দুই রকম নাম, কেমনে হলো এ ধরায়।।

এক

লক্ষ মণ স্বর্ণ হইতে, এক কেজি স্বর্ণ দূরেতে।

নিয়ে গেলে এই ধরাতে একই নামে তাহা রয়।

স্বর্ণ সে তো স্বর্ণ থাকে, ভিন্ন শুধু খণ্ড তাই।।

দুই

ছিলাম প্রভু তোমার ধড়ে, দিলে তুমি খণ্ড করে।

নাম কেনো হয় দুই প্রকারে, সত্য করে জানতে চাই।

তুমিও যাহা আমিও তাহা, ভিন্ন কেন হলাম হেথায়।

তিন

তুমি যদি পরম হবে, আমার নাম তাহাই থাকিবে।

জীব হইলে জীবে জীবে রবো আমরা দুজনায়।

কি হেতু নাম দুই করিলে, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৬

প্রথমে নূর ঝরায় প্রভু, হাদিসেতে লেখা রয়।

মহাম্মদী নূর নামেতে, দিলে তাহার পরিচয়।।

এক

খোদ নূরে নূর খণ্ড হলো, মোহাম্মদ নূর নাম ধরিলো।

নূর সেতো নূরই রহিলো, ভিন্ন শুধু খণ্ড তাই।

আদি নূরের অংশ নূর সে, ইহা ছাড়া ভিন্ন নয়।।

দুই

নূর দিয়ে এই বিশ্ব ভুবন, তুমিই তো করেছো সৃজন।

বাঁকি চার চিজ হইলো কখন, তাই জানার বাসনা রয়।

আগুন, পানি, মাটি, বাতাস, কখন কি রূপেতে হয়।।

তিন

যদি বলো নূরেই ছিলো, আল্লাহ্‌তে ইহাই রহিলো।

পাঁচ চিজে আমায় গড়িলো, আল্লাহ্‌ও পাঁচ চিজেতে হয়।।

তুমিও যাহা আমিও তাহা, কখনোই ভিন্ন নয়।।

চার

ভেবে সেরু পাগলা বলে, ভিন্ন হলাম কি কৌশলে।

আমায় তুমি বলো খুলে, করে তাহা সুনিশ্চয়।

আমি তুমি একই স্বত্বা, কেউ কভু আলাদা নয়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৭

পুণ্য পাপের ভাগী হলাম, পাঁচ চিজে হয়ে গঠন।

তুমিও পাঁচ চিজে গড়া, নিষ্পাপ হইলে কেমন।।

এক

পাঁচ চিজে পাঁচ অজুদ আছে, আত্মাও পাঁচটি রয়েছে।

পাঁচ অজুদের পঞ্চ নফসে, খাহেশ মিটায় সারাক্ষণ।

তাদেরই কর্ম ফলেতে, স্বর্গ নরকে গমন।।

দুই

তুমিও পাঁচ চিজে গড়া, নফসে তোমায় দেয় কি তাড়া।

রয় কি তোমার মৃত্যু জ্বরা, শুনতে চাই সেহি কথন।

স্বর্গ নরক আমার জন্য, তোমার জন্য কি তখন।।

তিন

একদিনে কিয়ামত হবে, হাশরে ফের উঠাইবে।

তুমিই মোদের কাজি হবে, কোরআনে তাহাই বর্ণন।

তোমার বিচার কি প্রকারে, কে বলো করবে কখন।।

চার

শুনি নফসের মরণ হবে, তোমার কি তাহাই ঘটিবে।

কে তোমার জান হরণ করবে, কে করবে জারী সমন।

সেরু পাগলার স্বর্গ নরক, তোমার কি হবে তখন।।

রচনা- ২৬-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৮

নাম তোমার কে রাখিয়াছে, তাই বলো আমায়।

আসলে তোমার নামটি কি, আজ আমি জানিতে চাই।।

এক

শুনি তোমার পিতামাতা নাই।

তবে তোমার নাম রাখলো কে, খুলে বলো তাই।

নামী না বেনামী তুমি, ওহে প্রভু জগত শাঁই।।

দুই

মুসলমান নিরানব্বই নামে।

ডাকিতেছে দেখি আমরা, এ ধরাধামে।

গড, ভগবান, ইশ্বর নামে, ডাকিছে কতো জনায়।।

তিন

কেউ পিতা কেউ ডাকে গো স্বামী।

কি নাম ধরে ডাকবো তোমায়, আজিকে আমি।

এই ভাবনা সদায় ভাবে, তোমার ঐ সেরু পাগলায়।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১১৯

জীবে জীবে মিলন হয়ে জীবেরই জনম।

জীব ছাড়া কোথাও দেখি না, আছে কোথা ঐ পরম।।

এক

জীব থেকে জীবেরই উৎপত্তি।

জীব দেখো চলে ভবেতে, নিয়ে নিজ গতি।

বংশ বৃদ্ধি করে তারা, ফের করে বরণ মরণ।।

দুই

কোথাও তোমায় পায়নি খুঁজিয়া।

কি রূপেতে আছো তুমি, বলো খুলিয়া।

আছো কি নাই দেখিতে চাই, দেখাও তুমি কি ধরণ।।

তিন

পাঁচ অজুদে পঞ্চটি নামে।

রহিয়াছি সদা আমি, এ ধরাধামে।

ভূলোকে সবাই দেখে, আমাদের এই জীব গঠন।।

চার

নামেই তুমি কামে পেলাম না।

ঘোড়ার ডিমের মতোই তোমার, পরিচয় খানা।

সেরু পাগলা পায়নি মিছেই, খুঁজিলো সারাজীবন।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২০

ভবে দেখো জীব তাহাঁকেই কয়।

জীবন যেথায় প্রবাহিত, জীব নামে সেই পরিচয়।।

এক

পাঁচ অজুদ পঞ্চ আনাছে, পঞ্চ রূহু পঞ্চ নফসে।

পাঁচ রাহা পাঁচ মোকামেতে, পাঁচ মঞ্জিল ইহাতে রয়।।

দুই

পাঁচ মক্কেল একিন হয় পাঁচখান, পাঁচ চিজে রয় চল্লিশ খান্দান।

ইহাতেই জীব রয় বর্তমান, এ ছাড়া সে জীব তো নয়।।

তিন

পাঁচ আনাছে ফেল হয় পঁচিশ, পাঁচ জাত নিয়ে দেখো তিরিশ।

দশ লতিফা যোগে চল্লিশ, জীবের গঠন এতেই হয়।।

চার

চল্লিশ গঞ্জ তেত্রিশ রসে, নারী পুরুষ হলো শেষে।

হিজড়া তেহাত্তরে মিশে, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২১

নিজকে নিজেই করি ভজনা।

আমার বিচার আমিই করি, আমিই ফের করি ক্ষমা।।

এক

অজুদে পাঁচ জাত রয়েছে, প্রত্যেকের পাঁচ সেফাত আছে।

পাঁচ পাঁচে পঁচিশ হয়েছে, জাতের এই সেফাত গণা।।

দুই

পঁচিশ সেফাত পাঁচ জাত মিলে, তিরিশ হয় দেখো গণিলে।

একেই তিরিশ পারা বলে, এই হয় মোর কোরআন খানা।।

তিন

আমার কোরআন আমিই গড়ি, আমার কোরআন আমিই পড়ি।

নিজেই পড়শি নিজেই বাড়ি, নিজেই আমি হই সেনা।।

চার

নিজেই দোষী নিজেই কাজী, নিজেই নৌকা নিজেই মাঝি।

নিজেই বলি নিজেই বুঝি, (কেবল) সেরু পাগলায় বোঝে না।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২২

পাঁচ চিজে পাঁচ অজুদ গড়ে, পাঁচ রূহু বর্তমানে।

এ জগতে দেখো আমি, প্রকাশিত জীব নামে।।

এক

কুদচি, ইনসান, হাইয়ানী হয়, যামাদাত, নাবাদাত হয়।

এহি তো পঞ্চ রূহু হয়, জানাইলাম এইখানে।।

দুই

ওয়াযেবল, মোমতেনাল, আরেফাল আর মোমকেনাল।

শেষেতে রহে অহেদাল, পাঁচ অজুদ ধরাধামে।।

তিন

পাঁচ অজুদে রূহু নিয়ে, জীব নামে রয় প্রকাশ হয়ে।

সেরু পাগলা তাইতে কহে, নইলে রয় জড় নামে।।

রচনা- ২৭-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৩

জীবন দেখো হয় জীবের আধার।

জীবন যেথায় নাহি থাকে, জীব হবে কেমনে আর।।

এক

রূহু কুদচি সূক্ষ্ম নামে, জীব গড়ে অজুদো ধামে।

রূহু যেথা হয় ইনসানে, মুক্ত জীব নামে প্রচার।।

দুই

রূহু যেথা হাইয়ানী হয়, বদ্ধজীব নামে পরিচয়।

যামাদাত রূহু হয় যেথায়, স্থুলজীব নাম হয় তাহার।।

তিন

নাবাদাত রূহু হইলে, তটস্থজীব কয় সকলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, জীব হলো সবই ধরার।।

রচনা- ২৯-১২-২০০০ ইং সাল

 

পরম  

গান নম্বর- ১২৪

আমি পরম রূপে জীবের ভিতরে।

সর্ব জীবের মাঝেই আছি, হাইউনো রূপটি ধরে।।

এক

সমান বায়ু রূপেতে, রয়েছি নাভি মূলেতে।

স্থির ভাবে কুণ্ডলীতে, আছি ত্রিবেণী পরে।।

দুই

প্রাণ বায়ু আহার করি, মল রূপে অপান ছাড়ি।

উদানে পবিত্র করি, পঞ্চ ঐ লতিফারে।।

তিন

কালব, রূহ, সের, খফি, আখফা,এই হইলো পঞ্চ লতিফা।

উহারে শোধিত রাখায়, ব্যক্ত রই অজুদ পরে।।

চার

সর্ব দেহে ব্যান রূপেতে, বিরাজ করি চৈতন্যতে।

সেরু পাগলা কয় অজুদে, পরম রয় মূলাধারে।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৫

কালেবে পরমেরই আশ্রয়।

পরম ছাড়া পঞ্চ জীব তোর, অচেতন হইয়া রয়।।

এক

যে স্রষ্টা এই বিশ্ব গড়ে, সে রয়েছে নিরাকারে।

সর্বস্থলে বিরাজ করে, এ কথা তো মিথ্যা নয়।।

দুই

এক চিজে গড়িলো আদম, ইনসান আরেক চিজে গঠন।

এক চিজে হয় জীবেরই তন, একথা জেনো নিশ্চয়।।

তিন

নিজে সাফা নাম ধরিয়ে, বসিল কালেবে গিয়া।

পরমাত্মা নাম ধরিয়া, অজুদে সে বর্ত্ম রয়।।

চার

পঞ্চ জীব যে রাখে চেতন, সে সত্ত্বাই হইলো পরম।

সে বিনে সবাই অচেতন, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৬

আনাছের সাফাতে তৈরি, রূহূতে পরমাত্মা।

নফসেতে হই রহমানি, সর্বদায় আমি দাতা।।

এক

ওয়াযেবুল হই অজুদে, মঞ্জেল আমার হয় হাহুতে।

রঙ আমার রয় সফেদেতে, প্রকাশি সত্য বার্তা।

শপ্ত পঞ্চ দুই ভাগেতে, আমিই জীবের বিধাতা।।

দুই

রাহা অহেদানিয়াত মোর, স্বাদেতে হয় তলখে জহুর।

হুয়াল একিন ঈমানটি মোর, সব জানি সত্য মিথ্যা।

অজুদে বিচারক আমি, অজুদেই পরম দাতা।।

তিন

অরাঅল অরা হয় মোর মোকাম, আজরাইল হয় মক্কেলের নাম।

আমি হরণ করায় তোর প্রাণ, আমিই তোর জীবন দাতা।।

তাইতে সেরু পাগলা বলে, পরমে নোয়াও মাথা।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৭

জীব তৈরি কোন আনাছেতে, হয়েছে বলো আমায়।

অজুদের তাঁর নাম কি বলো, রয়েছে সে কোন রাহায়।।

 এক

নফসেরও নাম বলো হেথা, কি নামে রহে অজুদা।

জানাও ঈমানেরই বার্তা, কোন একিন তাহারও হয়।।

দুই

মোকামের তাঁর নাম কি বলো, মক্কেল তাহার কে হইলো।

কি নামে তাহার মঞ্জিলো, জানা থাকলে বলো তাই।।

তিন

রঙটি তাহার বলো কেমন, হয় কেমন তাহার আস্বাদন।

সেরু পাগলার বৃথা জীবন, তাই আজো রয় অজানায়।।

রচনা- ১৫-১২-২০০০ ইং সাল

 

নবুয়াত

গান নম্বর- ১২৮

জিবরাঈল মাধ্যমে প্রভু, নবিতে যাহা বর্তায়।

তাহাই তো নবুয়াত নামে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

এক

সাত নবীতে একশো চার খান, সহিফা ও কিতাব পাঠান।

তাতেই নবুয়াত বর্তমান, রহে পূর্ণ অবস্থায়।।

দুই

তিন নবীতে যাহা পেলো, একশো সহিফা নাম নিলো।

চার রাসুলে বর্ত্ম হলো, পূর্ণ কেতাব চার খানা।।

তিন

তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল, ফোরকান, নবীর নবুয়াত বর্তমান।

ইহাকে আগে সত্য জান, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০১-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১২৯

রাসুলের ওফাতের পরে, যুগ এলো বেলায়েতের।

বেলায়েত মুর্শিদা নামে, পরিচয় হয় তাহাদের।।

এক

নবুয়াতের বাণী যাহা, মুর্শিদ প্রচার করবে তাহা।

দেখাইবে সত্য রাহা, আদেশ নিষেধ কিতাবের।।

দুই

নবুয়াত বাদ দিয়ে যিনি, করেন প্রচার অন্য বাণী।

বেলায়েতের শত্রু তিনি, এ কথাটি রাসুলের।।

তিন

নবুয়াত বাণী প্রচার করো, তাইতে মুর্শিদ নামটি ধরো।

নবুয়াত বাদ কি করতে পারো, প্রশ্ন সেরু পাগলের।।

রচনা- ০১-০৩-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩০

হঠাৎ একটি বাণী শুনতে পায়।

দ্বীনের নবী হেরা গুহায়, স্রষ্টা ধ্যানে মত্ত রয়।।

এক

নবীর বয়স চল্লিশ হলে, আসে গুহায় জিবরাঈলে।

নবীজীকে পড়তে বলে, (পড়তে) জানিনে নবী জানায়।।

দুই

পরপর তিনবার জিজ্ঞেস করে, নবী রয় একই উত্তরে।

জিবরাঈল নবীকে ধরে, বুকে একটি চাপ বসায়।।

তিন

জিবরাইলের চাপের পরে, নবী সবই পড়তে পারে।

ক্রমে তেইশ বৎসর ধরে, নবীতে তা বর্ত্ম হয়।।

চার

শেষ নবুয়াত কোরআন নামে, রহিয়াছে ধরাধামে।

এ কথাটি সবাই মানে, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩১

আল্লাহ্‌ নবী নবুয়াতের, শোন পরিচয়।

আল্লাহ্‌ হয় নবুয়াত দাতা, গ্রহীতা নবীকে কয়।।

এক

জীবকে উদ্ধার করিবার তরে।

নবীকে ইসলামের বাণী, দেয় ধীরে ধীরে।

সেই বাণী নবুয়াত নামে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

দুই

সেই বাণী যে মানিয়া চলে।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব দেখো মন, তাহাঁকেই বলে।

নইলে দেখো কোরআন খুলে, সাত আয়াত সূরা বাইনায়।।

তিন

যে মানে না নবুয়াত বাণী।

সৃষ্টির অধম নামে তাহার পরিচয় খানি।

বিশ্বাস না হয় পড়ে দেখ, সূরা বাইনার আয়াত ছয়।।

চার

বেলায়েতের মালিক কোন জনা।

কাহার উপর বর্ত্ম হলো বেলায়েত ব্যানা।

বর্তমানে কোথায় তাহা, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

 গান নম্বর- ১৩২

শোন এবার দিচ্ছি আমি নবুয়াতের পরিচয়।

নবুয়াত শব্দের অর্থ কি, আঙ্কিক মান তাঁর কতো হয়।।

এক

নবুয়াত শব্দের অর্থ এবার, নতুন সংবাদ নামে প্রচার।

লিখতে লাগে চারটি অক্ষর, নুন, বা, ওয়া, তা সব কয়।।

দুই

পঞ্চাশ হয় নুনের আঙ্কিক মান, দুই হলো বা অক্ষরের মান।

ওয়া এর মান ছয় সত্য জান, তা এর মান চারশত হয়।।

তিন

চারিশত আটান্ন রে, আঙ্কিক মান হয় চার অক্ষরে।

সেরু পাগলা বলছে তোরে, মনেতে জেনো নিশ্চয়।।

রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৩

বেলায়েত শব্দের অর্থ কি, খুলে বলো তাই।

বেলায়েত কোন ভাষায় লেখা, হইয়াছে এ ধরায়।।

এক

বেলায়েত হয় কয় অক্ষরে।

অক্ষরগুলোর নাম হয় কি কি, কও সত্য করে।

কোন অক্ষরের মান হয় কতো, বলো তুমি আজ আমায়।।

দুই

সর্বমোট মান হয়েছে কতো।

সেই কথাটি এ আসরে, বলিবে সত্য।

এ আসরে শ্রোতা যতো, শুনে যেন প্রাণ জুড়ায়।।

তিন

সেরু পাগলার মনের বাসনা।

জানিবে তোমারও কাছে, বেলায়েত ব্যানা।

কোন কিতাবের কথা খানা, সত্য করে জানতে চাই।।  

 রচনা- ১৯-০৭-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৪

নবুয়াতের আসল খবর, বুঝে নাও মন দিন থাকিতে।

না বুঝে নবুয়াত ব্যানা, রয়েছো মন কুপথেতে।।

এক

ভেশতের আদম ভেশতে নিতে, চাহে আমার পরওয়ার।

ধীরে ধীরে তাইতো ধরায়, পাঠায় নবী পয়গম্বর।

নবীর উপর পাঠায় বাণী – যে উহাকে সত্য মানি।

চলিতেছে দিন রজনী, ভয় কিসের তাঁর ত্রিজগতে।।

দুই

ভেশতের আদম ভেশতে গেলে, তাঁর কিছুই নাই প্রয়োজন।

সদা চিত্তে আনন্দিত, নিত্ত করে বিনোদন।

(তখন) সেই দেহে না থাকে ছায়া – গঠিত হয় নূরী কায়া।

আদ্য নূরের অংশ হইয়া, বিচরণ করে বেহেশতে।।

তিন

অংশ নূর যদি মিশতে চাই, যাইয়া আদ্য নূরে।

নূর নবুয়াত মানতে হবে, শোন বলি তোমারে।

(যদি) অংশ নূর ঐ আদ্য নূরে – যাইয়া মিশিতে পারে।

নিজকে নিজেই আল্লাহ্‌ ধরে, প্রচারিত হয় জগতে।।

চার

সেরু পাগলা ভেবে বলে, ভেশতো দোজখ এ ধরায়।

এই গানে বলে গেছি, তা মরার পরের কোথা নয়।

(তাই) নবুয়াতের আদ্য মর্ম – বুঝার পরে করো ধর্ম।

যেন সাধের মানব জন্ম, পড়েনা বৃথার খাতাতে।।

রচনা- ২৬-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৫

শোন নবুয়াত কাহাকে কয়।

নবীতে নবুয়াত বর্ত্ম, নবী তো নবুয়াত নয়।।

এক

বেহেশত হইতে যে ধন, এ ধরাতে হয় আগমন।

তাঁকে বেহেশতে আনয়ন, করাতে চান দয়াময়।।

দুই

চাইলে ভেশতে ফিরে যেতে, যে কর্ম হবে করিতে।

স্রষ্টার দেওয়া সেই বিধানকে, বাক্য নবুয়াতো কয়।।

তিন

আওয়ালে ঐ শুন্য কারে, যে ধন নূর হইতে ঝরে।

আবার মিশতে চাইলে নূরে, নূর নবুয়াত মানতে হয়।।

চার

নবুয়াত হয় দুই প্রকারে, এক বাক্যে দুই আছে নূরে।

সেরু পাগলা কয় তোমারে, এই নবুয়াত পরিচয়।।

রচনা- ২৫-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৩৬

সকল বিষয় নবুয়াতে হয়।

কলেমা, নামায ও রোজা, হজ্জ, যাকাত সকলই রয়।।

এক

ধর্ম কর্ম করি যাহা, নবুয়াতি বিধান তাহা।

এছাড়া কি অন্য রাহা, আছে যা বেলায়েত কয়।।

দুই

গুরু ধরার আইন খানা, নবুয়াতে গেলো জানা।

নবুয়াতেই সব সাধনা, বর্ত্ম করে দয়াময়।।

তিন

তাই তো শুধায় তোমার তরে, বেলায়েত বলে কাহারে।

তোমার ধর্ম কি প্রকারে, বলো সেরু পাগলা কয়।।

রচনা- ২৫-০৮-২০০২ ইং সাল

 গান নম্বর- ১৩৭

নবুয়াত প্রাপ্ত যিনি, সে বিনে কুল পাবে না।

এ জগতে নবী যিনি, ও জগতে রাব্বানা।।

এক

নবীর ও মেরাজের কালে, পানির ও অভাব পড়িলে।

যেয়ে দেখে জিবরাঈলে, দুই যায়গাতে একজনা।।

দুই

হাশরের ময়দানে যবে, নাফসি নাফসি বলবে সবে।

নবুয়াত প্রাপ্তে বলিবে, উম্মাতি বাক্য খানা।।

তিন

যারা এই নবুয়াত বিধান, মানিয়া চলছে বর্তমান।

হাস্য রবে তাঁদের মুখখান, তা ছাড়া সব মলিনা।।

চার

তাইতে বলি ত্বরা করে, নবুয়াতের বিধান ধরে।

করো ধর্ম এ ভূধরে, সেরু পাগলার এই ব্যানা।।

রচনা- ০৫-০৮-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৮

আল্লাহ্‌ একেশ্বরেতে ছিল।

সৃষ্টির আদি অনন্তাদি, খোদ অঙ্গে গুপ্ত ছিল।।

এক

খোদ অঙ্গের পৃষ্ঠেরই আড়ে, নবুয়াত রয় ডিম্বাকারে।

সৃষ্টির আশ্রয় তাঁহার দ্বারে, নিগমে নূর ঝরালো।।

দুই

নূর মোহাম্মদ নূরেতে হয়, সর্বাঙ্গে নবুয়াত বর্ত্মায়।

একিন বৃক্ষে নিলে আশ্রয়, পঞ্চ তন এক হইলো।।

তিন

নবুয়াত বিভক্ত করে, আশ্রয় দেয় আরশের পরে।

সেরু পাগলায় কয় সবারে, ইঙ্গিতেই ব্যক্ত হলো।।

রচনা- ১৬-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৩৯

মোহাম্মদ খাতামান নবী, কোরআনে তা লেখা রয়।

কোরআন খাতামান নবুয়াত, তিনিই দেন তাঁর পরিচয়।।

এক

বিদায় হজ্জে নবী বলে, আমি বিদায় হয়ে গেলে।

আসবে না কেউ নবী বলে, মনেতে মানো নিশ্চয়।।

দুই

খাতামান নবুয়াত নামে, রয়ে যাবে ধরা ধামে।

বুঝে নাও তা কোরআন খানে, লিখিত সর্ব বিষয়।।

তিন

দ্বীন হলো আজ পরিপূর্ণ, মানতে পারলে হবে ধন্য।

না মানিলে পাপে গন্য, হবে সেরু পাগলে।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪০

বেলায়েত শব্দের অর্থ কি, তাই বলো তুমি আমায়।

বেলায়েত বলিতে রাসুল, কি দিয়াছেন পরিচয়।।

এক

এই বেলায়েত কি প্রকারে, আসিয়াছে ভব পরে।

এখন তাহা কি রূপ ধরে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

দুই

বেলায়েতের মালিক কে-বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

দলিল থাকলেও জানাইবা, নইলে ছাড়াছাড়ি নাই।।

তিন

সেই বেলায়েত কেমন করে, মানতেছে জীব ভব পরে।

কথা কও মূল সূত্র ধরে, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪১

নবীকে নবুয়াত ভাবা, এটা তোমার পাগলামী।

নবীতে নবুয়াত বর্ত্ম, ভাবিয়া দেখো তুমি।।

এক

জীব উদ্ধার করিবার তরে, পাঠায় বাণী ধীরে ধীরে।

লেখা রয় কিতাবের পরে, এ কথাটি লও মানি।।

দুই

সহিফা হয় একশো খানা, পূর্ণ কিতাব রয় চারখানা।

এতেই রয় নবুয়াত ব্যানা, তাই মানো দিবাযামী।।

তিন

নবী নবুয়াত গ্রহীতা, স্রষ্টা হয় নবুয়াত দাতা।

মিথ্যা নয় রে এহি কথা, সেরু পাগলা কয় জানি।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪২

নবুয়াতের কথা ছাড়া, আর কি আছে এ ধরায়।

থাকলে বলো আমার কাছে, শুনে প্রাণ জুড়াক শ্রোতায়।।

এক

তাহাতে রয় কি-কি বিধান, অনুমান না-কি বর্তমান।

এখন তা কথায় অবস্থান, কিভাবে করে সবাই।।

দুই

কেমনে ধর্ম করতে হবে, নবুয়াতে লেখা যবে।

সত্য মিথ্যা এই ভবে, নবুয়াতেই জানা যায়।।

তিন

কার কথায় বেলায়েত করো, কেমনে তাহা পালন করো।

জানিতে চাই পাগলা সেরু, খুলে বলো আজ আমায়।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৩

শোন নবুয়াত পরিচয়।

নূর নবুয়াত নূরে মিশে, আত্মশুদ্ধি করে যায়।।

এক

আলিফে বিসমিল্লাহ্‌ এসে, লা মাকামে গেলে মিশে।

মীম হতে নবুয়াত এসে, বিসমিল্লাহ্‌তে প্রাণ জুড়ায়।।

দুই

বিসমিল্লাহ্‌ গোবিন্দ হলে, অমনি আসে ধরায় চলে।

মীম হরফ রূপান্তর হলে, কলেমাতে নাম ভাঁড়ায়।।

তিন

কলেমাতে বারি তায়ালা, নবুয়াত রূপে খেলছে খেলা।

তাইতে কহে সেরু পাগলা, (নূর) নবুয়াত স্বয়ং স্রষ্টায়।।

রচনা- ২৬-০৬-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ৪৪

নবুয়াতের কথা মিথ্যা নয়।

একত্রিশ অক্ষর দিয়ে, তামাম কোরআন লেখা হয়।।

এক

বিসমিল্লাহ্‌ উনিশ অক্ষরো, কলেমাতে অক্ষর বারো।

যোগ করিয়া দেখতে পারো, একত্রিশ হবে নিশ্চয়।।

দুই

আদি সত্বা একত্রিশের, রূপটি তাঁর নূর নবুয়াতের।

এর গুণাগুণ পরিচয়ের, জন্যই কোরআন লেখা হয়।।

তিন

কোরআন পড়ে কোরআন ভজো, (নূর) নবুয়াত কোরআনে মজো।

সুন্দর হবে দেহ রাজ্য, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ২০-০৬-২০০৩ ইং সাল

 

খাজা বাবা

গান নম্বর- ১৪৫

খাজা বাবার কুদরৎ এমনি।

লোটাতে ভরিয়া নিলো, আনা সাগরের পানি।।

এক

খাজা ভারতে আসিলে, বসে আনা সাগর কুলে।

নাওয়া খাওয়া আনার জলে, সমাধা করেন তিনি।।

দুই

সাগর পাড়ে হিন্দু ছিলো, পানি নিতে বাধা দিলো।

কাতরে খাজায় বলিলো, চাহি এক লোটা পানি।।

তিন

রাজী হলে হিন্দুগণে, এক লোটা পানি তখনে।

খাজায় যখন ভরে আনে, ভারত শুকায় তখনি।।

চার

পানির অভাব হলে পরে, সবাই আসে খাজার তরে।

চাহে পানি বিনয় করে, ধরে চরণ দুখানি।।

পাঁচ

যাকে পানি দিতে বাধা, পানির জন্য তাকেই সাধা।

সেরু পাগলা বলে খোদা, তোমার লিলার কি জানি।।

রচনা- ৩১-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৬

ভারতে বেহেশতো বাগান, বসালেন খাজা বাবায়।

দেখারি বাসনা হলে, আজমিরেতে চলো যায়।।

এক

চিশতীয়া তরীকা ধরি, করেছে ইসলাম প্রচারি।

মুসলমানের ডঙ্কা ভারি, করেছেন সে একেলায়।।

দুই

লাখে লাখে ভক্তগণে, পাগল খাজা বাবার গানে।

আশেকি আর আশেকানে, সেই গানে ইসলাম ছড়ায়।।

তিন

কি দেবো তুলনা তারি, মেসাল দিতে আমি নারি।

সেরু পাগলা বিনয় করি, কয় দেখিতে ত্বরা আয়।।

রচনা- ৩১-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৭

খাজা বাবা এলেন এ ধরায়।

পাঁচশত সাইত্রিশ হিজরি, চৈদ্দই রজ্জব দেখো তাই।।

এক

সঞ্জরের গিয়াস হয় পিতা, উম্মুল ওয়ারা হলেন মাতা।

পবিত্রা পবিত্র স্বত্বা, মিলনের ফসল ইহাই।।

দুই

পিতৃ মাতৃ উভয় কুলই, রয়েছেন ঐ হযরত আলী।

তাঁর চৈদ্দ সিঁড়ি পরের অলি, আমাদের খাজা বাবাই।।

তিন

ভেবে সেরু পাগলা বলে, পড়ো খাজার চরণ তলে।

ডাকো খাজা বাবা বলে, দাদা, নাতি, বাবা, ভাই।।

রচনা- ২৮-০৭-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৮

খাজা বাবার নৌকা ভিড়ে রয়েছে কুলে।

সেই নৌকায় উঠো পারের বাসনা হলে।।

এক

সেই নৌকাতে উঠার আগে, পারের কড়ি লইও মুখে।

খাজা খাজা যিকির করো, নাচেরই তালে।।

দুই

বাবার নাম মুখে থাকিলে, (বাবাই) আদরে নাই নিবে তুলে।

ভয়ের বালায় না রবে আর, পারের ই কালে।।

তিন

নাও ছাড়িয়া গেলে পরে, লাভ হবে না চরণ ধরে।

অপারেতে থাকবে পড়ে, সেরু পাগলে।।

রচনা- ০৩-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৪৯

হিন্দেরই সুলতানরে বাবা, হিন্দেরই সুলতান।

আজমিরে উড়াইলো যিনি, ইসলামী নিশান।।

এক

হিন্দেতে রয় হিন্দুরই বাস, (বাবা) দিলেন সেথায় শান্তির আভাস।

ধর্ম ত্যাজে হিন্দুরা সব, হইলো মুসলমান।।

দুই

(বাবা) পূজারীদের কাছে গেলো, মূর্তিরে কোথা বলাইলো।

তাই দেখে হিন্দুরা গ্রহণ, করিলো ইসলাম।।

তিন

এই ভাবেতে ধীরে ধীরে, মুসলমান হইলো আজমিরে।

সেরু পাগলা বিনয় সুরে, গাহে খাজার শান।।

রচনা- ১৬-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫০

কি দিব তুলনা তাহারই।

গারীবো নেওয়াজ ও খাজা, দয়াল বাবা আজমেরি।।

এক

আল্লাহ্‌রই আশেক দেওয়ানা, গানেতে হইলেন ফানা।

গাহিয়া আশেকি গানা, দিদার পায় মাশুকেরি।।

দুই

শুনিয়া তাঁর এশকের ই গান, যিকির করে জমিন আসমান।

যেতে চাই হইয়া খানখান, শুনিয়া গান খাজারি।।

তিন

গানে এতো মধু ছিলো, খাজা বাবাই জানাইলো।

তাই সেরু পাগলা বলিলো, শোন তাঁর গান প্রাণ ভরি।।

রচনা- ২৪-০৮-২০০১ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫১

কি গান শুনাইলো খাজা, ভারত এসে।

চলো মন যায় ছুটে ঐ, খাজার দেশে।।

এক

খাজা হয় হিন্দের অলি, ফোটায় ইসলামের কলি, ভারত বর্ষে।

আল্লাহ্‌রই শান বাবাই সে গান, গাইলো হেঁসে।।

দুই

শুনে সব মাতোয়ারা, সে গানে পাগল পারা, হারায় দিশে।

তথাকার হিন্দুগণে খাজার সনে, গেলো মিশে।।

তিন

সে গানের প্রতি কথা, হৃদয়ে রাখে গাঁথা, প্রেমাবেশে।।

আল্লাহ্‌ প্রেমে পাগল হইলো, সেই প্রবাসে।।

চার

ভেবে কয় পাগলা সেরু, খাজাই ইসলামের গুরু, ভারতবর্ষে।

তাঁর কথাতেই মুসলমান হয়, ধর্ম ত্যাজে।।

রচনা- ২৪-০৮-২০০১ ইং সাল

 

রাধা

গান নম্বর- ১৫২

ত্রেতায় আমি হলেম সীতা রাম।

সত্যে আমি লক্ষ্মী নামে, এসেছিলাম ধরাধাম।।

এক

দ্বাপরেতে রাধা নামে, আসি বিসুভানু ধামে।

মা কীর্তিকা বানু নামে, (যার) উদরে জন্ম নিলাম।।

দুই

যুগে যুগে নাম ভাঁড়িয়ে, আমি লক্ষ্মী যায় বেড়িয়ে।

রাধা নামে যায় দাঁড়িয়ে, দেখাইতে গোলোকধাম।।

তিন

তোমারও পরিচয় কি বা, জানা থাকলে তাই বলিবা।

কি বলো হয় কৃষ্ণ শিবা, কি হেতু এই ধরাধাম।।

চার

হয়ে আয়ানের ভাগিনা, মামী কেনো করো বাসনা।

তাই জনতে হলো বাসনা, সেরু পাগলার মনস্কাম।।

রচনা-০২-০৩-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৩

কেমন করে জানলে তুমি, আবদ্ধ সীতা লঙ্কায়।

রাবনেই করেছে চুরি, নিশ্চিত হলে কার কোথায়।।

এক

সীতা যখন চুরি গেলো, রামে তো বাড়ি না ছিল।

তবে কেমনে জানতে পারলো, তাই জানাও তুমি আমায়।।

দুই

পারো যদি সত্য বলতে, তবেই রাজী আছি মানতে।

কৃষ্ণ নামে এই ধরাতে, রাম তুমি এসেছো তাই।।

তিন

রামই যখন কৃষ্ণ হলে, পরিচয়টি বলো খুলে।

জানতে চাই সেরু পাগলে, নইলে তোমার রক্ষা নাই।।

রচনা- ০২-০৩-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৪

সত্যে লক্ষ্মী রূপেতে ছিলাম।

নারায়ণ রূপেতে তোমায়, আমি বরণ করে নিলাম।।

এক

কেমনে তুমি ভক্তের হাতে, পারলে আমায় তুলে দিতে।

কেমনে পারলে মেনে নিতে, এ কথা বুঝতে নারিলাম।।

দুই

বর্গা দিলে এমন জায়গায়, লাঙ্গল আছে ফাল তাঁহার নাই।

এ দুঃখ মরিলে কি যায়, অচল কৃষক আমি পেলাম।।

তিন

বলো কি দোষ আমার ছিল, বর্গা ভাবে যেতে হলো।

সেরু পাগলা তাই বলিল, তোমার কি হয় নি দুর্নাম।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৫

দ্বাপরে রাধা নাম হয় আমার।

মাতা মোর কীর্তিকা বানু, বিষূভানু নাম পিতার।।

এক

নারায়ণের ললাট হতে, এসেছিলাম আমি সত্যে।

নাম ছিল লক্ষ্মী রূপেতে, পরিচয় দিলাম আমার।।

দুই

ত্রেতা যুগে সীতা নামে, আসি জনক রাজা ধামে।

কলিই বিষ্ণু প্রিয়া নামে, এসেছি ধরার মাঝার।।

তিন

চার যুগে চার রূপে আমি, ভূলোক ঘুরি দিবাযামী।

এ মহা ভারতের বাণী, নহে তো সেরু পাগলার।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৬

চার যুগের চার রুপের কথা, জানতে চাই আমি এবার।

কোন যুগে কোন নামটি ধরে, নিজকে করেছো প্রচার।।

এক

কোন যুগে কাহার উদরে, আসিয়াছো ভব পরে।

পিতার নাম কি হয় ভূধরে, বাসনা তাহি জানার।।

দুই

চার হস্ত নিয়ে দ্বাপরে, এসেছিলে ভব পরে।

কখন কোন ঘটনার পরে, দু-হস্ত হলো তোমার।।

তিন

বাঁকি দু-হাত বর্তমানে, রহিয়াছে কোন স্থানে।

সেরু পাগলা তাই এখানে, জানতে চাই কাছে তোমার।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৭

দ্বাপরে কয় রঙ ধরেছো।

কোন রঙ ধরে কত বছর, অবস্থান তুমি করেছো।।

এক

কোন কারণে কি রঙ নিলে, আদি রঙ কোথায় রাখিলে।

কোন রঙে কোন নামে ছিলে, কাহার নামে নাম নিয়েছো।।

দুই

কোন নামের কি আছে সুধা, তা পানে কার হ’রে ক্ষুধা।

কোন রঙে তুমি আছো সদা, কার বা রঙে রঙ ধরেছো।।

তিন

সেরু পাগলা কয় তোমারে, জানিলে বলো আমারে।

আজকে তুমি কি আকারে, এই আসরে এসেছো।।

রচনা- ১৩-০৭-২০০৩ ইং সাল  

 

শয়তান

গান নম্বর- ১৫৮

নামিয়াছি খেলিতে ফুটবল।

আল্লাহ্‌ আমার প্রতিপক্ষ, খেলার মাঠ ভবের সকল।।

এক

আল্লাহ্‌ই চাই বেহেশতে নিতে, কিন্তু আমি দোযখেতে।

চেষ্টায় আছি নিয়ে যেতে, দিয়ে মোর শক্তি সকল।।

দুই

চাচ্ছে আল্লাহ্‌ ক্যারি করে, নিতে বেহেশতের ভিতরে।

কিন্তু আমি লাথি মেরে, ফেলছি দোজখেরই তল।।

তিন

খেলার শেষে দেখা গেলো, আল্লাহ্‌ আমায় দুই গোল দিলো।

একাত্তর গোল আল্লাহ্‌ই খেলো, এই তো খেলার ফলাফল।।

চার

খেলায় হলো আমার জিতো, হইলো আল্লাহ্‌ পরাজিত।

খাইলে আদম লাথি গুঁতো, বলতেছে সেরু পাগল।।

রচনা- ২৫-০৮-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ১৫৯

দ্বিতীয়ে মকরুম আবেদ হয়।

আজাজিল নামেতে আমার, সর্ব প্রথম পরিচয়।

এক

তৃতীয়েতে নামটি আমার, দিয়েছেন তোমার পরওয়ার।

শয়তান নামে প্রকাশ তাহার, জানিয়া লহো নিশ্চয়।।

দুই

আতশি সুরাতে আমি, ফিরিতেছি দিবাযামি।

অগ্নিতে সৃষ্টি হই আমি, এ কথা তো মিথ্যা নয়।।

তিন

হাদিস ও কোরআনের বাণী, এ পর্যন্তই আমি জানি।

কথা সত্য লহো মানি, সেরু পাগলা তাহা কয়।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬০

তেহাত্তরের একাত্তর জন, চলিছে আমার কথায়।

তুমি একা না চলিলে, আমার তাতে দুঃখ নাই।।

এক

আল্লাহ্‌র সাধের আদম তুমি, বেহেশতো তোমার কারণই।

গড়িয়াছে জগত স্বামী, বিলাসে থাকিবে তাই।।

দুই

বিলাস থেকে বাহির করে, কষ্টেতে ফেলিলাম তোরে।

এ কষ্টের পর চিরতরে, ফেলিবো দোজখ খাতায়।।

তিন

তাইতে কয় সেরু পাগলে, আদম তুমি এ স্থলে।

এসে পড়ো আমার দলে, ভক্তি রাখো আমার পায়।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬১

ফেরেশতাকে করতে সেজদা, বলেছেন সৃষ্টি কর্তা।

জ্বিনকে তো বলে নাই দেখো, করিতে আদম সেজদা।।

এক

সৃষ্টিকর্তার কথা শুনে, যতো ফেরেশতা তখনে।

দিলো সেজদা ঐ আদমে, (কেবল) আমি দিলাম না সেজদা।।

দুই

আমি ছিলাম জ্বিনের বংশ, নহে ফেরেশতারই অংশ।

আমি হই অগ্নি সারাংশ, নয় আমার সেজদার কথা।।

তিন

জ্বিনকে সেজদা করতে বললে, দিতাম সেজদা স্বদলবলে।

বৃথায় আমায় লানত দিলে, তোমার ঐ সৃষ্টিকর্তায়।।

চার

ন্যায় বিচারক নামটি যাহার, করিলো কেমন অবিচার।

ভেবে দেখো তুমি এবার, সেরু পাগলায় বলছে তা।।

রচনা- ১৭-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬২

আমি শয়তান হই তোমারই যম।

সর্ব রূপ ধরিয়া আমি, এ জগতেই বিচরণ।।

এক

বেহেশত হইতে আমি, করিয়াছি বিপথগামী।

এ ধরাতে তাইতে তুমি, করিয়াছো আগমন।।

দুই

এ বিশ্বে আমার কারণে, ঘুরিতেছো তিন ভুবনে।

ভুবন ভরালে সন্তানে, সকলই আমার কারণ।।

তিন

আল্লাহ্‌র সাথে পাল্লা করে, আনিয়াছি এই ভূধরে।

আবার নেবো দোযখ পূরে, সেরু পাগলার এই বচন।।

রচনা- ১৬-০১-২০০২ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৩

অগ্নিতে সৃষ্টি হয়েছি ভাই।

শক্তিতে আজাজিল আমি, মোকরুম আবেদ কয় আল্লাহ্‌ই।।

এক

রূহু আমার হয় হায়ানী, ঈমান বেল গায়েব একিনী।

মোকামে হই কাবকাউসিনী, শরিয়াতি রাহা তাই।।

দুই

নফসো আমার হয় আম্মারা, অজুদে মোমকেনাল ধারা।

মঞ্জিল হয় নাছুতে ঘেরা, রঙটি আমার রয় ছিয়ায়।।

তিন

স্বাদটি আমার হয় কড়ুয়া, সৃষ্টি শুরু আমায় দিয়া।

সেরু পাগলা কয় ভাবিয়া, শয়তানের এই পরিচয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৪

কোন আনাছে আদম তৈরি, করিয়াছেন দয়াময়।

রূহের তাহার নাম কি বলো, নফসেরো নাম কিবা হয়।।

এক

অজুদের কি নামটি বলো, রাহাটি কি নামে ছিলো।

মোকাম তাহার কোথা বলো, দাও মঞ্জিলের পরিচয়।।

দুই

মক্কেলের কি নামটি তোমার, ঈমানের একিন হয় কি তাঁর।

রঙ স্বাদটি কেমন হয় তাহার, সত্য বলো মিথ্যা নয়।।

তিন

সামসুদ্দিনে বলছে ডেকে, অধমো সেরু পাগলাকে।

চেনো আদম বলে কাকে, লও গো খাকের পরিচয়।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৫

পাঁচটি ফেল আনাসের আতশের।

ভুখ, পিয়াস আর নিন্দ, হজম, সুস্থি এই পাঁচ প্রকারে।।

এক

উপাসনায় বাধা আমি, আমি হই মূল উপাসনী।

তোমাতে না থাকলে আমি, দাম রবে না আদমের।।

দুই

ভুখ, পিয়াস নিবারণে, যাও আদম কর্ম সন্ধানে।

আলস্যে রইবে ঘুমে, সুযোগ কোই এবাদতের।।

তিন

সুস্থিতে আলস্য আনে, ভুখ আসে তোর ঐ হজমে।

এই পাঁচ ফেল অন্তরায় ধর্মে, কথা সেরু পাগলের।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৬

আব, আতশ, বাত, খাক আর সাফা, দিয়ে প্রাণীর সৃষ্টি হয়।

পাঁচ বস্তুর হয় পাঁচটি অজুদ, পাঁচটি নামে পরিচয়।।

এক

ওয়াযেবল আর অহেদাল, আরেফেল ও মোমকেনাল।

সর্বশেষে মোমতেনাল, পঞ্চ অজুদ এরে কয়।।

দুই

আতশের অজুদ মোমকেনাল, খাকের অজুদ হয় আরেফাল।

খাক হয় আদমের সুরাত হাল, শয়তান মোমকেনালে রয়।।

 তিন

এক এর মাঝে পাঁচজন আছি, তাঁর একটি আমি গাইতেছি।

আর একটি তোমায় পেয়েছি, বলবো কথা দুজনায়।।

চার

সেরু পাগলা বলছে হেথা, হবে না আজ বাজে কথা।

বলবে তুমি দলিল কথা, নইলে তোমায় ছাড়বো না।।

রচনা- ২০-০৮-১৯৯৮ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৭

জ্বলন্ত আগুনের বাতাস, দিয়ে জ্বিনের সৃষ্টি হয়।

এ কথাটি মিথ্যা নহে, দেখো তা কোরআনে রয়।।

এক

হিজরের সাতাশ আয়াতে, আর রহমান পনেরোতে।

দেখো লেখা আছে তাতে, জ্বিন জাতির পরিচয়।।

দুই

কোনো চিজ সমস্ত চিজকে, পারে না হজম করিতে।

একমাত্র আমিই সকলকে, হজম করে করি লয়।।

তিন

শক্তিতে শ্রেষ্ঠ হই আমি, ঢুঁড়ে দেখো ত্রিভুবনী।

সেরু পাগলার নয় এ বাণী, কোরআনেই তা লেখা রয়।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৬৮

এই ধরণীর প্রায় সকলেই, চলিছে আমার কথায়।

গাধার মতো তুমিই শুধু, থাকলে পড়ে অন্য ঠাই।।

এক

তোমায় আমি প্রবেশ করে, কর্ম করায় এ ভূধরে।

পড়লে ধরা থাকি দূরে, মাইর পাওনা কেবল তোমায়।।

দুই

আমার কিছুই করতে নারো, নিজের ক্ষতি নিজেই করো।

আমি হই সবার উপরো, মেনে নাও তুমি হেথায়।।

তিন

এ ধরাতে সুখ চাহিলে, এসে পড়ো আমার দলে।

তাইতে কয় সেরু পাগলে, শয়তান বিনে নাই উপায়।।

রচনা- ২৯-০৬-২০০৪ ইং সাল    

 

আদম

গান নম্বর- ১৬৯

আদম তৈরির বাসনা হলো।

তখন আল্লাহ্‌ ফেরেশতারে, এ কথা জানাইলো।।

এক

ফেরেশতা বলে আল্লাহ্‌রে, নতুন সৃষ্টির দরকার নাই রে।

মোরা তো বন্দেগী করে, গাহি তোমার গুণগান।।

দুই

নতুন যারে সৃষ্টি করবে, শুধুই ফ্যাসাদ বাড়াবে।

বৃথা কেনো সৃষ্টি তবে, সকলেই যুক্তি দিলো।।

তিন

আল্লাহ্‌ কয় তোমরা জানো না, মানব সৃষ্টিই মূল বাসনা।

না হলে কিছুই করতাম না, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৬ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭০

পাঁচ চিজে প্রাণীরও গঠন হয়।।

সত্য করে বলো তুমি, শয়তানেরই পরিচয়।।

এক

আগুন, পানি, বাতাস, মাটি, সাফা দিয়ে হয় পঞ্চটি।

এতে হয় মানব দেহটি, শয়তান কোন চিজেতে হয়।।

দুই

আদমের আগে না পরে, সৃষ্টি করে শয়তানেরে।

বলো কথা দলিল ধরে, নইলে কথা নেবো না।।

তিন

যে তোমায় সৃষ্টি করিলে, সেই তো সেজদা দিতে বলে।

কার কথায় সেজদা না দিলে, সেরু পাগলা জানতে চাই।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১

খাক চিজে আদমের গঠন, রূহু তাহার জামাদাত।

নফস তাহার মুলহেমারো, নিমকিন হয় তাহার স্বাদ।।

এক

অজুদ তাহার আরেফালো, জিবরাঈল তাহার মক্কেলো।

ঈমানের একিন আইনুলো, রাহা তাহার হাকিকাত।।

দুই

মোকাম সোলতানন নসিরা, জবরুত হয় মঞ্জিলের ধারা।

এতেই আদম তৈরি সারা, করেছেন আদি আহাদ।।

তিন

সেরু পাগলা তালিম হতে, পরিচয় দিলো তোমাতে।

তোমার পরিচয় জানিতে, জিজ্ঞেস করিল তাবৎ।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

 গান নম্বর- ১

কে বলে পাঁচ চিজে আদম, ভ্রান্ত তোমার ধারণা।

এক চিজে আদমের গঠন, কোরআন খুলে দেখো না।।

এক

হিজরের ছাব্বিশ আয়াতে, আনয়াম আয়াত দ্বিতীয়তে।

তোয়াহা আয়াত পঞ্চান্নতে, বিশ আয়াত রুম দেখো না।।

দুই

আর রহমান চৈদ্দ আয়াত, নূহ চৈদ্দ, এগারো সাফফাত।

আবার নূহ সতেরো আয়াত, পড়িলেই যাবে জানা।।

তিন

পাঁচ চিজে আদম গড়িলে, বলো তা রয় কোন দলিলে।

জানতে চাই সেরু পাগলে, নইলে তোমায় ছাড়ছি না।।

রচনা- ১১-০৯-২০০৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৩

পাঁচ চিজে প্রাণীরও সৃষ্টি, পাঁচ অজুদে বর্তমান।

আব, আতশ, খাক, বাত আর সাফা, এই হইলো পাঁচ জাতের নাম।।

এক

সাফার অজুদ ওয়াযেবল, বাতের অজুদ হয় অহেদাল।

আতশের অজুদ মোমকেনাল, সত্য করে জানাইলাম।।

দুই

আবের অজুদ মোমতেনাল, খাক দেহ হলো আরেফাল।

পাঁচ অজুদের পঞ্চটি হাল, তালিম হতে বলিলাম।।

তিন

কোন জাতে শয়তান হয় সৃষ্টি, কি হয় তাঁর অজুদের নামটি।

সেরু পাগলা বলে খাঁটি, কথা জানতে চাহিলাম।।

রচনা- ১০-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৪

স্রষ্টার বন্দেগীতে আদম, রয়েছে সদায়।

তাইতে মৃত্যুর পরে আদম, যাবে বেহেশত খানায়।।

এক

আল্লাহ্‌ হয় সর্ব সৃষ্টির স্রষ্টা।

মিথ্যা নহে সত্য জানো, এহি কথাটা।

তাঁর দেওয়া বিধান মানাটা, তাঁর দাসত্বের পরিচয়।।

দুই

বন্দেগী করলে বিধান মতো।

অবশ্যয় পাইবে আদম, সুখের বেহেশত।

মিথ্যা নয় এ কথা সত্য, কোরআন খুলে দেখো তাই।।

তিন

তুমি কাহার বন্দেগী করো।

বিচার শেষে কোথায় রবে, বলতে কি পারো।

সে জায়গাটির নাম বলো কি, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৫

পঞ্চ রূহু সকল প্রাণীর হয়।

হাইয়ান, নাবাদাত, যামাদাত, কুদচি আর ইনসানি হয়।।

এক

পাঁচ রূহু হয় পাঁচ মোকামে, ফেরে সদা নিত্ত ধামে।

আগমে কি সেই নিগমে, ঘুরিতেছে জ্যোতির্ময়।।

দুই

মোকাম তাহার আছে পাঁচটি, পাঁচ মঞ্জিল রয়েছে ঘাঁটি।

মিথ্যা নয় সে কথা খাঁটি, তালিমে তা লেখা রয়।।

তিন

শয়তান রূহের নাম কি বলো, মোকামটি কি নামে ছিল।

মঞ্জিলটি কি নামে হলো, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৯-০৫-২০০৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১

শেষ বিচারে সঠিক আদম, যাইবে বেহেশত ধাম।

অনন্তকাল সেথায় তাঁরা, করিবে আয়াস আরাম।।

এক

যে আদম বেহেশতে যাবে, সুস্বাদু খানা খাইবে।

শীতল বিছানা পাইবে, বলিতেছে পাক কোরআন।।

দুই

শয়তানের স্থান শেষ বিচারে, কোন জায়গায় হইতে পারে।

বলো কথা দলিল ধরে, তোমার সে জায়গাটির নাম।।

তিন

কি হবে তোমারও খানা, পাইবে কেমন বিছানা।

সেরু পাগলায় প্রশ্নখানা, করিল ওহে শয়তান।।

রচনা- ১১-০৫-২০০৩ ইং সাল

 

বান্দা

গান নম্বর- ১৭৭

কে বুঝিতে পারে সৃষ্টি কর্তার কুদরতি।

দ্বীপ জ্বালা ঘর করে আঁধার, আঁধারে ছড়ায় জ্যোতি।।

এক

(তুমি) মুখ ভরা গজাইলে দাড়ি, মন সেথায় দিলে না দয়াল দাড়ি রাখারি

কেটে দাড়ি মুখ পরিস্কার, করে দাড়ির কুখ্যাতি।।

দুই

(আবার) মন দিয়েছো দাড়ি রাখিবার, কভু মুখে দাড়ি তুমি দাওনি গো তাহার।

যে চারটা দিয়েছ দাড়ি, তাই রেখেই তাঁর সুন্নাতি।।

তিন

(আবার) অফুরন্ত দিলে যারে ধন, দাতা হইবার বাসনা জাগাওনি তাঁর মন।

ও ধন টাকশালে তুলিয়া রাখে, ভুখি থাকে অনাথি।।

চার

(আবার) মন দিয়াছো দাতা হইবার, ধনের অভাব রাখিয়াছো তাহারই উপর।

সেরু পাগলা ভেবেই গেলো, পেল না কোন গতি।।

রচনা- ১০-১০-১৯৯৮ ইং সাল   

গান নম্বর- ১৭৮

কর্জ চেয়ে আল্লাহ্‌ কেনো, ঋণের ব্যবহার দেখায়।

ঋণ কর্জ দু-রকম হয়, কর্জ কেন ঋণের মতোই।।

এক

ঋণ নিলে সুদ দিতে হয়, কর্জেতে সুদ নাহি রয়।

কর্জে আসল শোধিতে হয়, সুদ দিলেই ঋণ হয়ে যায়।।

দুই

মুজাম্মেল কুড়ি আয়াতে, তাগাবুন আয়াত সতেরোতে।

বলেছো তোমায় কর্জ দিতে, দ্বিগুণ ফেরত দেবে তাই।।

তিন

কেনো তুমি কর্জ চেয়ে, সুদসহ তা দাও ফিরায়ে।

সেরু পাগলা জানতে চাহে, ত্বরা তা জানাও আমায়।।

রচনা- ০৩-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৭৯

কিসের অভাব আছে আল্লাহ্‌র, বান্দার কাছে কর্জ চাই।

ন্যায় বিচারক নামটি তোমার, সুদি কারবার কেন হেথায়।।

এক

নিয়ে এক দেবে দ্বিগুণ, বলেছো মুজাম্মেল, তাগাবুন।

কর্জে হাসানা দিলে এক গুণ, দ্বিগুণ ফেরত দেবে তাই।।

দুই

রাজ্জাক নাম শুনি তোমার, কি দরকার কর্জে হাসানার।

তুমিই তো অন্নেরও ভাণ্ডার, লও কেনো কর্জ বৃথায়।।

তিন

ধান্দা লাগে আমার মনে, (তুমি) পারো না কিছুই জীব বিহনে।

তাইতে ঘোর জীবের সনে, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৫-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮০

তুমি আর কতো ভোগ, ভোগাবে আমায়, পাঠাইয়া ভব পারে।

তুমি না গড়িলে প্রভু, আমি আসিতাম না কভু, পড়িতাম না আজ ফেরে।।

এক

তুমি কত ভালোবেসে, হেথা পাঠাইলে শেষে, দিশে হারায় এ সংসারে।

তুমি না আনলে আসতাম না, বিপাকে পড়তাম না, কাঁদিতাম না ভব পারে।।

দুই

তুমি গড়লে নিজ ইচ্ছায়, কর্ম করি কার ইচ্ছায়, কার ইচ্ছায় থাকি সংসারে।

এতো সবই তোমার ইচ্ছা, পাপ পুণ্যের বোঝা, কেনো দিলে মানুষেরে।।

তিন

শুনি তোমার ইচ্ছা বিনে, বন্ধ সব ভুবনে, কেমনে পাপ পুণ্য মানুষ করে।

সেরু পাগলা ভেবে কয়, হলে সামসুদ্দিন সদয়, তবেই সে ভেদ জানতে পারে।।

রচনা- ০৭-১২-১৯৯৩ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮১

এ কেমন বিচার তোমার।

তুমি রহমান নাম ধরে, বসে আছো চিরতরে, এ কেমনো অবিচার।।

এক

দাতা দয়ালু নাম শুনি, পড়ে কোরআন খানি, বুক বাঁধি ভরসার।

আমার শত অপরাধ, তুমি ক্ষমিবে অবাধ, তুমিই আমার মূলাধার।

এখন দেখিতেছি আমি, ন্যায্য বিচারক তুমি, ক্ষমিবার হাত নাই তোমার।।

দুই

আমি মহা গোনাহগার, তুমি মালিক ক্ষমিবার, আজ তাকাও দৃষ্টিতে ক্ষমার।

যদি ক্ষমা পায় আমি, ওগো জগত স্বামী, এ হইলো কোন বিচার।

যদি ন্যায্য বিচার করো, রহমান নাম ছাড়ো, আদলু নাম করো প্রচার।।

তিন

নাম রহমান রহিম শুনি, কাহহার নাম খানিও, ধরাতে হইলো প্রচার।

যদি রহমান সত্য হও, আদলু তুমি নও, সামসুদ্দিনে কয় আমার।

সেরু পাগলা হয় দ্বীন কানা, আল্লাহ্‌ দুটির একটিও না, নিয়েছে আশ্রয় মিথ্যার।।

রচনা- ০৯-০২-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮২

এ কেমন কথা তোমার।

শুনি বিচারে তোমার, হয় এক প্রকার, দয়াতে বেশুমার।।

এক

তোমার কোন দয়াতে শুনি, কাদিরও জ্বিলানি, সুযোগ পায় কোরআন শিক্ষার।

ওসে মায়ের গর্ভ থেকে,আসলো কোরআন শিখে, হাফেয আঠারো পারার।

পীর কি কাজও করিলো, তাঁর প্রতিদ্বান পাইলো, জানিতে ইচ্ছা আমার।।

দুই

যতো নবী পয়গম্বর, কোন কর্মের উপর, জনম পেলো উচ্চতার।

আবার কোন কর্মের ফলে, নমরুদ, ফেরাউন গড়িলে, কাফের নামেতে প্রচার।

আমার কোন কর্মের ফলে, আজ বেহালা বগলে, সুযোগ পেলাম গান শেখার।।

তিন

ধনী কোন কর্মের ফলে, বাড়ি গড়ে চব্বিশ তলে, গাছতলা কেন হয় আমার।

তোমার এ কেমন বিচার,, বৃথায় আদলু প্রচার, সবই তোমার অবিচার।

সেরু খাটিলে খাওয়াও, না খাটিলে তাড়াও, দেখাও আদলুর বাহার।।

রচনা- ১১-০১-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৩

দিলে ত্রিমুখ দেহ ঝোলা মোরে।

উপরও দিয়ে যা, ঢালি গো আমি, নিচ দিয়ে তা যায় বেরিয়ে।।

এক

প্রচারিলে নাম রহমান, ত্রিভুবনে কেও নাই এর সমান।

দয়ার ও ভাণ্ডার-ওগো পরওয়ার, তোর দয়া কি এই প্রকারে।।

দুই

দিলে রেজেক রাজ্জাক নামে, আনতে গেলাম গুণধামে।

ঢালি যা উপরে-নীচে যায় পড়ে, পড়েছি বিষমও ফেরে।।

তিন

এই হইলো তোমার বিচারে, তোলা ফেলা করাও মোরে।

এ নহে মাল দেওয়া-কাজ করিয়ে নেওয়া, মজুরী না দিয়ে মোরে।।

চার

বৃথায় তোমার নাম রহমান, মিছে খাটালে গুণধাম।

সেরু পাগলাকে বোকা-পেয়ে দিয়েছো ধোঁকা, সামসুদ্দিনে জানাই মোরে।।

রচনা- ০৮-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৪

নাম নিয়ে রাজ্জাক রহমান, করিতেছো চালাকি।

ভবের হাটে করে এতীম, দিচ্ছো গো মোরে ফাঁকি।।

এক

নামটি তোমার দাতা দয়াল, দ্বারে খাড়া তাই এ কাঙ্গাল।

দিলে এক ফুরন্ত জানমাল, ঝোলা দিলে ত্রিমুখী।।

দুই

ইয়া আদলু নাম শুনি তোমার, করিলে কেনো অবিচার।

(আমার) খাটা খাটনি হইলো সার, সন্ধ্যা ঘনালো দেখি।।

তিন

(আমার) দেহ বস্তায় যতই ভরি, তলা দিয়ে যায় গো পড়ি।

(শেষে) আছি শুন্য বস্তা ধরি, এ দুঃখ কিসে ঢাকি।।

চার

ডুবলো বুঝি দ্বীনোমণি, বাড়ি ফিরতে হয় এখনি।

মালহীন সেরু পাগলা তুমি, বাড়ি ফিরে বলবে কি।।

রচনা- ০৮-১০-১৯৯৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৫

আল্লাহ্‌ নয়রে ন্যায় বিচারী।

আল্লাহ্‌ স্বার্থ টেনে বিচার করে, জানতে পারলাম কোরআন পড়ি।।

এক

কোরআন সূরা বাকারাতে, ত্রিশ হতে তেত্রিশ আয়াতে।

চাতুরী করিলো আল্লাহ্‌ই ফেরেশতার উপরি।

ফেরেশতারে না শিখায় নাম, শিখায় আদমেরি।

প্রথমে এইখানেই আল্লাহ্‌ করিলো কেমন চাতুরী।।

দুই

আদমকে শেখানোর পরে, জিজ্ঞাসিলো ফেরেশতারে।

সত্য করে বলো দেখি নামগুলি এদেরই।

কে-যে বড় তবেই আমি দেখবো বিচার করি।

ফেরেশতা কয় আল্লাহ্‌ বিনে, কেমনে আমরা জানতে পারি।।

তিন

পরে আল্লাহ্‌ আদমেরে, দ্রব্য নাম জিজ্ঞাসা করে।

আদমে সব নাম বলিলো সত্য প্রকাশ করি।

নিশ্চুপে রহিয়া গেলো ফেরেশতা হাজারই।

আল্লাহ্‌ তখন বলে আদম, উচ্চে নয় কি ফেরেশতারী

চার

আল্লাহ্‌ ন্যায় বিচারক হতো, উভয় দলকে শিক্ষা দিত।

নইলে শিক্ষা বাদ রাখিতো, দুই দলের উপরি।

আদমকে শিখায়ে নামকি করে নাই চাতুরী।

সেরু পাগলায় বলে আল্লাহ্‌, স্বার্থবাদীর সৃষ্টিকারী।।

রচনা- ০৪-০৯-১৯৯৭ ইং সাল

 

শরিয়াত

গান নম্বর- ১৮৬

শরিয়াতে পঞ্চবেনা রয়েছে দলিলে কয়।

কলেমা, নামায ও রোজা, হজ্জ আরো যাকাত ও হয়।।

এক

কলেমা হয় পাঁচ প্রকারে, তায়েবা, শাহাদাৎ হয়রে।

তাওহীদ ও তামজিদ ও রয় রে, রাদ্দে কোফর শেষে হয়।।

দুই

হলো নামায পঞ্চ প্রকার, শোন কি-কি বলছি এবার।

ফরয, সুন্নত, নফল তাহার, ওয়াজিব, মোস্তাহাব কয়।।

তিন

দিনে পাঁচবার নামায আছে, ফযর, যোহর, আছর মাঝে।

মাগরিবের পর ইশা শেষে, এভাবেতেই পড়তে হয়।।

চার

তিরিশ রোযা রয় বছরে, যাকাত রয় সম্পদের পরে।

জীবনে হজ্জ একই বারে, সেরু পাগলা জেনে কয়।।

রচনা- ০৫-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৭

নবীর ও মাধ্যমে প্রভু, আসমানি কিতাব পাঠায়।

তা থেকে শরিয়াত বিধান, আসিয়াছে এ ধরায়।।

এক

যুগে যুগে পয়গম্বরে, এসেছে ইসলাম প্রচারে।

শরিয়াতের রূপটি ধরে, এ বিশ্বে তাহা ছড়ায়।।

দুই

প্রকাশ হয় বন্দেগীর বিধান, জীব কেন এই ধরায় পাঠান।

পাপ পুণ্য হয় কেমনে প্রমাণ, কিতাবেই প্রমাণ করায়।।

তিন

সেই কিতাবের প্রমাণ ধরে, দেখো বিশ্ব চরাচরে।

ধর্ম কর্ম সবাই করে, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৫-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২৮৮

শরিয়াত সত্য জানো ঈমান আনো, ঐ কলেমায়।

ঈমান বিনে ঐ নিদানে, হইবে বড় অসহায়।

এক

আগে এক আল্লাহ্‌ মানো, নবী, রাসুল সত্য জানো।

ফেরেশতা রয়েছে হাজার, তা মিথ্যা নয়।

একদিনে কিয়ামত হবে, কেউ সেদিন পাবে না রেহায়।।

দুই

একদিনে হাশরো হবে, সকলকে উঠাইবে।

আল্লাহ্‌ সেদিন কাজী হবে, জেনো নিশ্চয়।

পাপ পুণ্যের হিসাব মতো, সেদিন প্রভু দিবেন গো রায়।।

তিন

পুণ্য করলে বেহেশতে যাবে, সেথায় কতো আরাম পাবে।

পাপ করলে দোযখে যাবে, কষ্ট সেথায়।

যাইতে বেহেশত আনো ঈমান, বলিতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা-০৪-০৩-২০১৪ ইং সাল

গান নম্বর- ১৮৯

মারিফাতের ধর্ম কাহার মাধ্যমে আসে ধরায়।

কোথায় তাহা লিপিবদ্ধ আছে এখন কোন যায়গায়।।

এক

সে ধর্ম কও কি প্রকারে, আসিয়াছে এ ভূধরে।

এখন তাহা কি রূপ ধরে, রহিয়াছে এ ধরায়।।

দুই

সে ধর্মে রয় কি কি বিধান, অনুমান না কি বর্তমান।

সত্য মিথ্যা কর্ম প্রমাণ, কেমনে করে সবাই।।

তিন

মারিফাত স্তর স্তরে জানিতে চাই তোমার তরে।

খুলে বলো ধিরে ধিরে, জানতে চাই সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৫-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯০

নামায ছাড়া আখেরাতে, নাই কাহারও শান্তি নাই।

কে মুসলমান কে ইমানদার, নামাযেতেই চেনা যায়।।

এক

নামাযও তরক করিলে, কে কে অসন্তুষ্ট হয়রে।

হাদিসেতে এই কথাটি রাসুলেতে ফরমায়।

নামায ছাড়া এই ভবেতে, নাই কাহারও মুক্তি নাই।।

দুই

ফযরও তরক করিলে, ইমান ব্যাজার হয় গো দিলে।

যোহরে পয়গম্বর ব্যাজার, আসর ব্যাজার ফেরেশতায়।

মাগরিবে কোরআন হয় ব্যাজার, আল্লাহ্‌ ব্যাজার হয় ইশায়।।

তিন

সামসুদ্দিন কয় পাগলা সেরু, ভুলেও নামায নাহি ছেড়ো।

পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ো, দিবা রাত্রি মসজিদায়।

বে-নামাযির আল্লাহ্‌র দরগায়, নাইরে তাহার যায়গা নাই।।

রচনা- ০২-০১-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯১

আল্লাহ্‌ হয় রহমান রহিম, সব দেবে ক্ষমা করে।

তাইতে আমরা দাঁড়ায় গো নতশিরে, আল্লাহ্‌ মাফ করিবেন আমারে।।

এক

আমরা তো আল্লাহরই ভক্ত, তাই নামাযে যায় পাঁচ ওয়াক্ত।

আসক্ত হইয়া ডাকি তারে

দয়াল করেছি অগাধও গোনাহ, উদ্ধার করো আমারে।।

দুই

ভুলত্রুটি নামাযে তবু, আল্লাহ্‌ ছাড়া নাইরে প্রভু।

কভু না গো ভুলেছি তাহারে।

কিছুই বুঝিনা তবু যায় মসজিদের কাতারে।।

তিন

আমার যত ভুলত্রুটি, পাপরাশির ঐ খুঁটিনাটি।

মাফ করবে এ আশা মোর অন্তরে।

প্রভু আমার দাতা দয়াল, এ আশা মোমিনেরে।।

চার

যদিও কিছুই না জানি, আল্লাহ্‌ রাসুল সবই মানি।

বিশ্বাস রাখি একমাত্র তাহারে।

সামসুদ্দিন কয় পাগলা সেরু, বিশ্বাস রেখো আল্লাহ্‌রে।।

রচনা- ০৬-০১-১৯৯৫ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯২

চর্ম চক্ষে যা দেখিছো, তাহারেই শরিয়াত কয়।

আনাছের আতশে তৈরি, রুহুটি হায়ানি হয়।।

এক

নফসটি তাঁর হয় আম্মারা, মোমকেনাল অজুদের ধারা।

নাছুত মঞ্জিলে শরা, রঙটি তাঁর ছিয়াতে রয়।।

দুই

মোকাম যাহার হয় কবকাউসিন, ঈমানে বেল-গায়েব একিন।

মক্কেল তাহার হয় আযাযিল, শরিয়াত অর্থ আইন হয়।।

তিন

সেরু পাগলা ভেবে বলে, স্বাদটি তাঁর কড়ুয়ায় চলে।

শরিয়াত হয় আদ্য মূলে, মনেতে জেনো নিশ্চয়।।

রচনা- ৩১-০৮-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৩

শরিয়াতো তাহাকেই বলে।

সর্ব প্রথম তুমি যাহা, অবগত হইলে।।

এক

ধুম করে এক শব্দ হলো, হেতু জানতে মন চাহিলো।

জানার জন্য রওয়ানা দিলো, শেষে হেতু জানিলে।।

দুই

শব্দ শ্রবণ হয় শরিয়াত, জানতে চাওয়া হয় তরিকত।

রওয়ানা দিলে হয় হকিকত, মারিফাত জানতে পারিলে।।

তিন

এরূপে স্পর্শ দর্শন, স্বাদে কিংবা হলে শ্রবণ।

সর্বক্ষেত্রে একই রকম, পাবে বিচার করিলে।।

চার

যেখানে শরিয়াত নাই, সেথা মারিফাত পাবে কোথায়।

আদ্য মূলে শরিয়াত হয়, কহে সেরু পাগলে।।

রচনা- ০৬-২০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৪

শরিয়াতের পথ ধরিয়া, মারিফাতে যাওয়া যায়।

শরিয়াত বিহনে তুমি, মারিফাত পাবে কোথায়।।

এক

শরিয়াতে জেনেছো যা, মারিফাতে ফল পাবে তা।

তা না হলে সব অযথা, ঢুঁড়ে দেখো দুনিয়ায়।।

দুই

শরিয়াতের ঝাণ্ডা তলে, ধর্ম বিধান দেয় রাসুলে।

সে বিধান মেনে সকলে, চলিছে দ্বীনের রাহায়।।

তিন

শরিয়াত মানে না যারা, দ্বীনের পথে নাই তাহারা।

তাই সেরু পাগলে ত্বরা, বলে শরিয়াতে আয়।।

রচনা- ০৭-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৫

বাইয়াত হওয়ার বিধান পাও কোথায়।

এতো মোর কোরআনের কথা, শরিয়াত হইয়া যায়।।

এক

কোরআনের সূরা ফাতহাতে, লিখেছে তাঁর দশ আয়াতে।

সব মানুষকে বাইয়াত করতে, বলেছেন আমার আল্লাহ্‌ই।।

দুই

মুমতাহিনার বারো আয়াতে, বলেছে নারী বায়াত করতে।

নারী পুরুষ তাই বাইয়াতে, শরিয়াত বিধানে যায়।।

তিন

গুরু ভক্তের এহি বিধান,  কোরআনে করে সমাধান।

শরিয়াতের দলীল কোরআন, বলতেছে সেরু পাগলায়।।

রচনা- ০৭-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৬

মারিফাতো কাহাকে বলে।

কোন আনাছে তৈরি সে যে, কি রুহু কি মঞ্জিলে।।

এক

নফস তোমার কি নামে রয়, অজুদ তাহার কেমনো হয়।

মোকাম তাহার আছে নিশ্চয়, নামটি তাহার বলো খুলে।।

দুই

ঈমানের একিন হয় কি তাঁর, নামটি কি তাহার মক্কেলার।

রঙ স্বাদ কেমন হয় তোমার, জানাবে এই স্থলে।।

তিন

সেরু পাগলার এই বাসনা, মারিফাতকে আগে চেনা।

অনুমান কথা নেব না, প্রমাণ দাও তা দলিলে।।

রচনা- ২৬-১০-১৯৯৭ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৭

শরিয়াত হয় আদ্য মূলে, বলতেছি তাহার বিবরণ।

শরিয়াত বাদ দিয়ে তুমি, মারিফাতে যাবে কেমন।।

এক

দুম করে এক শব্দ পেলে, শতিয়াত ভাবো তাঁকে।

তরিকাত হয় শব্দ হেতু, জানিবার বাসনাকে।

জানার আসে দিলে রওয়ানা তাকেই হকিকাত ভাবো না।

মারিফাতে গেলো জানা, ট্রান্সমিটার হইছে বিস্ফোরণ।।

দুই

রাস্তাতে এক কৌটা দেখলে, একেই ভাবো শরিয়াত।

কৌটায় কি জানার বাসনা, এটাই হলো তরিকাত।

জানার জন্য রওয়ানা দিলে – ইহাকেই হকিকাত বলে।

মারিফাত কয় যখন জানলে, ঐটা একটা ছিল যে বোম।।

তিন

এই ভাবেতে স্পর্শ, স্বাদ, আরও দেখো আছে ঘ্রাণ।

একই ভাবে বিচার করো, হিসাব করে ব্যবধান।

শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ – সবই শরিয়াতে বন্ধ।

শরিয়াত বৈ মারিফাত অন্ধ, সেরু পাগলায় বলে এখন।।

রচনা- ০৮-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৮

একশো তিরিশ ফরয কথা, করিতেছি বর্ণনা।

তায়াম্মুম তিন, গোসলে তিন, অজুতে রয় চারখানা।।

এক

পাঁচ ফরয পঞ্চ স্তম্ভে, চার ফরয হয় চার মাযহাবে।

চার কুরসিতে চার হয় যবে, তেরো আরকান আহকামা।।

দুই

পাঁচ ওয়াক্তে সতেরো রয়, তিরিশ রোযায় তিরিশটি হয়।

তিরিশ নিয়ত তিরিশ নিশ্চয়, ঈমানে হয় সাত গণা।।

তিন

পাঁচ নিয়তে পাঁচ ফরয হয়, পাঁচ ওয়াক্তে পঞ্চটি রয়।

শেষে তাই সেরু পাগলা কয়, এই একশো তিরিশ খানা।।

রচনা- ০৬-১২-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ১৯৯

ধর্ম করার নামে পূরায় মনের বাসনা।

ফকিরের স্বভাব ভালো না।।

এক

বাড়ি বাড়ি বেড়ায় সে ঘুরে।

একাকী নহে রে ঘরে বৌ সঙ্গে করে।

এর বৌ ওর বৌ পাশে নিয়ে, কাটায় রাতখানা।।

দুই

নারী পুরুষ সকলে মিলে।

হু আল্লাহু করে ঘরে যিকিরের ছলে।

এর গায়ে সে পড়ে ঢুলে, আশেক ছলনা।।

তিন

হুহু হুহু নাচেরই তালে।

বোঝে না কখন যে নারীর কাপড় যায় খুলে।

ইশারায় দেখাইলে দেখায়, ছায়ার বাহানা।।

চার

শেষে ভেবে সেরু পাগলা কয়।

মজা লূটা হয় গো তাঁদের, ধর্ম করা নয়।

লজ্জা শরম নাইরে সমাজ, নষ্টের কামনা।।

রচনা- ১৮-১০-২০০০ ইং সাল

গান নম্বর- ২০০

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।

ফকির তা করেছে ভঙ্গ।।

এক

মাথায় চুলের যটা যে আছে।

তাহারও মাঝেতে উকুন বাসা বেঁধেছে।

হাজার রঙের উকুন মাথায়, করতেছে রঙ্গ।।

দুই

মাসেও একদিন গোসল করে না।

ভালো মানুষ কখনোই তাঁর, কাছে ঘেঁষে না।

নোংরা আর মূর্খের দলেরা, করে তাঁর সঙ্গ।।

তিন

যে পোশাক সে পরিধান করে।

কাচে নাকো বোধ হয় সে, জীবনের তরে।

যেথায় বসে সেথায় ছড়ায়, শুধুই দুর্গন্ধ।।

চার

বাহিরে যার পরিস্কারো নাই।

ভিতরে তাহার পরিস্কার বলো কেমনে হয়।

সেরু পাগলা বলে ছাড়ো ফকিরের সঙ্গ।।

রচনা- ১৮-১০-২০০০ ইং সাল

(299) বার পঠিত

One Responses

  • আবু সাইদ

    অসাধারন ঐশী বাণী!যতই পড়িতেছি ততই মনে হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলছি এবং মনে হচ্ছে শূণ্যে ভাসছি!পাগলা গীতি আমার জন্য অমৃত।

Leave a Reply